আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- টিপাইমুখ বাধ প্রসংগে: চাই সংগ্রামের আন্ত:সংযোগ - দিনমজুর
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- সামহোয়ারইনের যত্তসব অপশনের ব্যাবচ্ছেদ - কাঙাল মামা
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যা দূর করে নিন সহজেই.... - সুনীল সমুদ্র
- সাংবাদিক জীবন: তিনি যেভাবে নির্বাচনী চান্দা দিচ্ছিলেন...... - শওকত হোসেন মাসুম
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- দুইরকম তারুণ্য - সুমন রহমান
- ভাস্কর্য বিবাদ: লালন উৎখাতের মচ্ছব বসিয়ে হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে কার জন্য পিঠা ভাজা হচ্ছে? - ফারুক ওয়াসিফ
- গ্লোবাল ভয়েসের সপ্তাহের ব্লগার হিসাবে নির্বাচিত রেজওয়ান ভাইয়ের অনন্য সাক্ষাৎকার - কৌশিক
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- বাংলা ব্লগের বিবর্তন ও সম্ভাবনা - রেজওয়ান
- বাংলা ব্লগ ও ব্লগ পলিটিক্স - রেজওয়ান
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- সংবাদপত্রগুলোর কার অবস্থান কেমন - কাঙাল
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- আগুণের পরশমনিতে ফাহমিদুল হক ও তার সাহিত্যের সুবাস - কৌশিক
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- আমেরিকা!!! - লাল দরজা
- শহরে ষোল জনা বোম্বেটে / করিয়ে পাগলপারা / নিলো তারা সব লুটে - মাহবুব মোর্শেদ
- যারা কথা বলার সময় বাংলার সাথে ইংরেজী মিশায় - তাদের কেন যেন বাটপার ধরনের মানুষ মনে হয়! - এস্কিমো
বিশ্বায়নকালে মিডিয়া: বড়ো দানবদের ছোট্ট দুনিয়া
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩২
সারাবিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন ঘটেছে সেটা অসম্ভব ছিল বিশ্বায়িত মিডিয়া না থাকলে। বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গণমাধ্যমের অবস্থান কেন্দ্রে। মিডিয়া হলো একইসঙ্গে বিশ্বায়নের কারণ ও ফলাফল। অবশ্য রবার্ট ডব্লিউ ম্যাকচেজনি (ম্যাকচেজনি, ১৯৯৯ক) জি-এইটের স্বার্থানকূল বিশ্বায়নকে বুঝতে ‘গ্লোবালাইজেশন’ শব্দটার চাইতে ‘নিওলিবারেলিজম’ শব্দটা বেশি পছন্দ করেন। বিশ্বায়ন শব্দটার মধ্যে একধরনের অবশ্যম্ভাবিতার বিষয় আছে যা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তার ভাষায়, এটি আদর্শপোরা একটা শব্দ। নিওলিবারেলিজম শব্দটার মধ্যে একটা ঐতিহাসিক ঘটনাক্রম সাক্ষী হয়ে হাজির থাকে। এই বিবেচনায় তিনি বিশ্ববাণিজ্যসংস্থা ও নাফটার কথা উল্লেখ করেছেন। আজকের যে জি-এইট প্রভাবিত বিশ্বায়ন তাতে এই দুটি সংস্থার প্রত্যক্ষ উদ্যোগ রয়েছে। আশির দশকের শেষভাগে থেকে নিওলিবারেল পরিস্থিতিতে যে পলিসি প্রণয়ন করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে মিডিয়া হবে পুরোপুরি বাণিজ্যিক। যেসব দেশ ডব্লিউটিওর অন্তর্ভুক্ত আছে তাদের বলা হয়েছে তোমরা তোমাদের মিডিয়াকে ডিরেগুলেট কর, নিয়ন্ত্রণ করনা, পারলে সবকিছু বেসরকারী খাতে ছেড়ে দাও। তৃতীয় বিশ্বের প্রান্তিক পুঁজিবাদী দেশগুলো তা মেনেছে।
নিও লিবারেল পরিস্থিতির পূর্বে কী পরিস্থিতি ছিল? তখন সাংবাদিকতা ছিল রাজনৈতিক আদর্শভিত্তিক। যত সময় এগিয়েছে, বলা হয়েছে, এটা নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা নয়। আমাদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কাল পেরিয়ে আজ আমরা বিশ্বায়নের যুগের সাংবাদিকতায় উপনীত হয়েছি। আশি ও নব্বই দশকে দশকের পূর্বে মিডিয়া ছিল জাতীয়। রেডিও ও টেলিভিশনের মালিকানা ছিল সরকারের। নিওলিবারেল পদক্ষেপের পরে ব্যাপকভাবে বেসরকারী ও বাণিজ্যিক রেডিও-টেলিভিশন-সংবাদপত্রের বা কর্পোরেট মিডিয়ার আবির্ভাব ঘটেছে।
‘পাবলিক’ আবিষ্কার করে, ‘প্রাইভেট’ ব্যবসা করে
রেডিও থেকে শুরু করে আজকের ইন্টারনেট -- কোনো মাধ্যমই কিন্তু কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা আবিষ্কার করে নি। এসবই আবিষ্কৃত হয়েছে সরকারি উদ্যোগে। পৃথিবীর সব দেশে রেডিও দীর্ঘকাল সরকারি মালিকানায় ছিল এবং এজন্য বিবিসি বা কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং-এর মতো গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন মাধ্যমকে পাওয়া গিয়েছিল। পরে রেডিওতো বিজ্ঞাপনদাতারা প্রবেশ করেছে, ব্যক্তিমালিকানায় রেডিও যাবে কিনা তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলেছে। সরকারের অভ্যন্তরে এনিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, চার্চ ও ট্রেড ইউনিয়ন রেডিওর ব্যক্তিমালিকানাকরণ নিয়ে বিরোধিতা করেছে। কিন্তু রেডিও একসময় বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হয়েছে, যেসব দেশে এখনও সরকারি মালিকানায় রেডিও আছে, সেখানেও বিজ্ঞাপনদাতাদের দাপট রয়েছে। রেডিও নিয়ে যে বিতর্ক হয়েছিল, টেলিভিশনের ক্ষেত্রে সে-বিতর্ক হয়নি। ব্যক্তি খাত অনায়াসে নানা কিসিমের চ্যানেল খুলতে পেরেছে। সব তথ্যমাধ্যমের মতো কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আবিষ্কৃত হয়েছে। পেন্টাগন ও ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ইন্টারনেট ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করেছে। এপ্রসঙ্গে নোম চমস্কি বলেন:
কম্পিউটার আবিষ্কৃত হয়েছিল সরকারি খরচে এবং সরকারি উদ্যোগে। ১৯৫০-এর দশকে যখন কম্পিউটার বিকাশ লাভ করছিল তখন এর খরচের শতকরা ১০০ ভাগ ছিল সরকারের। একই ব্যাপার ছিল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে। ... ইন্টারনেট যতক্ষণ পেন্টাগন বা ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের অধীনে ছিল ততক্ষণ তা ফ্রি ব্যবহার করা যেতো। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত বিল গেটসের ইন্টারনেটের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ ছিল না, ইন্টারনেট বিষয়ক সম্মেলনে ডাকা হলেও তিনি যান নি; কারণ তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত এর মধ্যে লাভালাভের কোনো ব্যাপার লক্ষ করেন নি। (চমস্কি, http://www.corporatewatch.com)
টেলিযোগাযোগ খাতকে ব্যক্তিখাতে ছেড়ে দেবার জন্য আন্তর্জাতিক চাপের কথা আগেই বলেছি। ১৯৯৭ সালের ফেব্র“য়ারিতে বিশ্ববাণিজ্যসংস্থার সদস্য ৬৯টি দেশের সরকার তাদের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে বেসরকারি খাতের একচেটিয়া মালিকদের জন্য খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে পৃথিবীর যোগাযোগ-ব্যবসার ৯০ শতাংশ এই উদারীকরণের আওতায় চলে আসে (মুখার্জি, ২০০২: ১৭)। এতে আইবিএম, মাইক্রোসফট এবং অন্যান্যদের যেকোনো দেশে অবাধে অনুপ্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত হয়। এই কথা অন্যান্য যোগাযোগ-মাধ্যমের জন্যও সত্য। ভারতে দীর্ঘদিন ভিএসএনএল বলে সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানই ইন্টারনেট সেবা দিত, যদিও ভিএসএনএল-এর গ্রাহকসেবা ভালো নয় এই অভিযোগ এনে, সংস্থাটির উন্নতি না ঘটিয়ে, ব্যক্তি খাতের জন্য ইন্টারনেটকে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
গ্লোবাল বাণিজ্যিক মিডিয়ার আবির্ভাব হয়েছে সা¤প্রতিক সময়ে, বিশ্বায়নের সময়কালে। হার্বার্ট শিলার বলেন:
১৯৮০-র দশক পর্যন্ত গণমাধ্যমগুলো সাধারণত জাতীয় মাধ্যম হিসেবেই বিদ্যমান ছিল। ... ১৯৮০-র দশকে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং মার্কিন সরকার যোগাযোগ-মাধ্যমগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার জন্য এবং ব্যক্তিখাতে ছেড়ে দেবার জন্য চাপ দিতে থাকে এবং নতুন স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল টেকনোলজির আবির্ভাবের কারণে বহুজাতিক মিডিয়া-দানবের উদ্ভব ঘটে (শিলার, ১৯৯৭)।
এ হলো দানবের কাল
১৯৯০ সালে সমাজতন্ত্রের পতনের পর পুঁজিবাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন মুক্ত বিশ্ববাজার হাতে পেয়ে যায় এবং পুঁজি তার নিজস্ব নিয়মে বাজার স¤প্রসারণ করতে থাকে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে বিশ্বায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেকখানিই উৎপাদন খাত থেকে সেবা খাতের দিকে ধাবিত হয় এবং এই সেবা খাতের প্রায় পুরোটাই গড়ে ওঠে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে। এই পরিবর্তন ছাপিয়ে যে বৈশিষ্ট্য বর্তমান পুঁজিবাদের ক্ষেত্রে প্রকট হয়ে ওঠে তা হলো মনোপলি, একুইজিশন ও মার্জার। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ছোট কোম্পানিগুলো বড়ো কোম্পানির মাঝে লীন হয়ে যাচ্ছে এবং মাত্র কিছু কোম্পানির মনোপলি কায়েম হচ্ছে। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশুদ্ধ পুঁজিবাদের সময় অসংখ্য কোম্পানি ছিল। কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পণ্যের মান বাড়ানোর চেষ্টা করতো এবং দাম কমানোর চেষ্টা করতো। এতে লাভ হতো ভোক্তার। কিন্তু অধিক মুনাফার জন্য ও অনিশ্চয়তা থেকে কোম্পানিগুলো একচেটিয়া কারবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। একচেটিয়াত্ব দামকে পড়তে দেয়না। এভাবে পৃথিবীর বাজারে ৩০০টি একচেটিয়া সংস্থার দখলে পৃথিবীর মোট সম্পদের ২৫ শতাংশ; এরা নিয়ন্ত্রণ করে মোট বিনিয়োগকৃত বিদেশী পুঁজির ৭৫ শতাংশ (মুখার্জি, ২০০২: ১১)। অবশ্য ব্যাপারটাকে মনোপলি না বলে অলিগোপলি বা কয়েকটি কোম্পানির একচেটিয়াত্ব বলতে হবে। একুইজিশন ও মার্জার বর্তমান পুঁজিবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ওষুধ কোম্পানি, ইন্স্যুরেন্স ও ব্যাংক, তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া প্রভৃতি নানা কোম্পানির মধ্যে মার্জার ঘটে চলেছে। কখনও ‘বোয়াল’ কোম্পানি ‘পুঁটি’ কোম্পানিকে গিলে খাচ্ছে; কখনো দুই বোয়াল আরেক বৃহৎ বোয়াল-এ রূপান্তরিত হচ্ছে -- এও অধিক মুনাফার জন্যই।
বিশ্বয়ান কার্যকর করার দায়িত্ব নিয়ে মিডিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেরাই একেকটি মেগা কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। আর তথ্য যখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন তথ্যমাধ্যমগুলোর রমরমা অবস্থাই হবার কথা। তাই বর্তমান পুঁজিবাদের সব লক্ষণই মিডিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
বেন বাগডিকিয়ান ১৯৮৩ সালে ‘মিডিয়া মনোপলি’ নামে একটি বই লেখেন। সেখানে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে সামনের দিনগুলোতে মিডিয়া সেক্টরে মনোপলি চরম আকার ধারণ করবে। তার ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলেছিল। বাগডিকিয়ানের ভাষায়:
১৯৮২ সালে আমি যখন আমার বই ‘মিডিয়া মনোপলি’-র জন্য গবেষণা সমাপ্ত করি তখন ৫০টি কর্পোরেশন মিডিয়া ব্যবসার অর্ধেক বা তারও বেশি নিয়ন্ত্রণ করতো। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে যখন আমি বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ করছি তখন ৫০ সংখ্যাটি কমে ২৯-এ এসে দাঁড়ায়। যখন ১৯৯৩ সালে শেষ সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে তখন এই সংখ্যাটি ২০-এ এসে দাঁড়িয়েছে (বাগডিকিয়ান, http://www.yilmazguney.com)।
আর ম্যাকচেজনি ১৯৯৯ সালে আমাদের জানাচ্ছেন মাত্র নয়টি মিডিয়া জায়ান্ট বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে। এগুলো হলো: টাইম ওয়ার্নার, ডিজনি, বার্টেলসম্যান, ভায়াকম, নিউজ কর্প, সনি, টিসিআই, ইউনিভার্সাল, এনবিসি। তিনি কয়েকটি কোম্পানির এই মিডিয়া-বিশ্বকে বলছেন ‘এ স্মল ওয়ার্ল্ড অব বিগ কনগ্লোমারেটস’ (ম্যাকচেজনি, ১৯৯৯খ)। তবে সা¤প্রতিককালে এই তালিকা আরও ছোট হয়ে একেবারে ছয়-এ এসে দাঁড়িয়েছে: ডিজনি, নিউজ কর্প, বার্টেলসম্যান, ভায়াকম, ভিভেন্দি-ইউনিভার্সাল, এওএল-টাইমওয়ার্নার।
এক টাইমওয়ার্নারের ১৯৯৭ সালে মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। ১৯৮৯ সালে টাইম ও ওয়ার্নার কমিউনিকেশনস্-এর এক মার্জারের ফলে টাইমওয়ার্নারের আবির্ভাব হয়। এই টাইমওয়ার্নারের সঙ্গে আবার ২০০০ সালে আমেরিকান অনলাইনের (অঙখ) আরেক মার্জার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ মার্জারের রেকর্ড সৃষ্টি করে। কারণ এওএল ইতোমধ্যেই আমেরিকার বৃহত্তম ইন্টারনেট কোম্পানি ছিল, ইউরোপেও যার বিরাট বাজার ছিল। এদিকে বৃহৎ হার্ডওয়্যার কোম্পানি হেউলেট প্যাকার্ডের সঙ্গে মার্জার হয় কমপ্যাক-এর। এভাবে মিডিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মার্জার চলতে থাকে। ফ্রান্সের মিডিয়া-কোম্পানি ভিভেন্দি কিনে নিয়েছে আমেরিকার ইউনিভার্সালকে। ২০০৭ সালে থমসন কিনে নিয়েছে রয়টার্সকে, গুগল কিনেছে ডাবল ক্লিককে, ইয়াহু কিনেছে রাইটমিডিয়াকে। ২০০৯ সালের সর্ববৃহৎ মার্জার ছিল কমকাস্ট ও এনবিসি-ইউনিভার্সাল-এর। ১৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারের মাধ্যমে কমকাস্ট ৫১% মালিকানা নিশ্চিত করেছে। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মার্জার ঘটেছে ২০০৭ সালে। ২০০৭ সালে ৮০৩টি মিডিয়া-মার্জার ঘটে সনাতনী ও নয়া মিডিয়া মিলে যারা আর্থিক মূল্য ছিল ১৫৪ বিলিয়ন ডলার। প্রথম শ্রেণীর মিডিয়ার মধ্যকার মার্জার মূলত আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু মাঝারি আকারের মিডিয়ার মধ্যেও মার্জার ঘটে চলেছে যার বিস্তৃতি আমেরিকা-ইউরোপ ছাড়িয়ে এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই ধরনের মার্জার কেন ঘটছে? বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক অস্থির প্রতিযোগিতা চলছে। আগেই বলা হয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দির বিশুদ্ধ পুঁজিবাদের সময় অর্থনীতির এরকম কেন্দ্রীভবন ছিলনা। বহু কোম্পানির মধ্যে একটা সমপর্যায়ের প্রতিযোগিতা ছিল। এই প্রতিযোগিতায় লাভ হতো ভোক্তার। কিন্তু এখনকার অসম প্রতিযোগিতার সময়ে ছোট কোম্পানিগুলোর টিকে থাকাই দায়। তাই বড়োগুলো ছোটগুলোকে একুইজিশনের প্রস্তাব করলে তাদের সাড়া না দিয়ে উপায় থাকেনা। কারণ অসম প্রতিযোগিতায় তারা এমনিতেই বিলীন হয়ে যেত। আর সমপর্যায়ের মার্জারের অনেকগুলো কারণের একটি হলো স্টক মার্কেটে আকর্ষণ সৃষ্টি করা। আর বিদ্যমান সনাতন মিডিয়াগুলো, ডিজিটাল সময়ে নিজেদের গ্ল্যামার বাড়াতেও ছোট নয়া-মাধ্যমকে কিনে নিচ্ছে।
আশির দশকের শেষভাগ থেকে এবং নব্বই দশকব্যাপী মিডিয়ার মাধ্যমের ব্যাপক বেসরকারিকরণের ফল হয়েছে এই, মিডিয়ায় সংবাদের পরিমাণ কমে গেছে এবং হালকা বিনোদনের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এবং এইসব বিনোদন-অনুষ্ঠান তৈরিতে খরচ কম কিন্তু আয় বেশি -- বিজ্ঞাপন এই অংশেই বেশি আসে (বাগডিকিয়ান, http://www.yilmazguney.com)। বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ক্ষেত্রে তাই রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কোনো অনুষ্ঠান দেখা যায় না। তারা কেবল মুনাফাই বোঝে, জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
আর বৈশ্বিক মিডিয়ার ক্রমাগত মার্জার ও কেন্দ্রীভবনের ফলে গণমাধ্যমগুলো থেকে যে-বিভিন্ন কণ্ঠস্বর শোনা যেতো -- গণমাধ্যমের সেই বৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে, গেছে। একসময় বিভিন্ন ধরনের মিডিয়ার অস্তিত্ব ছিল -- ছোট পত্রিকা-বড়ো পত্রিকা, শ্রমিকদের পত্রিকা-রাজনীতিবিদদের পত্রিকা -- তাদের পরিবেশিত বার্তা, রাজনৈতিক আদর্শ নানাধর্মী ছিল। কিন্তু এখন সেই বৈচিত্র্য আর খুঁজে পাওয়া যায়না। বৈশ্বিক মিডিয়ার ভূমিকা তাই দাঁড়িয়েছে বাজারের পক্ষে কাজ করা, কর্পোরেট কালচার সরবরাহ করা, ভোক্তাসংস্কৃতি উপহার দেয়া, হালকা বিনোদনে অডিয়েন্সকে বুঁদ করে রাখা, বিজ্ঞাপনের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়া, সর্বোপরি সমাজে বিদ্যমান প্রকৃত সমস্যা ও বৈষম্য থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে ভিন্ন কিছু নিয়ে ব্যস্ত রাখা। বৃহৎ দানবদের পরিবেশিত এই মাধ্যম-সংস্কৃতি প্রান্তিক দেশের মিডিয়াগুলোও অকাতরে গ্রহণ করছে। ফলে আমরা বৈচিত্র্যহীন, অগভীর, একরৈখিক এক মিডিওলজির (মিডিয়ার ইডিওলজি) মধ্যে বসবাস করছি।
তথ্যসূত্র
ম্যাকচেজনি, রবার্ট ডব্লিউ (১৯৯৯ক), Global Media, Neoliberalism, and Imperialism, http://www.monthlyreview.org/301rwm.htm
ম্যাকচেজনি, রবার্ট ডব্লিউ (১৯৯৯খ), The New Global Media, Click This Link
মুখার্জি, মানব (২০০২), ‘তথ্যপ্রযুক্তি, পুঁজিবাদ এবং ভবিষ্যৎ’, প্রসঙ্গ: তথ্যপ্রযুক্তি, মানব মুখার্জি ও অন্যান্য সম্পাদিত, ন্যাশনাল বুক এজেন্সি, কলকাতা।
চমস্কি, নোম, http://www.corporatewatch.com.
বাগডিকিয়ান, বেন (১৯৯৭), Click This Link
শিলার, হার্বার্ট আই (১৯৯৭), http://www.yilmazguney.com/media/writers/schiller/interview.htm
চিত্র: ছয়টি মিডিয়া দানবের বৃত্তান্তসংক্ষেপ (http://www.lovearth.net/mediamoguls.jpg )
প্রথম প্রকাশ: খালেদ মুহিউদ্দিন সম্পাদিত 'মিডিয়াওয়াচ' (Click This Link)।
প্রকাশ করা হয়েছে: মিডিয়া অধ্যয়ন বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
বাংলাদেশের মিডিয়া মনোপলি নিয়ে আপনার কি কোনো কাজ আছে? যদি না থাকে, এই প্রসঙ্গে আপনার পর্যবেক্ষণ কী, বলা যায়?
লেখক বলেছেন: সামনে আসবে। পড়ার আমন্ত্রণ রইলো।
সাহসী বলেছেন:
জ্বি। অধ্যাপক সুলভ ভারভারিক্কির বোঝায় আক্রান্ত লেখা।তয় মিডিয়া যে একই সাথে গোলকায়নের কারন ও ফলাফল। এবং ঐতিহাসিক খায়খাতির খেয়াল রাখার স্বার্থে গোলকায়ন যে নয়াউদারবাদ নামে যথার্থ এই দুইখান বিষয় জানান দেয়ার জন্য শুকরিয়া।
অফটপিক; থার্ড পারসন সিংগুলার নাম্বার নিয়া তৈলমূলক লেখাটা নিয়া কি আপনে এখন বিব্রতবোধ করেন? নাকি এসব ক্ষেত্রে বিবেকের দংশন শুরু হইতে আপনের আরো বেশি সময় দরকার হয়?
লেখক বলেছেন: সিঙ্গুলার নাম্বারের লেখাটা নিয়ে মোটেই বিব্রত নই। এই বয়সে কি কেউ ওরকম লেখে যে কয়েকদিন বাদেই তা নিয়ে বিব্রত হয়ে পড়তে হয়? আর বিব্রত হবার কী কী কারণ থাকতে পারে যদি বলেন তো শুনি।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
লেখায় ৬টি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আমার তো মনে হয় একজন রুপার্ট মারডকই মিডিয়া বিশ্বের অনেক কিছুই বদলে দিতে পারে।
লেখক বলেছেন: ঠিক।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
ফাহমিদ ভাই, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার নিয়ে আপনার সমালোচনা সত্যিই ভালো হয়েছে। বিচিত্রার মাহমুদা চৌধুরীর পর চিত্রসমালোচক হিসেবে আপনাকে ভালো লাগছে আপাতত।
লেখক বলেছেন: মাহমুদা চৌধুরী তো রেগুলার লিখতেন। আমি তো পারিনা, যদিও ইচ্ছে ছিল ডিপজল বা শাকিব খানের ছবি নিয়ে নিয়েও রেগুলার লেখার।
আর আমাদের 'যোগাযোগ' পত্রিকায় 'ব্যাচেলর' নিয়ে খুবই সমালোচনাত্মক লেখা ছেপেছিলাম। কিন্তু অপেক্ষাকৃত ভালোকে তো ভালো বলতে হবে।
আর আমি বাংলাদেশের সিনেমার উন্নয়ন চাই, ওউন করি। অযথা 'হয় নাই' গোছের সমালোচনা লেখা কাজের কথা না। খানিকটা ভালো হলে তাই খুশি হই। আর যেকোনো ছবির প্রথম রিভিউটা খুব ক্রিটিকাল না হবার একটা ভদ্রলোকী রীতি তো আছেই।
সাহসী বলেছেন:
লোকাল্দা মাইন্ড খাইয়েন না। জনাব অধ্যাপকের সাথে এট্টু আলাপকরি।
[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[[
জনাব অধ্যাপক
আমাদের লোকালটক সাহেবের তৈলে ভাইসেন না। জনাব ফিউশনের ইমান খুব মজবুত যে, যা কিছু ভালো তার সঙ্গে প্রথম আলো।
কাজের কথায় আসি-
আপনে বহুত ব্যস্ত মানুষ। সুতরাং ইমপ্রেস গং এর এই ছবিখানা নিয়া নাখান্দা নালায়েক আম ব্লগাররা যেসব পর্যালোচনা করছেন, সেইসবের কিছুই আপনে পড়েন নাই। এইটা বোঝা যায়। অন্যদিকে, প্রথমালো আপনের লেখা পইড়া কারা কতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাইছেন সেইটা জানার নসীব আপনার কোনোকালে হইবো না। ইতিহাস অনেক এরকম। যেমন ধরেন আমাদের লেখিকা সলিমুল্লাহ খান সাহেবের কাহিনি তো জানেন মনে লয়। সাইধা প্রতিক্রিয়া লেখাইয়া সেইটা ছাপে নাই প্রথমালো। ওইযে নিউইয়র্কের এক বাঙালি বাবুর লেখার প্রতিক্রিয়া।
সে যাউক গা।
সামহোয়ারইনে কন্টেন্ট সার্চ দিয়া নিজের গরজে এ বিষয়ে আপনের অজানা দুর করবেন আশা করি।
তবু হেল্প করি একটু- এইটা দেখতে পারেন।
এরকম আরো বহুত লেখা আছে।
সাহসী বলেছেন:
আর আমি কিন্তু আপনারে বাধ্য করতাছি না পড়তে। এমনকি বিব্রত হইতেও বাধ্য করতাছিনা। এমনিতে জানতে চাইলাম আরকি!যোগাযোগে হইলে তো সমালোচনা করবেনই! ওইটা হইলো লিটলম্যাগ।
আর প্রথমালো হইলো ছবিখানার অংশীদার। সুতরাং এইখানে লিখতে তো একটু ভদ্রলোকি দেখাইতেই হয়!
লিটলম্যাগে বিপ্লবী আর ডেইলিতে সুবিধাভোগী। এইভাবেই তো আপনাদের মতো 'অফট্র্যাক'দের জীবন জীবিকা চলে। আপনাদের কষ্ট আমরা বুঝি না? বুঝি।
লেখক বলেছেন: ধীরে সাহসী ধীরে।
এক পোস্ট লিখেই এত সাহস অর্জন করেছেন, তারিফ করি।
প্রথম কথা হলো সিঙ্গুলার নাম্বার নিয়ে সামু ব্লগে যত পোস্ট এসেছে বেশিরভাগই আমার পড়া।
যে লিঙ্ক দিলেন তাও আমার পড়া। ফেসবুকে সারওয়ার রেজার সঙ্গে আমার কথাও হয়েছে তার লেখা নিয়ে।
আপনি আমার লেখার শিরোনামই খেয়াল করেননি, লেখাটাও বোঝেননি। আমি বলেছি আগের দুইটা ভালো হয়নি, এইটা হয়েছে।
তাই এইটাতে তৈলমর্দন করেছি। যোগাযোগে ছাপা হলেও তাই করতাম।
যেহেতু আমার ছবিটা ভালো লেগেছে তাই চেয়েছি আরও মানুষ দেখুক। সেজন্য দৈনিকে লেখা। যাতে বেশি মানুষকে জানাতে পারি সেজন্য প্রথম আলোতে লেখা।
লিটলম্যাগে বিপ্লবী আর ডেইলিতে সুবিধাভোগী -- ওরকম অফট্র্যাকের লোক হলে ডেইলিতে আরও ভীতু ভীতু লেখা পাওয়া যেত, কেবলই ব্লগে বসে সাহস প্রদর্শন করতাম না।
তাই এইবেলা ওটা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবেনা। ভবিষ্যতে চান্স খুঁজবেন সেই পরামর্শ রইলো। জীবনের অনেকটা বাকি।
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
একসময় বিভিন্ন ধরনের মিডিয়ার অস্তিত্ব ছিল -- ছোট পত্রিকা-বড়ো পত্রিকা, শ্রমিকদের পত্রিকা-রাজনীতিবিদদের পত্রিকা -- তাদের পরিবেশিত বার্তা, রাজনৈতিক আদর্শ নানাধর্মী ছিল। কিন্তু এখন সেই বৈচিত্র্য আর খুঁজে পাওয়া যায়না।...ফাহমিদ ভাই, ছোট এই পত্রিকাগুলো কিন্তু আছে। বাংলাদেশে হয়তো এগুলো ব্যাপকভাবে হারিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ইউরোপে বলুন, উত্তর আমেরিকায় বলুন- এই ধরনের মিডিয়াগুলো কিন্তু আগের মতোই টিকে আছে। উত্তর আমেরিকায় আমি দেখেছি- 'মৎস্যজীবী', 'আঙ্গুর চাষী'- এমন নানান ধরনের পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। এদের আলাদা টিভি চ্যানেলও আছে। তবে, এগুলোও হয়তো বড় কর্পোরেটওয়ালাদের দখলে চলে গেছে।
লেখক বলেছেন: আপনার সঙ্গে অনেকদিন পরে মোলাকাত হলো। কেমন আছেন? গল্পরচনা কেমন চলছে?
লেখক বলেছেন: বিকল্পমাধ্যম হিসেবে কিছু ছোট পত্রিকাই এখনো টিকে আছে। বিকল্পমাধ্যম এখন ইন্টারনেটে শিফট করেছে। কিন্তু আমি বলছিলাম মূলধারায় অনেক শ্রমজীবী প্রেস ছিল। এখন আর নাই। আমেরিকায় ভিলেজ ভয়েস বলে একটা পত্রিকা নাম করেছিল, সেটা রুপার্ট মারডক কিনে ফেলেছে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














