ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম বলেছেন, আমরা প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছু মেয়েদের পান্ডিত্য পরীক্ষা করব না। আমরা দেখব তারা প্রথম শ্রেণীতে পড়ার উপযুক্ত কিনা। অন্য স্কুল থেকে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া মেয়েরা এসে এখানে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। এই মেয়েরা ওয়ানের পড়া পড়তে গিয়ে এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে, যা চূড়ান্তভাবে স্কুলের পরীক্ষার ফলের উপর প্রভাব ফেলে। সে কারণেই আমরা মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক নির্বাচন এবং পরে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা হবে অনেকটা হলিক্রসের আদলে। তবে সেখানে অভিভাবকদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়, আমরা নেব মেয়ের সাক্ষাৎকার। ভর্তির এই ধাপগুলো সম্পর্কে আমরা পরবতর্ীকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। তবে লটারি হবে প্রকাশ্যে। অভিভাবক ও মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সামনে, যাতে এই লটারি প্রক্রিয়া নিয়ে কারো মনে কোন সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরি না হয়। এ ধাপগুলো সবাইকে জানিয়ে দেয়া হবে।
'ভর্তি পরীক্ষাথর্ীর অভিভাবকবৃন্দ' এই ব্যানারে একটি মহল স্কুল কতর্ৃপক্ষের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে সমপ্রতি মানববন্ধন ও সমাবেশ করার পর গতকাল সোমবার অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম ইত্তেফাককে আরও বলেন, আমরা শুনেছি বিভিন্ন কোচিং সেন্টার এসব সমাবেশ আয়োজনের পেছনে কাজ করছে। তবে সাধারণ অভিভাবকরা আমাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে টেলিফোন করছেন। আবার কেউ কেউ সশরীরে হাজির হয়ে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। যারা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন তাদের মধ্যে ক'জন অভিভাবক, ক'জন অভিভাবক না সেটা আমরা জানি না। তাদের সঙ্গে আমাদের কোন যোগাযোগও নেই। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত প্রথম শ্রেণীর মেয়েরা যাতে বঞ্চিত না হয় সেজন্যই আমাদের এ উদ্যোগ। আমরা আশা করি সচেতন নাগরিকরা এ বিষয়ে আমাদের সমর্থন যোগাবেন।
স্কুলের অন্য কয়েকজন শিক্ষক এ সময় জানান, অন্য স্কুলের তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া মেয়েরা আমাদের এখানে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর অনেকে তাদের জন্য নির্ধারিত ডেস্কে বসতে গেলেও অসুবিধায় পড়ে। একটু উঁচু শ্রেণীতে উঠলে তাদের নিয়ে অন্য ধরনের সমস্যা হতে থাকে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর হলিক্রস, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি, ওয়াইডবিস্নউসিএ, এসওএস হারমেন মেইনারসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তির জন্য লটারি পদ্ধতি চালু করে ইতিমধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে। শিক্ষা সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিরাও লটারি পদ্ধতির প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকার। সেখানে লেখাপড়া শিখে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হতে হবে কেন?
সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ভিকারুন নিসা নূন স্কুলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনেক কোচিং সেন্টার। অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে এরা কোচিং করিয়ে থাকে। শিশুদের পান্ডিত্য বৃদ্ধির জন্য এসব কোচিং সেন্টারে তাদের উপর চলে রীতিমতো মানসিক নির্যাতন। ছোট্ট মেয়েটি যাতে নামকরা স্কুলে ভর্তি হতে পারে সেজন্য অভিভাবকরাও হাসিমুখে মেনে নেন সব কিছু। এ বিষয়ে শিক্ষা সংশিস্নষ্টদের অভিমত, ভর্তির জন্য শিশুদের কোচিং সেন্টারে পাঠানো, গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ানো, গাইড বই ধরিয়ে দেয়াসহ নানামুখী চাপ দেয়া হচ্ছে, এগুলোর কোনটিই ঠিক নয়। এতে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়। তাদের মধ্যে তৈরি হয় পরীক্ষাভীতি।
লটারিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে প্রথম শ্রেণীতে লটারিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে ভর্তি পরীক্ষাথর্ীর অভিভাবকরা। গতকাল সোমবার কিছু অভিভাবক রাজধানীর বেইলী রোডে কলেজের সামনে এ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে তারা লটারি পদ্ধতি বাতিল করে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাথর্ী ভর্তির দাবি জানান।
সাইদুর রহমান নামে একজন অভিভাবক জানান, লটারির মাধ্যমে ভর্তিতে অযোগ্যরা ভর্তি হয়ে যাবে। এজন্য আমরা চাই লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের এখানে ভর্তি করতে।
অনেকেই কলেজের সিদ্ধান্তকে ভাল বললেও একটি অংশ এর বিরোধিতা করছে। অভিযোগ উঠেছে কোচিং ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলনের পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে। কারণ লটারিতে ভর্তির সিদ্ধান্তে কোচিং ব্যবসায়ীদের ব্যবসার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীরা কোচিং ব্যবসায়ীদের ইন্ধনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

