স্বায়ত্তশাসন সমাধান নয়, রেডিও-টিভিকে বেসরকারী খাতে ছেড়ে দিতে হবে
রোবায়েত ফেরদৌস
২৩ জানুয়ারি নাট্যব্যক্তিত্ব প্রিয় মামুনুর রশীদ প্রথম আলোয় তাঁর নিয়মিত কলাম জীবনের সাইকেল-এ ‘বেতার-টেলিভিশন স্বায়ত্তশাসন: আমরা কি ভুলতে বসেছি’ শিরোনামের লেখায় সরকারনিয়ন্ত্রিত বেতার ও টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত পুরনো বিষয়টি আমাদের আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁকে ধন্যবাদ। বিষয়টি পুরোনো কিন্তু এখনো অমীমাংসিত; তাই বিষয়টি ফয়সালা না-হওয়া পর্যন্ত এর আলোচনা চালিয়ে যাওয়া জরুরি বৈকি। এটা খুবই সত্য কথা যে, সব সরকারই নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনকে ‘যুক্তিহীনভাবে’ ব্যবহার করেছে। এ দুটো গণমাধ্যম বরাবরই সরকারের ‘বশংবদ প্রচারাস্ত্র’ হিসেবে কাজ করে গেছে। দর্শক-শ্রোতার কাছে এ দুটো গণমাধ্যমে পরিবেশিত সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বলতে গেলে শূন্যের কোঠায়। জেনারেল এরশাদ, শেখ হাসিনা কিংবা খালেদা জিয়াÑ প্রত্যেক সরকারই তাদের ‘প্রপাগান্ডা মেশিন’ হিসেবে বেতার-টিভিকে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেছে। অধিকন্তু এ দুটি মাধ্যমে কে খবর পাঠ করবেন, কোন শিল্পী গান করবেন, কার নাটক বা অনুষ্ঠান কেনা হবে, কোন অনুষ্ঠান প্রচার হবে বা হবে না, টক শোতে কারা আলোচক হিসেবে আমন্ত্রিত হবেন, আর কারা হবেন নাÑ এর সব সিদ্ধান্তই নেওয়া হতো রাজনৈতিক বিবেচনা মাথায় রেখে। বিএনপি সরকার যখন মতায় রেডিও-টিভি তখন থাকে বিএনপির শিল্পী, নাট্যকার, অভিনেতা আর খবর পাঠকদের প্রাধান্য, আর আওয়ামী লীগের সময় থাকে আওয়ামী আদর্শের শিল্পী-অভিনেতাদের। বিএনপি সরকারের সময় আওয়ামী আদর্শের শিল্পীরা নির্বাসিত; আর আওয়ামী লীগের সময় বিএনপির শিল্পীরা দ্বীপান্তরিত! বিটিভির ধর্মীয় অনুষ্ঠানের েেত্র এমন প্রশ্ন উত্থাপন হওয়ার খবরও শোনা গেছে যে তাফসির তরজমা করার জন্য যে আলেমকে ডাকা হচ্ছে তিনি কি ‘আওয়ামী মাওলানা’ না ‘বিএনপি মাওলানা’? পাঠক বুঝুন, দলীয়করণের মাত্রা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে! আর যাঁরা আওয়ামী বা বিএনপি কোনো শিবিরেই অবস্থান করেন না, মামুনুর রশীদের ভাষায়, তাঁরা পড়েন সবচেয়ে বিপদেÑ তাঁরা দুই দলের কাছেই শত্র“ হয়ে পড়েন।
দুঃখজনক হলেও এটা সত্য যে অনুষ্ঠান নির্মাণ আর প্রচারের েেত্র সরকারি বেতার-টিভি সবসময়ই অলিখিত এক ‘কালো তালিকা’ মেনে চলে। শুনতে বাজে শোনালেও আমি বলতে বাধ্য, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিয়ে এ পর্যন্ত যা চলেছে তা ‘রাষ্ট্রীয় ফাজলামো’ ছাড়া আর কিছুই না। আর ‘স্টেট-স্পন্সরড’ এই এই বিষয়টি চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। এর ফলে, আমরা দেখেছি, নিজের দলের অযোগ্য শিল্পী-নাট্যকার-অভিনেতারা বারবার সুযোগ পেয়ে গেছেন, কিন্তু অধিকতর যোগ্য হয়েও কেবল ভিন্ন রাজনীতির জন্য বাকিরা বাদ পড়েছেন। এহেন অসুস্থ প্রক্রিয়ায় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি তিগ্রস্ত হয়েছে তা হলো, শিল্পী-অভিনেতা-কলাকুশলীদের পেশাদারিত্ব। বারবার উপেতি হয়েছে গুণগত মান আর যোগ্যতা। গণপ্রত্যাশার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারগুলো যেভাবে রেডিও-টিভি চালিয়েছে, তাতে রাষ্ট্রের সংস্কৃতিচর্চা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে প্রতিযোগিতার সুস্থ বোধ। লাইন-কানেকশন আর লবিং-তদবির করেই তথাকথিত দলীয় ক্যাডাররা দিনের পর দিন নিম্নমানের অনুষ্ঠান করে গেছে আর জনগণকে তা গিলতে বাধ্য করেছে।
খেয়াল করে দেখেছি, আধুনিক গণমাধ্যমের গতি-ধর্ম কিংবা নয়া যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহ, পড়াশোনা বা জ্ঞান-অভিজ্ঞতা আছেÑ এ দুটো প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগের সময় এসব বিষয় কখনোই অগ্রাধিকার পায় না। মহাপরিচালকসহ বিটিভি আর রেডিওর নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন পদে সবমসময় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। জনগণের টাকায় বিটিভি আর রেডিও চলেÑ কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও এ দুটো গণমাধ্যমের কোথাও ন্যূনতম জবাবদিহিতার কাঠামো তৈরি হয়নি। আর কখনো হবে, সে আশাও আমি করি না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? মামুনুর রশীদ তাঁর সরল ও ভালো মন নিয়ে বিচার করে দেখেছেন, স্বায়ত্তশাসন পেলে এ দুটো প্রতিষ্ঠান তাদের পুরোনো খোল-নলচে পাল্টে সত্যিকার অর্থে জনগণের গণমাধ্যম হিসেবে বিকশিত হয়ে উঠতে পারবে। এখানেই প্রিয় মামুনুর রশীদের সঙ্গে আমার দ্বিমত। আমি মনে করি, স্বায়ত্তশাসন কোনো সমাধান নয়। কেন নয়? কারণ আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি তা সর্বতোভাবে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কী হয় এখানে? রেডিও-টিভির মহাপরিচালকের মতো এখানেও ভিসি-প্রোভিসির নিয়োগ হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। যে দল মতায় আসে সে দলের লোকেরাই রাতারাতি ভিসি-প্রোভিসি বনে যান; পরে তাদেরই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এনে একধরনের বৈধতা দেয়া হয়। মতা পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রেভিসি তাই বদলে ফেলা হয়; এ জন্য এমনকি ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ১৮৭৪ সালের জেনারেল কজেজ অ্যাক্টেরও প্রয়োগ ঘটানো হয়। শুধু ভিসি-প্রোভিসি নয়, বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্তও আসে সরকারের ওপর মহল থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পিয়ন পদে লোক নিয়োগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রী সুপারিশ করেছেনÑ এমন নজিরও বিরল নয়। আর বিগত পাঁচ বছরে শিক নিয়োগের নামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে স্রেফ ভোটার নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তার খবর বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে আমরা পেয়েছি; মেধা-যোগ্যতা নয়, এসব নিয়োগে মূল বিবচনা ছিল রাজনৈতিক দলবাজি। ফলে বিএনপি-জামাতের চিহ্নিত মাস্তান-ক্যাডাররাও শিক-কর্মকর্তা হিসেবে দেদার নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ বলা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় চলে স্বায়ত্তশাসনের বিধি অনুসারে, ’৭৩-এর অর্ডার মোতাবেক। তাই বেতার-টিভির স্বায়ত্তশাসনের দাবির কথাটি খুব ভালো শোনালেও, আমার ভয় স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হলেও তা হবে কেবল কাগজে-কলমে; নিয়োগ-বদলি বা খবর-নাটক-অনুষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে ঠিক আগের মতোইÑ বিশ্ববিদ্যালয়ের েেত্র যেমনটি ঘটেছে। তাই যথার্থ স্বায়ত্তশাসন দিয়ে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব অর্জন করা যাবে কিংবা প্রতিষ্ঠান দুটোর কালো তালিকা থেকে যোগ্য কলাকুশলীদের মুক্ত করা যাবেÑ মামুনুর রশীদের এই সাধু চিন্তর ওপরে আমার কোনো ভরসা নেই। বেতার-টিভি এখন যেমন মতাসীন সরকারের ‘প্রপাগান্ডা মেশিন’ হিসেবে কাজ করছে, স্বায়ত্তশাসন পেলেও তারা আরও বিশ্বস্ততার সঙ্গে সেই একই কাজ করবে। তাই বেসরকারী পর্যায়ে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার অভূতপূর্ব বিকাশের এই সময়ে রেডিও-টিভির স্বায়ত্তশাসনের নামে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘প্রপাগান্ডা মেশিন’ চালু রাখার পে কোনো যুক্তি আমি খুঁজে পাই না। প্রশ্ন হচ্ছে মিথ্যা অপপ্রচার আর নিম্নমানের বিশ্বাসযোগ্যতাহীন অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের জন্য জনগণ কেন ট্যাক্স দেবে? আমার প্রস্তাব তাই খুব স্পষ্ট; আমি মনে করি স্বায়ত্তশাসন নয়, রেডিও-টিভিকে সরাসরি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে। অনেকে বলতে পারেন, রেডিও-টিভি আর্থিক দিক দিয়ে এখনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু লাভজনক হলেও তা ছেড়ে দিতে হবে, কারণ সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়। সরকারি মালিকানাধীন দৈনিক বাংলা, বিচিত্রা এবং আনন্দবিচিত্রা যেভাবে বেসরকারি খাতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল, একইভাবে রেডিও-টিভি এবং অবশ্যই সরকারি সংবাদসংস্থা বাসসকে বিক্রি করে দিতে হবে। প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের মাধ্যমে যত দ্রুত এ কাজে উদ্যোগ নেয়া যায়, জাতির জন্য ততই মঙ্গলজনক; এবং এটি করতে হবে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেই। কারণ এটা হলফ করে বলা যয়া যে রাজনৈতিক সরকারগুলো বিচারবিভাগ পৃথকীকরণের মতো রেডিও-টিভির বেসরকারীকরণ নিয়ে টালবাহানা করবে। তাই দাবি করব, তথ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হোক, যাঁরা এর বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক আলোচনা-পর্যালোচনা করবেন এবং আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখবেন।
বেতার-টিভির স্বায়ত্ত্বশাসন: আমরা কি ভুলতে বসেছি?
মামুনুর রশীদ
শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিচারব্যবস্থা। আমরা যারা দেশে আইনের শাসন চাই তাদের জন্য নিঃসন্দেহে এ এক আনন্দের সংবাদ। কিন্তু জরুরি একটা বিষয় আমরা ভুলে বসে আছি। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সব রাজনৈতিক দলের এক অভিন্ন অঙ্গীকার ছিল। সেটি হচ্ছে বেতার-টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন। কিন্তু কোনো দলই তা কার্যকর করেনি। নানা ধরনের কমিটি, রিপোর্ট এসব তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের নথিতেই তা সীমাবদ্ধ। যদিও প্রাইভেট চ্যানেল আসার পর এবিষয়ে কারো মাথাব্যথা নেই, তবুও বিষয়টি জরুরি।
জরুরি দুটি কারণে, একটি হচ্ছে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের দর্শকপরিধি বিশাল। দ্বিতীয়টি হচ্ছে সরকার নিজস্ব প্রয়োজনে এটিকে ব্যবহার করে যুক্তিহীনভাবে। এর কর্মকর্তাদের সে বশংবদ ভৃত্যে পরিণত করে। সর্বোপরি এটি জনগণের অর্থে চলে। তাই জনস্বার্থের বিরুদ্ধে এটিকে পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই।
বেতার-টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন এলে সরকার যখন তার বশংবদ প্রচারাস্ত্রটি হারাবে তখন জবাবদিহিতার বিষয়টি চলে আসবে ভিন্নভাবে। বর্তমান ব্যবস্থায় যেকোনো সরকার এসে মানবাধিকর লঙ্ঘনের কাজটি শুরু করে। তার মতের বাইরে যারা আছে তাদের কালো তালিকা করে ফেলে। ফলে অনেক যোগ্য লোকের প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়। নিজের দলের অযোগ্য লোকজনের প্রচারমাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। এতে তিগ্রস্ত হয় পেশাদার লোকজন। তিল তিল করে যাঁরা নিজেদের শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছেন, কোনো একটা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কেন তারা বঞ্চিত হবেন? বঞ্চিত হওয়া মানে নিদেনপে পাঁচ বছর। আবার যাঁরা কোনো দল করেন না তাঁদের জন্য তো আরও সমস্যা। দুই দলের কাছেই তাঁরা শত্র“ হয়ে পড়েন। এ অবস্থা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে আছে বলে মনে হয় না।
এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে দেখা-সাাৎ করলে তারা কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে না বলে আমাদের ফিরিয়ে দিত। এবার যেহেতু বিচার বিভাগকে মুক্ত করার মতো কঠিন পদেেপ এগিয়ে যাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তাই সংগত কারণেই আমাদের প্রত্যাশা জাগে এ বিষয়টিরও মীমাংসা হতে পারে। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ের নথিতেও পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিকল্প প্রাইভেট চ্যানেল নয়। প্রাইভেট চ্যানেলকে বাঁচতে হয় বিজ্ঞাপন থেকে। কাজেই ব্যবসাটা সেখানে মুখ্য। কিন্তু রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যবসার চেয়ে শিা এবং সঠিক তথ্যপ্রবাহই মুখ্য। যেহেতু বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি এখানে একেবারেই গৌণ, তাই দেশের শ্রেষ্ঠ মেধার সমন্বয় ঘটানোও এখানে সম্ভব। মননশীল সাহিত্যের নাট্যরূপ, চলচ্চিত্রায়ণের মতো কাজগুলো অনায়াসে করা সম্ভব।
পাশের দেশে ‘প্রসার-ভারতী’ গড়ে তুলেছে তারা। বেতার-টেলিভিশনকর্মীদের আন্দোলনের মুখে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। স্বায়ত্তশাসনের পর দূরদর্শনের চেহারাও পাল্টে গেছে। তারা স্যাটেলাইট চ্যানেলের সঙ্গে একটা মেধা ও সৃজনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। রাষ্ট্রীয় প্রচারের পাশাপাশি জনস্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রযুক্তি।
পাকিস্তান থেকে শুরু করে বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তিকে শুধু সরকারি নিয়ন্ত্রণের কারণে জনস্বার্থে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তার সুবিশাল স্টুডিও, বিশাল নেটওয়ার্ককে কত সৃজনশীলভাবে যে ব্যবহার করা যায় তা যেকোনো বুদ্ধিমান লোকই বুঝবেন। বেতারের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। এ যেন প্রাচীন এক সরকারি অফিস। অথচ বাংলােেদশর প্রান্তিক জনগণের কাছে সবার আগে পৌঁছানোর মাধ্যম হচ্ছে বেতার। কৃষকের ঘরে ঘরে সংবাদ, তথ্য পৌঁছে দেওয়ার েেত্র রেডিওর কোনো বিকল্প নেই। স¤প্রতি একটি প্রাইভেট রেডিও কত দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে! বিবিসি, আকাশবাণী, ডয়েচেভ্যালে এখনো জনপ্রিয়। রেডিও একটি অত্যন্ত সৃজনশীল মাধ্যমও বটে। একদা রেডিও নাটক আমাদের দেশে অত্যন্ত সমাদৃত শিল্পমাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
এসবকে মুক্ত করার জন্য যথার্থ স্বায়ত্তশাসন প্রয়োজন।
যেহেতু তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্বে যিনি আছেন তিনিই বিচার বিভাগকে মুক্ত করার পদপে নিয়েছেন, তাই তাঁর কাছে এ প্রত্যাশাটি করে দ্রুত বিবেচনা আশা করব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


