স্কুলের গণ্ডিই পেরোতে পারেনি ফরিদপুরের মধুখালীর বখাটে দেবাশীষ সাহা রনি। কিন্তু তার দৈনন্দিন রুটিন ছিল_স্কুলের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, কখনো মোটরসাইকেল নিয়ে ওই রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো। এ কাজে রনিকে সঙ্গ দিত এলাকার আরো কয়েক বখাটে। বছরদেড়েক ধরে নিয়মিতই বন্ধুদের নিয়ে এ কাজটি করে আসছিল রনি। কিন্তু মদ ব্যবসায়ী বাবা রতন সাহার বিত্ত-বৈভবের কারণে একবারের জন্যও বাধার মুখে পড়তে হয়নি এই বখাটেকে। রনির ঘনিষ্ঠ ও এলাকাবাসী সূত্রগুলো এ কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার বখাটে রনির হাতে মাকে হারিয়েছে মধুখালীর জমজ স্কুলছাত্রী হীরা-মুক্তা। আর এর আগে রনির মানসিক পীড়নের শিকার হয়েছে এই দুই বোন।
কেবল হীরা-মুক্তা নয়, বখাটে রনি ও তার সঙ্গীদের কটূক্তি বা উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছে মধুখালীর স্কুলগামী আরো অনেক মেয়ে। এমনকি রনির সৎমায়ের এক ফুফাতো বোনও তার হাত থেকে রেহাই পায়নি।
রনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, হীরা-মুক্তার আগে রনি তার সৎমায়ের এক ফুফাতো বোনকে পর্যন্ত উত্ত্যক্ত করে। একপর্যায়ে অসহায় সেই তরুণী বাধ্য হয় রনির কাছে নত হতে। পরে ওই তরুণীকে তার পরিবার ভারতে নিয়ে বিয়ে দেয়। তার রেশ না কাটতেই রনি পিছু নেয় হীরার। জমজ বোন হিসেবে একসঙ্গে চলার কারণে মুক্তাও রেহাই পায়নি রনি ও তার সঙ্গীদের উত্ত্যক্ত থেকে।
সূত্রটি আরো জানায়, দুই বছর ধরে মধুখালী বাজারে বাবার মদের দোকানে নিয়মিত বসছিল রনি। এ সুবাদে তার হাতে আসতে থাকে অনেক টাকা। পরিচিত হয় এলাকার অনেক মদ্যপের সঙ্গেও। জুটে যায় অনেক বন্ধুও।
রনির মোটরসাইকেলে হীর-মুক্তার মা চাঁপা রানী পিষ্ট হওয়ার পর স্থানীয় ফারুক, মুন্না, শাহনাজ বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় বখাটেপনা করলেও রনিকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়নি। কেউ কিছু না বলাতেই সে এ রকম একটা ঘটনা ঘটাতে সাহস পেল।
হত্যার ঘটনায় মধুখালী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। খুনিকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।'
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


