ডি-ইসলামাইজেশন একটি উম্মাহকে কিভাবে আল্লাহর প্রদর্শিত পথ থেকে বিচ্যুত করে সে বিষয়ে জ্ঞানদান করেছেন মহান আল্লাহতায়ালা স্বয়ং নিজে। সে বিষয়ে তিনি উপমা পেশ করেছেন বনি ইসরাইলের ইতিহাস থেকে। মহান আল্লাহতায়ালার অপার নেয়ামত পেয়েছে বনি ইসরাইল। সবচেয়ে বড় নিয়ামত ছিল, আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে প্রদর্শিত সিরাতুল মোস্তাকিম যা অবিরাম দেখাতে তিনি ইহুদীদের জনপদে বহু নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। কিন্তু তারা সে পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ডি-ইসলামাইজেশনের এ এক করুণ চিত্র। তবে এ বিচ্যুতির কারণ সেকুলার মিডিয়া, সেকুলার এনজিও, পৌত্তলিক কাফের বা বিধর্মী মিশনারী ছিল না। আল্লাহপাক সে জন্য বনি ইসরাইলের আলেমদের দোষী বলেছেন। রাষ্ট্র জুড়ে অজ্ঞতার অন্ধকার দেখে সেটিকে গালী দেওয়া অহেতুক। প্রকৃত দোষী তো সেসব ব্যক্তি যাদের উপর আলো জ্বালানোর দায়িত্ব ছিল কিন্তু তারা সে দায়িত্বই পালন করেনি। বনি ইসরাইলের আলেমগণ সে অপরাধে অপরাধী। আজকের মুসলিম বিশ্বের বিশেষ করে বাংলাদেশের আলেমদের অপরাধ ও ব্যর্থতাও তাদের চেয়ে ভিন্নতর নয়। পবিত্র কোরআনে প্রচন্ড জোর দেয়া হয়েছে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে অবশ্যই একটি উম্মাহ থাকতে হবে যারা মানুষকে কল্যাণের পথে ডাকবে এবং ন্যায়ের হুকুম দিবে এবং অন্যায়কে রুখবে। এবং তারাই হল সফলকাম।” –(সুরা আল-ইমরান, আয়াত ১০৪)।
সফলতার পথ নিছক নামায-রোযা নয়, হ্জ্ব-যাকাতও নয়, বরং সে লক্ষ্যে ঈমানদারকে আরো সামনে এগুতে হয়। সফলতা আসে কল্যাণের পথে ডাকা এবং ন্যায়ের হুকুম এবং অন্যায়কে রুখার মধ্যে। রাষ্ট্রে ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের নির্মূলের এটিই হল মূল কৌশল। এটিই হল ইসলামাইজেশন। মুসলমানের জীবনের এটিই হল মূল মিশন এবং এ পথেই আসে পরকালের সফলতা। যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআন মনযোগ সহকারে পড়বে সে ব্যক্তির কাছে আল্লাহর সহজ সরল এ নির্দেশটিও সুস্পষ্ট হবে যে, সফলতা লাভের পথ শুধু তাবলীগের পথ নয়। তাকে আরো সামনে যেতে হয়। ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরো্ধেও তাকে বহু দূর অগ্রসর হতে হয় এবং সে পথে অগ্রসর হলে সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অনিবার্য। এমন যুদ্ধ এড়াতে পারেননি মহান নবীজী (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম। বাংলাদেশের মুসলমানদের সমস্যা, লক্ষ লক্ষ মানুষ দ্বীনের তাবলীগে পথে বেরুলেও এর বেশী তারা এগুতে রাজী নয়। অন্যায়ের প্রতিরোধ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার যে কোন উদ্যোগকে তারা বলছে মৌলবাদ। এমন চেতনাকে বলছে চরমপন্থি ইসলাম। অথচ মুসলমানের ঈমানের মূল পরীক্ষাটি তো হয় এক্ষেত্রটিতেই। কোরআনের মূল জোর ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় ও অন্যায়ের প্রতিরোধে। এ কাজের মধ্যেই ইসলামিকরণের মূল চাবিকাঠি। নবীজী (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম তো এগুলোই করেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


