গত উইকএন্ডে (শনি ও রবিবার) গিয়েছিলাম অফিস থেকে একটা ট্রেনিং-এ। মোটেও ইচ্ছা ছিলোনা ১৮ ঘন্টা ধরে রোজা রেখে এইসব ভ্যাজর ভ্যাজর শোনা। তারচেয়ে বরং বাংলাদেশে ফোন করে ভাই, বোন, ভাবী আর বন্ধুদের সাথে কথা বলাটাই আমার কাছে আরো বেশী আর্কষনীয়। যাইহোক ম্যানেজারের তিনটা ইনসেনটিভে রাজী হয়ে গেলাম: ১। এর বিনিময়ে উইক ডে-তে একদিন অফ। মানে কালকে। ইয়াহু (লাফানোর ইমো হবে) ২। কোর্স হচ্ছে থ্রি স্টার হোটেলে। সুতরাং খাবার-দাবার আর হসপিটালিটি সেইরকম হবে। যদিও রোজা রাখার কারণে এইটা আমার কোনো কাজে আসেনি। ৩। কোর্স শেষে সার্টিফিকেট দেয়া হবে, যা ছিলো মূল লোভের কারণ। যাইহোক যথারীতি কোর্সের দিন হেভী মান্জা মেরে হলিডে ইনে গেলাম কোর্স করতে। উইকএন্ডে বেডফোর্ডে বাস শুরু হয় দেরীতে তাই টেক্সীক্যাবে যেতে হলো। যদিও ভাড়া খুব বেশী একটা পার্থক্য নাই। কনফারেন্স রুম খুঁজে নিয়ে ঢুকতেই আমার আক্কেল আর হার্ট দুইটাই গুড়ুম হয়ে গেলো। কারণ ওইখানে মূল ফ্যাসিলিটেটর মিস্টার জন ব্রাউন ছাড়া আমিই ২য় পুরুষ। আর বাকীসব চোখ ধাঁধানো ললনা। এমনকি সবচেয়ে বয়স্ক যে মহিলা ডরিটা (৫৭ বছর) সেও মহা সুন্দরী। তারউপর আমার বসার জায়গা হয়েছে নীল নয়না শার্লটের পাশে। ২২ বছর বয়সী শার্লট নাচতে খুব ভালোবাসে। সকল সখীর একমাত্র নয়নের মনি হইয়া মহাআনন্দে কোর্স শুরু করিলাম। সামার হওয়ার আমার আরেক পাশে বসা কেমব্রিজের ক্যাটি এমন বাড়াবাড়ি রকমের বড় গলার কাপড় পড়েছিলো যা একনজর দেখা মাত্রই রোজা হালকা হওয়ার ভয়ে আর ২য়বার দেখিনি। যদিও সে প্রথমে অন্য পাশে ছিলো, টি ব্রেকের সময় এসে হেল্পের জন্য আমার পাশে বসেছে। লান্চ ব্রেক ছিলো একঘন্টা। আমার তো লান্চ করার প্রয়োজন নেই। সবাই দেখলাম লান্চ নিয়ে যে যার গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেছে। খাইসে আমারে, সবার দেখি গাড়ী আছে, শুধু আমারই নাই। সবসময় কর্মক্ষেত্রের আশে-পাশে থাকা গাড়ীর দরকার পড়েনি। তাছাড়া আলসেমী করে লাইসেন্সও করা হয়নি। সবচেয়ে বড়কথা গাড়ি মেনটেইন করার খরচ আর হ্যাঁপা সামলানোর ইচ্ছা হ্য়নি। কিছুক্ষন দেখলাম শার্লট তার মিনি-কুপারটা পার্ক করে আমার দিকেই আসছে। পাশাপাশি বসার কারনে সে আর আমি একগ্রুপে। কথায় কথা্য় জেনেনিলাম সে কই থাকে। উরে বাপরে, সে দেখি আমার ঘরের একদম কাছেই থাকে। বলতে গেলে পাড়ার মেয়ে। ছয়মাস আগে বয়ফ্রেন্ডের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। (তারমানে একা। আহা!) আমার কথা জিগ্গাসা করার সাথে সাথে জোরে মাথা নেড়ে বললাম, কসম খোদার আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নাই। ব্রেকটাইম শেষ তাই আবার ঢুকে পড়লাম কোর্সে। উরে আল্লাহ কি সুখ! মিশুক!! মিশুক!!! শার্লট দেখি এইবার আমাকে আরো বেশী করে ভাঁও দেয়। অপর পাশে ক্যাটি তা দেখে যত্ন-আত্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। মজায় শেষ করলাম ১ম দিন। বের হওয়ার সময় আস্তে আস্তে করছি যাতে সবাই চলে যাওয়ার পর আমি বের হয়ে বাস ধরতে পারি। আফটার অল ইজ্জ্বত কা সাওয়াল। কিন্তু দুই সুন্দরী দেখি দাড়িয়ে আছে আমার জন্য। বলে চলো আমরা গাড়ী পর্যন্ত যাই। আমি বললাম আমার গাড়ীতো নস্ট তাই গাড়ী আনি নাই। আমি টেক্সি কিংবা বাসে যাবো। শার্লট বললো, তোমার ঘরতো আমার কাছেই আমি তোমাকে নামিয়ে দিবো। একটু নিমরাজি দেখালাম। কিন্তু সে আমকে নিয়ে যাবেই। কি আর করি তার গাড়ীতে উঠলাম। এমনকি সে পরের দিনও আমাকে পিকআপ করবে। যাওয়ার পথে অনেক কথা বললাম, বিশেষ করে বাংলাদেশের কথা বললাম। বললো: সে অবশ্যই আমার সাথে বাংলাদেশে যাবে। আমার ঘরের সামনে আমাকে নামিয়ে দিয়ে বললো: আচ্ছা তোমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নাই কেনো? নামতে নামতেই বললাম, সিস্টার আমার বউ আছে বলেই কোনো গার্লফ্রেন্ড নাই।
অতঃপর তাহার চেহারাখানা দেখিবার মতো হইলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৬:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



