আমার প্রিয় পোস্ট

মাধ্যম ও সংস্কৃতি অধ্যয়নের পাঠশালা। সঙ্গে সাহিত্যের সুবাস ...

এই রায়টি মোটিভেটেড

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫০

শেয়ার করুন:                   Facebook

প্রথমে মর্মাহত, পরে ভারাক্রান্ত এবং ধীরে ধীরে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠছি। আজ রাবি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যে-রায় হলো তা মোটিভেটেড, সরকার বিশেষত আর্মির পক্ষ থেকে একটি প্রতিশোধ নেয়া হলো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বরাবরই যেকোনো সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ হয়ে থাকে। সামান্য ঘটনার উছিলায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্রবিক্ষোভ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শক্তি নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যায়। বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি জানায়, দ্বিতীয় দিন থেকেই এটা ঘটতে থাকে। ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ বাইরের কোন শক্তি করেছিল তা কি অনুমান করা কঠিন?

বিগত ২৫ তারিখে এই রায় হবার কথা ছিল, কিন্তু রায় হবার দ'তিনদিন আগে হাকিম হঠাৎ ছুটি নেন এবং ঢাকায় যান। জানা যায় সরকার তাকে তলব করেছে।

নতুন রায়ের তারিখ ঘোষিত হয়, আজ তার ঘোষণা হলো। রায়টা পর্যালোচনা করে কী দেখতে পাই? যারা দুইবছর কারাদণ্ড ভোগ করার মানসিক ও শারীরীক শক্তি রাখেন, তাদের ভেতরে রেখে দেয়া হলো। আর যারা বয়স্ক অধ্যাপক তাদের ছেড়ে দেয়া হলো। নানা দিক থেকে শিক্ষকদের মুক্তির যে আবেদন আসছিল, তার প্রতি বিচারকের(সরকারের) এই হলো 'সম্মানপ্রদর্শন'।

সামহোয়ারেরর এই সংক্রান্ত পোস্টগুলোতে অনেকেই না-বুঝে অনেক কমেন্ট করছেন। বোঝা যায় শিক্ষক-রাজনীতির বিরুদ্ধে তাদের গড়পড়তা একটা ক্ষোভ রয়েছে। "শিক্ষকরা রাজনীতি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অধঃপাতে নিয়ে যাচ্ছে", এই শুভবোধ থেকে তারা এসব কমেন্ট করছেন। এই সরকার আসার পর দেখা গেছে, যারা এমপি-মিনিস্টার ধরে যেকোনো কাজ বাগানোকে কোনো নৈতিক সমস্যায় পড়তেন না, কিন্তু তথাকথিত নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকার আসার পর তারাই আজ সবচেয়ে বড়ো নিরপক্ষেতাবাদী। দুই দল দেশটাকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে, আর্মিসমর্থিত সরকার দেশকে বাঁচালো -- এই মন্তব্য করতে তারাই আজ সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ।

"শিক্ষকরা রাজনীতি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অধঃপাতে নিয়ে যাচ্ছে", এই শুভবোধের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত শিক্ষকদের বিচার-প্রক্রিয়া ও রায়ঘোষণাকে মিলিয়ে পাঠ করতে চাইলে আমরা কী পাই? রাজশাহী ও ঢাকা উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সূত্রে আমি গ্রেফতারকৃত শিক্ষকদের বেশিরভাগকে ভালমতো চিনি। তাই আমার বিশ্লেষণটি ব্লগারদের মনোযোগ দাবি করলে তা অহেতুক কিছু হবেনা আশা করি।

সক্রিয়া শিক্ষক রাজনীতি কারা করেন? কয়জন করেন? শিক্ষকতার মতো পেশায় থেকে সব শিক্ষকের কতদূর পর্যন্ত রাজনীতি করা সম্ভব? সক্রিয় রাজনীতি করেও একাডেমিক মান অক্ষুণ্ন রাখা কি সম্ভব?

পাঠকের সুবিধার্থে গ্রেফতারকৃত রাবি শিক্ষকের রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচয় তুলে ধরছি।

১. অধ্যাপক সাইদুর রহমান: সাবেক ভিসি, আওয়ামী সমর্থিত। ৯৬-এ নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দ্বিতীয় ভিসি। একসময় ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের নিষ্ঠাবান গবেষক, পরবর্তীতে রাজনীতিতে অধিক সক্রিয়।
২. অধ্যাপক আব্দুস সোবহান: আওয়ামী ও বামপন্থীদের সম্মিলিত রবীন্দ্র গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত। সজ্জন। একাডেমিক এক্সিলেন্স সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানিনা।
৩. অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক: ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক হলেও মূলত সংস্কৃতিকর্মী। একসময় মোনাজাতউদ্দিনের সঙ্গে সংবাদ পত্রিকার হয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে রিপোর্ট করতেন। সম্প্রতি রাজশাহীর থিয়েটারের প্রাণপুরুষ। তার নির্দেশিত নাটক ভারতে প্রশংসিত হয়েছে।
৪. সেলিম রেজা নিউটন: ছাত্রজীবনে সক্রিয় বামপন্থী কর্মী, পরে বাংলাদেশের বামপন্থীদের সীমাবদ্ধতার সমালোচক, ফলত সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন। একাডেমিশিয়ান, সংগঠক, সম্পাদক, সুবক্তা। গণযোগাযোগ বিভাগে তার নেতৃত্বেই সর্বপ্রথম মিডিয়া অধ্যয়ন একটি শক্তিশালী রূপে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হাজির হয়। অধুনালুপ্ত এডকমসো জার্নালের সম্পাদক। 'মানুষ' পত্রিকার সন্ত্রাস-যুদ্ধ-মিডিয়ার সম্পাদক। কবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে সব সরকারের আমলে সদা সমালোচক, জীবনযাপনের ধরন ইত্যাদির কারণে সমাজের জন্য অস্বস্তিকর ব্যক্তি।
৫. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস: ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযেদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, সেহিসেবে খানিকটা আওয়ামী সমর্থক। তবে সক্রিয় শিক্ষক রাজনীতি থেকে দূরে অবস্থান করেন।
৬. আ-আল মামুন: চিন্তাচেতনায় বামপন্থী তবে বামপন্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও সচেতন। কখনোই সক্রিয় রাজনীতি করেননি। নিষ্ঠাবান একাডেমিশিয়ান। মিডিয়া বিষয়ক একাডেমিক পত্রিকা 'যোগাযোগ'-এর অন্যতম সম্পাদক। সুঅনুবাদক। প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা দুই।

এবার দেখুন যারা দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন, দলীয় লেজুড়বৃত্তির কড়া সমালোচক, তারাই শাস্তি পেলেন। ১ ও ২ নম্বর অধ্যাপককে মুক্তি দেয়া হয়েছে। যেরকম নিষ্ঠাবান, মুক্তচিন্তার শিক্ষক-গবেষক আপনি চান রায়প্রাপ্ত অন্য চারজন ছিলেন সেরকমই।

বিচারকালীন শুনানির প্রত্যেকটি রিপোর্ট আমি পড়েছি। কোনো সাক্ষীই প্রমাণ করতে পারেননি তারা কীরকম 'উস্কানি' দিয়েছিলেন। একই অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ছয়জন, আর দু'জনের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণই পাওয়া গেলনা। সাজানো বিচারের সাজানো রায়!

সাইদুর রহমান স্যার ও সোবহান স্যার যে বেকসুর মুক্তি পেয়েছেন, এজন্য আমি অবশ্যই আনন্দিত। এখন তো দুর্নীতি অনুসন্ধানের সময়, বলতে পারি সাইদুর স্যারের সময়ে রাবিতে বিশেষ কোনো দুর্নীতি হয়নি। তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি। আমার জটিল অসুস্থতার সময়ে তিনি আমাকে বিরাট সমর্থন দিয়েছিলেন। এই বয়সে তাকে যদি জেলখাটতে হতো আরও দুই বছর, তবে তা জাতির জন্যই বিরাট কলঙ্ক হতো। কিন্তু যে-চারজনকে দু'বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে, তাদের কথা ভাবি। তাদের স্ত্রীদের মুখগুলো মুখগুলো চোখের সামনে ভাসে। এদের কেউ আমার সরাসরি ছাত্রী, কেউ সহকর্মী। তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা ভাবি। এই কলঙ্কের দায় কে বহন করবে?

সেলিম রেজা নিউটন এবং আ-আল মামুন আমার প্রিয়তম বন্ধু। দুলালচন্দ্র বিশ্বাসও আমার প্রিয় সহকর্মী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগে আমি তিন বছরের বেশি সময় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা একইভাবে ভাবতাম, ছাত্রদের ন্যায্য দাবিতে একইসঙ্গে পাশে দাঁড়াতাম। আজ যদি আমি দেশে থাকতাম, যদি রাবিতে থাকতাম, তবে ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানানোর ঐ মিছিলে আমিও থাকতাম।

কিন্তু আমি আমার সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের দাবি থেকে নয়, আপনারা একটু তলিয়ে দেখুন, আমরা ভুল লোকের ওপরে আমাদের ক্রোধের ভার চাপাচ্ছি কিনা।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: অ্যাক্টিভিজম  বিভাগে ।

 

  • ৪৮ টি মন্তব্য
  • ৫১৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৬ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৪
comment by: তারিক হাসান খান নিপু বলেছেন: কোন কোন বিচারে কিছুটা প্রতিশোধ থাকে ,
তবে প্রতিষেধকটাই ভাল ।
২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৩
comment by: মিসকল মফিজ বলেছেন: ছাত্র সমাজ আবার উত্তাল হয়ে নব্য ফ্যাসিস্ট তথাকথিত এই কেয়ারটেকার সরকারকে সাইজ করলো বলে ........
৩. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৭
comment by: মিসকল মফিজ বলেছেন: ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকার
ধ্বংস হোক নিপাত যাক।
৪. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৯
comment by: মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: তীব্র প্রতিবার করছি এমন মোটিভেটেড রায়ের।
৫. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৪
comment by: মিসকল মফিজ বলেছেন: হারামজাদা- মা.চো মইন ইউ আহমদ পালানোর টাইম পাইবোনা। শালা বাস্টার্ড।
৬. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫২
comment by: আরিফুর রহমান বলেছেন: ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকার
ধ্বংস হোক নিপাত যাক।

৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:০৬
comment by: মেহেরুল হাসান সুজন বলেছেন: স্যার, ধন্যবাদ। উপযুক্ত লেখা। যারা না বুঝে-না জেনে শুধুমাত্র বিরোধীতা করছেন তাদের জন্য স্যারদের পরিচিতি দেয়াটার দরকার ছিলো। তবে স্যার, আমাদের এই অসহায়ত্ব আর আমাদের সহ্য হচ্ছে না। দিন কি স্যার ফুরিয়ে গেলো?
৮. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৩৫
comment by: মুক্তাদীর আহমদ বলেছেন: এই রায়ে আমি মর্মাহত। এটি অনভিপ্রেত রায়। এ ধরনের রায়ে আদালত নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক।
৯. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৪৪
comment by: মদনবাবু বলেছেন: ধন্যবাদ। উপযুক্ত লেখা।
১০. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৩৬
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ, সবাইকে মন্তব্যের জন্য। এইমাত্র সাজাপ্রাপ্ত একজন শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে কথা হলো। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে দুইমাস সময়ে বাকি বিচারপ্রক্রিয়া সংঘটিত হবে রাজশাহী জজ কোর্টে। নয়তো হাইকোর্টে আপিলের জন্য যেতে হবে।
১১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫৬
comment by: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: আমরা সেই দেশের মানুষ যারা শিক্ষকদের সশ্রম শাস্তি দেয়। লজ্জিত আমি। ৫
১২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫৮
comment by: নিধিরাম সর্দার বলেছেন: ভায়েরা একানে লজ্জিত হবার কি আচে। শিক্ষকরা রক্তে মাংসের মানুষ। আমার আপনার মত। আমরা কি জেলে যেতাম যদি আইন ভান্গার জন্য। যদি জরুরি আইনে " মফিজের" শাস্তি হয় তাহলে অন্যদের হতে পারে
১৩. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:০৮
comment by: মদনবাবু বলেছেন: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন :
২০০৭-১২-০৪ ২১:৫৬:০৭

আমরা সেই দেশের মানুষ যারা শিক্ষকদের সশ্রম শাস্তি দেয়। লজ্জিত আমি। ৫
১৪. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:১২
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: মফিজের শাস্তি হলে শিক্ষকেরও শাস্তি হতে পারে। শওকত হোসেন মাসুম যেটা বলতে চেয়েছেন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা যায় কিনা? শুনানীপর্বে কেউই বলতে পারলো না কী উস্কানি তারা দিয়েছে, সেই মামলার এই রায় মেনে নেয়া যায়? মৌন মিছিলে অংশ নেয়া কি উস্কানি দেয়া?
১৫. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:১৩
comment by: নিধিরাম সর্দার বলেছেন: মৌন মিছিলে অংশ নেয়া কি জরুরি বিধিমালায় এলাউদ ছিল, হ্যা কিংবা না পিলিজ আর রাজনীতিক প্রশ্ন আপনার জন্য- মৌন মিছিলের সে সময়ে কি দরকার ছিল নাকি
১৬. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৪
comment by: জেনারেল বলেছেন: বরাবরেরই মত দারুন বিশ্লেষন।
আমার অনুরোধ রাখায় আবারও ধন্যবাদ
১৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৪
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: হ্যাঁ, মৌনমিছিলে অংশ নেয়া জরুরি আইন ভঙ্গ হয়েছে।
সেসময়ে মৌনমিছিল বহুৎ দরকারী ছিল। কারণ তার আগের দিন রাতে ঢাকায় পুলিশ আর আর্মি হলে হলে গিয়ে শত শত ছাত্রকে পিটিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ঘটনায় এই অংশটা ভুলে যাওয়া হচ্ছে।
আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর এককথায় দিয়েছি। এখন একটি কথা, ঐ ঘটনার আগ পর্যন্ত জরুরি আইন ঢিলেঢালাভাবে চলছিল। সব কথা সবাই বলছিল। টিভির টকশোতে কথার ফুলঝুরি ছুটছিলো, তন্মধ্যে সরকারের সমালোচনাও ছিল। এত দীর্ঘদিন ধরে জরুরি আইন চলছিল যে সবাই ভুলেও গিয়েছিল জরুরি আইনের অস্তিত্ব। এরমধ্যে ঐ মৌনমিছিল।
৮০ হাজার ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলার পর সবাই বুঝলো জরুরি আইন কী বস্তু। এরপরে সবাই সজাগ হলো।
কিন্তু এরপর কত জরুরি আইন ভঙ্গে ঘটনা দেখলাম। মামলা হচ্ছে না।
তারেক জিয়া একের পর এক জামিন পেয়ে যাচ্ছেন।
এই আইনের আওতায়, যে-আইনের প্রতি আপনি শ্রদ্ধাপ্রদর্শনের কথা বলছেন।
১৮. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৮
comment by: নিধিরাম সর্দার বলেছেন: তারেক জিয়া একের পর এক জামিন পেয়ে যাচ্ছেন। এবং উনি কি জেলের বাইরে না ভিতরে একন। আর আপনার বাকি এনালাইসিসের জবাব তাইলে আন্দোলন করে আমরা বরং সরকারকে বাধ্য করসি আইনের অপপ্রয়োগ/প্রয়োগ করতে।
১৯. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৯
comment by: জেনারেল বলেছেন: শেষ কমন্টে আবারও ৫
২০. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪৩
comment by: রোকন বলেছেন: ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন অবৈধ সরকার ধ্বংস হোক নিপাত যাক। আর্মি ফিরে যাক আবার ব্যারাকে।
২১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪৪
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: তারিক হাসান খান নিপু
মিসকল মফিজ
মেহেরুল হাসান সুজন
মদনবাবু
আরিফুর রহমান
মুক্তাদীর আহমদ
শওকত হোসেন মাসুম
জেনারেল
এবং অবশ্যই সর্দারজী
সবাইকে ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্য।
২২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪৯
comment by: রোকন বলেছেন: জরুরী অবস্থার মেয়াদ কত? ১০ বছর?
২৩. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫৪
comment by: নিধিরাম সর্দার বলেছেন: দশ মাসও হয়নাই। আগে ২০০৮ হউক তারপর দশ বছর হইবেক। ২০০৮ যাবার আগে ১০ বছর গোনাগুনি শুরি করস কেন
২৪. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫৫
comment by: রোকন বলেছেন: জরুরী অবস্থার মেয়াদ কত সেইটা বললেন না?
২৫. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫৬
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: সর্দারজী, তারেক জিয়া তো ভেতরেই। আমার প্রশ্ন হলো তারেক জিয়ার জামিন হতে পারে কিন্তু শিক্ষকদের কারাদণ্ড হচ্ছে। আইনের আওতায় সবকিছু হচ্ছে। তারেক জিয়ার তুলনায় শিক্ষকদের ঐ একদিনের 'অপরাধ'-এর কথা ভাবুন।
রোকনকেও ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
২৬. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫৮
comment by: জেনারেল বলেছেন: ফাহমিদুল হকের শেষ কথার উততর দেন সর্দারজী?
২৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২৬
comment by: রোকন বলেছেন: সর্দারজীকে গোড়ায় হাত দিতে হবে। জোর করে ক্ষমতা আকড়ে থাকা অবৈধ দখলদারী সরকারের আইনে আইনের শাসন!

৯০ দিনের সরকার ডেডলাইন দেয় ২ বছরের এবং এই দুই বছর ধরেই তারা বিশেষ ক্ষমতা আইন চালিয়ে যাবে, কেউ প্রতিবাদ করলেই সে খারাপ, তাকে জেলে পাঠানো হবে। এরকম অমানবিক কাজের কথা শুনাতে আসে আইনের কথা বলে! কার আইন? দখলদার সরকারের?
২৮. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৩২
comment by: নিধিরাম সর্দার বলেছেন: তারিক জিয়ার বিচার কি শেষ হইসে। মামলার ধরন কি আলাদা না? রোকন ৯০ দিনের ডেটলাইন এ সরকার কখন দিলো। আর জোড় করে কিন্তু আমরা এদের বসাইস। যাদের দায়িত্ব ছিল গনতান্ত্রয়ানের সেটা তারা করেনাই। একটা টাইম লাইন দেয়া হইসে যেটা সমস্যা তুলনায় আমার কাচে রিজনেবল মনে হইসে। আমি সমস্যার সমাধানের সাইডে। ইমোশনাল না হয়ে আমি এবার সব সমস্যার সমাধান চাই
২৯. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪৮
comment by: রাশেদ বলেছেন: ধন্যবাদ।
৩০. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪৮
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: "একটা টাইম লাইন দেয়া হইসে যেটা সমস্যা তুলনায় আমার কাচে রিজনেবল মনে হইসে।"
সর্দারজী, আপনার কি মনে হয় যে-সমস্যা আমাদের রাজনীতির, অর্থনীতির, সমাজ-রাষ্ট্রের দুইবছরের এক বিশেষ সরকার তার সব সমাধান করতে পারবে? এতবড়ো দায়িত্ব এই সরকারকে কে নিতে বলেছে?
"ইমোশনাল না হয়ে আমি এবার সব সমস্যার সমাধান চাই"

এ কি এক-দুই বছরের মামলা? এটা সামগ্রিকভাবে জাতিগত উন্নতির ব্যাপার।
এই সরকার কয়েকটি জায়গায় শুরু করে দিয়ে যেতে পারে। পরের নির্বাচিত সরকার তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে 'মহান' দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এদিকে তো রেগুলার জিনিসগুলো (যেমন দ্রব্যমূল্যের দাম, নতুন কর্মসংস্থান) লেজেগোবরে করে ফেলছে।
৩১. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:০৬
comment by: নিধিরাম সর্দার বলেছেন: দ্রব্যমূল্যের দাম- সরকারকে ডলার বিক্রি করতে হবে, সোজা হিসাব। ৫০০ মিলিয়ন ডলার রিজার্ভ রাইকা মুদ্রাস্ফীতি বাড়ানো ষ্টুপিডিটি।।নতুন কর্মসংস্থান- বাংলাদেশে সরকার একনো লারজেষট এমপ্লয়ার আর আরো সরকারের সাইজ বাড়ালে ইদার ট্যাক্স বাড়বে নাইলে সরকারের লোন বাড়বে। সরকার যেটা করতে পারে সেটা সুদের হার কমাতে পারে -কিন্তু তাতে সমস্যা আচে বেসরকারী ব্যান্কগুলানের জন্য
৩২. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ২:২৯
comment by: উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: "হ্যাঁ, মৌনমিছিলে অংশ নেয়া জরুরি আইন ভঙ্গ হয়েছে। "

-- এই আইন তো তাহলে অমানবিক। একটি মৌন মিছিলের জন্য দুই বছর জেল..........

যা হোক, উচ্চ আদালতে নিশ্চয়ই সুবিচার পাবেন।
৩৩. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ২:৪৩
comment by: রাহা বলেছেন: প্রয়োজনীয় পোস্ট ।
৩৪. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:১৬
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ উন্মু আব্দুল্লাহ, রাহা
৩৫. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৪২
comment by: উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আমি একটি ব্যপার বুঝতে পারছি না। ৪ জনই কি শুধু মিছিলে ছিলেন? নাকি আরো কেউ।

৩৬. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৪৮
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: ৪ জনই ছিলেন। তবে যে-দু'জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তারাসহ এই ছয়জনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ছিল, উস্কানি ও জরুরি আইন ভঙ্গ।
৩৭. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৫৪
comment by: এস্কিমো বলেছেন: আমি এই পোস্টটা পড়লে হয়তো আমার পোস্টটা দিতাম না।

দারুন বিশ্লেষন এবং ব্যালান্সড।

কথা হলো এখন বাংলাদেশে ল্যাজে কুকুর নাড়ছে বলেই কুকুরের দোষাদোষ ধর্তব্য বিবেচিত হওয়া কি উচিত।

ধন্যবাদ আপনাকে।
৩৮. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:০২
comment by: ফকির ইলিয়াস বলেছেন: এভাবে চাপিয়ে দেয়া রায় জনগণ বেশীদিন মেনে নেবে
না।
৩৯. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:১২
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: এস্কিমো ও ফকির ইলিয়াসকে ধন্যবাদ।
৪০. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৫২
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: মামলার রায়ে আমি প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হলেও অবাক হইনি।
সরকার ও বিচারবিভাগের বিবেক যখন বিক্রি হয়ে যায় তখন সুবিচার আশা করা বোকামী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিপক্ষের মামলায় কি এরকম রায় আসে সেটার অপেক্ষা করছি।
** এ রায় আমি মেনে নিতে পারছি না তবে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি।
----
সব বিপ্লব ও সংগ্রামই কাগজে কলমে লেখা আইনের চোখে বেআইনি, তবে মানব আইনে নয়।
৪১. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৩
comment by: জুবেরী বলেছেন: রাবির একজন সাবেক ছাএ হিসাবে আর সক্রিয় ভাবে বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় সূত্রে সাজাপ্রাপ্ত সকল শিক্ষকদের সাথে সরাসরি অথবা
দূর থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি ,
তাই বলতে পারি শিক্ষকদের ব্যক্তিজীবন ,মতার্দশিক অবস্থান ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে তাদের সাথে বির্তক আর ঐক্যের যে সংগ্রাম চলেছে তাতে রাবিতে প্রগতিশীল রাজনীতিতে তাদের অভিভাবক আর সহযোদ্ধা হিসাবে পেয়েছি ।
রাবিতে চেপে বসা প্রবল প্রতিক্রিয়াশীল জামাত শিবির চক্রের বিরুদ্ধে যে সকল জনপ্রিয় প্রগতিশীল, মুক্তবুদ্ধির, প্রতিবাদী তরুন শিক্ষক মাথা তুলে দাড়িয়ে ছিল তাদের প্রহসনমূলক বিচারের নামে সাজা দিয়ে জামাত শিবিরের চক্রান্তকে সফল করা হলো ।
এই সময় যে সকল ছাএ সংগঠন গুলো প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ করতে করতে পারতো (প্রগতিশীল ছাত্র জোট )তাদের বর্তমান আর সাবেক ছাএনেতাদের (দুই বছর আগে পাস করে বের হয়ে যাওয়া ছাএ ফ্রন্ট নেতা সুসান্ত সিন্ হা)একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে পালাতক ।

ওরা জানে না প্রতিরোধের শক্তিকে কখনো জেল জুলুম দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না ।

ওরা ভূলে যায় :
প্রতিরোধহীনতার অসহায়ত্য থেকে জন্ম নেয় প্রতিরোধের বিস্ফোরণ সম্ভাবনা ।

আর ভূলে যায়
পাকিস্তান আর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গুলোর প্রতিবাদ সংগ্রামের ইতিহাস এক না ।
একই ঔষধ সকল দেশে কাজ করবে না ।





৪২. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৫৭
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জুবেরী
৪৩. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:০৫
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: "সব বিপ্লব ও সংগ্রামই কাগজে কলমে লেখা আইনের চোখে বেআইনি, তবে মানব আইনে নয়।"
আইনপন্থীরা এটাই বুঝতে চায়না, মাহবুব সুমন।
৪৪. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৫
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: আইনই যদি শেষ কথা হয় তবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম সবই আইনের চোখে অবৈধ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। তবে ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের মামলার রায় কি হবে সেটা আন্দাজ করতে পারছি, একই যাত্রায় ভিন্ন ফল !!
---
আপনার নিরেপক্ষ বিশ্লেষনটা ভালো লেগেছে, একমত।
৪৫. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:২০
comment by: বিহংগ বলেছেন: সুন্দর,যৌক্তিক বিশ্লেষনের সাথে একমত। ৫
৪৬. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:২২
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: ধন্যবাদ বিহংগ।
৪৭. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৫৮
comment by: এনুম বলেছেন: বিষয়টি নিয়ে যে আপনাদের অনেকের মতোই আরো অনেকেই ইতিবাচকভাবে ভাবছেন বলেই, ঝড় উঠতে বেশিদিন লাগবে না বলে আশা করছি।
৪৮. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:০৩
comment by: বিহংগ বলেছেন: প্রাপ্তির জন্য

 



 


আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াই। ফিকশন ও নন-ফিকশন দুই ধরনের লেখাই লিখি। গল্প লিখি, প্রবন্ধ লিখি, অনুবাদ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ