আমার প্রিয় পোস্ট

সঙ্গে সাহিত্যের সুবাস ...

'ভারতীয়' নয়, 'বিদেশী' ছবি আমদানি হোক

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:২৩

শেয়ারঃ
0 3 0

ভারতীয় ছবি আমদানি নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে বিতর্ক চলছে। সরকার ভারতীয় ছবি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার দুই দিনের মাথায় তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যারা বিতর্ক করছেন তাদের একপক্ষ ভারতীয় ছবি আমদানি করার পক্ষে, এঁরা মূলত প্রদর্শক, সোজা কথায় হল মালিক। আরেক পক্ষ এর বিরোধিতা করছে, এঁরা হলেন পরিচালক-প্রযোজক। ফেসবুক ও ব্লগেও বিতর্ক চলছেন, এতে অংশ নিচ্ছেন তরুণ চলচ্চিত্রকর্মী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রেপ্রেমীরা। সরকার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেও বিতর্কটা শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এটা চলতে পারে, বিষয়গুলো আরও পরিস্কারভাবে উপলব্ধি করার জন্য এটা জরুরি।

আমার বিবেচনায়, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে, নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদেশী ছবি (কেবলই ভারতীয় বা হিন্দি নয়) আমাদের দেশে আমদানি করা যেতে পারে। চীনে বছরে ২০টি বিদেশী ছবি আমদানি হয়, সেন্সরপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় সেসব ছবিকে যেতে হয়। মালয়েশিয়ায় দেখেছি একই সিনেপ্লেক্সে পাশাপাশি ইংরেজি, চীনা, হিন্দি, তামিল ও মালয়ভাষী ছবি পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে। আমার এই অবস্থানকে পরিস্কার করার আগে একটা প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা দরকার।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হবার কয়েকদিন পরে পাকিস্তান সরকার ভারতীয় চলচ্চিত্র এদেশে নিষিদ্ধ করে। আবার ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার উর্দু বা পাকিস্তানি ছবিকে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু নিষিদ্ধ করার আগ পর্যন্ত বহুজনপ্রিয় ভারতীয় বাংলা ছবির দাপটের পরও যেমন আমাদের বাংলা ছবি ব্যবসা করেছে, এফডিসি থেকে নির্মিত চকোরি-চান্দা-তালাশ ইত্যাদি উর্দুভাষী ছবি পশ্চিম পাকিস্তানেও ব্যবসা করেছে। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে একটি ‘প্রটেকটেড’ পরিবেশে, চ্যালেঞ্জবিহীন, যা-খুশি-নির্মাণ-করি-ব্যবসা-হবে মানসিকতার কারণে আমাদের মূলধারার ছবির মান আর আগায় নি। হ্যাঁ, ব্যবসা হয়েছে ততদিন, যতদিন না ভিসিআর-কেবল টেলিভিশনের চ্যালেঞ্জ আসেনি। তার আগ পর্যন্ত মানুষের দৈনন্দিন বা সাপ্তাহিক বিনোদন তো একটাই ছিল -- প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখা। এখন মানুষ বিনোদনের অনেক অপশন পেয়ে গেল, বিনোদনের জন্য তাকে আর প্রেক্ষাগৃহে যেতে হয়না। আবার দুয়েকবার গিয়ে তারা দেখে যে, ঘরে বসে গ্ল্যামারাস হিন্দি আর দুর্ধর্ষ ইংরেজি ছবি দেখে দেখে তাদের যে-চোখ তৈরী হয়েছে তার কাছে বাংলা ছবি বড্ড পানসে। সরকার ইন্ডাস্ট্রিকে প্রটেকশন দিতে পারে, কিন্তু দর্শক স্বাধীন, তার তো বাংলা সিনেমাকে প্রটেকশন দেয়ার দায়িত্ব নেই।

এবার ভারতীয় ছবি আমদানির পক্ষে-বিপক্ষে যারা যে-যুক্তিগুলো দিচ্ছেন সেগুলো বিবেচনা করে দেখা যাক।

গত ২২ এপ্রিল, ২০১০ তারিখে প্রথম আলোর 'আনন্দ' পাতায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে অভিনেতা-নির্মাতা রাজ্জাক বলেছেন, ‘ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্র আমাদের দেশে আসা মানে, আমাদের নিজস্ব যে সংস্কৃতি আছে, সেটুকুও শেষ হয়ে যাওয়া।’ এই অভিযোগ অনেক পুরনো কিন্তু এখন অকার্যকর। কেবল টিভি, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথাকথিত ‘অপসংস্কৃতি’র যে-প্রবাহ, তা দেড় দশক ধরে চলছে -- আমরা ভেসে যাইনি। বরং বিশ্বায়নের বার্তার সঙ্গে প্রতিদিন মোকাবেলা করে আমরা টিকে আছি। লোকজ ধাঁচের গান-কাহিনী নিয়ে ‘মনপুরা’ লড়াই করছে। অভিনেতা-নির্মাতা আলমগীর বলেছেন, ‘এদেশে বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে এফডিসি নির্মাণ করেছিলেন, সেটাও আর থাকবে না।’ এফডিসির অবস্থা এখনই বেশ করুণ, এফডিসির সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার এখন চলচ্চিত্র-নির্মাতারা করছেন না, করছেন বিজ্ঞাপননির্মাতারা। একসময় প্রায় একশ ছবি নির্মিত হতো এদেশে, এখন হয় ৪৫টা। নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘পাকিস্তানে ভারতীয় ছবি প্রদর্শনের ফলে সে দেশের চলচ্চিত্রশিল্প রুগ্ণ হয়ে গেছে।’ ভারতের মহাপ্রতিপক্ষ পাকিস্তানে ভারতীয় ছবি প্রেক্ষাগৃহে চলছে, কিন্তু সেটাই চলচ্চিত্রশিল্প রুগ্ণ হয়ে পড়ার প্রধান কারণ নয়। এর অনেক আগে, জিয়াউল হক সরকারের গৃহীত নীতিমালার কারণেই পাকিস্তানের চলচ্চিত্রশিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছিল। জিয়াউল হক যেবছর শাসনভার হাতে নেন, সেই ১৯৭৯ সালে পাকিস্তানে ৯৮টি ছবি নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু পরের বছরেই সেই সংখ্যা ৫৮তে নেমে আসে। জিয়া সরকারের সময় ধর্মীয় উন্মাদনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যার প্রথম কোপ পড়ে চলচ্চিত্রশিল্পের ওপর। পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম ঢালাওভাবে ভারতীয় চলচ্চিত্র আমাদানি সমর্থন করেননা। তবে তিনি মনে করেন, ‘দুই দেশের মধ্যে একটা বিনিময়চুক্তি থাকলো, তার মধ্যে একটি হচ্ছে আমাদের দেশ থেকে তারা বাংলা ছবি নেবে, আমরাও তাদের দেশ থেকে বাংলা ছবি আনতে পারি। হয়তো সেখানে বছরে কয়েকটি হিন্দি ভালো ছবি আসতে পারে।’

এই প্রস্তাবটি আমার কাছে অপেক্ষাকৃত ভালো মনে হয়েছে। আমদানির প্রসঙ্গে রফতানির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এখানে একটা বৈষম্য থাকবে অবশ্য, মান ও সংখ্যার বিবেচনায় ভারতীয় ছবিই বেশি আসবে (ধরা যাক বছরে ১৫টি) এবং আমাদের ছবি কম যাবে (হয়তো বছরে ৫টি)। বলা দরকার অনেক চেষ্টা-চরিত্র করে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ২০০৭ সাল নাগাদ, ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে মাটির ময়নার মুক্তি দিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের ছবির চাহিদা আছে। আর কেবল ভারতীয় কেন, ইংরেজি ছাড়া অন্যভাষী (যেমন ইরানি) ছবি আরও ১০টি আসতে পারে। আর প্রেক্ষাগৃহগুলোতে শতকরা কতভাগ বিদেশী ছবি চলবে, তারও একটা নীতিমালা থাকতে হবে। প্রদর্শক সফদর আলী ভুঁইয়া বলেছেন, ‘সরকার যদি নিয়ম করে দেয় শতকরা ৫০ ভাগ স্থানীয় ছবি প্রদর্শন করতে হবে, আমরা তা করবো।’ মাঝখান দিয়ে সিনেমা হলগুলোর সংস্কার হবে, সবগুলো বিভাগীয় শহরে সিনেপ্লেক্স স্থাপনের যে সময়ের দাবি, তাও পূর্ণ হতে পারে। কারণ বিদেশী ছবিগুলো বর্তমান প্রেক্ষাগৃহ-অবকাঠামোয় প্রদর্শন প্রায় অসম্ভব। প্রেক্ষাগৃহের বড় পর্দায় নানা দেশের, নানান স্বাদের চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে একটি নাগরিক অধিকার। এই অধিকার কেবল ভারতীয় ছবি আমদানির কারণে চলচ্চিত্র-শিল্পের ধ্বংস বা উন্নয়নের বিতর্কে বন্দি থাকেনা।

তবে আমদানিকৃত এইসব নানাবিধ বিদেশী ছবির দাপটে, বর্তমানে যারা ছবি নির্মাণ করছেন, তারা আসলেই বিপদে পড়বেন। তাদের ছবি মন্দাদশা থেকে বন্ধদশায় পৌঁছাবে। কিন্তু বিদেশী ছবি না আসলেই বা কী? বছরের পর বছর তারা কীইবা আমাদের উপহার দিয়ে চলেছেন? একইরকম সাধারণমানের কাহিনী, অতি দুর্বল চলচ্চিত্র টেকনিক দিয়ে আর কতদিন সংস্কৃতির ধারক-বাহকের তকমা গায়ে ঘুরবেন? বরং এই হুমকির মুখে তারা আরও প্রস্তুতি নিয়ে, অবশিষ্ট মেধা প্রয়োগ করে, সুনির্মিত চলচ্চিত্র নির্মাণে সচেষ্ট হবেন। যেসব স্বাধীন চলচ্চিত্রগুলো মাঝে মাঝে বিদেশ থেকে সাফল্য বয়ে নিয়ে আসছিল, তা বন্ধ হবেনা। বরং মূলধারার চলচ্চিত্রকারদের নিজের দিকে ফিরে তাকাবার একটা বাধ্যবাধকতা চলে আসবে। অধিকন্তু আমাদের দরকার একঝাঁক নতুন নির্মাতা, যারা নতুন সময়ে নতুন চলচ্চিত্র-ভাবনা নিয়ে সিনেমা বানাতে আসবেন।

নব্বই দশক নাগাদ যখন বলিউডের দাপট বাড়ছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রব্যবসা মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা একটা পর্যায় পেরিয়ে আজ আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১০টির মতো সাম্প্রতিক ছবি পরপর দেখলাম। এরমধ্যে ঋতুপর্ণ ঘোষ ও অঞ্জন দত্ত ছাড়া বাকি সব ছবির পরিচালকই অচেনা ছিল। কিন্তু সার্বিকভাবে তাদের চলচ্চিত্রের ভাষা বদলে গেছে, কাহিনী বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক, মিজ-অঁ-সেন-এ মেধার প্রয়োগ দেখা গেল। কেবল নিছক বিনোদন নয়, সময়কে ধরার প্রচেষ্টা ছবিগুলোতে স্পষ্ট। আমাদের জন্যও দরকার একটা বড় চ্যালেঞ্জ, যার চাবুকে বিক্ষত হয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জাগতে পারে মনে। বিদেশী ছবি আমদানি সেই অর্থে ইতিবাচকই হবে আমাদের জন্য। তবে বলা দরকার, বিদেশী ছবি মানে কেবল ভারতীয় নয়, আর ভারতীয় মানে কেবল হিন্দি নয়। আর সরকারের উদ্যোগে কেবল আমদানি নয়, রফতানির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভারতীয় ছবি আমদানি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: চলচ্চিত্র  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:২৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৩৩
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন: সরকারের উদ্যোগে কেবল আমদানি নয়, রফতানির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।


--একমত।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৪৬
সৌরদীপ্ত বলেছেন: শুধু ভারতীয় কেন, আমি ইরানি,ইতালিয়ান,কোরিয়ান সব ভাষার ছবি দেখতে চাই। ভারতপ্রীতি বাদ দিতে হবে, দর্শককে সত্যিকারের ভালো ছবির স্বাদ দিতে হলে হিন্দী নয় অন্য দেশের ছবি আমদানী করতে হবে। ঢালাওভাবে ভারতীয় হিন্দী ছবি আনার সিদ্ধান্ত নেয়া আত্নঘাতী হবে।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫৫

লেখক বলেছেন: শুধু হিন্দি ছবির আনার পক্ষে আমিও নই। আর আমি রফতানির ব্যাপারটাও ভাবতে বলি কর্তাব্যক্তিদের।

৩. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৪৬
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: ল্যাপটপের মত প্রয়োজনীয় যন্ত্রকে বিলাসী পণ্য ধরে যে উচ্চমাত্রার করারোপ করে থাকে সরকার সেখানে নিছক বিনোদনের জন্য চলচিত্র আমদানি করে নাম মাত্র মূল্যে ছাড় দেয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হয়। যারা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বিদেশি ছবি দেখার মর্জি রাখেন, তাদের বিনোদন পাবার উপলক্ষ, বিষয়বস্তুর অভাব দেখিনা। বিদ্যুত, গ্যাস, পানি, যানজটের মত মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে যখন নাভিশ্বাস উঠছে, তখন এগুলো নিয়ে ভাবনাটা একটু বিলাসিতা মনে হয়। পোস্টে প্লাস। :)
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫৭

লেখক বলেছেন: বিদ্যুত, গ্যাস, পানি, যানজটের মত মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে যখন নাভিশ্বাস উঠছে তখন এইসব নিয়ে ভাবনাটা বিলাসিতা নয়, আমার মতে, ডাইভারসন।

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৫. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫৬
আকাশচুরি বলেছেন: পুরোপুরি একমত। অনেকেই সিনেমা আমদানির বিষয়টা নিয়ে অহেতুক আতংকে ভুগছিলেন। আপনার ঘর যেখানে উন্মুক্ত, সেখানে সিনেমা হল পাহারা দিয়ে লাভটা কি আমি সেটাই বুঝলাম না। আর সংস্কৃতি এতো ঠুনকো বিষয় না, যে দু চারটা হিন্দি সিনেমা দেখলেই সব রসাতলে যাবে!
বিদেশি সিনেমা নির্দিস্ট পরিমানে আমদানি করা যেতেই পারে, এতে করে অন্তত ব্রেইনলেস ঢাকাই সিনেমার পরিচালকরা একটু শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পাবে, সেটাই বা কম কী!

অনেককেই দেখলাম উদিয়মান নতুন ধারার পরিচালকদের (যারা কিনা টিভি নাটক বানাতেন বা বানান) অংকুরেই বিনস্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখছিলেন সিনেমা আমদানির সাথে সাথে। স্বাধীনতার এতোটা সময় পর, এই শিল্পটাকে শৈশব অবস্থা থেকে উত্তরনের কোন চেস্টা না করে তাকে আরো আঁতুড় ঘরে নিয়ে যাওয়ার অপচেস্টা না করাই ভালো। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই বাংলা সিনেমা বিকোশিত হবে.....
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:০১

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

আমদানিটা ঢালাও বা কেবল হিন্দি হওয়া উচিত নয়। প্রটেকশনের ধারণাটা এইখানে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

ভাবেন তো, আপনি আমেরিকার ছবি দেখছেন, হংকঙের ছবি দেখছেন, কেবল ভারত-পাকিস্তানের ছবি দেখছেন না। আমি তো পাকিস্তানের পরিচালক সাবিহা সুমারের 'খামোশি পানি'র মতো ছবিও দেখতে চাই। আমরা ভারতীয় বই কিন্তু পড়ছি।

৬. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:০৬
রাব্বি ! বলেছেন: বেশ ভালো লিখেছেন। একমত।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১১

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

৭. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১৭
রংধনূ বলেছেন: ভালো লিখেছেন। এ নিয়ে আমিও একটা পোষ্ট দিয়েছি।

ভারতীয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশে আসছে না

আপনার কথার সাথে কিছু যোগ করছিঃ

কিছু ভালো চলচিত্র তৈরীর উদ্যোগ নিচ্ছে কিছু টিভি চ্যানেল কিন্তু তা একটি টেলিফিল্মকে বড় পর্দায় দেখানোরই শামিল। এসব চলচিত্রের লগ্নিকৃত অর্থ প্রিমিয়ার শো থেকেই উঠে আসে। আর বসুন্ধরার সিনেপ্লেক্সে এক-দুইমাস চালাতে পারলেই হলো। কেল্লা ফতে। আর যদি একদুইটা আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পাওয়া যায় তাহলে পোয়া বারো। কিন্তু এগুলোকে “সার্বজনীন পারিবারিক বিনোদনের” জন্য করা হচ্ছে বললে ভুল হবে।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:১৪

লেখক বলেছেন: আপনার লেখা পড়েছি।

৮. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১৯
আকাশচুরি বলেছেন: সাঈফ শেরিফ এর মন্তব্যে হাজারটা প্লাস:)
৯. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১৯
দিগন্ত বলেছেন: সব সিনেমাই আসছিল দেখলাম, ভারতীয়, পাকিস্তানী, নেপালী - তিন দেশের বারোটি ছবি প্রথম দফায় আসার কথা ছিল।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: এটা জানতাম না। সোর্স কী বলেন তো।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১১. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:২৫
কথা সত্য বলেছেন: আমাদের চলচিত্র কুশলারি ভারতীয় ছবি নকল করতে পারে তাতে সমস্যা নেই আর সেই অরিজিনাল ছবি আমার দেখতে চাইলে যত সমস্যা। তাতে কি বলেন দেখা বন্ধ হবে, হবে না। হলে না হলে ঘরে এই যা...
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: তাই বটে।

১২. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:২৭
সিনসিয়ার বলেছেন: আপনাকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি একটা মোটামুটি নিরপেক্ষ দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করায়।

তবে আপনার মতোন একজন একটিভিস্টের কাছে থেকে আমি আরো একটু পরিষ্কার অবস্থান আশা করেছিলাম। যে প্রসঙ্গটি নিয়ে এই আলোচনা - ভারতীয় সিনেমা আমদানী (ভরতীয় ছবি মানে কিন্তু আমজনতা হিন্দি সিনেমাকেই বোঝে, জনগণের প্রতিনিধিরাও তাই), সে প্রঙ্গে আপনার অবস্থানটা আসলে পরিষ্কার হতে পারলাম না। বরং আপনে এর সাথে আরো কিছু বিষয় (বিদেশি সিনেমা) যোগ করে বিষয়টাকে আরো জটিল করে তুলেছেন।

যে কোন কিছু আমদানীর ক্ষেত্রে একটা সচ্ছ নীতিমালা থাকাটা জরুরী - সেইটা হোক মদ কিংবা ধর্ম। তবে সিনেমা আমদানীর ক্ষেত্রে বর্তমান বিতর্কটা কিন্তু একটা নীতিগত অবস্থানে আটকে আছে - সরকার ভারতীয় সিনেমা আমদানির সুযোগ দেবে কি দেবে না। প্রথমে নীতিগত সিদ্ধান্তটি অনুমোদন হলে তারপরে না নীতিমালা ইত্যাদি ইত্যাদি নির্দিষ্ট করার বিষয়টা আসে। আর আপনে যে বিদেশি সিনেমার কথা বলছেন (ইংরেজী) তা কিন্তু বাংলাদেশের অনেক প্রেক্ষাগৃহেই চলে, সেখানে কোন বিধি-নিষেধ আছে বলে আমার জানা নেই। তবে খরচে পোষায় না বলে হল মালিকরা সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া ভালো সিনেমা আনতে পারে না। আর ইরানী ছবিটবিগুলান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল জাতীয় অভিজাতদের জন্যে আয়োজিত আয়োজনেই কেবল প্রদর্শন করা সম্ভব, আম-পাবলিক কিন্তু সেইটা হলে বসে দেখবে না, তাই এই প্রসঙ্গে সেইসব প্রসঙ্গ টানাটাও অর্থহীন মনে হয়।
এরপরে আসে রপ্তানি। একটা সরকার কিভাবে সিনেমা রপ্তানীতে ভূমিকা রাখতে পারে যদি সেইটার বাজার না থাকে? সরকার কি এক্ষেত্রে ভর্তুকি দিয়ে ভারতের হলগুলোতে বাংলাদেশী সিনেমা দেখানোর ব্যাবস্থা করার মাধ্যমে রপ্তানীর বিষয়টি নিশ্চিত করবে? এ বিষয়ে আরো একটু খোলাসা হওয়া দরকার। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে যাচ্ছে আমাদের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলানের ভারতে প্রদর্শনের বিষয়ক বিতর্কটার কথা। অনেকেই না বুঝে বলে বসেন আমাদের দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলান ভারতের সরকার সেখানে দেখতে দেয় না - যেইটা একটা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা এবং ভারত বিরোধীতার ইস্যু ছাড়া কিছুই মনে হয় না। কারণ আমাদের চ্যানেলগুলান কিন্তু ভারতে দেখানো যায় না শুধুমাত্র একটা নীতিমালার কারণে - যেইটা ভারতে ব্যাবসা করে এমন সবগুলান চ্যানেলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং সম্পূর্ণ ব্যাবসায়িক, যেইটা নিশ্চিত করে ভারত সরকারের লাভ। বাংলাদেশী যে কোন চ্যানেলই ভারতে দেখানো সম্ভব যদি নির্দিষ্ট অংকের সরকারী ফিস ভারতীয় সরকারের কোষাগারে জমা করা হয়। তো আমাদের দেশের চ্যানেল মালিকরা হিসাব করে দেখছে তাতে তাদের লাভ থাকে না, পোষায় না - তাই তারা এই সুযোগটা নিতে পারে না, দাবী করে কোন নিবন্ধন ফি ছাড়া ভারতে তাদের চ্যানেল সম্প্রচারের অনুমতির (যেইটা শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব)। এখন ভারতে বাংলাদেশি চ্যানেল দেখাতে গেলে যে অংকের অর্থ ভারত সরকার কে দিতে হবে, তারচেয়ে বেশি ব্যাবসা না করে চ্যানেলগুলান কি করে সেই অর্থ ভারত সরকার কে দেবে। আর এখানে বাংলাদেশ সরকারের কি করণিয় আছে? তারা কি এই অর্থ প্রত্যেক চ্যানেলের জন্যে ভর্তুকি দেবে, যদি চ্যানেলগুলান ব্যাবসা করে মুনাফা করতে না পারে?

এতো কথা বলছি একারণে - গত কয়েকদিন ভারতীয় সিনেমা আমদানি প্রসঙ্গে যে বিতর্কটা তৈরী হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেইটা একপেশে মনে হলেও সেখানে একটা বিষয় পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে - সেইটা হলো আলোচকের অবস্থান। অধিকাংশ আলোচকই স্থুলভাবে একটা পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে (স্বার্থগত কারণে)। সেগুলার পাশাপাশি আপনার এই আলোচনাটা সুবিধাবাদি আলোচনা মনে হচ্ছে - শুধুমাত্র পয়শা/যশের জন্যে পত্রিকায় কলাম লেখকরা যেরকম লিখে থাকে, লিখতে হয় তাই লেখা -এরকম।

আপনার কাছে আমার জিজ্ঞেসা আপনার অবস্থানটা কি (নীতিগত) - এখন ভারতীয় সিনেমা আমদানীর অনুমতি দেয়া উচিত কি উচিত না (এর মধ্যে দয়া করে কোন শর্ত-টর্ত ঢোকায়েন না, নীতিগত সিদ্ধান্ত পাশ হলে একটা নীতিমালা এমনি এমনিই তৈরী হয়ে যাবে - ভালো হোক কিংবা খারাপ)।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪৬

লেখক বলেছেন: আপনার সন্দেহগুলোকে পরিস্কার করি।

১. আমি ভারতীয় ছবি আমদানির পক্ষে।
২. ভারতীয় বলতে হিন্দি নয়, বাংলা এমনকি উল্লেখযোগ্য তামিল ছবিও আনা যেতে পারে।
৩. আমদানির প্রসঙ্গ যখন উঠেছেই ইংরেজির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ছবি (যেমন ইরানি বলেছি আমি) আমদানি করা হোক। তা কেবল আব্বাস কিয়ারোস্তামির ফেস্টিভ্যালকেন্দ্রিক ছবি না, ইরানি মেইনস্ট্রিম ছবিও অনেক শক্ত অবস্থানে আছে। ওদের ওখানে বছরে প্রায় ১৩০টি ছবি নির্মিত হয়। আমি ভালো পাকিস্তানি ছবিও দেখার পক্ষে। চীনা ছবিও দেখতে চাই।
৪. রফতানি প্রসঙ্গ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশী ছবির চাহিদা আছে, আমি জানি। সেখানে বছরে ৫টি ছবি চলবে। অথবা চুক্তিতে এরকম রাখতে হবে যে আমরা ২০টি ভারতীয় ছবি আনবো, ওরা ৫টি বাংলাদেশী ছবি নেবে। আর ভারতীয় ছবি লাগামছাড়া আনা যাবে না, অবশ্যই সীমা নির্দিষ্ট হতে হবে। ধরা যাক ২০টি।

সুবিধাবাদী আলোচনা কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

১৩. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৩১
লাল দরজা বলেছেন: ধন্যবাদ। এ বিষয়ে গত ক'দিনের লেখাজোখা আলোচনা সবগুলো পড়েছি। খুব ইচ্ছে ছিল এই আলোচনায় নিজেকে সম্পৃক্ত করি, কিন্তু এখানকার কিছু ব্যাস্ততার কারনে মন বসাতে পারছিলাম না। সিনেমানিয়া নির্মাণ করতে যেয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেই আলোকে কিছু লিখাটা উচিত ছিল পারি নাই। গত কয় দিন ধইরা এ বিষয়ে যা যা আলোচনা বেশিরভাগই চিরায়ত ভারত বিরোধীতা আর আওয়ামিলীগ ইত্যাদি ইত্যাদি সেন্টিমেন্টাল কচকচানি... আপনার লিখাটা সে অর্থে ব্যাতিক্রম। আজকে এক টিভি অনুষ্ঠানে ডিপজল তার নতুন ছবি মায়ের চোখ সম্পর্কে কথা বলছিলেন সাথে সে ছবির পরিচালক ও... আল্লাহপাক!

বাংলাদেশের সিনেমার একটা নতুন জোয়ার আসছে। এ সময় ডিজিটাল ফিল্ম মেকিং ও এই ফিল্মের প্রজেকশন এর প্রক্রিয়াটা সোজা সাপ্টা রেখে কি করে তা প্রদর্শনের ব্যাবস্থা করা যায় তা নিয়ে কাজ করতে হবে। হাইডেফ ফরমেটে যা কাজ হয় তা আমাদের প্রচলিত ফিল্ম কারখানা এফডিসি'র প্রডাক্টেরচে ১০০০ গুন ভাল হয়। তাই যদি হয়, তাইলে আমাদের তরুনেরা টেলিভিশন গুলোতে ৪৩ মিনিটের আধাখেচড়া নাটক না বানাইয়া দেড় ঘন্টার ছবি করুক। যে গুলো ভবিষ্যতে প্রদর্শন করবে বিভিন্ন সিনেপ্লেক্সের ভেতর তৈরি করা এক দেড়শো সিটের ছোট ছোট এইচডি থিষেটার। ধরুন বলাকা বা বসুন্ধরাতে পর পর তিনটি কি চারটি প্রজেক্শন থিয়েটার থাকবে। যার একটি বা দুটিতে চলবে মুলধারার বাংলা ছবি, একটিতে চলতে পারে বিদেশী ভাষার ছবি, অন্যটিতে চলবে মুক্ত দৈর্ঘ্যের সব ছবি।

প্রদর্শনের জন্য জটিল সব আইনকানুন সহজ করে ঢাকা শহরে এমন একটি কি দুটি হল এখনি চালু হতে পারে। একথা জোর দিয়ে বলতে পারি ব্যাপারটা যদি একটু সাহস নিয়ে সরকার করতে দেন দেখবেন বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আমাদের দেশেই তৈরি হবে বাচ্চাবুড়া সকলের জন্য এনিমেটেড চলচ্চিত্র, কার্টুন ছবি। গল্প ও চিত্রনাট্যের বৈচিত্র নিয়ে তৈরি হবে বিশ্বমাপের সব সিনেমা। অনেক ত হইল আর কত, এফডিসির জেলখানা থেইকা সিনেমারে এইবার মুক্তি দেয়া হোক।

আমিন।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনার আলোচনা ডিজিটাল সিনেমার আলোচনা হয়েছে। নতুন সিনেমার আলোচনা হয়েছে। ডিজিটাল সিনেমার মূল চ্যালেঞ্জটা থেকে গেছে প্রজেকশন/ডিস্ট্রিবিউশনে। এইটা সমাধান হলে আমাদের ডিজিটাল সিনেমা এবং সার্বিক সিনেসংস্কৃতি অনেক এগিয়ে যাবে। নীতিনির্ধারকদের কান পর্যন্ত এই সমস্যাটা পৌঁছেছে কিনা জানিনা, তারপর কানে পৌঁছলেও তারা এই মুহূর্তে নিদ্রায় কিনা তাও জানিনা, আবার নিদ্রাভঙ্গ হলে বিবেচনায় আনবেন কিনা জানিনা, বিবেচনায় আনার পর কবে বাস্তবায়ন করবেন তাও জানিনা।

তবে এইসব ভারতীয়/বিদেশি ছবি আসলে ঐ জায়গায় একটা পরিবর্তন সম্ভবত আসতো, ঢাকার একটা দুটা হল ছাড়া এ্যাডান্সড প্রযুক্তির ঐসব হিন্দি ছবি দেখানোর মতো হল খুব একটা নাই। বিভাগীয় শহরগুলোতে বা নারায়নগঞ্জের মতো শহরগুলোতে এমনিতেই সিনেপ্লেক্স গড়ে উঠতো। তাতে ডিজিটাল সিনেমার ভাগেও কিছু একটা জুটতে পারতো।

আলোচনায় অংশ নেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার সিনেম্যানিয়ার অভিজ্ঞতা লিখিতভাবে কি কোথাও শেয়ার করেছেন? করলে লিঙ্ক দেবেন প্লিজ।

১৪. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪১
হামোম প্রমোদ বলেছেন: '' তবে আমদানিকৃত এইসব নানাবিধ বিদেশী ছবির দাপটে, বর্তমানে যারা ছবি নির্মাণ করছেন, তারা আসলেই বিপদে পড়বেন। তাদের ছবি মন্দাদশা থেকে বন্ধদশায় পৌঁছাবে। কিন্তু বিদেশী ছবি না আসলেই বা কী? বছরের পর বছর তারা কীইবা আমাদের উপহার দিয়ে চলেছেন? একইরকম সাধারণমানের কাহিনী, অতি দুর্বল চলচ্চিত্র টেকনিক দিয়ে আর কতদিন সংস্কৃতির ধারক-বাহকের তকমা গায়ে ঘুরবেন? বরং এই হুমকির মুখে তারা আরও প্রস্তুতি নিয়ে, অবশিষ্ট মেধা প্রয়োগ করে, সুনির্মিত চলচ্চিত্র নির্মাণে সচেষ্ট হবেন। যেসব স্বাধীন চলচ্চিত্রগুলো মাঝে মাঝে বিদেশ থেকে সাফল্য বয়ে নিয়ে আসছিল, তা বন্ধ হবেনা। বরং মূলধারার চলচ্চিত্রকারদের নিজের দিকে ফিরে তাকাবার একটা বাধ্যবাধকতা চলে আসবে। অধিকন্তু আমাদের দরকার একঝাঁক নতুন নির্মাতা, যারা নতুন সময়ে নতুন চলচ্চিত্র-ভাবনা নিয়ে সিনেমা বানাতে আসবেন। '' - সহমত।

আমারও তাই মনে হয়, আমাদেরকে প্রতিযোগীতা করে টিকে থাকতে হবে, চারিদিকে গেট বন্ধ করে '' কানামাছি'' কতদিন!

সাথে আরেকটি প্রসঙ্গ বলি, এ দেশের চলচ্চিত্র এবং অন্যান্য গণ মাধ্যম এ এদেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সদস্য-সদস্যাদের অংশগ্রহণ এবং তাদের যাপিত জীবন নিয়ে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। একদম যে হচ্ছে না তা নয়, তবে সংখ্যায় খুবই কম। আগামীতে এ নিয়ে আপনার কাছ থেকে বিশ্লষণ-মতামত পাব আশা করছি।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:০৬

লেখক বলেছেন: "এ দেশের চলচ্চিত্র এবং অন্যান্য গণ মাধ্যম এ এদেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সদস্য-সদস্যাদের অংশগ্রহণ এবং তাদের যাপিত জীবন নিয়ে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে।"

সুযোগ তো আছেই। কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মাণ তো হচ্ছেনা। ডকুমেন্টারি সার্কিটে কিছু হয়েছে, কিন্তু ফিচার ছবি তো হয়না। ডিজিটাল সিনেমাকে একটা জায়গায় দাঁড় করানো গেলে, এধরেনর ছবির সংখ্যা বাড়তে পারতো।

১৫. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৫১
আকাশের তারাগুলি বলেছেন: দ্যা সার্চ দেখেছেন? বাংলা নতুন ধারার ছবি। মোটা নায়ক নায়িকার বদলে চিকন নায়ক নায়িক ইউজ করা হয়েছে, এটা একটা ভালো জিনিস। বাকিটা বস্তাপচা, সময় পাইনি তাই দেখিনি তবে শুনেছি।
আর বাংলা সিনেমা এভাবে চলতে থাকলে সিনেমা ইন্ডাষ্ট্রী বলে কিছু থাকবেনা। কারন দর্শক থাকবেনা, হল মালিকরা হল চালাবেন না। থাকবে শুধু আন্দোলন কারী পরিচালক আর প্রযোজক।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:০৩

লেখক বলেছেন: ৪৫ বছরের প্রটেকশনের কারণে এরা যা বানিয়েছে তাই চলেছে। ভিসিআর-এর এক ধাক্কায়, কেবল টিভির আরেক ধাক্কায় এরা ধরাশায়ী হয়ে সহিংস-অশ্লীল ছবি বানিয়ে টিকে থাকতে চেয়েছে। দুয়েকটা উচ্চপর্যায়ের মিটিং-এ অংশ নিয়ে দেখেছি এখন এরা সরকারের কাছে আরও সুযোগ-সুবিধা-ভর্তুকি চায়, কান্নাকাটি করে। অথচ অবশিষ্ট মেধা প্রয়োগের কোনো তাগিদ নেই। 'অশ্লীলতা'র যুগ পেরিয়ে এখন কী বানাচ্ছে? কোনো উন্নতি আছে? 'করবো প্রেম বাসরঘরে' যা 'আমার প্রাণের স্বামী'ও তা। কাহিনীতে কোনো বৈচিত্র্য নাই।

ভারতীয়/বিদেশি ছবি আমদানি করলে প্রতিযোগিতার কারণে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি হবে কিনা, তা যেমন জোরগলায় বলা মুশকিল, না আনলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। চাষী থেকে এফ আই মানিক হয়ে শাহাদৎ হোসেন লিটন -- এদের কাছ থেকে নতুন কিছু আশা করা যাচ্ছে না।

আমদানি হলে বরং সিনেদর্শনের অভিজ্ঞতায় নতুনত্ব আসবে।

১৬. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:১৩
দিগন্ত বলেছেন: Click This Link

প্রদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ভারতের মাই নেম ইজ খান, থ্রি ইডিয়টস, ওয়ান্টেড, পাকিস্তানের খোদা কি লিয়ে, এ দিল আপকে লিয়ে, বিবি হোতা অ্যায়সে, নেপালের চলচ্চিত্র দর্পণ ছায়া এবং কলকাতার বাংলা সবার উপরে, সাগরিকাসহ বেশ কিছু ছবি দেশে প্রায় চলে এসেছে।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৬

লেখক বলেছেন: কিন্তু আলোচনাগুলো কেমন হিন্দি/ভারতীয় বনাম-এ এসে ঠেকলো!

১৭. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:২৩
আশরাফ শিশির বলেছেন: সবসময় সরকারের সিদ্ধান্তগুলো হয় রাজনৈতিক। এই সরকারের যে কোন উদ্যোগকে যখন বিরোধী দল ভারতের কাছে দেশ বেচার প্রক্রিয়া হিসাবে ধরে নিচ্ছে তখন সংশ্লিষ্টদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়া এক্স-আর্মি ফারুক ( এই ছাগলগুলোর মাথায় কিছু থাকে না ) "ভারতীয় চলচ্চিত্র" আমদানীর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন। আমি বিষয়টিকে নেগেটিভলি না নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল নির্মাতাদের জন্য এই বিষয়টিকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করার আহবান জানিয়েছিলাম। ফাহিমদ ভাই এর কথাগুলোর সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। ফারুক এর সিদ্ধান্তটি যখন আবার বন্ধ করা হল তখন বুঝলাম সাকিব খান আর এফ.আই.মানিক-নিষিদ্ধ দীপুদের করে খাওয়ার জায়গাটা আবারও মজবুত হল। এর বাইরে আমরা কিছু ছবি পাবো, যে গুলোকে "যা কিছু ভাল" সহ অন্যান্য মিডিয়াগুলো রাতারাতি ব্লকব্লাষ্টার বানিয়ে দেবে, "আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেষ্টিভ্যাল" আয়োজন করে কেউ কেউ "সেরা পরিচালক" এর পুরষ্কার পেয়ে যাবে ( এই পুরষ্কারের গল্পও আমার জানা আছে!) । আর আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প?

উত্তর জানতে নিজের লেখাগুলো পড়া যেতে পারে:

পশ্চাদোভিমুখে বাংলা চলচ্চিত্রের যাত্রা...
Click This Link

প্রসঙ্গঃ সম্প্রচারের ভাষা
Click This Link

বাংলাদেশে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি : সংকট ও সম্ভাবনা
Click This Link


আমরা একটা সিনেমা বানাবো : লিটলম্যাগীদের চলচ্চিত্র
Click This Link

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩০

লেখক বলেছেন: "সবসময় সরকারের সিদ্ধান্তগুলো হয় রাজনৈতিক।"

১৯৬৫ সালে ভারতীয় ছবি বন্ধ করার বিষয়টি ছিল রাজনৈতিক।
১৯৭২ সারে পাকিস্তানি ছবি বন্ধ করার বিষয়টি ছিল রাজিনিতক।
এবারকার ঘটনাও আঞ্চলিক রাজনীতির ফল।

"সিদ্ধান্তটি যখন আবার বন্ধ করা হল তখন বুঝলাম সাকিব খান আর এফ.আই.মানিক-নিষিদ্ধ দীপুদের করে খাওয়ার জায়গাটা আবারও মজবুত হল।"

ভালো বলেছেন।

১৮. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন: গত ১ বছরে কিছু চেক মুভি দেখলাম। দেখতে দেখতে আমার মনে হয়েছে ছবিগুলি যদি আমাদের দেশের দর্শকরা দেখতে পেত, যে ভাবে সুলভে অনায়াসে হলে গিয়ে বাংলাছবি দেখে ... সেভাবে ।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩১

লেখক বলেছেন: যাদের অভিজ্ঞতায় হলিউড-বলিউডের বাইরে কিছু নাই, তারা এটা বুঝবে না।

১৯. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:০৫
রাহা বলেছেন: একমত; শুধু 'ভারতীয়' নয়, 'বিদেশী' ছবি আমদানি হোক ।

উপমহাদেশের সিনেমা আমদানীর সিদ্ধান্ত দেখে খুবই উচ্ছ্বাসিত হয়েছিলাম । কিছু মানুষ বিরোধিতা করছেন, করবে এটা জানা কথা, কিন্তু সেই বিরোধিতা যখন ভারত বিরোধি ইস্যু হয়ে যায় তা দুঃখজনক । অথচ বির্তকের ইস্যু হৗয়া উচ্চিত ছিল কোন নীতিমালার ভিত্তিতে উপমহাদেশের চলচ্চিত্র আমদানী হবে, তার সাথে রপ্তানী জুড়িয়ে দেয়া যায় কিনা, কয়টা সিনেমা আমদানী হবে আর ভাবছিলাম এর সাথে অন্যান্য দেশের(যেমন ইরান) কিছু ভালো সিনেমাও যুক্ত করা যায় কিনা ইত্যাদি । কিন্তু তা হলোনা, আমরা সাধারণ দর্শক আবারো বঞ্চিত হলাম ।

আমাদের সংষ্কৃতি ঠুনকো নয় । হলে এই মুক্তাকাশ সংষ্কৃতির যুগে আমরা কবে ভেসে যেতাম । তা হয়নি । বরং এতোটুকু বলতে পারি আমি ইন্টারনেটে বাংলা লিখতে পারি ।আমাদের দেশে ১০টা বেসরকরা টেলিভিশন চ্যানেল তৈরী হয়েছে এবং আরো হবে । আমাদের চলচ্চিত্রকে যদি ব্যবসাসফল করতে হয় তবে বলিউডই হতে পারে আমাদেরকে একটা বড় উদাহরণ । তাদের ইন্টারটেইনিং মুভি সারা দুনিয়া জুড়ে মানুষের বিনোদনের খোড়াক ।

যদি ভালো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে চলত তবে প্রেক্ষাগৃহ গুলো বন্ধ হওয়া থেমে যেত, নতুন এবং আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ হতো আর পুরোনো গুলো আগের জৌলশ ফিরে পেত , এতোটুকু উন্নতি তো হতো । আমার মনেহয় তুরুণ নির্মাতারা ভালো সিনেমা দেখার সুযোগ পেত ।(যতো যাই হোক সিনেমা তো ঘরে বসে দেখার জিনিষ নয়)
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাহা। সিনেমা ঘরে বসে দেখার জিনিস নয়, আসলেই।

২০. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:২৮
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: আপনার লেখার সঙ্গে প্রায় একমত। কিন্তু তারপরও কথা থেকে যায়।
বর্তমান যুগে দরজা বন্ধ করে রাখা সম্ভব না। দরজাটা খুলে দিতে হবে। কিন্তু তার আগে নিশ্চিত করতে হবে, আমি এই খোলা নীতির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারব কি না। আমাকে প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে হবে। আমাদের দেশে চলচ্চিত্রকর্মীদের কাজ শেখার সুযোগ কোথায় ? পড়াশোনা করার সুযোগ কোথায় ?
আমাদের এফডিসিতে আধুনিক প্রযুক্তি কোথায় ? দক্ষ ও আধুনিক কর্মীবাহিনী কোথায় ? পুরোনো প্রযুক্তি হাতের কাছে দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামানো অনেকটা লাঙ্গল হাতে নিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার সামিল।
তাই আমাদের এফডিসির প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হোক। কমপক্ষে একখান সরকারী ফিল্ম ইনস্টিটিউট তৈরি করা হোক।
বাজার খুলে দেয়ার আগে বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠার ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর বাজার খুলে দিলেও আমরা ঠিকই যুদ্ধে টিকে থাকব।
আমার এই লেখাটায় কয়েকটি দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সময় থাকলে একবার পড়বেন এবং অবশ্যই মন্তব্য করবেন।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের আমদানি বন্ধ করা হোক
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৭

লেখক বলেছেন: আপনি যে দাবিগুলো তুলেছেন সেগুলো চলচ্চিত্রামোদীদের প্রাণের দাবি, এবং এটা বৃহত্তর চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির অংশ।
চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির একটি ভগ্নাংশ হলো সব ধরনের সিনেমা দেখার সুযোগ পাওয়া।
উপমহাদেশীয় বা বিদেশি ছবি আমদানি করলেও সেই দাবিগুলো থাকছেই।

২১. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৫৪
ইশতে আশিক বলেছেন: আমাদের নিজের দেশের চলচিত্র কখনোই নিজেদের উন্নতির জন্য কাজ করেনাই। কেননা তারা খুব ভালকরেই জানে তাদের কোন প্রতিদন্ধি নাই এবং তাদের এক নির্দিষ্ট শ্রেনীর দর্শক আছে। তাই তাদের এই উন্নতির চিন্তা মাথায় না অনলেও হবে। কিন্তু প্রতিযোগীতার বসবর্তী হয়েও যদি আমাদের নিজেদের চলচিত্রর উন্নতি হয় মন্দ কি।
২২. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:২৮
দ্বিজু বলেছেন: নামটা বদলে- "শুধু 'ভারতীয়' নয়, সকল 'বিদেশী' ছবি আমদানি হোক" করে দিন।
পোস্টে ++
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পরামর্শের জন্য। কিন্তু 'বিদেশি' শব্দটার মধ্যেই কি 'সকল' শব্দটা উহ্য নাই?

২৩. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:২৫
মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেছেন: যেই লাউ সেই কদু। দেখলাম লোকাল হলে চার্লিজ এঞ্জেলস-২ চলছে।

--------------------------------------------------------------
http://www.somewhereinblog.net/blog/maka
২৪. ৩০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:২২
সফটকোন আইসক্রীম বলেছেন: আপনাকে অসংখ্য +++++++++

এজন্য যে গোড়ামিদের চোখে আঙুল দিয়েছেন। তবে অন্য দেশের ছবি সরকার আমদানী করার সাথে সাথে নিজের দেশের ছায়াছবির কি অবস্থা তা নিয়মিত যেন অবলোক করা হয়।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৬৬৩৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াই। ফিকশন ও নন-ফিকশন দুই ধরনের লেখাই লিখি। গল্প লিখি, প্রবন্ধ লিখি, অনুবাদ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ