আমার প্রিয় পোস্ট

সঙ্গে সাহিত্যের সুবাস ...

বাংলাদেশে এক্টিভিস্ট হওয়া কি আদৌ সম্ভব (চার পর্ব একসঙ্গে)

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:০৩

শেয়ারঃ
0 6 0

পর্ব ১

উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞানুসারে এক্টিভিজম হলো সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার জন্য স্বপ্রণোদিত কার্যক্রম। (http://en.wikipedia.org/wiki/Activism) তবে এক্টিভিজমের বিষয়টি এত ব্যাপক যে এই সংজ্ঞা তাকে বর্ণনা করার জন্য যথেষ্ট নয়। আমার উপলব্ধি অনুসারে এক্টিভিস্টরা একইসঙ্গে জ্ঞানী ও কর্মী, এমনকি সংগঠকও।

বিষয় বা ক্ষেত্র এবং মাধ্যম, এই দুই পরিপ্রেক্ষিতে এক্টিভিজমকে বোঝা যেতে পারে। কী কী রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তন এক্টিভিস্টরা আনতে চান, তা জানা গেলেই, এক্টিভিজমের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব। এক্টিভিজম মানেই প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ। এখন এই প্রতিরোধের ক্ষেত্রগুলো হতে পারে সাম্রাজ্যবাদ, জি-এইটের স্বার্থানুকূল পুঁজিবাদী বিশ্বায়ন, এগ্রেসিভ কর্পোরেট কালচার, বিজ্ঞাপননির্ভর ভোগবাদিতা, মৌলবাদী জঙ্গিপনা, ঢালাও বেসরকারীকরণ, উন্নয়নের নামে পরিবেশধ্বংস, পুরুষতান্ত্রিকতা এবং সর্বোপরি যেকোনো ধরনের পীড়ন ও শোষণ। আর এই এক্টিভিজমের মাধ্যম হতে পারে বিচিত্র -- গৃহকোণে বসে লেখালেখি-ব্লগিং থেকে শুরু করে রাজপথে প্রতিবাদ পর্যন্ত। এক হিসেবে এক্টিভিজম বামপন্থী ঘরানার কাজ হলেও, অ-বামপন্থী লিবারেল বা সচেতন গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন নিযুত মানুষ বিশ্বব্যাপী নানা মাত্রার এক্টিভিজমের সঙ্গে যুক্ত। এককথায় বলা যায় এক্টিভিজমের লক্ষ্য হলো মানবমুক্তি।

বাংলাদেশ একটি এক্টিভিজমপ্রবণ দেশ, বাঙালিও সাধারণভাবে একটিভলি এক্টিভিস্ট। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র জন্মের আগ পর্যন্ত বাঙালিরা মূলত রাজনৈতিক এক্টিভিজমের সঙ্গে যুক্ত ছিল, স্বাধীন দেশে এক্টিভিজমের বিচিত্র ক্ষেত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো সাম্প্রতিক বাংলাদেশে বাস করে কি আদৌ এক্টিভিস্ট হওয়া সম্ভব -- আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে সৎ ও খাঁটি এক্টিভিস্ট হওয়া? আমার উপলব্ধি, সম্ভবত, না।

আমার ব্যক্তিগত নিরবতার কথাটিই বলা যায়। আমি ১৯৯৯-২০০২ এই সময়কালে তিন বছরের বেশি সময়কালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলাম। ঐ বিভাগের সেলিম রেজা নিউটন, (ব্লগার) আ-আল মামুন, কাবেরী গায়েন এবং অন্য বিভাগের কয়েকজন সমমনা সহকর্মীর সান্নিধ্যে আমিও একরকম এক্টিভিজমে যুক্ত হই, সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্বের নানা বিষয় নিয়ে পাঠ, আলোচনা, লেখালেখি, প্রকাশনা থেকে শুরু করে রাজপথে প্রতিরোধ সবই করি। সেই কয়েকটা উজ্জ্বল বছর ছিল আমার দীক্ষাগ্রহণের সময়, বন্ধুদের কাছ থেকে কিংবা নিজে নিজে।

২০০২ সালের মার্চে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসি।

সবাই তো সব বিষয়ে এক্টিভিস্ট হয়না। আমার পেশাগত ও আগ্রহের জায়গা থেকে যেকয়েকটি বিষয়ে আমার এক্টিভিজম পরিব্যাপ্ত রাখতে চাইতাম তা হলো:

১. আমি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছিলাম
২. আমি সাম্রাজ্যবাদের নমনীয় রূপ এনজিওদের কার্যক্রমের বিরোধী ছিলাম
৩. আমি বিশ্বায়নবিরোধী ছিলাম (সেহিসেবে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফবিরোধী)
৪. আমি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধী ছিলাম (সেহিসেবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার বিরোধী ছিলাম)
৫. আমি মৌলবাদী জঙ্গিপনার বিরোধী ছিলাম।
৬. আমি মিডিয়ার তৎপরতাকে ক্রিটিকালি দেখতাম
৭. আমি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির বিরোধী ছিলাম
... ইত্যাদি

ঢাকায় চলে আসার পরে আমি দেখলাম বেতন পাই সাকুল্যে প্রায় ১০ হাজার টাকা, একটা সাধারণ ভদ্রস্থ বাসা ভাড়া করলাম, ভাড়া সাড়ে ছয় হাজার। ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়-পরিবারের সঙ্গে সাবলেটে থাকতাম। স্ত্রী সবে চাকরিতে ঢুকেছেন, বেতন অতি সামান্য। কিন্তু কিছুকালের মধ্যেই আমরা বাবা-মা হলাম, স্ত্রী চাকরি ছাড়লেন তার অতি-কাক্সিক্ষত সন্তানকে পৃথিবীতে ঠিকঠাকমতো আনার জন্য। সংসার বড়ো হতে থাকলো। আয় বাড়াতে হবে। নানা জনের সঙ্গে পরামর্শ করলাম, পার্টটাইম কী করা যায়? উত্তর এলো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, এনজিও, কনসাল্টেন্সি। কেউ কেউ বিশ্বব্যাংকের অনুবাদের কাজও দিতে চাইলেন। সবগুলোই আমার দিক থেকে চিহ্নিত সংস্থা, আমার এক্টিভিজমের লক্ষ্য।

সিদ্ধান্তহীন আমি উদভ্রান্তের মতো ঘুরি। পকেটে পয়সা নেই, ঘরে সন্তানের জন্য ব্যয়বহুল শিশুখাদ্য নেই, বাসাভাড়া বাকি, উপরি হিসেবে আছে আমার নীতিবাগিশতার প্রতি স্ত্রীর কটাক্ষ।

পর্ব ২

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিমণ্ডলে কী সুবিধে পাওয়া যেতো? একটা নিম্নভাড়ার বাসা, যা হাউসটিউটরশিপের বরাতে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি ছাড়া সেটা পাওয়া সম্ভব নয়। এই রাজনীতি না করা বা তার বিরোধিতা করাও আমার এক্টিভিজমের লক্ষ্য। যদি একটু দ্রুত প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হওয়া যেত, বেতন বাড়তো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আমার অস্থায়ী প্রভাষকের পদটা স্থায়ী হতেই পাক্কা তিন বছর লেগে গেল (এটা একটা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি, তিন বছর সেবা দিলে অস্থায়ী পদ এমনিতেই স্থায়ী হয়ে যায়। বিভাগ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সত্যি হলো, একটা উদ্যোগকে ঝুলিয়ে/ফেলে রাখা হয়েছে)।

অগত্যা কী আর করা! সম্ভাব্য উপায়গুলো থেকে বিশ্বব্যাংকের অনুবাদকর্ম ও লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বাদ দিলাম। প্রভূত মানসিক পীড়নের মধ্য দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও এনজিওকে বরণ করলাম। টুকটাক কাজ করলাম, তাও নিয়মিত কিছু না। বড়ো ডিগ্রি বা পদ না-থাকায় এসবের পেমেন্টও কম হয়ে থাকে। আর মতিউর রহমানের আহ্বানে প্রথম আলোয় কনসাল্টেন্সিগোছের একটা কাজ করলাম কিছুদিন; অথচ আমার মিডিয়া-এক্টিভিজমের লক্ষ্যই ছিল প্রথম আলো-ডেইলি স্টার। এভাবেই বেঁচে রইলাম, স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখলাম। কিন্তু মর্যাদাকর বেঁচে থাকা তা নয়। কেবলই গ্রাসাচ্ছাদন তা -- গৃহে বৈভব নেই, আত্মীয় পরিমণ্ডলে সম্মান নেই (পদের সম্মান আছে বটে, কিন্তু দীর্ঘদিন তাদের জন্য কিছুই করতে না-পারাটা তাকে ম্লান করে দেয়), বন্ধুমহলে আছে সহানুভূতিশীল করুণা।

কিন্তু এই আপস আমার এক্টিভিজমের লক্ষ্যের তালিকা ছোট করে দিল। এনজিওর সুবিধাভোগী হয়ে তো আর এনজিওর বিরুদ্ধে কথা বলা যায়না। আর সবচেয়ে ক্ষতি হলো প্রতিবাদের যে তেজ ছিল আমার, তা অনেকটা মিইয়ে এলো। যে একবার আপস করা শুরু করে, তার সামগ্রিক তেজের তীব্রতাই কমে আসে। তবে এর মধ্য দিয়েই চেষ্টা চললো তালিকায় আর যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার। কিন্তু আগের সেই উদ্যম আর খুঁজে পাইনা।

পাশাপাশি কয়েক জায়গায় আপসের কারণে সৃষ্ট মানসিক পীড়ন আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। অবশ্য বাংলাদেশে অনেককেই দেখা যায় জলে ও ডাঙায় সমান সক্রিয়, তারা এক্টিভিস্ট হিসেবে সৎ নয় বলে মনে করি। অনেক নামজাদা ও শ্রদ্ধেয় সাংবাদিককে দেখি মিডিয়ার হঠকারিতার সমর্থন গাইতে, সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞাপননির্মাতা হলেন সবচেয়ে বিপ্লবী চলচ্চিত্রকার বা থিয়েটারকর্মী। জানিনা মানসিক পীড়ন বা অন্তর্দ্বন্দ্ব তাদের মধ্যে আদৌ কাজ করে কিনা।

আমাকে এই আপস করতে হলো কেবল খেয়েপরে বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু খোদ পুঁজিবাদী বা সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে এক্টিভিস্টদের কেবল খাওয়া পরার জন্য এই আপস করতে হয়না। তাদের নানা ধরনের সোশ্যাল সিকিউরিটির ব্যবস্থা আছে, ভাতা আছে। একটা ধনবাদী দেশে একজন বেকারভাতা পেয়ে দিব্যি এক্টিভিজম চালিয়ে যেতে পারে। সিয়াটাল হোক আর হংকং হোক, প্লেনে উড়ে গিয়ে পশ্চিমা এক্টিভিস্টরা ডব্লিউটিওবিরোধী এক্টিভিজম করেন। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশে রাষ্ট্র কিছুই দেয়না। নাগরিকদের নিজের ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হয়। বেতন এত কম যে টিকে থাকতে হয় বাড়তি কাজ করে, নয়তো ঘুষ খেয়ে। আর সম্মানজনক বাড়তি কাজ সবসময় জোটেও না।

পর্ব ৩

আমার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গটি এখানে পাড়লাম কেবলই আলোাচনার সুবিধার্থে, ব্যক্তিজীবন বা সাংসারিক করুণদশা, কোনোটাই জানাতে নয়। আলোচনার খাতিরেই আমি এবার বাংলাদেশের কয়েকজন এক্টিভিস্টের নাম নিতে চাইবো। এরা হলেন ফরহাদ মজহার, শহীদুল আলম, রেহনুমা আহমেদ, আনু মুহাম্মদ, সলিমুল্লাহ খান প্রমুখ। এধরনের মাত্র কয়েকজনের নামোচ্চারণের মাধ্যমে অন্যদের খাটো করতে চাইনা, তবে এরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের এক্টিভিজমের সঙ্গে যুক্ত, এবং এদের কমবেশি সবাই চেনেন, এবং এদের নামের মাধ্যমে আমি আসলে আমার যুক্তি তুলে ধরতে চাই।

কবি ও লেখক ফরহাদ মজহার তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের সঙ্গে নয়াকৃষিসহ নানা ধরনের এ্যাক্টিভিজমে যুক্ত। তার শিষ্যের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু তার মতাদর্শিক শিফট অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষত সাম্প্রতিক বাংলাদেশে প্যান ইসলামিক উন্মাদনার তাত্ত্বিক ভিত্তি তার লেখালেখি থেকেই দাঁড়িয়েছে। শহীদুল আলম বিখ্যাত ফটোগ্রাফার, ফটোগ্রাফি ও ব্লগের মাধ্যমে (http://www.shahidul.wordpress.com) তার এক্টিভিজম সর্বজনবিদিত। তবে পাঠশালা এবং দৃকের বিভিন্ন কার্যক্রমে ইউরোপনির্ভরতার কারণে তিনি কতটা স্বাধীনভাবে এক্টিভিজম চালিয়ে যেতে পারছেন তা নিয়ে আমি সন্দিহান। নৃবিজ্ঞানী-শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ তার শিক্ষকতা ও এক্টিভিজমের মাধ্যমে অনেক তরুণ এক্টিভিস্ট তৈরি করেছেন। ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় তিনি মানবমুক্তির জন্য লিখে চলেছেন। অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে লিখছেন, কিন্তু তার কথা নীতিনির্ধারকরা শোনেননা। বাংলাদেশের সেলিব্রেটেড অর্থনীতিবিদ হলেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বা দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আনু মুহাম্মদ সক্রিয় রাজনীতিবিদ -- ফুলবাড়িসহ অন্যান্য জনগণের আন্দোলনে তার ভূমিকা অবিসংবাদিত। সলিমুল্লাহ খান মূলত তাত্ত্বিক, তবে মাঠেও তাকে পাওয়া যায়। আফগানিস্তান-ইরাক আক্রমণের সময় সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতায় এবং 'আহমদ ছফা রাষ্ট্রসভা'র সেমিনারসমূহে ফরহাদ-সলিমুল্লাহর যৌথতা বেশ নজরকাড়া ছিল, তবে সেই যৌথতা সম্ভবত আর বলবৎ নেই। এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি কেন্দ্রকে (কাক) ঘিরে সলিমুল্লাহ খানের এক্টিভিজম বর্তমানে চালু আছে।

এই এক্টিভিস্টদের মধ্যে আনু মুহাম্মদ ও রেহনুমা আহমেদ আমার বিশেষ প্রিয়। বাকিদের জ্ঞান ও কর্মে আমার শ্রদ্ধা থাকলেও নানা কারণেই একান্ত প্রিয় নন। তার কারণ নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ কম। শুধু বলা যায় এই দুইজন এক্টিভিস্ট নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এবং এদের কারণেই মনে হতে পারে বাংলাদেশে খাঁটি এক্টিভিস্ট তাহলে পাওয়া সম্ভব।

তবে শুধু এই তথ্য দিয়েই এই সম্ভাবনাকে নাকচ করতে চাচ্ছি যে, দুজনেরই পিতৃপ্রদত্ত বা অন্যান্য উৎসের নানা সমর্থন আছে, থাকাখাওয়া বা জাগতিক অর্জন তাদের মৌলিক সমস্যা নয়। রেহনুমা আহমেদের পক্ষে জাবির অধ্যাপনার চাকরি একদিন হঠাৎ ছেড়ে দেয়া তাই সম্ভব হয়ে ওঠে। দাঁড়ানোর জমিন শক্ত থাকায় খাঁটি এক্টিভিস্ট হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে।

যা আমার বা আপনার পক্ষে হওয়া সম্ভব নয়।

শেষ পর্ব

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে বিদ্যমান বাংলাদেশ-পরিস্থিতিতে এক্টিভিজমের কী দশা হবে তাহলে? মানবমুক্তির জন্য লড়াইয়ের পথ কি রুদ্ধই থাকবে? আপসের চোরাস্রোতে কি বরাবরই এক্টিভিস্টরা হারিয়ে যাবেন?

হারিয়ে যাওয়া অবশ্যই কাজের কথা নয়। এটা আমার জন্যও প্রযোজ্য, সত্যি বলতে আমি একেবারে হারিয়ে যাইওনি। এখন যেহেতু বিদেশে আছি, তাই ব্লগই আমার এক্টিভিজমের মাধ্যম। দেশে ফিরে গেলে পুরনো উপায়গুলোতে আবার যুক্ত হয়ে যাবো। আমার মনে হয় সৎ এক্টিভিস্ট হবার বা থাকার ইচ্ছেটাই একমাত্র রক্ষাকবচ এক্ষেত্রে। আপসের কারণে এক্টিভিজমের তালিকা ছোট হতে থাকুক, কিন্তু ইচ্ছেটা থাকুক, সক্রিয়তা বলবৎ থাকুক। ডিলেমায় দুলতে হবে, তবুও এক্টিভিজম চালু থাকুক। যিনি পেশাগত কারণেই এনজিওতে আছেন, তার তালিকা থেকে এনজিওবিরোধিতা অবশ্যই বাদ যাবে, কিন্তু অন্য ক্ষেত্রগুলোতে তিনি অবদান রাখতে পারেন। বিজ্ঞাপননির্মাতা বা সেলফোন কোম্পানির এক্সিকিউটিভের পক্ষে কর্পোরেট কালচারের বা জি-এইটের বিশ্বায়নের বিরোধিতা করা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতায় সমস্যা নেই। তবে এগুলো একেকটি একেকটির সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে-পেঁচিয়ে থাকে যে, একটি আরেকটির এমন পরিপূরক যে, একটাকে আক্রমণ করতে গেলে আরেকটি প্রতি-আক্রমণ করতে উদ্যত হয়।

একটা উদাহরণ দিই।

২০০৪ সালে আমি আর আ-আল মামুন যৌথভাবে একটি বইয়ের সম্পাদনা করি, শিরোনাম 'কর্পোরেট মিডিয়ার যুদ্ধ ও তথ্য বাণিজ্য: ইরাক, আফগানিস্তান, প্যালেস্টাইন'। আমার বিভাগের সাবেক এক ছাত্র, যিনি লন্ডন থেকে উচ্চতর সব ডিগ্রি অর্জন করেছেন, শিক্ষক হবার যোগ্যতা থাকার পরেও যিনি ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রামের কোনো বিভাগেই যোগদান করতে পারেননি, তবে ইউনিসেফের কমিউনিকেশন সেকশনে তিনি কর্মরত ছিলেন। আমি দূর থেকে তাকে শ্রদ্ধা করতাম। তাকে বইটা উপহার দিই, তিনি বইটা নিয়ে খুব উৎসাহ দেখালেন। একটা কাজের কাজ হয়েছে বলে মতপ্রকাশ করলেন। আমি তাকে আমন্ত্রণ জানাই বইটার প্রকাশনা-উৎসবে আলোচক হবার জন্য। তিনি সানন্দে রাজি হন, যেন সম্মানিত বোধ করছেন, এরকম ছিল তার অভিব্যক্তি। কিন্তু প্রকাশনা-উৎসবের সময় ঘনিয়ে আসতে আসতে তিনি একদিন ইমেইলে জানালেন যে তার পক্ষে ঐ আলোচনায় আলোচক হওয়া সম্ভব নয়। তার বস নিষেধ করেছেন। বস মানে কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান, কোনো একজন পশ্চিমা সাদা চামড়ার মানুষ।

বিষয়টা তলিয়ে দেখলে কী পাই? ইরাক-আফগানিস্তান আক্রমণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে। এই অন্যায় আগ্রাসনে সমর্থন দিয়েছে পশ্চিমা মিডিয়া। সেই মিডিয়ার তৎপরতার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে চেয়েছে যে বই, সেই বইকে নিয়ে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে আগ্রহী জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংগঠনের একজন বাঙালি অফিসারকে আসতে দিলেন না যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা অন্য কোনো পশ্চিমা দেশের একজন বস। এটি বসের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে, আবার সাংগঠনিক নীতিমালার অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও হতে পারে। যে উপায়েই সিদ্ধান্তটা আসুক, এইটা একটা সিদ্ধান্ত এবং এর অনেক মানে আছে।

এধরনের বাধা এক্টিভিজমের জন্য সবসময়ই আসবে, কিন্তু এসবের মধ্য দিয়েই আমাদের কাজ করতে হয়। এই তথ্য এখানে অপ্রাসঙ্গিক নয় যে আমার সেই শ্রদ্ধেয় জন বর্তমানে ইউনিসেফ ছেড়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ঢাকা অফিসের কমিউনিকেশন বিভাগে কাজ করছেন। আমাদের সবার এক্টিভজমই যদি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের চাকুরে হবার মধ্য দিয়ে শেষ হয়, তবে তার ফলাফল হবে মারাত্মক। আশা করি এই নিয়তি সবার জন্য প্রযোজ্য হবেনা।

তবে বিপজ্জনক হলো গাছের ওপরে এবং তলায় একইসঙ্গে বিরাজ করা। এই প্রবণতা বিভ্রান্তিকর, প্রকৃত এক্টিভিজমের জন্য বাধাস্বরূপ। নারীবাদী নেত্রী হয়ে 'ফেয়ার এন্ড লাভলী ফাউন্ডেশন'-এর উপদেষ্টা প্যানেলে অবদান রাখা হলো পরিস্কার হিপোক্রিসি -- মিডিয়ায় যেমন মঙ্গলবারে 'নকশা', বুধবারে 'নারীমঞ্চ' থাকে; একটায় রূপচর্চার টিপস, আরেকটায় নারী-অধিকারের টিপস।

সবকিছুর মতো এক্টিভিজমের ক্ষেত্রেও সততা একটি পূর্বশর্ত।


 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এক্টিভিজম ;
প্রকাশ করা হয়েছে: অ্যাক্টিভিজম  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫২

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩২
আহমেদ মাহদী আকেফ বলেছেন: বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও জামায়াত .....দেশের এই শীর্ষ ৩ টি রাজনৈতিক দলকে এক টেবিলে বসানো দরকার
৪. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৬
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: সরাসরি প্রিয়তে রইল। উত্থাপিত দ্বান্দিকতা নিয়ে যে প্রশ্ন তাকে সাধুবাদ। বিশাল আলোচনার পাটাতনের জন্যও।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৩

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
এবার সম্পূরক পোস্ট দেন।

৫. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৪২
ফেরারী পাখি বলেছেন: সত্যি ভালো লেগেছে। প্রিয়তে রাখলাম।
ভাবনার খোরাক যোগালো।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৪

লেখক বলেছেন: এইটাই প্রাপ্তি -- ভাবনার খোরাক।

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৫

লেখক বলেছেন: অবশ্যই।
আপনার প্রোফাইল ছবিটা দারুণ।

৭. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৭
যীশূ বলেছেন: রেখে দিলাম। পরে একবারে পড়বো।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৬

লেখক বলেছেন: অবশ্যই পড়বেন।

৮. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৮
আহমেদ মাহদী আকেফ বলেছেন: দেশে জামায়াতে ইসলামই সত , যোগ্য ও দুর্নীতি মুক্ত দল
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫১

লেখক বলেছেন: এই কথাটা জানানোর জন্য এইটা যথাযথ জায়গা না।
ভবিষ্যতে আমার ব্লগে না আসার জন্য উৎসাহিত করছি।
মোটের ওপরে আপনার ওপরে আউট অফ কনটেক্সেটে।

৯. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৫১
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: অফ লাইনে পড়া এবং বাধ্য হয়ে লগ ইন করা।
অনেক ভাল লাগা একটি লেখা। একই সাথে মনে হয় লেখাটা আরও টেনে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক...।
ফরহাদ মজহার কিন্তু এখন জামাতের পত্রিকায়ও (নয়া দিগন্ত এর মাসিক প্রকাশনা) লিখেন। ইনকিলাব তার লেখা রিপ্রিন্ট করে.........ঐ একই কারণে। বিশেষ করে জঙ্গীবাদকে যখন কেউ শ্রেণী সংগ্রাম হিসেবে দেখে বিদ্যাজাগতিক 'ফতোয়া' জারী করে তখন আমরাও সে বিদ্যায় আতংকিত না হয়ে পারি না। যদিও আমি নিজেও ফরহাদ মাজহারের অসংখ্য লেখার ভক্ত।
...........................................................................................
অনেক ধন্যবাদ..........এবং পোস্টটি শোকেসে তুলে রাখলাম বার কয়েক পড়বো বলে।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: লেখাটা টেনে নিতে পারেন আপনি বা অন্য ব্লগাররাও। আমি আমার ব্যক্তিগত অবস্থান ও বিশ্লেষণ দিয়ে সমগ্রকে ধরতে চেয়েছি। অন্যের ব্যক্তি অভিজ্ঞতা জানলে সমগ্রকে আরও জানা যাবে।

অনেক ধন্যবাদ।

১০. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৬
মাহবুব সুমন বলেছেন: দারুন লাগলো।

এখানে সাম্রাজ্যবিরোধী বাম ধারার কিছু ছেলে-মেয়েকে দেখেছিলাম, যেনো নিজের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো। এন্টি ওয়ার ক্যাম্পেইনে তুমুল ব্যস্ত। এরা হয়তো ১%। বাকি ৯৯% কি এক্টিভিস্ট নয় !! হয়তো ক্যারিয়ার, পরিবার ইত্যাদির কারনে এদের হয়ে উঠে না। যে ১% আছে তারাও কতটুকু ধরে পারবে সেটা দেখার বিষয়।

এ রকম একটা বিষয় নিয়ে গল্প লিখেছেলেন ! তাই না ?
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৫

লেখক বলেছেন: এক্টিভিস্টদের সংখ্যা তো সবসময়ই খুব কম, আবার পরিবর্তনও এদের হাত দিয়েই ঘটে।
পশ্চিমা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত পুঁজিবাদী দেশেও ইদানীং এক্টিভিজম খুব ভালোমতোই চোখে পড়ে। পুঁজিবাদের ভেতরের টেনশন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অকমিউনিস্টরাও তাই এক্টিভিজমের ছাতায় আশ্রয় নিচ্ছে। যেখানেই ডব্লিউটিও-র সম্মেলন সেখানেই এক্টিভিস্টরা প্রতিরোধ গড়ছে। এসবকিছুর পেছনে ব্লগের অবদানও কম নয়।

'নগরায়ণের পরে' গল্পটায় এক্টিভিজম-এর বিষয়টা আছে: Click This Link

১১. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৯
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: স্ক্রীণ থ্রু করে গেলাম।আপাতত শোকেসে রাখছি।

কি একটা পোষ্ট দিয়ে বিপদে পড়েছি।মেজোরিটির আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ সামাল দিতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত।

রেহনুমা আহমেদ সম্পর্কে তেমন জানিনা। তবে আনু মুহম্মদের সাহসী এক্টিভিজমকে অনেক শ্রদ্ধার চোখে দেখি।ফরহাদ মজহারের সাম্প্রতিক পরিবর্তন বেশ দৃষ্টি কাড়ে।তবে উনার সাম্রাজ্যবাদ কিংবা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ভয়াবহ আগ্রাসীচরিত্র বিরোধী দৃষ্টিভংগী,বিশ্লেষণ ভালো লাগে।তবে লাতিন আমেরিকার খৃষ্ট ধর্মের ব্যাপকপ্রভাব থাকায় সেখানে থিওলজী অনেকটাই সোশিয়ালিষ্টিক মুভমেন্টের সাথে মার্জ করে গেছে।উনি সেখান থেকে এইটা আমদানী করতে পারেন।
সেখানকার অনেক যাজক তো কমিউনিষ্টদের সাথে কাধে-কাধ রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন কিংবা এখনো করে চলেছেন।

যাহোক আপোষ করলেও নিজস্বতার বোধ শেষপর্যন্ত বজায় রাখার নিরন্তণ সংগ্রাম দেখে বুকে বল পেলাম।

আরো কিছু বলার ছিলো।সবকিছু বলা একবৈঠকে বলা বোধকরি সমীচিন না :)
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:১০

লেখক বলেছেন: ঐ ইস্যুটা নিয়ে কিছু কিছু পড়ছি কিন্তু মন্তব্য করছি না। ব্লগে কিছু বিষয় নিয়ে খুব মাতামাতি হয়, যেমন ধর্ম, তা এমন পর্যায়ে যায় যে তা আর পাঠযোগ্য থাকেনা। তবু আপনার পোস্ট বলে আজ একটু পড়লাম। নো কমেন্টেই থাকলাম।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে বা অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রেও চার্চ আর কমিনউনিস্টরা একসঙ্গে কাজ করেছে। মডার্নিজম-রেনেসাঁ পেরিয়ে চার্চের যে সহনশীলতার জায়গা তৈরী হয়েছে, সেরকমটা আমাদের দেশে এখনও তৈরী হয়নি। তাই ফরহাদ মজহারের অবস্থান অনেকক্ষেত্রে বিপজ্জনক পরিস্থতি তৈরি করে।

১২. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩১
খোমেনী ইহসান বলেছেন: স্যার অশেষ ধন্যবাদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হলে, গ্যালারিপতি হলে কিংবা এনজিওপতি হলে এ্যাক্টিভিস্টদের যে হ্যাপা পোহাতে হয় তা আমরা টের পাই। যখন ছাত্র হয়ে এ্যাক্টিভিজমে জড়ানোর অপরাধে আপনার বিভাগেই সাইজ হলাম। একটা বছর ঝুলে গেলো। দ্বিতীয়বার চতুর্থ বর্ষে পড়তে হচ্ছে!!
স্যার একটা কথা বলে রাখি, এ্যাক্টিভিস্টদের কপাল নির্ধারণ হবে উৎপাদন সম্পর্কের ভিত্তিতে। পরের শ্রম চুরির উপায়ে যাদের দু'বেলা আহার জোটে তাদের এ্যক্টিভিজম তাই অনিবার্যভাবে বিপথগামী হয়ই। হিপোক্র্যাসী তাতো স্বাভাবিকই!
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:১৪

লেখক বলেছেন: গ্যালারিপতিটা কি জিনিস? দৃকের শহীদুল আলম?
এক বছর চুরি যাওয়ায় দুঃখিত। এক্টিভিজমের শাস্তি!
মন্তব্যের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি চিন্তাশীল।

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৪. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৭
মৈথুনানন্দ বলেছেন: পড়েছেন দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগল...বিশেষ ব্যক্তিগত কারণে কারোরই মন্তব্যের প্রত্যুত্তর দিচ্ছি না...এই খামখেয়ালীপনা নিজ গুণে মার্জনীয়।

আমার জীবনের প্রথম অনুবাদ ছিল কেয়ার্লেস হুইস্পার ২০০০ সালে - আর এটা হলো দ্বিতীয়টা। গত বছর করে হারিয়ে ফেলেছিলুম।

একটা সুবিধা আমি পেয়েছি তা হলো এই কবিতাটার অসংখ্য বাংলা অনুবাদের একটাও না পড়া।

শারদীয়া শুভেচ্ছা।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৮

লেখক বলেছেন: শারদীয় শুভেচ্ছা।
নিয়মিত থাকবেন। এই দাবি।

১৫. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৯
মৈথুনানন্দ বলেছেন: ( মাঝখানটা ) ঘোড়ার ন্যারেটেভে বলিয়ে দেখলুম ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়! :)
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩১

লেখক বলেছেন: মাঝখানটা মানে পাতালপুরী ... ঘোড়ার চোখে লেখা?
এইসব কী কন? বুঝিনি।

১৬. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪২
মৈথুনানন্দ বলেছেন: মাঝখান মানে কবিতার মাঝখানটা...ঘোড়াটা নিজের মুখে বলচে সে কি ভাবচে!

আর experimental micro reality-fiction পাতালপুরীতে আনন্দ - পাব্লিক খাইল না, মাইনাসে মাইনাসে সয়লাব করিয়া দিল, হেহেহে! :P

তবে ঘটনাগুলি সত্যি, ছেলেটাকে দেখে আমি অবাক হয়ে গেছিলাম, security গেল কোথায় - শেষ পর্যন্ত সে এক চামচ চিনি পেয়েছিল।

ঐ hustle-bustle...গতো বছর থেকে আমার চিনি ছেড়ে দেওয়া...সবই সত্যি...সবকটি truth-element sew করার চেষ্টা করা হয়েছে...কেবল একটি future tense সন্তর্পণে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে...যা explicitly explain করতে গেলে আমার bachelor মন শরম পাবে! ;)
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৯

লেখক বলেছেন: হুম, এইবার খানিকটা বোঝা গেল।

১৭. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৯
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: অফটপিকই বলা যেতে পারে।

নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাইছি না। দৈবাৎ একবার আপনার সেই মিডিয়া কনসালট্যান্সির ভার বয়ে বেড়াতে হয়েছিল আমাকেই। মোটামুটি মাঝারি মাত্রার বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম আপনার এক চুলচেরা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে। কোনোমতে ইজ্জত রক্ষা হয়েছিল সেবার!
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪৯

লেখক বলেছেন: মানীর ইজ্জত আল্লায় রাখে, 'আমি কে'?

১৮. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৩
আমি কে বলেছেন: তাই নাকি @ সিমু নাসের ওরফে লুকালটক
১৯. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৮
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: আমি কে @ যে সময়কার কথা বলছি, সিমু নাসের তখন বোধহয় আলপিনের নবীন কন্ট্রিবিউটর। সুতরাং জল ঘোলা করে লাভ নেই।
২০. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৩
লাল দরজা বলেছেন: তাইলে এইবার এই ব্লগ থেকে আজকে আমরা কি শিক্ষা পাইলাম? Is it "সবকিছুর মতো এক্টিভিজমের ক্ষেত্রেও সততা একটি পূর্বশর্ত। " ব্যাস এইটুকুই! তাইলে ত বিশেষ কিছু শেখা হইলনা। কিন্তু আপ্নের পোষ্ট টা আমাদের নাড়া দিসে, আমরা দুলতেছি। না দুলতেছিটা ঠিক হইল না। এখানে বলি আন্দোলিত হচ্ছি। :)
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫০

লেখক বলেছেন: আসলেই, কেবল ঐটুকুই বলতে চাইনি।

২১. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪১
তারিক টুকু বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২২. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪৬
লুকার বলেছেন:
কেন, সূঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরুনো যায় না?
সিস্টেমের ভেতরে থেকে সেটা ধ্বংস বা সংস্কার করা যায় না? ইংরেজী শিখব না- এই জেদ করে উপমহাদেশের মুসলমানেরা একসময় হিন্দুদের থেকে বেশ পিছিয়ে পড়েছিল।
জবরদখলকারীদের সায়েস্তা করতে হলে তাদের ভাষা, তাদের সংস্কৃতি, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা- এসব জানলে সুবিধেই হয়, তবে দালালে পরিণত হওয়ার আশংকাও থাকে।
লাদেন তার জঙ্গী প্রশিক্ষণ খোদ সিআইএ থেকেই নিয়েছে, তারপর দেখেন সেটা কেমনে বুমেরাং হইল!
নিমাই ডাকাতকে বালক বয়সে তার পুরো পরিবারকে হত্যা করে ডাকাত দল নিয়ে গিয়েছিল। একসময় বড় হয়ে সে নিজেই সর্দার হয়। তারপর প্লান করে পুরো ডাকাতদলের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে ফেলে, যেটা দেশের সরকারও কখনো পারেনি।

আমি এখানে কেবল ভিন্ন একটা দৃষ্টিভঙ্গীর কথা বললাম।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: "জবরদখলকারীদের সায়েস্তা করতে হলে তাদের ভাষা, তাদের সংস্কৃতি, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা- এসব জানলে সুবিধেই হয়, তবে দালালে পরিণত হওয়ার আশংকাও থাকে।"

একে বলে গেরিলা কায়দায় এক্টিভিজম। এর সুবিধে আর অসুবিধে দুটাই আছে। অসুবিধাটা এড়ানোর জন্য হিম্মত লাগে, 'নইলে মগজধোলাই'।

মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২৩. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:০০
লাল দরজা বলেছেন: লুকারের বৈপ্লবিক দৃষ্টি ভঙ্গিকে কি বলা যায়, চোরের উপর বাটপারী? এক্টিভিষ্টদের আর যাইভাবী বাটপার ভাবতে চাই না। ক্ষেমা করবেন প্লিজ। তবে ষ্ট্রেটেজি হিসাবে কিছু মারপ্যাঁচ ত থাকতেই পারে, সেটা অস্বীকার করি না।
২৪. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০২
আরিফ জেবতিক বলেছেন: এক্টিভিস্ট হতে হলে সততার প্রয়োজন সেটাকে স্বীকার করে নেই । প্রিয় পোস্টে রাখলাম যদিও লাল দরজার মতো আমারও মনে " বিশেষ কিছু শিখা হইল না ।"


একটিভিস্ট হতে হলে আর্থিক নিরাপত্তা একটা বড় বিষয় সেটা সন্দেহ নেই । শুধু আর্থিক কারনে জীবনে কতোবার আপোষ করেছি তার তালিকা করতে বসলে অভিধানের মতোই বড় একটা বই হয়ে যেতে পারে ।

কিন্তু একই সাথে বলা যায় -" আমাকে নয় আমার আপোষ কিনছ তুমি ।"

এক্টিভিস্ট হতে হলে একটা না একটা ছিদ্র বের করে ফেলতে হবে । ভেতরে বসেও এক্টিভিস্ট হওয়া যায় । ধরুন এনজিওতে বসেও যদি এনজিওর বিরুদ্ধে লিখি , নিজের নামে না হোক , ছদ্মনামে ; তাহলেও একটা কাজের কাজ হয় ।

তবে " এক্টিভিস্ট হিসেবে নাম করব " এই ধরনের আগ্রহ থেকে এক্টিভিস্ট হলে সেটা একটা বড় বাধা বটে ।



সম্প্রতি শ্বাশত সত্যের ঘটনায় যা ঘটেছে , তাতে করে অনেক বড় বড় এক্টিভিস্টের লকলকে জিভ থেকে ঘেন্নায় কুকড়ে গেছি ।










০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:০৮

লেখক বলেছেন: আমাকে নয় আমার আপস কিনছো তুমি -- এই নাছোড় মনোভাবটা কাজে দেয় নিশ্চয়।

এক্টিভিজমের রাস্তা এত বন্ধুর যে নাম কুড়ানো একটু কঠিনই বটে। শুধু নামের জন্য এপথে আসলে দ্রুতই আসল রূপ ধরা পড়ে।

বিশেষ কিছু নাইবা শেখা গেল, কিন্তু মন্তব্য করেছেন, প্রিয় পোস্টে রাখছেন, এজন্য বিশেষ ধন্যবাদ।

২৫. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ ভোর ৫:১৩
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: এক্টিভিজমের কোন বিশুদ্ধ রূপ নেই। অনেক কারনেই এটি মিশ্র চেহারায় রূপান্তরিত হয়েছে। আমার বিশ্বাস, কারো এক্টিভিজম শতভাগ বৈপরিত্য মুক্ত হতে পারেনা। ব্যক্তিগত আগ্রহ, প্রয়োজন আর বিশ্বাসের পক্ষে-বিপক্ষে সরু সূতায় ঝুলে থাকা যুক্তি- এক্টিভিজমের মাত্রা কিংবা পরিধিকে বদলে দিতে পারে। তবে, একথা বলা যায়, বৃহত্তর স্বার্থের কাছে ছোটখাট আপস সমালোচিত হওয়া ছাড়া, বিশেষ কোন ক্ষতির কারণ হয়নি কখনোই।

চূড়ান্ত বিচারে সততাই আসল।

আপনার লেখাটি ভাল লেগেছে, বরাবরের মতোই।
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:০৭

লেখক বলেছেন: "বৃহত্তর স্বার্থের কাছে ছোটখাট আপস সমালোচিত হওয়া ছাড়া, বিশেষ কোন ক্ষতির কারণ হয়নি কখনোই।"

মন্তব্যটি প্র্যাগম্যাটিক।

অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

২৬. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ ভোর ৫:৩৪
নাসিমূল আহসান বলেছেন: ভিন্ন আলোচনা : আশা করি বিরক্তির উৎপাদন হবে না।

মিডিয়া দখল নিয়ে বসে আছে আমাদের সমগ্র মানসিক মানচিত্রের। নির্মান ও বদলে দিচ্ছে আমাদের আচরনের কাঠামো। ভাবনার জগত। সাংস্কৃতিক প্রতিবেশ। মূলধারার মিডিয়াগুলো উপকারের বানী প্রচার করছে যত্রতত্র। তথ্য দিয়ে,সেবা দিয়ে ধন্য করেছ আমাদের! সেবাপরায়নতার মুখোশে গড়ে তুলছে মানসিক সাম্রাজ্যবাদ। মুনাফা আর লাভালাভির হিসাব কষতে গিয়ে ক্ষতি করছে গণমানুষের। আমরা সেই ক্ষতি সম্পর্কে অবহিত করতে চাই সবাইকে। চাই মিডিয়ার ধান্দাবাজি সম্পর্কে মিডিয়া ভোক্তাশ্রেণীর মধ্যে সচেতনতা নির্মান করতে। চাই ভোক্তাদের মধ্যে উত্থান হোক একটি সংগঠিত শক্তির; যারা মিডিয়াকে বাধ্য করবে গনমানুষের কাছে যেতে। নির্মান করতে চাই মিডিয়া সম্পর্কিত বাহাস ও যুক্তির নতুন বয়ান।
আমাদের এই স্বপ্ন বোনার কাজে আপনাকে পাশে চাই আমরা। প্রত্যাশা করি আপনার সরব উপস্থিতি । তাই মিডিয়া সম্পর্কিত নতুন গ্রুপ
' মিডিয়া : পাঠ ও আলোচনা '-এ আপনার অন্তুর্ভুক্তি কামনা করছি।
ভালো থাকবেন । শারদীয় শুভেচ্ছা।

লিংক : "মিডিয়া : পাঠ ও আলোচনা"

http://www.somewhereinblog.net/group/mediapoa
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:০৩

লেখক বলেছেন: আবেদন করেছি।

২৭. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:০৩
শ্রেয়া বলেছেন: অবশ্যই +......আপসের কারণে এক্টিভিজমের তালিকা ছোট হতে থাকুক, কিন্তু ইচ্ছেটা থাকুক, সক্রিয়তা বলবৎ থাকুক। ...ভাল লাগল!!!
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৯. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:০৮
মরিয়ম বলেছেন:
ফরহাদের একটি লিখা পড়েছিলাম অনেক দিনে আগে। বিষয় ছিল চিন্তা ও তৎপরতার সমান্তরাল অগ্রযাত্রার প্রয়োজনীয়তার কথা। ব্লগ পাঠে আমার অনেক উপকার সমূহের একটি হচ্ছে দেশের এক্টিভিস্ট হগল ও তৎপরতার কাঙখা ও পরিচালিতির পথ সমূহতে যে চিন্তা-ঘাটতি তৈরী হয়েছে তার উদাহরণ খুঁজে পাওয়া। সে যেমন নানা-কথার লেখায়, তেমন কবিতায়ও। কিছু শব্দমালার রোমান্টিকতায় সকলে আটকে থেকে একটিভিটি দেখানো চিন্তা-ঘাটতি বৈ কি।

তৎপরতার কথা বলতে গিয়ে আমরা সামগ্রিক রাজনৈতিক তৎপরতাকে ভুলি। এক্টিভিজমে তেমন একটা সুবিধা আছে। বিষয়টি এমন, আপাত সময়ে নিজের জন্য এতটুকু পথ নৈতিক ভেবে নেয়া, যেটুকুতে নিজের ফিটেস্ট নিয়ে সংকটে পড়তে না হয়। এজন্য পিতার পয়সায় সিনেমা নাদেখে আমি এক্টিভিস্ট হৈসি- এমন আত্মতৃপ্তি ব্লগীয় লেখায় সন্তুষ্টির সাথে আসে। অথচ প্রয়োজন যে সামগ্রিক (holistic) রাজনৈতিক তৎপরতার সেটিকে ভুলি। খন্ডিত ভাবে যারা তৎপরতা দেখাচ্ছেন, আপনার এখানে যাদের কথা ইতিভাবে আছে- তাদের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন এটিই।

এই তৎপরতা আমাদেরকে প্রগতিশীলতার পরিসরে যেমন ঠাঁই দেয়, তেমনি আড়ং-এর বহুমূল্য তথাশোভিত মাটির অলংকার পরিতেও সহায়তা করে। সামগ্রিক রাজনৈতিক তৎপরতায় আধ্যাত্যর প্রয়োজনও আছে জানি, জোছনার জোয়ারে (চিন্তা) সিদ্ধার্থর ক্ষমতা ছাড়িবার তৎপরতাকে কি করে ভুলি।
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৩

লেখক বলেছেন: এই মহামূল্যবান মন্তব্য পড়ে আপনার প্রকৃত পরিচয় জানতে ইচ্ছে করছে।
আপনার বলার ঢঙটি পরিচতি ঠেকছে, ঢাকার ইন্টেলিজেন্সিয়ায় আপনি চেনামুখ বলেই সন্দ করি।

৩০. ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:২২
আহমেদ হেলাল ছোটন বলেছেন: অসাধারণ লাগল।
আপনার কর্পোরেট মিডিয়ার তথ্য বানিজ্য বইট আমার অত্যন্ত প্রিয় একটি বই।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:০০

লেখক বলেছেন: বইটি পড়েছেন যেনে খুশি হলাম।
আপনাকেও ধন্যবাদ।

৩১. ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:৩৬
আলাপ বলেছেন: স্যার, আপনার লেখাটি পড়ে শিক্ষিত হবার আগে একটি কবিতা পড়ে মুগ্ধ হলাম।

[link|http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28852302|খোদার কসম, এই রোদ্দুরে রেডিক্যাল হতে চাওয়া কাজের কথা নয়। বরং আমরা সুবিধামতো একটিভিস্টই থাকি।]
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:২৫

লেখক বলেছেন: পড়েছি, মন্তব্যেছি।
'লেখাটি পড়ে শিক্ষিত হবার আগে' পদমালায় আপত্তি জানাচ্ছি।
বলাবাহুল্য আমি এখানে শিক্ষাপ্রদানের উদ্দেশে আসিনি।
উহার ক্ষেত্র নির্দিষ্ট আছে।

৩২. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৪৬
জাতেমাতাল বলেছেন: খুবই কষ্ট পেলাম আপনার লিখা পড়ে, আহারে......
মধ্যবিত্তের আসলে প্রচুর সমস্যা, নিদারুন প্রতিকুলতা.........
আপনার প্রতি রইল যাবতীয় সমবেদনা।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:২৫

লেখক বলেছেন: আহারে!

৩৩. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:২৪
মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেছেন: স্যার, আপনার লেখা পড়ে খুব ভাল লাগল। আপনি দেশে কবে আসবেন?
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:০১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মোশাররফ।
আগামী বছরের মাঝামাঝি আসবো আশা রাখি।

৩৪. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪
হামোম প্রমোদ বলেছেন: আমার শব্দ চয়ন খুব দূর্বল, তাই যা ভাবি তা যথার্থ ভাবে উপস্থাপন করতে পারবো কি-না তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চিত। তারপরও বলি। এই একই বিষয় নিয়েও আমি অনেকদিন ধরে ভাবতেছি। তাই এই মূল্যবান পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।
এক্টিভিষ্ট হতে হলে, শুধু মাত্র অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছলতা / স্বাবলম্বি হতে হবে এটা কতটুকু সত্য? এখানে নিজের বিশ্বাসের জোর টাকে আমি প্রাধান্য দিচ্ছি। আমার "আমিত্ব" কে যদি বিশ্বাসের উপর না রেখে নিজের বিশ্বাস টাকে যদি বড় করে দেখি, তারপরও কি আর্থিক দিক টা বাঁধা হয়ে দাড়াবে?
তাছাড়া আরেকটি বিষয় আমাকে ভাবাচ্ছে, আপনার এই আলোচনা পড়ে তরুন এক্টিভিষ্ট রা কি নিজের প্রতি কনফিডেন্স কমে যাবে কিংবা নিজের বিশ্বাস থেকে সরে আসতে প্ররোচিত করবে না তো।
কিন্তু আপনার লেখার এই অংশটি আমাকে আবার আশার আলো দেখাচ্ছে,

"আমার মনে হয় সৎ এক্টিভিস্ট হবার বা থাকার ইচ্ছেটাই একমাত্র রক্ষাকবচ এক্ষেত্রে। আপসের কারণে এক্টিভিজমের তালিকা ছোট হতে থাকুক, কিন্তু ইচ্ছেটা থাকুক, সক্রিয়তা বলবৎ থাকুক। " ...
আমার বিশ্বাস, ইচ্ছেটা যদি না মরে যায়, সক্রিয়তা যদি বলবৎ থাকে -- তবে নিজের অবস্থার পরিবর্তন হলে ( যেমন - আর্থিক অবস্থা কিংবা পারিবারিক / ব্যাক্তি অবস্থা একজন "এক্টিভিষ্ট " হওয়ার অনুকুলে চলে আসলে) আমরা আবার স্ব স্ব বিশ্বাসের জন্য যতটুকু করার তা করতে পারবো।

আবারও ধন্যবাদ।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:০৫

লেখক বলেছেন: অবশ্যই বিশ্বাসের জোরটাই বড়ো।
আগে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবো, তারপরে এক্টিভিস্ট হবো -- এরকম ভাবলে প্রথমটাই হবে, দ্বিতীয়টা হবার সম্ভবনা নেই।
আমি বলতে চেয়েছে যারা ইতোমধ্যে এক্টিভিজমে যুক্ত আছেন, তাদের জন্য কিছুটা স্বাবলম্বীতার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে আমি এর একটা চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

৩৫. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:২৩
দিনমজুর বলেছেন: পোস্ট একটানে পড়েছি- ভালো লেগেছে।

আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভূতি দেখে মনে হলো- নিজের কিছু কথাও বলি.....


একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় চুটিয়ে রাজনীতি করেছি, পুলিশের মুখোমুখি হওয়া-মাইর খাওয়া- এরেস্ট হওয়া সবই হয়েছে; একটি মামলার জের এখনো টানতে হয় (ছাত্রদল নেতা মোকাম্মেল হায়াত খান মুকির চেলা তৎকালীন বুয়েটের রশীদ হলের সভাপতির করা মামলা)। সেসময়ও সবই এনজয় করেছি- এখনও মনের মধ্যে ঐ কটি বছর খুব উজ্জল হয়েই আছে। রাজনীতির একটা পর্যায়ে স্বপ্ন দেখতাম অনেক, নিজের ভবিষ্যতের ব্যাপারে ৮টা-৫টা চাকুরির কথা কল্পনা করতে পারতাম না, মনে মনে ভাবতাম রাজনীতিই করবো- কোন অঞ্চলে- শ্রমিকদের মধ্যে বা কৃষকদের মধ্যে বা কোন জেলায় বা কোন জায়গায়- মানুষদের মধ্যে রাজনীতিকেই এগিয়ে নিয়ে যাবো.......

সবকিছুই পাস্ট টেন্সে লেখা, ফলে বুঝতেই পারছেন- যা কিছু স্বপ্ন ছিল, কোনটাই পূরণ হয়নি- আমি বলবো, আমি পূরণ করিনি। ৮টা-৫টা চাকুরি করছি, ঘর সংসার করছি, বিয়ে করেছি- বাচ্চা হয়েছে- বউ বাচ্চা নিয়ে চাকরি-ঘরসংসার সবই করছি, একসময় যেটাকে নিজের জীবনের জন্য অপ্রয়োজনীয় ভেবেছিলাম তাই আজ হয়ে গেছে খুব প্রয়োজনীয়। পাশ করার কয়েক মাস আগে বাবার অবসরে যাওয়া, মধ্যবিত্ত সংসারটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য চাকুরি করার ব্যাপারে মায়ের আকুতি- এগুলোকে আমার অজুহাতই মনে হয়; আসলে নিজের ব্যাপারে যখন ভাবি- তখন এটাই মনে করি- আমার স্বপ্ন গুলোর পেছনে আমার ডেডিকেশনের অভাবটাই ছিল বেশী- এই অভাবের কারণ আজকে এসে ভাবি- সেসময়কার চিন্তাকে সুসংগঠিত না করা, সে অনুযায়ি আগে থেকেই যথাযথ প্রস্তুতি না নেওয়া, আদর্শিক ভিত্তির দুর্বলতা ইত্যাদি নানাকারণই চোখে পড়ে।

হ্যা! মাঝে মধ্যে হতাশা- প্রচণ্ড হতাশাই আসে। কিন্তু হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে আরো নিজেকে হারানোর ইচ্ছা হলো না, তাই নতুন করে ভাবা- কি করা যায়। সে জায়গা থেকে কিছু পড়া, কিছু লেখা লেখি করা, আরো দু বন্ধু - পুরোনো কমরেড, তাদের সাথে পত্রিকা বের করার চেষ্টা......., এসবে ব্যস্ত থাকা আরকি। যতখানি যা করা, যতখানি সম্ভব কিছুটা ডেডিকেটলি করা......., এই আরকি।

চাকরি করি, একটা মাল্টিন্যাশনালে- আমার আমাদের লেখালেখির অধিকাংশই মাল্টিন্যাশনালের বিরুদ্ধেই, একটা মোবাইল কোম্পানীতে চাকুরি করি- বিদেশী বিনিয়োগের বিরুদ্ধে সিরিজ লিখে যাচ্ছি, মোবাইল ব্যবসার বিরুদ্ধে লিখছি। এসবকে কি অসততা বলবো? ভণ্ডামি বলবো? ঠিক এভাবে নিজেকে বিচার করতে ইচ্ছা করে না। তবে, উল্টোদিকে "যার নুন খাই- তার গুন গাই", এমন অবস্থানও আমার নয়, সুযোগে থাকি- কোম্পানির/মোবাইল ব্যবসার খুটি নাটি ধরার চেস্টা করি- তাদের বিরুদ্ধে লেখালেখিতে সেসব জিনিস কাজে লাগাই, সে অর্থে এটাও ঠিক- যার নুন খাই তার দুর্নাম গাই।

অস্বস্তির জায়গাও আছে- এরা একটা পরিবেশ তৈরী করে, যেটা হলো মাল্টিন্যাশনাল ইনভারনমেন্ট- বা বলতে পারেন কর্পোরেট কালচার; এসমস্ত কিছুর একটা মাঝামঝি অবস্থায় আছি, এসি রুমে থাকা- এসি গাড়িতে চলা এসবে অভ্যস্ত হয়ে আগের মত করে ৯ নম্বর, ১৩ নম্বর, ৭ নম্বর বাসে গাদাগাদি করে চলাচল এখন এড়িয়েই চলি- হাটাহাটির বদলে রিকশা বা সিএনজিতে চড়ে বসি, অফিস এনভারনমেন্টে চাকুরিতে প্রমোশন, উপার্জন বৃদ্ধি এসবের জন্য চোখ চকচক করে, নিজেকে টেকনিকলি এফিসিয়েন্ট করে তোলার ব্যাপারে কলিগের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হই। উল্টোদিকে আগের কিছু ন্যাক-অভ্যাস থাকার কারণে সেভাবে স্মার্টও হতে পারিনা, মাঝে মধ্যে প্রচণ্ড ঘাড় ত্যাড়ামিও করতে ইচ্ছা করে, অফিস আওয়ারের বাইরে, হলিডেগুলোতে মোবাইল ফোন বন্ধ করে বসে থাকি (টেকনিক্যল সাপোর্টের লোকদের জন্য এটি কিন্তু গর্হিত অপরাধ!!).......

কর্পোরেট টাকা হাতে পেতে খারাপ লাগে না। দেদারসে বই কিনছি- নিজস্ব লাইব্রেরী গড়ে তুলছি- ভালো কনফিগারেশনে পার্সোনাল ডেস্কটপ কিনছি- বিজ্ঞাপন ছাড়াই লস দিয়ে পত্রিকা বের করছি, অফিসে বসে হাই স্পিডে নেটে বসে থাকছি...... এগুলোকেই লাভ মনে হয়........., তারপরেও মনে হয় এই আরাম আয়েশের মধ্যে কাটিয়ে এভাবে সহজলভ্য লাভ কি আমি চেয়েছিলাম? আমি আসলেই কি চাই?

এখনো স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন মরেনি, মরেনা। ভাবি হয়তো কোনদিন এই চাকুরিকে গুড বাই জানাতে পারবো। গুড বাই জানিয়ে হয়তো পুরোদস্তুর কোন কিছুতে ইনভল্ভ হবো....

নিজেকে পুরোদস্তুর এক্টিভিস্ট মনে করিনা, সেরকম মনে করাটাকে ঔদ্ধত্য মনে হয়। কিন্তু এটাও মনে করি, মাল্টিন্যাশনালে চাকুরি করলেও- তাদের কাজ করলেও- তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা অকৃত্রিম, পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের পতন চাওয়াটা সত্য।


আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, চমৎকার পোস্টের জন্য (কিছু দ্বিমত সহই), সাথে সাথে আপনার পোস্টে এসে ব্যক্তিগত কাহিনী শুনিয়ে বিরক্তি উৎপাদন করায় দুঃখিত।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:০১

লেখক বলেছেন: আমার পোস্টও তো একরম ব্যক্তিগতই ছিল, ব্যক্তিকে দিয়ে সমগ্রকে ধরার চেষ্টা।
আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে কর্পোরেটে থেকেও কর্পোরেটের বিরুদ্ধে কাজ করা সম্ভব হয়তো। এই গেরিলা কায়দার কথা আগেও একজন এখানে বলেছেন। আমার কাছে এটা বরং কঠিন কাজই মনে হয়।
আপনার মতো আমিও মনে করি আমাদের ডেডিকেশনের অভাব আছে, থাকে। যেজন্য ঐযে মানুষের ভেতরে গিয়ে মানুষের জন্য কাজ করা আর শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে না। অত বড়ো আত্মত্যাগ করার মতো মহত্ত্ব নেই। চাকরির হ্যাপা, সমাজ-সংসারের ঝামেলা, আর্থিক অসঙ্গতি -- সব মিলিয়ে ডিলেমার মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্ত জীবনযাপন।

একেবারে বদলে না যাওয়াটাই হয়তো ইতিবাচক কিছু।

৩৬. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৫
সৈ ক ত হা বি ব বলেছেন: ফাহমিদ ভাই, ধন্যবাদ একটি জরুরি বিষয়ে আলোচনা উত্থাপনের জন্য। কেমন আছেন? অনেক দিন আপনার দেখা পাই না। ভালো থাকুন।
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬

লেখক বলেছেন: আমিতো দেশে নাই।
আগামী বছরেই দেখা হবে।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
যুগান্তরেই আছেন নাকি অন্য কোথাও?
কাব্যচর্চা চলছে?

৩৭. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৭
সৈ ক ত হা বি ব বলেছেন: ধন্যবাদ ফাহমিদ ভাই,

আমি দু বছরের বেশি সমকালে আছি। মনে হয় এর মধ্যে আর আমাদের দেখা হয়নি।

কাব্যচর্চা মোটামুটি চলছে।
সময় পেলে আমার ব্লগে একটু ভ্রমণ করবেন আশা করি।
আপনার গল্পবিশ্বের খবর জানতে চাই।
ভালো থাকবেন।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:২৬

লেখক বলেছেন: আপনার জেনকর্মসমূহও উত্তম।

৩৯. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৩:৪২
লুকার বলেছেন:

দিনমজুরের মন্তব্য থেকে আরেকটা কথা মনে হলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী রাজনীতি করলে নাকি এনজিও, বহুজাতিক কোম্পানী- এসব জায়গায় মোটা বেতনে চাকরী পেতে সুবিধে হয়?
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ ভোর ৬:৫৬

লেখক বলেছেন: ভালো প্রশ্ন বটে।

৪০. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:২৮
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: এই পোস্টে আমি অনেক অনেক কথা বলতে শুনতে আলোচনা করতে চাই। এখন সেজন্য প্রিয়তে রাখলাম ফাহমিদুল ভাই। ভালো থাকুন।
১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩০

লেখক বলেছেন: কই আপনার আলোচনা কই? অপেক্ষা করছি।

৪১. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৬
রাঙা মীয়া বলেছেন: অকপটে সত্যি বলার মতো সাহসিকতাকে শ্রদ্ধা জানাই।পুরো পোস্ট পড়ে অনেক কিছু বুঝলাম ও জানলাম।

এবিষয়ে নিজের যথেষ্ট জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অভাবে আলোচনা থেকে বিরত রইলাম।

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩০

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৪২. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:২৭
'লেনিন' বলেছেন: অ্যাক্টিভিজমের জন্য সঠিক জ্ঞান এবং সততা অত্যাবশ্যকীয়। অন্যকে যারা কেবল দেখে যায়, নিজেরা দৃষ্টান্ত হতে পারেনা তাদের পক্ষে এক্টিভিস্ট হওয়া কঠিন এবং উচিৎও না।

লুকারের মতটিও চিন্তা করার মতো।
৪৩. ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:২৫
সুমন রহমান বলেছেন: অনেক দেরিতে পড়লাম।

সততা এবং স্ববিরোধ কি সমার্থক?

যদি না হয় তাহলে আপনাকে, যাবতীয় কনসালট্যান্সির পরেও, অ্যাক্টিভিস্ট বলতে সমস্যা নাই। :)
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০১

লেখক বলেছেন: সততা ও স্ববিরোধ কি সমার্থক?

ভালো প্রশ্ন।

যাবতীয় স্ববিরোধিতা সত্ত্বেও অ্যাক্টিভিস্টের ভান করাকে অসততা বলা যায়।

বরং আপসকে আপস বলে স্বীকার করা, এবং বাদবাকি অ্যক্টিভিজমে তৎপর থাকা একটা 'সৎ কৌশল' হতে পারে।

আমাকে অ্যাক্টিভিস্ট ডাকা যায় কি যায়না সেটা মূল বিষয় নয়, আমি কেবল আমার মাধ্যমে একটা সামগ্রিক বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

৪৪. ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:০৯
ভালো-মানুষ বলেছেন: সরি, অনেক দেরীতে পড়লাম।

উইকির ডেফিনিশন বেশি রকমের ন্যারো; বিশেষত সামাজিক আর রাজনৈতিক এই দুইটা ডোমেইন ষ্পেসিফাই কৈরা দিয়া সংজ্ঞাটার বারোটা বাজাই দিসে। একটিভিজমের কোন পার্টিকুলার ডোমেইন থাকতে পারে এইটা মাইনা নেওয়া যায় না। কারণ এক্টিভিজম যতটা না প্রো-একটিভ গ্রাউন্ডে হয় রি-এ্যাক্টিভ হয়, হইতে পারে তার চেয়ে বহুগুনে বেশি। যার লাইগা, যেই ডোমেইনেই 'দরকার' সেই ডোমেইনেই এ্যাক্টিভিজম চলতে পারে।

তারপরেও পোস্তে প্লাস দিলাম।
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:১২

লেখক বলেছেন: আপনার কথাটা হয়তো ঠিকই। কিন্তু সামাজিক ও রাজিনিতক ডোমেইনের বাইরে ঠিক কতখানি অন্য ডোমেইনের অস্তিত্ব আছে বলা মুশকিল।

৪৫. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৩৯
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন: Whats It? বহুবার লেখাটি পড়বার পর মন্তব্য করতে বসলাম। রক্তগরম বলে চিহ্নিত করতে পারেন বলে বহুবার ভেবে লিখছি।

যারা এখন কাজ করছে, ত্যাগ করছে, বঞ্চনা সইছে তাদের জন্য, তাদের স্বপ্নগুলোকে ম্লান করে দেবার মতো একটা লেখা এটা। এটা কোনরকম এক্টিভিস্টের ই কাজ হওয়া উচিত নয়।

জীবনে একদিন ও অ্যাক্টিভিজম আপনার হৃদে-মগজে থাকলে এটা আপনি করতেন বোধহয় আরো নিউট্রাল ওয়েতে।

যাই হোক আপনার সাথে আমি পত্র যোগাযোগ করতে আগ্রহী। আমি আপনার সাথে, লেখার বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করছি।

শুভকামনা। যোগাযোগ হবে আশা করি।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন
চতুর্থ বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সভাপতি
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট

সভাপতি
ধ্বনি

প্রতিষ্ঠাত সম্পাদক
কবিতাপত্র অস্তিত্ব


ওহ! আমার ঠিকানা
৪২০/বি, মীর মশাররফ হোসেন হল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

০১৭১৭২৩২৭১৯





শুভকামনা। আমন্ত্রণ রইলো।
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭

লেখক বলেছেন: আপনার ইমেইলের অপেক্ষায় রইলাম।

৪৬. ২৮ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:২৯
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: ফেসবুকে রাইসুর নোটে প্রদত্ত আপনার কমেন্ট থেকে এই অসাধারণ রচনার লিন্ক পেলাম । সরাসরি প্রিয়তে রাখলাম ।
৩০ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: বুঝতে পারছি।
পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৪৭. ১৯ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৪৩
রিজভী বলেছেন: "তবে বিপজ্জনক হলো গাছের ওপরে এবং তলায় একইসঙ্গে বিরাজ করা। এই প্রবণতা বিভ্রান্তিকর, প্রকৃত এক্টিভিজমের জন্য বাধাস্বরূপ। নারীবাদী নেত্রী হয়ে 'ফেয়ার এন্ড লাভলী ফাউন্ডেশন'-এর উপদেষ্টা প্যানেলে অবদান রাখা হলো পরিস্কার হিপোক্রিসি -- মিডিয়ায় যেমন মঙ্গলবারে 'নকশা', বুধবারে 'নারীমঞ্চ' থাকে; একটায় রূপচর্চার টিপস, আরেকটায় নারী-অধিকারের টিপস।

সবকিছুর মতো এক্টিভিজমের ক্ষেত্রেও সততা একটি পূর্বশর্ত। "

*********************************************

....... এক্কেরে মনের কথাগুলোই বলেছেন ফাহমিদুল ভাই। পুরাই সহমত! :)

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৯৫৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াই। ফিকশন ও নন-ফিকশন দুই ধরনের লেখাই লিখি। গল্প লিখি, প্রবন্ধ লিখি, অনুবাদ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ