ভারত যেভাবে সমুদ্রসীমা দাবি করেছে তা মেনে নিলে বঙ্গোপসাগর দিয়ে বাংলাদেশ বেরই হতে পারবে না। ভারত তার সেই দাবি থেকে এখন পর্যন্ত সরে না আসার কারণে বাংলাদেশ জাতিংসঘে আরবিট্রোশনে যেতে বাধ্য হয়েছে। ট্রানজিট দেয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সাথে সমুদ্রসীমার ন্যয্য মীমাংসাকে বাংলাদেশ অন্যতম শর্ত করতে পারে।
তিস্তাসহ সব নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়কেও বাংলাদেশ ট্রানজিট দেয়ার পূর্বশর্ত বানাতে পারতো। তাতে ভারত বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত পানির দাবি মেটাতে অনেক নমনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অবিশ্বাস অভিযোগের প্রাচীর কাঁটাতারের বেড়ার অপসারণ, কালোবাজার বন্ধ, বাংলাদেশে ফেনসিডিলসহ মাদকদ্রব্য পাচার বন্ধ, অচিহ্নিত সীমান্ত চিহ্নিত করণ, অপদখলীয় সম্পত্তি ও ছিটমহল বিনিময়, তিন বিঘা করিডোর '৭৪ এর চুক্তিমতো বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরসহ সমস্ত প্রকার সীমান্ত বিরোধের নিষ্পত্তিকে বাংলাদেশ ভারতের ট্রানজিট দাবি পূরণের বড় শর্ত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
বাণিজ্য ঘাটতি একটি বড় সমস্যা। সমতার ভিত্তিক ট্রেডের মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা, ট্যারিফ, নন ট্যারিফ, প্যারাট্যারিফ বাধা দূর করলে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসতো। ৬১টি পণ্যের ওপর শুল্ক রেয়াত নতুন করে পাবে বাংলাদেশ এমনটি ইতোমধ্যে বলা হয়েছে যার মধ্যে ৪৭টি পার্মেন্ট আইটেম। মাত্র শুল্ক রেয়াতি অনুকূল বাণিজ্যের গ্যারান্টি নয়। প্রশ্ন হলো ইতঃপূর্বে যেসব আইটেমে শুল্ক রেয়াত পেয়েছে তা কেমন চলছে। নন ট্যারিফ, প্যারাট্যারিফ, ভ্যাট ইত্যাদি দিয়ে ভারতের বাজারে এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করা হলে তো আর ভারতীয় আমদানিকারকরা ঐসব বাংলাদেশ থেকে আমদানি করার ঝুঁকি নেবে না। ফলে বাণিজ্য ঘাটতিও কখনো দূর হবে না। এক্ষেত্রে সমতাভিত্তিক ট্রেড আমাদের স্বার্থের গ্যারান্টি হতে পারে।
বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি যে ট্রানজিট সেই ট্রানজিটের আত্মঘাতী চুক্তিতে বাংলাদেশের যাওয়া উচিত নয়। ভারতের এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যাওয়ার করিডোর দেয়া হচ্ছে ট্রানজিটের নামে। ভারতের ট্রাক গোটা বাংলাদেশ চষে বেড়াবে, কিন্তু আমাদের ট্রাক-গাড়ি ভারতে ঢুকতে পারছে না। এটা অসম ও একতরফা ট্রানজিট। আমরা কি অরুনাচল হয়ে চীনে চাওয়ার জন্য ট্রানজিট সুবিধা ভারতের কাছ থেকে পাবো? তেমন কোন বিষয় আলোচনাতেই নেই।
বলা হচ্ছে, আমরা নেপালে এবং ভুটানে যাওয়ার ট্রানজিট সুবিধা পাবো ভারতের কাছ থেকে। আর ঐ দু'টি গরিব দেশে আমরা কিই বা পাঠাতে পারবো আর তারাই বা বাংলাদেশে কী রফতানি করবে? তাদের এমন শিল্পপণ্য বা কৃষিপণ্য নেই যা তারা রফতানি করতে পারবে এবং তাদের এমন কোন বড় ডিমান্ড নেই যা তারা আমদানি করতে পারে। তাদের আমদানির উৎস ভারত। ভারত তাতে আমাদের ভাগ বসাতে দেবে না, তা ঐতিহাসিক সত্য। সুতরাং আমাদের গাড়ি ভারতে ঢুকার সুযোগ খুবই কম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



