গ্যারেথ, সহকর্মী শামীম রেজা আর আমি সেন্ট্রাল লন্ডনে একটা মিটিং সেরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে দেখি বিশাল সমাবেশ। বামে ট্রাফালগার স্কোয়ার থেকে ঢাক-ঢোল পেটানোর শব্দ আসছে, যদিও সেই শব্দের সাথে সাথে জনস্রোত বিগ বেন হয়ে পার্লামেন্ট হাউসের দিকে চলেছে। শিক্ষার্থীদের হাতে ফেস্টুন-ব্যানার, তাতে লেখা আছে -- এডুকেশন ইজ রাইট, নট এ কমোডিটি। একই ধরনের স্লোগান আমাদের বাম সংগঠনের শিক্ষার্থীদের মুখে বাংলায় শোনা যায়। তবে মিলের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা ও সংস্কৃতিগত পার্থক্যও লক্ষ করা গেল, তাদের প্রতিবাদের ভাষায়। এক ফেস্টুনে লেখা আছে ‘কাটস আর নাট’। কাট বলতে এখানে শিক্ষাখাতে ভর্তুকি কর্তনের কথা বলা হচ্ছে। আর কয়েকজন ব্যানার ধরে আছে ‘ফাক দ্য ফিস’। ছেলেমেয়েরা হইচই করছে। বেশ শান্তিপূর্ণ এবং উৎসব উৎসব ভাব। কিছু পুলিশকে দেখা গেল, দূরে দাঁড়িয়ে সবকিছু সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জনস্রোতের দিকে এবং বিপরীতে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর গ্যারেথ জানালেন, তার কাজ আছে, যেতে চান। গ্যারেথকে বিদায় দিয়ে আমরা চললাম ট্রাফালগার স্কোয়ারের দিকে। সেখান থেকে বাকিংহাম প্যালেস দেখাতে আমাকে সঙ্গে নিয়ে চললেন শামীম রেজা। তিনি প্রায় এক দশক আগে সোয়াসে (স্কুল অব অরিয়েন্টাল এ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ) পড়েছেন, ফলে লন্ডন শহর তার বেশ খানিকটা চেনা। আমি এই প্রথম।
রাতে হোটেলে ফিরে বিবিসিতে চোখ রাখতেই দেখি প্রধান শিরোনাম শিক্ষার্থীদের ডেমোনেস্ট্রশন। কিন্তু ফুটেজে যা দেখানো হলো তা আমরা সমাবেশে থেকে দেখি নি। শিক্ষার্থীরা ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির সদর দফতরের জানালার কাঁচ ভাঙছে। পুরো সংবাদটা পরিবেশন করা হলো শিক্ষার্থীদের সহিংসতা নিয়ে এবং আড়ালে চলে গেল তাদের ন্যায্য দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদসমাবেশের বিষয়টি। বিস্ময়ের বাকি ছিল অনেক। পরদিন সংবাদপত্র দেখে আমি মোটামুটি হতভম্ব হয়ে গেলাম। মিডিয়ার মিসরেপ্রিজেন্টেশন কত ভয়াবহ হতে পারে, এই নিবন্ধে তার নমুনাই উত্থাপন করা হবে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-সমাবেশের মিডিয়া কাভারেজকে কেস হিসেবে ধরে। তার আগে এই ফি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটটা একটা বলে নেয়া যাক।
ব্রিটেনে পড়াশোনার খরচ বরাবরই বেশি। বিদেশীদের জন্য এই খরচটা আবার বেড়ে দু-তিন গুণ হয়ে যায়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে একসময় ব্রিটেনে স্থানীয়দের জন্য ন্যূনতম টিউশন ফি ছিল এবং স্থানীয়-বিদেশীদের ফির পার্থক্য ছিলনা। পরে ফি যুক্ত হয়েছে এবং খুব সম্প্রতি বৃদ্ধি করা হয়েছে। শেষপর্যন্ত এই ফি ছিল প্রায় তিন হাজার পাউন্ড। কিন্তু সম্প্রতি এই ফি বাড়িয়ে ৯ হাজার পাউন্ড করা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাপকভাবে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কারণ হলো এই ফি-বৃদ্ধি ও বরাদ্দ-কর্তন। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতেও। কারণ বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু শিক্ষক-গবেষক-শিক্ষার্থী উচ্চতর ডিগ্রির জন্য যুক্তরাজ্যে যান। বাংলাদেশী এক পিএইচডি-ছাত্র জানালেন তিনি এখন বার্ষিক ১২ হাজার পাউন্ড দিচ্ছেন, টিউশন ফি হিসেবে। ২০১২ থেকে তাকে দিতে হবে ১৬ হাজার পাউন্ড। ক্ষেত্রবিশেষে (যেমন বিজ্ঞান বা মেডিকেল) এটা ২০ হাজার পাউন্ড হবে যা বছরে বাংলাদেশী টাকার ২০-২২ লাখ টাকার সমপরিমাণ হবে। চার বছরের পিএইচডি শেষ করতে একজন গবেষকের প্রয়োজন হবে এক কোটি টাকারও বেশি। এই পরিমাণ টাকা দিয়ে উচ্চশিক্ষায় আসতে পারেন এমন বাংলাদেশী নাগরিক নাই বললেই চলে। ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষা বাংলাদেশীদের জন্য তাই অসম্ভব হতে চলেছে। চীন, ব্রাজিল বা আরব দেশগুলোর নাগরিকেরা এরপরও পড়তে পারবেন, কারণ তাদের হাতে আছে নগদ অর্থ। কমনওয়েলথ বা শিভেনিং স্কলারশিপ যারা পাবেন, তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু এই স্কলারশিপগুলোর সংখ্যা এত যৎসামান্য যে তাকে এই আলোচনার বাইরে রাখাই ভালো।
ব্রিটেনের বর্তমান কোয়ালিশন সরকারের অন্যতম অংশীদার লিবারেল ডেমোক্রেট বিগত নির্বাচনে ভালো করার অন্যতম কারণ ছিল, ক্ষমতায় গেলে টিউশন ফি আর বৃদ্ধি না করার ঘোষণা দিয়ে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছিল। অথচ তাদের বৃহৎ অংশীদার কনজারভেটিভ পার্টি শিক্ষা উন্নয়নের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিল পেট্রোলিয়াম কোম্পানির সাবেক প্রধান লর্ড ব্রাউনকে। আর এরপর শুরু হলো ফি-বৃদ্ধি ও বরাদ্দকর্তনের উদ্যোগ। সঙ্কটে নিপতিত ব্রিটিশ অর্থনীতিকে উদ্ধার করতে, শুধু শিক্ষাখাতই নয়, সামাজিক সেবার অন্যান্য খাতেও চলছে কর্তন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কর্তনের খরচ মেটানো হবে বর্ধিত ফি দিয়ে।
বিক্ষোভ সমাবেশের পরেরদিন কয়েকটি পত্রিকা দেখলাম। পত্রিকাগুলো হলো ডেইলি মেইল, ডেইলি মিরর, দি সান, লন্ডন ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড, দ্যা গার্ডিয়ান ও দ্যা ডেইলি টেলিগ্রাফ। লন্ডনের পত্রিকাগুলো ‘হেভিস’ এবং ‘ট্যাবলয়েডস’ এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। দ্যা গার্ডিয়ান ও দ্যা টেলিগ্রাফ পড়ে ‘হেভিস’ বর্গে, অর্থাৎ এরা একটু সিরিয়াস। আর ট্যাবলয়েডগুলো হলো নন-সিরিয়াস। কিন্তু ট্যাবলয়েডগুলো যথেষ্টই জনপ্রিয়। গার্ডিয়ান ও টেলিগ্রাফের কাভারেজ খানিকটা সংহত থাকলেও, ট্যাবলয়েডগুলোর কাভারেজ ছিল যাচ্ছেতাই। সবগুলো পত্রিকাতেই বড়ো করে ছাপানো হয়েছে সহিংসতার ছবি -- বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা টোরি পার্টির হেডকোয়ার্টারের কাঁচের দেয়াল ভাঙছে। সংবাদগুলোর মূল ফোকাস শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণের প্রতি না ফেলে তাদের সহিংসতার ওপরে ফেলা হয়েছে। মৃদু দোষারোপ করা হয়েছে পুলিশ বিভাগকে, এই সহিংসতাকে ঠিকমতো মোকাবেলা করতে না পারায়। যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে আহত পুলিশ সদস্যদের ছবি ও খবর (আহত ১৪ জনের মধ্যে ৭ জন পুলিশ ছিল। বাকিদের কথা পত্রিকায় উল্লেখ নেই)। আর সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ঐ জায়গায় যে, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ গুটিকয়েক বামপন্থী (লেফটিস) ও নৈরাজ্যবাদীর (অ্যানার্কিস্টস) কারণে বানচাল হয়ে গেছে। বামপন্থী ও অ্যানার্কিস্টদের এমনভাবে চিত্রিত করা হয়েছে যেন তারা বিপথগামী ও নিষিদ্ধ। পত্রিকাগুলো খুব সুচারুভাবে চেষ্টা করেছে শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় ও ছবি ছাপার, যেন তাদের পুলিশ সহজেই শনাক্ত করতে পারে। কাভারেজের ধরন দেখে মনে হয় তারা সমাবেশে যোগ দেয়া ৫০ হাজার শিক্ষার্থীদের, এবং ব্রিটেনের ইতিহাসে চতুর্থ বৃহত্তম জনসমাবেশের দাবির চাইতে গুটিকয় ‘লেফটিস’-এর তৎপরতা নিয়ে বেশি চিন্তিত। ফলত এই ঘটনায় পত্রিকাগুলোকে সরকারের মুখপাত্র মনে হয়েছে। অথচ টোরি ভবনের ছাদে উঠে সেই লেফটিসরা উল্লসিত সমর্থকদের এসএমএস পাঠালো: “আমরা সব ধরনের কর্তনের বিপক্ষে এবং গরিব, বয়ষ্ক, পঙ্গু এবং শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে আছি। আমরা শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে। আমরা টোরি হেডকোয়ার্টারের ছাদ দখল করে এটাই দেখাতে চাই যে আমরা গরিবকে আক্রমণ করার ও ধনীদের সাহায্য করার টোরি নীতির বিরুদ্ধে। আমাদের আন্দোলন সবে শুরু হলো” (দি গার্ডিয়ান, ১১ নভেম্বর, ২০১০)। আন্দেলনের পরে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত ৫০ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বলাবাহুল্য সিসিটিভি ক্যামেরা ও পত্রিকার ছবি পুলিশকে এব্যাপারে যথেষ্ট সাহায্য করেছে।
১১ নভেম্বর তারিখে দি সান-এর কাভারেজ বিশ্লেষণ করলেই চিত্রটি স্পষ্ট হবে। বলা দরকার, রুপার্ট মারডকের নিউজ কর্প গ্র“পের অঙ্গসংগঠন নিউজ ইন্টারন্যাশনাল থেকে প্রকাশিত দি সান হলো যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ সার্কুলেশনের পত্রিকা। উইকিপিডিয়ার দেয়া তথ্য অনুসারে অক্টোবর, ২০১০ সালে পত্রিকাটির গড় সার্কুলেশন ছিল ২৯,০৪,১৮০। প্রথম পাতায় তাদের শিরোনাম ছিল “ব্রেইনলেস: টোরি হেডকোয়ার্টার ট্র্যাশড ইন রায়ট”। ‘ব্রেইনলেস’ শব্দটি প্রায় দুই ইঞ্চিতে ছাপা হয়েছে। শব্দটি লেখা হয়েছে পৃষ্ঠাব্যাপী স্থিরচিত্রের ওপরে, যেখানে দেখা যাচ্ছে চোখ-মুখ ঢাকা এক ছাত্র টোরি-ভবনের কাঁচের দেয়াল ভাংছে। বক্স আইটেম হিসেবে একজন আহত-ক্রন্দরত-রক্তাক্ত নারী-পুলিশের ছবি ছাপা হয়েছে এবং ক্যাপশন/শিরোনাম লেখা হয়েছে: “ব্লিডিং ... কপ ইয়েস্টারডে”। এই ট্রিটমেন্ট এই অর্থ নির্মাণ করে যে শিক্ষার্থীরা সহিংস, অপরাধী এবং তাদের অপরাধের মাত্রা এমন উচ্চ যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীকেও তা আক্রান্ত করে। চতুর্থ ও পঞ্চম পাতার পুরোটা জুড়েই ছবি ও সংবাদ, বিক্ষোভের। বামে ওপরে রয়েছে টোরি-ভবনের ছাদে উঠে-পড়া ছাত্রদের উল্লাসের ছবি। এরপরই আছে পুলিশ-শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি সংঘাতের ছবি। এই দুই ছবির ডানে রয়েছে নানা ধ্বংসযজ্ঞের ছবি। ডানে পুনরায় আরেকটি বড়ো ছবি যেখানে একজন ‘ক্যাপ-পরিহিত উন্মাদ’ চেয়ার দিয়ে কাঁচের দেয়াল ভাংছে। আরও ডানে ছোট ছোট চারটি ছবি: ১. শিক্ষার্থীরা ভাঙ্গা দেয়ালের ওপর দিয়ে ভেতরে ঢুকছে (পত্রিকার ভাষায় ‘মব রুল’) ২. একজন পুলিশের মুখ, ঠোঁটের কোণ দিয়ে রক্ত ঝরছে (ক্যাপশন: ব্লডিয়েড ... ইনজুরড কপ) ৩. একজন নারী পুলিশের মুখ (ক্যাপশন: ভিকটিম ... হার্ট ফিমেল কপ) ৪. আগুনের গোলা ছুঁড়ে মারার যন্ত্র হাতে একজন ছাত্র, ছাদে দাঁড়িয়ে। এখানেও দেখা যাচ্ছে ‘অপরাধী শিক্ষার্থী-আক্রান্ত পুলিশ’ ট্রিটমেন্ট। তিনজনের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে একই পাতায়: ১. ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন ২. সান-এর একজন ফটোগ্রাফার দাঙ্গার প্রত্যক্ষদর্শী-বর্ণনা দিচ্ছেন ৩. পুলিশ প্রধান বলছেন ‘আমি বিব্রত’। ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরার জন্য রিপোর্টে বলা হয়েছে টোরি চেয়ারম্যানসহ প্রায় ৮০ জন স্টাফ ঐসময় ভবনে আটকা পড়েন, যাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারীও ছিলেন।
সম্পাদকীয়তে এসে দি সান-এর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সম্পাদকীয়র শিরোনাম: “ডে অব শেইম”। শুরুতেই বোল্ড করে লেখা: “অন্যদের মতোই শিক্ষার্থীদের সময় কঠিন”। বলা হচ্ছে: “কোনোই সন্দেহ নাই যে মুখোশধারী ভাড়াটে বামপন্থী বেকুবরাই দাঙ্গায় নেতৃত্ব দিচ্ছিল যারা শান্তিপূর্ণ মিছিলকে ছিনতাই করতে এসেছিল”। আবার বলা হচ্ছে -- “সহানুভূতিশীল হবার পরিবর্তে খেটে-খাওয়া জনগণ প্রশ্ন তুলবে: তারা যদি এরকম আচরণ করে করদাতারা কেন তাদের সমর্থন করবে?” আরও বলা হচ্ছে: “ছাদ থেকে যেভাবে মিসাইল ছুঁড়ে মারা হয়েছে তাতে সাহসী মেট্রোপলিটন পুলিশ অফিসাররা মারা যেতে পারতো।” পরামর্শ দিতেও সম্পাদকীয় ভুল করছে না: “যদি প্রমাণিত হয় যে তারা শিক্ষার্থী, তবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা উচিত”। সরকার অবশ্য বলেছে যে কলেজ-কর্তৃপক্ষ নয়, আদালতই এদের শাস্তি নির্ধারণ করবে। বোঝা যায়, গ্রেফতার ছাড়াও বহুল মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়ছে গ্রেফতারকৃতরা।
দি সান-এ প্রকাশিত এইসব বাক্য এরকম একটি অর্থ নির্মাণ করে যে দাঙ্গাকারীরা ‘ভাড়াটে বামপন্থী বেকুব’, কর্মরত পুলিশরা ‘সাহসী’ এবং ঐ বেকুবরা যদি শিক্ষার্থীও হয় তবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া দরকার। বোঝা যায় সোভিয়েত সমাজতন্ত্র পতনের পরও পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বের ‘লালভীতি’ আজও যায়নি। তাই তাদের নানা ফ্রেমিং ও অপবাদ দিয়ে দমনের চেষ্টা চলছেই, যার পুরোভাগে রয়েছে পুঁজিতান্ত্রিক মেইনস্ট্রিম মিডিয়া। ঐ ‘বিপথগামী’রা আজও সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রতিরোধ-সমাবেশ আয়োজনে অবদান রেখে চলেছে। অন্যদিকে সহিংসতা দমনে ব্যর্থ হবার পরও দি সান কর্মরত অফিসারদের বলছে ‘সাহসী’।
দি সান সবচেয়ে মারাত্মক কাজটি করলো পেইজ থ্রি-তে এসে। সেখানে বরাবরের মতো নগ্ন তরুণীর ছবি ছাপা হয়েছে। ২০ বছর-বয়েসী এলি নামের মেয়েটির মুখ দিয়ে তারা অমোঘ বাণী উচ্চারণ করিয়ে ছাড়লো: “বৃহৎ সামাজিক-রাজনৈতিক সমস্যার বিরুদ্ধে সহিংসভাবে প্রতিবাদ জানানোয় যে, অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে, আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের সম্ভাবনাকে কমিয়ে ফেলে, তা তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।”
তথ্যসূত্র: Click This Link
২৩ নভেম্বর, ২০১০।
প্রথম প্রকাশ: মিডিয়াওয়াচ, ২৮ নভেম্বর, ২০১০।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


