এসব কীভাবে ঘটে? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বা কীভাবে এসবের অনুমোদন দেয়? আর টিএসসির মোড়ের এ্যাডগুলো কীরকম আগ্রাসী! কী বিশাল এগুলোর সাইজ, কী অবলীলায় দখল করে নেয় ক্যাম্পাসের আকাশ?
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরে নীলক্ষেতে তৈরী একটি সেমি গেইটে দেখেছিলাম একটি সাইনবোর্ড, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা' লেখা। তবে পুরো সাইনবোর্ডের শতকরা আশিভাগ জুড়ে ছিল মৌসুমীর ছবি, তিনি তিব্বত সাবানকে রেফার করছেন।
এইরকম একটা সাইনবোর্ড কেমনে হয়? আমার ধারণা তিব্বত গিয়ে ঢাবির ভিসিকে বলছে যে ঐখানে এরকম কিছু লেখা নাই, আমরা লিখে দিই, "আপনারে কিছু পয়সা দিই" আর আমাদের মৌসুমীরে একটু সেট কইরা দিই। এই আলোচনায় কার ভাগে কতটুকু স্পেস থাকবে তার আলোচনা উহ্য থাকে। বা এমন হতে পারে তিব্বত বলতে পারে আমাদের ৬০ আপনাদের ৪০। দেবার সময় ৮০-২০ হয়ে গেল। ফান্ড সঙ্কটে ভোগা ঢাবির ভিসি সানন্দে রাজি। কিছু পয়সা আসুক।
এইটা হলো কর্পোরেট করাপশন। পাবলিক সেক্টরের, আবহমান সংস্কৃতির দরিদ্রদশা, মলিন চেহারায় পালিশ দেবার নাম করে, পয়সা দেবার ছুতায় দখল নেয়ার শয়তানি। কারণ পাবলিক সেক্টরেই পাবলিকের/ভোক্তার সংখ্যা বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটা বিরাট ভোক্তাশ্রেণী।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যেনতেনভাবে অর্থোপার্জনের এই খাই ছিল না ১০ বছর আগেও। এইটা কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট। ঢাবির ভিসি বা বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক এইভাবে বেচা যান। নিজে কিছু করার ক্ষেত্রে পঙ্গু হয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যখন ডিবেট সংস্কৃতি সবচেয়ে জমজমাট ছিল, তখন স্পন্সরের নামগন্ধ ছিলনা। আর এখন মৃতপ্রায় ডিবেট ফেস্টিভাল নাকি স্পন্সর ছাড়া আয়োজন অসম্ভব। বইমেলা, পহেলা বৈশাখ কিংবা টিএসসির কার্যক্রম এইসব স্পন্সর ছাড়া একসময় দিব্যি জমজমাট ছিল।
এধরনের কর্পোরেট করাপশন ঠেকানো দরকার। আশার কথা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই আগ্রাসনের প্রতিবাদ করছে।
স্থিরচিত্রের লিঙ্ক:
Click This Link
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


