somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নয় এগারোর এক দশক-পূর্তির ভাবনা

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০১ সালের নয় এগারোর ঘটনাটি সাম্প্রতিক বিশ্বরাজনীতির অন্যতম নিয়ামক হিসেবে এক দশক ধরে কার্যকর রয়েছে। আজ সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনার এক দশক পূর্তি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের জোড়-ভবনটিতে সেই সন্ত্রাসী হামলার আজ মূল্যায়ন করার অবকাশ রয়েছে। ‘গ্রাউন্ড জিরো’ নামে পরিচিত ঘটনাস্থলটিতে নতুন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছে যার উদ্বোধন আজই হয়েছে। বিমান ছিনতাই করে আকাশচুম্বী অট্টালিকায় আত্মঘাতী বোমা হামলা করার জন্য যে আল কায়েদা নেটওয়ার্ককে দায়ী করা হয়, তার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন সৈন্যরা হত্যা করেছে এবছরই। এক দশকের মাথায় অভিযুক্তকে যেমন শাস্তি দেওয়া হইয়াছে, তেমনি ঘটনাস্থলও স্মারকস্তম্ভ লইয়া নতুনরূপে সাজিয়া উঠিতেছে। কিন্তু ইতোমধ্যে ঐ ঘটনা বিশ্বপরিস্থিতিকে একরকম বদলে দিয়েছে।

ঐ হামলার পর থেকে সন্ত্রাসবাদ নামক ভূত পশ্চিমা বিশ্বকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ঐ হামলা সামরিক শক্তিতে বলীয়ান ইঙ্গ-মার্কিন মিত্রশক্তির অহমে আঘাত করেছে। আল কায়েদা নেটওয়ার্ক নির্মূল করার জন্য ও তার নেতা লাদেনকে ধরবার জন্য ২০০১ সালেই আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালানো হয়, আল কায়েদার মিত্র তালেবান সরকারকে উৎখাত করে পুতুল সরকারকে বসানো হয়। ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন চালানো হয়, অভিযোগ আল কায়েদা নেটওয়ার্ককে প্রশ্রয় দিয়েছে সাদ্দাম সরকার এবং ইরাকের গণবিধ্বংসী রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে। এইসব আগ্রাসনে প্রচুর বেসামরিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, ধ্বংস হয়েছ জনপদ। ক্রমশ এইসব অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনপ্রতিরোধ হয়েছে, কিন্তু ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ এইসব যুদ্ধকে থামানো যায় নি। স্পষ্ট হয়েছে এইসব আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার তেলসম্পদ করায়ত্ব করার উদ্দেশে পরিচালিত হয়েছে। ফলে সন্ত্রাস দূর হয় নি। তালেবান গোষ্ঠী আফগানিস্তান হতে সরে পাকিস্তানসহ অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। জর্জ বুশের ক্রুসেড হোক বা স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ হোক, স্নায়ুযুদ্ধকালীন আমেরিকা-সোভিয়েত ইউনিয়নের সংঘাতের পর এখন সংঘাত পশ্চিম বনাম ইসলামে এসে ঠেকেছে। এটি সারা বিশ্বের মুসলমানদের একাংশকে অধিক কট্টর হতে ও সন্ত্রাসীকার্যে উৎসাহিত করেছে। শুধু পশ্চিমে নয়, সন্ত্রাসবাদ এভাবে আন্তর্জাতিক হতে স্থানীয় একটি রূপ ধারণ করেছে। ২০০৪-০৫ সময়কালে বাংলাদেশেও ইসলামি জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়া উঠেছিল। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের আওতায় ছোট ছোট নতুন অনেক সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে। পাকিস্তানে প্রায়ই এবং ভারতে মাঝে মাঝে সন্ত্রাসী হামলা ঘটে চলেছে। তিউনিশিয়া, মিশর ও লিবিয়ায় সাধারণ জনগণ গণতন্ত্রকামী হইয়া উঠেছে, এই গণঅভ্যুত্থানকে পশ্চিমা শক্তি ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছে। বিদ্রোহীদের সমর্থনের মাধ্যমে তাদের সামনে এসেছে ঐসব দেশের সম্পদ করায়ত্ব করবার সুযোগ।

নয় এগারোর ঘটনা যদি কালক্রমে এইসব ফলাফল বয়ে এনে থাকে, তবে দেখতে হবে নয় এগারোর ঘটনাটি কেন ঘটল? সমাজতন্ত্রের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে একক শক্তি হিসাবে অনায়াসে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। এই সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মধ্যপ্রাচ্য-নীতি আরব মুসলমানদের ক্রমশ অসন্তুষ্ট করে তোলে। বিশেষত প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গে নানান পদক্ষেপ এবং ইসরায়েলকে ক্রমাগতভাবে সমর্থন দেওয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ওসামা বিন লাদেনের মতো ব্যক্তিদের সন্ত্রাসীতে রূপান্তরিত করে। আর বিশ্বশান্তিকে দূরে ঠেলিয়া দেবার জন্য নয় এগারোর একটি ঘটনাই যথেষ্ট হয়েছে। তাই ওইরকম ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা যেমন নিন্দনীয়, তেমনি সন্ত্রাসী ঘটনার উছিলায় দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনও মেনে নেয়া যায়না। বিশ্বশান্তির জন্য তাই পশ্চিমা শক্তির দায়ও যেমন বেশি, দায়িত্বও বেশি।
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×