মহান আল্লাহ পাক বলেন?
০ যে কেউ সত্কাজ নিয়ে আসবে, সে তার চাইতে উত্কৃষ্ট প্রতিফল পাবে এবং সেদিন তারা শংকা থেকে নিরাপদ থাকবে। যে কেউ অসত্কাজ নিয়ে আসবে, তাকে অধোমুখে নিক্ষেপ করা হবে আগুনের মধ্যে এবং তাদের বলা হবে, ‘ তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।’ -সূরা নাম্লঃ আয়াত-৮৯-৯০]
আল্লাহ পাক বলেন?
০ আমি যখন মানুষকে অনুগ্রহের আস্বাদ দিই তারা তাতে উত্ফুল্ল হয় এবং তাদের কৃতকর্মের ফলে দুর্দশাগ্রস্ত হলেই তারা হতাশ হয়ে পড়ে। তারা কি লক্ষ্য করে না, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছে তার রিয্ক প্রশস্ত করেন অথবা তা সীমিত করেন? এতে অবশ্যই মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। অতএব আত্মীয়কে তার প্রাপ্য দিও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিকামনাকরেতাদেরজন্য এটা শ্রেয় এবং তারাই সফলকাম। -সূরা রূমঃ-আয়াত ৩৬-৩৮] আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন?
“হে নবী! লোকদের বলে দাও। তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহসমূহ মাফ করে দেবেন। তিনি বড় ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (সূরা আল-ইমরান-৩১)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন?
“হে মুহাম্মদ[সাঃ]! আমি তোমাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।” (আম্বিয়া-১০৭)
হযরত আনাস [রাঃ] হতে বর্ণিত, রাসুল করীম [সাঃ] বলছেন'''কোন মেয়ে লোক যদি, পাচঁ ওয়াক্তের নামায পড়ে, রামাজানের রোজা রাখে, সতীত্বের হিফাযত করে, এবং স্বামীর আনুগত্য করে চলে,,তাহলে তার সম্পর্কর আল্লাহর প্রিয় মাহবুবে হাবিবের সুসংবাদ বাণী এই যে, সে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে??
[আবু-নাঈম,,হিলয়াতুল আওয়ালীয়া]
মহান মহীয়ান আল্লাহ পাক বলেন,
''যে সত্কর্ম সম্পাদন করে এবং সে ঈমানদার, পরূষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব, এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারনে প্রাপ্য পরুস্কার দেব যা তারা করত??
[সুরা-নাহল-আয়াত,96]
হযরত আনাস (রাঃ) রাসূল (সাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন-কিয়ামতের দিন ইনসাফের দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করা হবে। অতঃপর বালা-মুসিবতে সবরকারীরা আগমন করলে তাদের জন্য কোন ওজন ও মাপ হবে না। বরং অগণিত ও অপরিমিত সওয়াব তাদের দেয়া হবে। আল্লাহ তা’য়ালাও বলেন-যারা সবরকারী, তাদের জন্য রয়েছে অগণিত পুরস্কার (সুরা যুমারঃ ১০) তাফসীরে মাআরেফুল কুরআনঃ ১১৭৫ মুফতি শফী (রহঃ]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেনঃ নিশ্চই তোমাদের মধ্যে সেই আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহ ভীরু। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব কিছু জানেন সব বিষয়ে অবহিত। (হুজুরাত আয়াত ১৩)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “সাহাবীরা তোমাদের কারো বাড়ীর পাশ দিয়ে যদি কোন নদী প্রবাহিত হয়। আর তোমাদের কেউ যদি সেই নদীতে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে। তাহলে তার শরীরে কি কোন ময়লা থাকবে? সাহাবীরা বললেন, না ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাঃ)? মহানবী (সাঃ) বললেন, এটাই হলো নামাজের দৃষ্টান্ত। যদি কোন মু’মিন প্রতিদিন পাঁচবার করে নামাজ আদায় করে তাহলে তার আমলনামায় কোন গোনাহ থাকতে পারেনা?
[আল-হাদীস]
রাসূল [সাঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি কন্যা বা ভগ্নিকে লালন-পালন করে, তাদেরকে সুশিক্ষা দান করে এবং তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করে, তারপর বয়ঃপ্রাপ্ত হলে সত্পাত্র ন্যস্ত করার মাধ্যমে তাকে স্বাবলম্বী করে দেয় তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ, দুটো থাকলে? তিনি বললেনঃ দুটোর ক্ষেত্রেও। আর একজন জিজ্ঞেস করলেনঃ একটি থাকলে? তিনি বললেনঃ একটির ক্ষেত্রেও। (মিশকাত শরিফ]
রাসূল [সাঃ] কন্যার পিতার উদ্দেশে বলেছেন, ‘কন্যা তার জন্য লজ্জাজনক নয়, বরং কন্যাসন্তান প্রতিপালন তার জন্য জাহান্নামের পথে বাধা এবং জান্নাত লাভের অছিলা হতে পারে।’ অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায় রাসূল সাঃ বলেন, ‘কারো যদি কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয় আর তাকে যদি সে পুঁতে না ফেলে, তাকে যদি অপমানিত না করে এবং তাকে উপেক্ষা করে যদি পুত্রসন্তানের পক্ষপাতিত্ব না করে তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন।’ (আবু দাউদ)
রাসূল [সাঃ] বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ভিক্ষা করে অথচ এ থেকে মুক্ত থাকার মতো সম্পদ বা শক্তিসামর্থ্য তাদের রয়েছে, তারা যখন কিয়ামতের দিন আল্লাহর সম্মুখে হাজির হবে, তখন তাদের মুখমন্ডল একেবারে মাংসহীন ও বীভত্স হয়ে যাবে।রাসূল [সাঃ] প্রায়ই বলতেন ‘যিনি আমার প্রাণের মালিক তাঁর শপথ করে বলছি। তোমাদের একজনের রশি নিয়ে জঙ্গলে যাওয়া, কাষ্ঠ আহরণ করো , তা পিঠের উপর রেখে বহন করে আনা এবং বাজারে বিক্রি করে অর্থোপার্জন করা অপরের কাছে ভিক্ষা চাওয়া অপেক্ষা অনেক উত্তম। (আবু দাউদ-]
হযরত জাবের [রাঃ] হতে বর্ণিত। প্রিয়নবী [সাঃ]-ইরশাদ করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তূষ্টি অর্জন প্রক্কালে মারা যায়,আল্লাহ পাক তাকে আযাবে নিপতিত করবেন না,
আজমাউজ্জা ওয়ারিদ
হযরত আবু হোরায়রা [রাঃ]-হতে বর্ণিত। নবী করিম [সাঃ-বলেন। আল্লাহর পথে মুজাহীদ সেই লোকের সমতুল্য, যে লাগাতার রোজা রাখে এবং অবিরাম নামায আদায় করে।
বোখারী ও মুসনীম
প্রিয় নবী করিম [সাঃ]- বলেন।-যে ব্যক্তি তার রিযিকের প্রাচুর্য ও দীর্ঘ জীবনের প্রত্যাশা করে। তার উচিত স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলা।
মিশকাত শরীফ
রাসুলুল্লাহ [সাঃ]- বলেন। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অহংকারী ও তাকাব্বুরী পোষাক পরিদান করবে। কেয়ামতের দিন, তাকে লাঞ্ছনার পোষাক পরানো হবে।
আবু-দাউদ,শরীফ
নবী করিম [সাঃ[--বলেন। মুসলমানদের কষ্ট দিওনা তাদেরকে লজ্জা দিওনা, এবং তাদের দোষ ক্রটির পিছনে লেগে থেকনা। কেননা। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের গোপন দোষ ক্রটি অনুসন্ধান করে। আল্লাহ পাক তার দোষ ক্রটি অনুসন্ধান করেন। আর আল্লাহ পাক যার দোষ অনুসন্ধান করেন, তাকে লাঞ্ছিত করে ছাড়েন। যদিও সে তার ঘরের ভিতর লুকিয়ে তাকে।
তিরমিযী- শরীফ
রাসুলে পাক [সাঃ]-বলেন। কেয়ামতের দিন, অহংকারীরা মানবকৃতিতে পিপীলিকার ন্যায় ক্ষুদ্র দেহ বিশিষ্ট হবে। চর্তুদিকে অপমান তাদেরকে ঘিরে রাখবে। বুলাস নামক দোযখের জেল খানার দিকে হাকিঁয়ে নেয়া হবে। এবং তাদেরকে দোযখিদের যখম ও পোড়াঁর পোঁজ ও দর্গন্ধময় রক্ত পান করানো হবে।?
[মিশকাত-শরীফ]
হযরত অমর ইবনুল খাত্তাব [রাঃ]-হতে বর্ণিত। প্রিয় নবী করিম [সাঃ] বলেছেন। যদি তোমরা আল্লাহ তাআলার ওপর সঠিক ও যথার্থ নির্ভরতা রাখো। তাহলে তিনি তোমাদের কে রিযিক দান করবেন। যেমন পাখিদের রিযিকের ব্যবস্থা করেন।পাখিরা সকালে খালি পেটে বের হয়। আর সন্ধায় ভর পেটে বাসায় ফেরে।??
[তিরমিযী-শরীফ]
হযরত আবু যর [রাঃ]-হতে বর্ণিত। রাসুল [সাঃ] বলেন। এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে পাপি বলে অপবাদ দেবে না। এবং কাফির বলেও দুর্নাম করবেনা। যদি সে ব্যক্তি এরূপ না হয়। তবে তার কথা। [অপবাদ] তার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।?
[বোখারী-শরীফ]
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে অমর [রাঃ]-হতে বর্ণিত। নবী করিম [সাঃ] বলেন। যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইকে কাফির বলবে। তবে তাদের দুজনের একজন তার উপযুক্ত সাব্যস্ত হবে।??
[বোখারী ও মুসলীম]
তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।