এইবার উইন্টারের কি হইছে বুঝলাম না। একদিন বরাফ পড়লো, রুম মেটগুলানের টাকা পয়সা খরচা কইরা জ্যাকেট, গ্লাভস আর কান টুপি কিননের হিড়িক পইড়া গেলো। একজন দিনে দুপুরে ওহী নাযিল কইরা বসলো,"গত বার ১০০ বছরের বরফ পড়নের রেকর্ড ভাংছে, এইবার ২০০ বছরের ঠান্ডা পড়নের রেকর্ড ভাংবো!" তারে জিগাইলাম,"এতো রেকর্ড ভাঙ্গনের কারখানার খোজ কই পাইলেন? হারাদিন ঘরে বইসা এতখুজ কেমনে রাখেন?”
যাই হোউক আমি মদন সেই একখান প্রাগৈতিহাসিক লেদার জ্যাকেট নিয়া চলতে আছি। বরাফ পড়ছে গত পরশু আর আজকা ট্যাম্পারেচার হইলো প্লাস ৫। বরফের নাম গন্ধ নাই রাস্তা্য। গাছের পাতা একদিনে যেমুন পইড়া গেছিলো মনে হয় সেই গাছ গুলান এখন চিন্তা করতাছে সবুজ পাতা কি অখনোই গজায় দিবো কিনা!
রাইতের বেলা কাজ থিকা বাইর হইয়া দেখি রুম মেট ৬টা চীপায় খাড়াইয়া গুদুম গাদুম করতাছে!
: আলি ভাই, যান কই?
: সার্কাস দেখতে। খাইয়া লইয়া কাম নাই, আমি অখন সার্কাসে যাই!
: মিয়া হুনেন, একখান ভেজাল হইছে। রুমের চাবী আমাগো কারো কাছে নাই। উৎসবের কাছে যেই চাবী থাকনের কথা সেইটা ও রুমে রাইখা আইছে আর আমারটাও!
: তাইলে রুম লক হইছে কেমনে?
: হেইডা তো কইতে পারতাছি না। তয় আমি নিজ হাতে রুম লক করছি।
: আর চাবী ছাড়া রুম লক করলেন কেমনে?
: আমিও তো তাই কই, পকেটে আমার চাবী কই?
: তাইলে এই ঠান্ডার মধ্যে কই থাকুম?
: আরে চিন্তা কইরেন না। আজকা আরবীর মাইয়ার জন্মদিন, বিরানীর দাওয়াত দিছে। লন যাই আগে বিরানী খাইয়া আসি!
আরবীর মাইয়া শুইনাই আমার মাথা বিগড়াই গেলো। এই মাইয়ারে যেইদিন দেখছিলাম আমার মাথা খারাপ হইয়া গেছিলো। পুরাই হট, মনে হয় গরম তাওয়ার উপর ওমলেট পোচ। যদিও ইদানিং ফুলতে ফুলতে হাতি হইয়া গেছে কিন্তু কেন জানি চেহারার রোশনাই দিনে দিনে বাড়তাছে। আমি সবার আগে গিয়া আরবীর দোকানে একখান চেয়ার দখল করলাম। আমরা আসনের আগেই তারা চেয়ার সাজাই রাখছে, আরবী মাইয়াটা নিজে খাওন সার্ভ করতাছে!
ডিনার করছি একটু আগে, আগে জানলে পুরা সকাল থিকা রোজা রাখতাম! ঘ্রানের চোটে মনে হইতাছে আগে থাল খাই পরে বিরানী! সবাই খাওনের পর হঠাৎ হিল্টু ভাই বইলা বসলো,"দেখছেন, আলী ভাই তিন প্লেট কেমনে মারলো? রেস্টুরেন্টে খাইছে একবার আর এইখানে আরও তিন প্লেট!"
অমুন সময় আরবী মাইয়া লোকাল ভাষায় কি জানি কইলো। আরবী মাইয়ার এই এক সমস্যা, আরবী আর লোকাল ভাষা ছাড়া ইতা্য কিছু পারে না। আমি আবার লোকাল ভাষায় টাইটানিক ডুবাই দিছি, তাই তার সাথে আমার ভাব বিনিময় চোখে চোখে হয়, মুখে মুখে কিছুই হয় না। কিন্তু তাগো কথা বার্তা শুইনা মনে হইলো আমারে নিয়াই বাতচিত! পরে বুঝলাম রেস্টুরেন্টে ১ প্লেট আর এই খানে তিন প্লেট খাওনের পরও আমার খাওন যায় কই সেইটা নিয়া তাগো গবেষনা চলতাছে। এইখানে আর কইলাম না কি গবেষনা চালাইছে, এমনেই মান ইজ্জত সব বাটখারা হইয়া উড়াল দিছে, তার উপর এইসব ভালগার কথা কইলে আমার ইন্টারনাল এফেয়ারে একটু জটিলতা দেখা দিবে! যাই হোউক আমরা সবাই রুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
বিল্ডিং এর সামনে আইসা দেখলাম মেইন দরজা লক হইয়া গেছে। রাইত নয়টার পর এই দেশের সব বিল্ডিং এর এন্ট্রি গেট বন্ধ হইয়া যায়। পড়লাম নতন সমস্যায়। কি করন যায়। অমুন সময় হিল্টুরে কইলাম বাড়িওয়ালারে ফোন দিতে। হেয় দিবার চায় না। কয় কিছুদিন আগে নাকি তার ১০০ তম বার্থডে নাইচা নাইচা পালন করছে। আমি শুইনা কইলাম, ব্যাটা কি মরে নাই? হিল্টু কয় এত রাইতে ফোন দিলো মনে হয় এই কামটাও কইরা ফেলাইবো!
যাই হোউক, হিল্টু মিয়া ফোন লাগাইলো
: হ্যালো, বাড়িআলা নাকি?
: না, হেয় ঘুমায় আমি তার মাইয়া, কেডা?
: আমি আপনাগো বাড়ির সম্মানিত ভাড়াটিয়া, একখান ভেজালে পড়ছি।
: কি ভেজাল?
: আমরা বাড়ির ভিতর চাবী রাইখা দরজা লক কইরা বাইর হইয়া গেছি।
: কি কইলি? আবার ক!
: আরে, কইতাছি আমরা দরজার চাবী ভিতরে রাইখা দরজা লক কইরা বাইর হইয়া গেছি। অখন শীতের মধ্যে জইমা যাইতাছি, ঘরে ঢুকবার পারতাছি না। আর কিছু হুনবি?
: কস কি? চাবী ভিতরে রাইখা দরজা লক করলি কেমতে?
: হেইডাই তো কথা। চাবী তো রুমের ভিতরে, মাগার দরজা লক হইয়া গেছে!
: আজকা কি তোরা সব এক লগে খাইছোস, নাকি দুয়েকটা বাদ আছে? তার আগে এইটা ক আমারে, তুই কি জানস, একখান চাবী হারাইলে বাংলা টাকা ১৫০০০ টাকা ফাইন আর সব কয়টা হারাইলে ৬০০০০ হাজার বাংলা টাকা ন গদের উপর ফাইন?
: কি কস এগুলান? ক্রিসমাসের মাসে ডিসকাউন্ট দিবি না?
: কি কইলি? আবার ক তো দেখি!
: না কইছিলো, অখন রুমের ভিতরে ঢুকুম কেমনে?
: তোরা খাড়া আমি সিড়ি পাঠাই দিতাছি।
ঠান্ডার মধ্যে খাড়ার উপর ১০ মিনিট খাড়াই থিকা দেখলাম বাড়ি আলার মাইয়া সিড়ি নিয়া নামছে। নাইমাই দিলো ঝাড়ি,"তোরা দুইজন থাকবি কথা কইয়া থাকোস ৭ টা, প্রত্যেকদিন রাইতে কাহিনী করস, তোগো মতলব কি?"
এই মাইয়া খান দেখতে সুন্দরী হইলেও সমস্যা একখান, মাইয়া ৭ ফুটি লম্বা! হিল্টু তারে পাম দিয়া কয়,"তোর যে ফিগার, আমাগো সিড়ি লাগতো না, তুই আমাগো কোলে কইরা দুই তালার জানালায় চ্যাঙ্গা মার!!"
মাইয়া দেখি লজ্জায় লাল হইয়া গেলো। অখন আমরা সাত জনে মিল্লা চিন্তায় পড়লাম কে উঠবো।উপরে উঠনের কথা শুইনা হিল্টু মিয়ার মাজা বিষ শুরু হইয়া গেছে, সাজ্জাদ মিয়ার ঠ্যাং এ ব্যাথা, আমান মিয়ার পেট বড় হওনে হাটবার পারে না, উতসবের শীত করে, বেলু মিয়া খালি হাসে, সে অখন হিন্দিও বুঝে না। সবার নজর অখন আমার দিকে। আগে জানতাম মানুষ গরীবের মাথায় কাঠাল ভাঙ্গে, এরা দেখি আমার মাথায় পুরা কাঠাল বাগান ভাংতাছে!
ঠান্ডার মধ্যে আমি উঠলাম আর নীচের দিকে চাইয়া দেখলাম সবাই ঐ মাইয়ার লগে ইটিস পিটিস লাইন শুরু কইরা দিছে। চিন্তা করলাম এক মাইয়ার পিছে ৬ জন লাইন দিলে ভাগে পাইবো কেডা!
রুমের ভিতর ঢুইকা ফ্লাটের দরজা খুলতে গিয়া টাস্কি খাইলাম, আর এই দরজা তো লক আছিলো না! মেজাজ বিলা হইয়া গেলো। নীচে গিয়া সব কয়টারে রুমে আইনা হিল্টুরে কইলান,"রুম লক আছিলো এইডা কেডা কইছে?"
সে একখান হাসি দিয়া কয়,"রুম লক আছিলো না? আরে এইটা ব্যাপার না!"
দেখলাম সবাই যার যার রুমে ঢুইকা গেলো!
মন মেজাজ আমার ইহুদি ক্যাম্পের মতো পুইড়া ছারখার হইয়া গেলো!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৬ রাত ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


