somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিজ্ঞাপন-হাটে হঠাৎ সংবাদ: টিভি সংবাদের কর্পোরেট ব্র্যান্ডিং

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি সচরাচর টেলিভিশন সংবাদ দেখি না। অথচ সাংবাদিকতার ছাত্র ও শিক্ষক হিসেবে তা অবশ্যই আমার দেখা উচিত। তবে একই কারণে আমি টেলিভিশন সংবাদ দেখার দায়বোধ থেকে নিজেকে মুক্ত মনে করি। কারণ সাংবাদিকতার শাস্ত্রীয় এথিকস্ আমাকে শিখিয়েছে যে টিকে থাকা, এমনকি মুনাফার স্বার্থে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন ছাপা বা প্রচার হতে পারে, কিন্তু অবশ্যই সেই বিজ্ঞাপনের কাছে নিজের সংবাদ বিক্রির মাধ্যমে নয়। তবে দুনিয়া শাস্ত্র মেনে চলে না, ব্যবহারিক চর্চাই বরং পরবর্তী সময়ে শাস্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই বরাতেও বলা যায়, বাংলাদেশের বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদের নামে যা চলছে, তা গোটা দুনিয়াতেই অদৃষ্ট। অন্তঃত আমাদের চেনাজানার মধ্যে কোনো দেশের টেলিভিশন-সংবাদেই এমনটা দেখা যায়না যে সংবাদের প্রতিটি স্লট বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। সংবাদ যেন তাই যা বিজ্ঞাপনের আগে, পরে বা মাঝখানে পরিবেশিত হয়। হায়, পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো পুঁজিবাদী দেশেও যে বিজ্ঞাপনের এই দাপট দেখা যায়না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ব্রডকাস্টারস্, অর্থাৎ বেসরকারী সম্প্রচার কোম্পানিগুলোর সমিতি এরকম একটি আচরণবিধি মেনে চলে যে, একটি টেলিভিশন চ্যানেল প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সাড়ে নয় মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচার করবে। এই হিসাবটা প্রাইম টাইম বা সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানমালার জন্য। অন্যান্য সময় বিজ্ঞাপন প্রচারের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৬ মিনিট। অন্যদিকে সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর দেখভালকারী সরকারী প্রতিষ্ঠান ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) এটা নিশ্চিত করেছে প্রতিদিন কী কী এবং কতসময় বিজ্ঞাপন প্রচারিত হলো, তার দৈনন্দিন তালিকা মাধ্যমগুলো সাত দিন পর পর এফসিসির কাছে জমা দেবে (এডগার ও রহিম, ১৯৮৩: ৩৪)।

আমি গত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ এনটিভির সাড়ে ১০টার সংবাদ দেখতে বসে হিসেব করলাম: ৪৭ মিনিটব্যাপী প্রচারিত সংবাদ-অনুষ্ঠানে ২৭ মিনিট সংবাদ প্রচারিত হয়েছে এবং বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়েছে ২০ মিনিট। পুরো অনুষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক সময়জুড়েই বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়েছে (শতকরা ৪৩ ভাগ সময়জুড়ে)। পুঁজি ও কর্পোরেট-সংস্কৃতির মক্কায় যেখানে প্রাইম টাইমে ঘণ্টায় সাড়ে ৯ মিনিটের বেশি বিজ্ঞাপন প্রচার হয়না, কিন্তু আমাদের শীর্ষস্থানীয় একটি চ্যানেলের প্রাইম-টাইমে ৪৭ মিনিটের সংবাদে প্রচার হয়েছে ২০ মিনিটের বিজ্ঞাপন। কিন্তু এ তো হলো বিজ্ঞাপনের নিজস্ব অবয়ব। সংবাদের উপস্থিতি একটু বেশি সময়জুড়ে হলেও, তার শরীর মোড়া ছিল বিজ্ঞাপনেই। কারণ এনটিভির সংবাদ শিরোনামের নাম ছিল 'পূর্বাচল আমেরিকান সিটি শিরোনাম', অর্থনীতির সংবাদের নাম ছিল 'পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স অর্থনীত খবর'। একই দিনে প্রায় একই সময়ে চ্যানেল আইয়ের খবরে দেখা গেল 'বিজ্ঞাপন বিরতির' বিজ্ঞাপন: 'ইস্টার্ন ব্যাংক বিরতি'। তামাশা বটে!

এইসব তামাশায় চ্যানেল আই এক কাঠি অধিক সরেস। তার আছে 'সিটিসেল সংবাদ শিরোনাম', 'ইস্টার্ন ব্যাংক বিরতি', 'গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স বাণিজ্যিক সংবাদ', 'ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থনীতি সংবাদ', 'আনন্দ আলো সাংস্কৃতিক সংবাদ'। এসবকিছু পাওয়া গেল একই দিনে, দিনটি ছিল ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৯। প্রসাধিত সংবাদ-অপ্সরাকে কিনে নিয়ে গেছে একেক খদ্দের। তাই বলি, এনটিভিতে সেদিন ৫৭% সময়জুড়ে সংবাদ থাকলেও এবং বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি সংবাদের চাইতে খানিক কম (৪৩%) হলেও, যখন দেখা যায় সংবাদ আপাদমস্তক বিজ্ঞাপন-মোড়া, তখন যেকউই মানতে বাধ্য হবেন যে এ মূলত বিজ্ঞাপনের হাট। উপলক্ষ্য হলো সংবাদ। বিজ্ঞাপন-মোড়া সংবাদ-শরীরের উদাহরণ এখনও শেষ হয়নি -- যখন প্রেজেন্টার সংবাদ পাঠ করছেন বা রিপোর্টার ভয়েস-ওভারে তথ্য জানাচ্ছেন তখন আবার স্ক্রল চলছে স্ক্রিনের নিচে: এটিএন বাংলায় আছে 'ন্যাশনাল ব্যাংক শিরোনাম', চ্যানেল আইয়ের আছে 'প্রিমিয়ার ব্যাংক শিরোনাম', এনটিভির আছে 'একটেল শিরোনাম'। অন্য অনুষ্ঠান বা নাটকের মধ্যেও চলে সংবাদ-স্ক্রলের নামে এইসব ব্র্যান্ডের বিকিকিনি। এই বিকিকিনির আদুরে নাম তাই 'কর্পোরেট ব্র্যান্ডিং'।

জানা যায়, বাংলাদেশে টেলিভিশন-সংবাদে এই কর্পোরেট ব্র্যান্ডিং-এর প্রচলন ঘটায় এটিএন বাংলা (রহমান, ২০০৭: ২৪৭)। তবে এর সর্বোচ্চ বাস্তবায়নে চ্যানেল আই-ই এগিয়ে আছে বলে পর্যবেক্ষণে পাওয়া যায়। শুধু সংবাদ তো আর নয়, ইমপ্রেস-এর ব্যানারে বিজ্ঞাপনদাতানির্ভর ও টেলিভিশনে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারসর্বস্ব চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচলন তারাই ঘটিয়েছে। চাতুরতার সঙ্গে তারা বাণিজ্যিক সংবাদ আর অর্থনীতি সংবাদের দু'টি স্লট বানিয়েছে (বাণিজ্যিক সংবাদ ও অর্থনীতি সংবাদ চরিত্রবিচারে কতটুকু আলাদা?), একটি বেচেছে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের কাছে, আরেকটি ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে। এই জায়গায় যেহেতু বিজ্ঞাপনদাতাদের আনাগোনা বেশি, তাই তারা বুদ্ধি করে এক স্লটকে দুই বানিয়েছে। তো সেদিন সেই 'গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স বাণিজ্য সংবাদ'-এ কী প্রচার করলো চ্যানেল আই? প্রিমিয়ার ব্যাংকের মাসিক ব্যবস্থাপক সভার সংবাদ (প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপকদের মাসিক সভা হয়েছে, কর্পোরেট সাজে পালিশমারা ব্যবস্থাপকদের চেহারার ভিস্যুয়াল লইয়া আমি দর্শক হিসেবে কী করিব!), আগোরার র‌্যাফেল ড্র সম্পন্ন হয়েছে (ভাগ্যিস আগোরায় যাইনা, আর দৈবক্রমে গেলেও কখনও চৌকোণা বাক্সে কিছু ফেলি নাই, নয়তো এটাও আমার জন্য সংবাদ হয়ে যেত)। আরেকদিন কোথায় যেন দেখেছিলাম 'সাউথ-ইস্ট ব্যাংক অর্থনীতি (কিংবা বাণিজ্য) সংবাদ', আর সেখানে একটাই সংবাদ ছিল -- সাউথ-ইস্ট ব্যাংকের এজিএম/ব্যবস্থাপকদের মাসিক সভা বা ওরকম কিছু একটা। আবারও বলি, তামাশা বটে! সংবাদ দেখতে গিয়ে বিজ্ঞাপন দেখছি, বিজ্ঞাপনমোড়া সংবাদ দেখছি, আবার সংবাদ হিসেবে যা দেখছি, তাও যদি প্রকারন্তরে বিজ্ঞাপনই হয়, তাহলে আমরা যাই কোথা?

বিটিভির আটটার সংবাদ নিয়ে অনেক ঠাট্টা হয়েছে, কিন্তু এইসব তামাশাকে নিয়ে রঙ্গ করার লোক কই? সংবাদ-অনুষ্ঠান এইভাবে বিজ্ঞাপন-অনুষ্ঠানে পরিণত হবার দশা কীভাবে ঘটলো? বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ১০টি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে যারা সংবাদ প্রচার করে থাকে। এই ১০টি চ্যানেলের সবগুলোকে লাভজনকভাবে বাঁচিয়ে রাখতে পারে এরকম বিজ্ঞাপনের বাজার বাংলাদেশে নেই, যদিও নব্বই দশকের কর্পোরেট বিশ্বায়নের পরে এদেশে, মূলত সওদাগরী ব্যবসা বা ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে, একটি উল্লেখযোগ্য আকারের বেসরকারী খাত সৃষ্টি হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ বিজ্ঞাপন থেকে নিজে কিছু ভাগ পাবার জন্য চ্যানেলগুলো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নিজেকে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে অধিক সহজলভ্য করে তুলছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেতে সম্প্রচার-সময়কে সস্তা বানিয়ে ফেলেছে। এতে সংবাদ সম্প্রচার-সময়ের তুলনায় বিজ্ঞাপন সম্প্রচার-সময় বেড়ে যাচ্ছে আর মূল সংবাদ ও অনুষ্ঠান হয়ে পড়ছে ক্ষীণকায়, শীর্ণকায়, মাইনরিটি। নানা ফন্দি-ফিকিরের মাধ্যমে দর্শককে বোকা বানিয়ে সংবাদের ভেতরে বা মোড়কে অমুক শিরোনাম তমুক বিরতির অবতারণা ঘটছে। এরপর সরকার আরও ১০টি টিভি চ্যানেলের অনুমতি দিয়েছে। সব বড়োলেকেরাই বা সরকার-ঘনিষ্ট লোকেরাই অনুমতি পাচ্ছে, যেমনটি আগেও পেয়েছে। ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের এইসব চ্যানেল সংবাদ-পরিবেশনের-মাধ্যমে-জনসেবার উদ্দেশে চালু হচ্ছেনা। উদ্বৃত্ত কালো টাকার জায়েজকরণের জন্য এই বিনিয়োগ, নিজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের জন্য এই বিনিয়োগ, নিজ রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বৃদ্ধির হাতিয়ার এই টিভি চ্যানেল। সুতরাং অনেক টাকার বিনিয়োগ সত্ত্বেও, অলাভজনকভাবে হলেও, টিভি চ্যানেল চালিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকবেন, তারা একে লাভজনক করার চেষ্টাও পাশাপাশি চালিয়ে যাবেন। একে লাভজনক করার একটাই রাস্তা -- বিজ্ঞাপনপ্রাপ্তি। আজ ১০ টা চ্যানেল ব্রাউজ করতে করতে আপনি প্রায়ই দেখেন যে সব জায়গাতেই বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে, অনুষ্ঠান নাই কোথাও। ২০টা চ্যানেল চালু হলে এর মাত্রা আরও বাড়বে। আর সংবাদ-অনুষ্ঠানের হাল কী হবে তা ভাবতেই আমি শঙ্কিত হয়ে উঠছি।

বিজ্ঞাপন মানুষের মধ্যে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে, আমাদের মধ্যে অপূর্ণতার কষ্টকে খুঁচিয়ে তোলে। যা ছাড়া আমাদের দিব্যি এতদিন চলে যাচ্ছিল, বিজ্ঞাপন আমাদের সেই দ্রব্যকে অতি আবশ্যকীয় বলে ভাবতে বাধ্য করে। বিজ্ঞাপন বলতে চায় আমাদের চুল যথেষ্ট রেশমী নয়, ত্বক যথেষ্ট ফর্সা নয়, আমাদের কাপড় যথেষ্ট সাদা নয়। কোলা না খেলে আমি যথেষ্ট স্মার্ট নই, প্রেমিকাকে নিজের করে পাবার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে নির্দিষ্ট কোনো সেলফোন-কোম্পানির সংযোগের ওপর। নোম চমস্কি বলেন , যদি আপনার সত্যিকার অর্থে একটা বাজার থাকে তাহলে কিন্তু আপনি বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নেবেন না -- আপনি তখন শুধুই তথ্য দিবেন (চমস্কি, ২০০৭: ২৫৬)। বাংলাদেশে পুঁজিতন্ত্রের পথটি পুঁজিবাদের স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে বিকশিত হয়নি। ফাটকা পুঁজির এই বাজারে আসলে খুব কম পণ্যেরই স্বাভাবিক বাজার রয়েছে। সেই বাজার সৃষ্টিতে তাই বিজ্ঞাপনের এই অস্বাভাবিক তৎপরতা। মনে রাখতে হবে বেসরকারী টিভি চ্যানেলে বিকাশ বা স¤প্রসারণ এই ফাটকা পুঁজির মধ্য দিয়েই ঘটে চলেছে। মিডিয়ায় এবং মিডিয়ায় প্রচারিত বিজ্ঞাপনে তাই ন্যূনতম এথিকস্ মানা হয়না। সংবাদপত্রে একটা প্রত্যয় প্রচলিত আছে -- 'নিউজ হোল'। অর্থাৎ বিজ্ঞাপন মহারাজের আসন নিশ্চিত করে যতটুকু গর্ত অবশিষ্ট থাকে, তাতেই বেচারা সংবাদকে জায়গা করে নিতে হয়। আর বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলসমূহে রয়েছে 'বিজ্ঞাপন বৌল' -- বিজ্ঞাপনের পাতে সংবাদ আরকি!

চ্যানেলের সংখ্যাবৃদ্ধি বা মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সম্প্রসারণকে তবে কি আমি এই আলোচনার মাধ্যমে বাধা প্রদান করতে চাচ্ছি? উত্তর হলো, হ্যাঁ। আমি কি তবে এক্ষেত্রে সংরক্ষণবাদী? কনজারভেটিভ? উত্তর হলো, না। মিডিয়ার মালিকানা যদি ব্যবসায়ীর পরিবর্তে গণমানুষের হাতে যায় -- অর্থাৎ অনেক পত্রিকা, টিভি বা বেতার চ্যানেলের মালিক যদি জনগণ হয় এবং অন্তঃতপক্ষে সংবাদকর্মীরাই মালিক হন, তবে মিডিয়ার গণতন্ত্রায়ণ ঘটে, মিডিয়ায় জনমানুষের অভিগম্যতা বাড়ে। সাইবারপরিসরে ব্লগ যেমন সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বড়োলোকদের মালিকানায় নতুন ১০টি চ্যানেল যাওয়া মানে বিদ্যমান মিডিয়া দৃশ্যপটের গুণগত আর কোনো পরিবর্তন না হওয়া। উল্টো সংবাদ-অনুষ্ঠানে বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি আরও বেড়ে যাবার সম্ভাবনা তৈরী হবে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আমরা কী করতে পারি? দর্শকরা নিশ্চয়ই বিজ্ঞাপনের ফাঁকে সংবাদ দেখতে চান না। দর্শক সংবাদ দেখতে টিভি সেটের সামনে বসেন, বিজ্ঞাপনের হাট দেখতে নয়। একটি কার্যকর স¤প্রচার নীতিমালা প্রবর্তন করা খুবই জরুরি, যার আওতায় নতুন চ্যানেল চালু করার নিয়ম-শর্তাবলী নির্ধারণের পাশাপাশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের নীতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই কাজটা সরকার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ব্রডকাস্টারসের মতো টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিজেরা সরকারের নীতিমালা প্রণয়নের পূর্বেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে প্রাইম টাইমে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ কত সময় বিজ্ঞাপন প্রচার হবে। তবে এই দুটি কাজের কোনোটিই খুব সহজে অর্জিত হবার সম্ভাবনা কম। তাই সমাজে কিছু প্রেসার-গ্রুপ সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন যাদের কাজ হবে এবিষয়ে আওয়াজ তোলা। দাবি উঠতে পারে সার্বিক নীতিমালার অথবা সুনির্দিষ্ট একটি ইস্যু চিহ্নিত করে তা নিয়ে লাগাতার কাজ করার কর্মসূচি হাতে নেয়া যেতে পারে। এই প্রেসার-গ্রুপের সদস্য হতে পারেন এ্যাক্টিভিস্ট, একাডেমিশিয়ান, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক, নাগরিক সমাজ এবং তাদের প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সমর্থন।

তথ্যসূত্র
প্যট্রিসিয়া এডগার ও সৈয়দ এ. রহিম (১৯৮৩)। কমিউনিকেশন পলিসি ইন ডেভেলপড কান্ট্রিজ। লন্ডন: কিগান পল।
এ এস এম আনিসুর রহমান (২০০৭)। সংবাদ-সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণেল কাঠামোগত শর্ত বিশ্লেষণ: এটিএন বাংলার ওপর সমীক্ষা, যোগাযোগ। ফাহমিদুল হক ও আ-আল মামুন সম্পাদিত। ঢাকা।
নোম চমস্কি (২০০৭)। ভুয়া সংবাদ ও অন্যান্য সামাজিক দুর্দশা, যোগাযোগ। উদিসা ইসলাম অনূদিত, ফাহমিদুল হক ও আ-আল মামুন সম্পাদিত। ঢাকা।



সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫১
১৭টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মি মিজানুর রহমান সিনহা সাহেবের ম্ৃত্যুতে কিছু কথা মনে পড়ছে।

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৮

মি মিজানুর রহমান সিনহা (৮২), ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক্‌মি ল্যাবরেটরিজ মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত ২টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কি শুধু মক্কায় রয়?

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

মক্কা গিয়ে "আল্লাহ খোঁজো" আল্লাহ শুধু মক্কায় রয়?
পাশের ঘরে ভুখা জাগে নিভৃতে তার রাত ফুরোয়।
পাশের ঘরের ভুখা জানে রাত কিভাবে প্রভাত হয়!
— শ্রাবণ আহমেদ ...বাকিটুকু পড়ুন

শোকের দিনে উল্লাস: শুরু হলো কখন থেকে?? বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক পতনের এক কালো অধ্যায়

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩






বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে, পর সোনালি চেলি নব সোনাল ফুলে......

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:১৬


সেই ছোটবেলায় আমার বাড়ির কাছেই একটা বুনো ঝোপঝাড়ে ঠাসা জায়গা ছিলো। একটি দুটি পুরনো কবর থাকায় জঙ্গলে ছাওয়া এলাকাটায় দিনে দুপুরে যেতেই গা ছমছম করতো। সেখানে বাস করতো এলাকার শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডা. নাসিরের উপর হামলা কেনো?

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

শরিয়তপুর শহরের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ডাক্তার নাসিরের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি মানবতার সেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের নিরাপত্তার ওপর এক চরম আঘাত। সমাজ যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×