somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবং বাংলা সীমান্তে: বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ (শেষ পর্ব, পর্ব ৫০)

৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দি টাইমস্
১০ আগস্ট, ১৯৭১।

নয়া দিল্লি ও মস্কোর মধ্যকার গতকালের 'বন্ধুত্ব, শান্তি ও সহযোগিতা'-র যে-চুক্তি হয়েছে, পরিহাসের বিষয় এই যে তা থেকে উপমহাদেশে কেবল শত্রুতা, যুদ্ধ ও ধ্বংসই বৃদ্ধি পাবে। একই ফলাফল আসবে ইয়াহিয়া খানের শেখ মুজিবকে নিয়ে গোপন সামরিক বিচারের ভয়ংকর সিদ্ধান্ত থেকে। ভারত ও পাকিস্তান সরাসরি সংঘাতের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিম পাকিস্তানের জেলে যোগাযোগবিহীন অবস্থায় মুজিব বন্দি থাকায়, পাকিস্তানের জন্য বুদ্ধি ফেরার ও সর্বগ্রাসী নীতি বিসর্জন দেবার একটি সুযোগ এসেছিল। পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত ও অবিসংবাদিত নেতা মুজিবের সঙ্গে রফা করার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। আসন্ন বিচারের রায় কী হবে তা সবার জানা, এবং এটাই সেই সুযোগকে নষ্ট করে দিচ্ছে। ভারতের বিরুদ্ধে চীন পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ালে ভারতের সামরিক বাহিনীকে ইয়হিয়া নিরস্ত্র করতে পারতো। কিন্তু গ্রোমিকোর সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক চুক্তি সেই শক্তিকেও অনেক দুর্বল করে দিয়েছে। কারণ সেই চুক্তিতে উভয় দেশের জন্য যেকোনো 'হুমিক ও আক্রমণ'-এর সময়ে যৌথ 'কার্যকর পদক্ষেপ' গ্রহণের কথা বলা আছে। এধরনের আক্রমণের হুমকি কার কাছ থেকে আসতে পারে? পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তে যুদ্ধ বাঁধলে কেবল চীনের আসার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু চীন কি সেই ঝুঁকি নেবে? সোভিয়েতের সঙ্গে পূর্বের সংঘাতের জের ধরে তার সীমান্তই কি অরক্ষিত হয়ে পড়বে না?

কেউই ভারতীয় সরকারকে যুদ্ধংদেহী মনোভাবের জন্য দায়ী করছে না। আর সেদেশে যুদ্ধের পক্ষে মত দৃঢ় হয়ে উঠছে। গতকালের বিরাট মিছিল সেটাই নির্দেশ করে। আক্রমণ করার রাজনৈতিক চাপ প্রবল। কিন্তু সবচাইতে বেশি রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ যার জন্য যুদ্ধ নাও এড়ানো যেতে পারে। ছয় বা সাত মিলিয়ন উদ্বাস্তুর স্থায়ী ভার নেয়া বেশিদিন সম্ভব নয় যেক্ষেত্রে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ খুবই কম। এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী যেকরম বাংলাদেশ চায় সেরকম বাংলাদেশে হয় (মুজিবের সমাধান হিসেবে) মুক্তভাবে দেশে ফিরে যাবে; অথবা ভারতীয় অধিকৃত ভূখণ্ডে ভারতীয় সৈন্যদের প্রহরায় ফিরে যাবে।

ভারতীয় জেনারেলরা যুদ্ধের যে পরিকল্পনা করতে পারেন তা তাদের জন্য খুবই আকর্ষণীয় হতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা নাই বললাম। উত্তর সীমান্ত থেকে সৈন্যডিভিশনকে পাঞ্জাবসীমান্তে নিয়ে আসা যেতে পারে যাতে সমতলে পাকিস্তানকে সামরিক অচলাবস্থার মুখোমুখি হতে হবে; এরপর সেনাবাহিনীকে পূর্বাংশে নিয়ে আসা যাবে -- প্যারাট্রুপারের সাহায্যে এয়ারপোর্টে সৈন্য নামানো, জলপথ অবরোধ করার মাধ্যমে এবং সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে প্রয়োজনীয় সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা যাবে। কলকাতায় আওয়ামী লীগের নেতারা আছেন, তারা এভাবে ক্ষমতা পারলে খুশিই হবেন; বাঙালিদের মতামত যা পাওয়া যায় তাতে মনে হয় তাদের অনুপ্রবেশকারীদের স্বাধীনতাঅর্জনকারীরূপে অভ্যর্থনা জানাতে আপত্তি নেই।

এটি একটি অশুভ সময়। ব্যাপক রক্তপাতের সময়, ব্যাপক ঝুঁকির ও ভীতির সময়। কিন্তু একে কি থামানো যাবে? বিশ্বমত যদি ইয়াহিয়াকে থামাতে পারে তবে যেতে পারে। মুজিবকে যদি দোষী সাব্যাস্ত করা না হয় তবে -- ভারতকে যদি চূড়ান্ত হতাশ হবার দিন আসার আগেই যথাযথ ও ব্যাপক সাহায্য করা যায়। কিন্তু একে কি থামানো যাবে?


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪০
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৮৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক !

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২



আজ সকালটা খুব সুন্দর ছিলো! একদম ঈদের দিনের মতো! বারান্দার কাছে গেলাম। আমাদের বাসার পাশেই লালমাটিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ। স্কুলের মাঠে একটা বটগাছ আছে। মাঠ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা




সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!

আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×