আর আজ তুই একজন স্বামী, অপেক্ষা করছিস একটি ফুটফুটে দেবদূতের। তোর কোল জুড়ে সে হাসবে, খেলবে, গলা ফাটিয়ে কান্না করবে। যার জীবনের শুরুই হচ্ছে তোর মাধ্যমে। তুই হবি একজন গর্বিত আর দ্বায়িত্ববান বাবা।
আমার ভাবতেই কেমন লাগছে, গভীর রাতে একটি বাচ্চা গলা ফাটিয়ে কান্না করছে, আর তুই তাকে কোলে নিয়ে হেঁটে হেঁটে শান্ত করার চেষ্টা করছিস। মাঝে মাঝে ভুরু কুঁচকে বলবি, " আরিব্বাস, এত ছোট রেডিও'র এত বড় সাউন্ড কিভাবে বের হয়? গুরা পুয়া, ন' কান্দিস।" কিংবা, আমি ভাবতেই পারছিনা তুই তোর ছোট্ট সোনা'র ন্যাপি চেন্জ করে দিচ্ছিস!
সে কত সময় আগের কথা, মানিকের পাশের বাসার বুড়োলোকটাকে দেখলেই আমরা "বুইজ্জ্যা নানা, *&%$ দিবানা" বলে চিৎকার করতাম। তবে এই কথা অস্বীকার করার জো নেই যে তার নাতনী দেখতে কিন্তু বেশ ছিলো।সে কতদিন আগের কথা, মোমের আলোয় মোহিনীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তবে, তার আসল নামটা জেনেছিলাম অনেক অনেক পরে।১নম্বর বাসে মামুনের হয়ে বিটু'র জন্য তোকে যে হুমকি দিয়েছিলাম মনে আছে? সেই সেন্ট মার্টিন যাওয়ার সময় কেয়ারী বোটের উপরে ঝড়তোলা গানের কথা কি ভূলে গেছিস? অবশ্য তোর ভুলের কারণে মোরশেদের এত কষ্ট করে কেনা মাছভাজা আর খেতে পারিনি। ধ্যুস শালা!
তুই না আমাদের পাবলিক রিলেশান অফিসার ( পি.আর.ও) ছিলি। কারো সাথে যোগাযোগ করতে হলে তুই ছিলি আমাদের ভরসা। কিংবা কারো সম্পর্কে জানতে হলে তুই সেই খবর যোগাড় করে দিতি।আচ্ছা, এতো জায়গা থাকতে আমরা মানিকের বাড়ির সামনে ক্রিকেট খেলতাম কেনো? সে কি মোহিনীর টানে? নাকি এমনিতেই? এই জায়গাটা কেমন জানি গোলমেলে।সেই অসাধারণ ক্লাসিক ফুটবল ম্যাচের কথা তোর মনে আছে? তুই ছিলি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আর আমি ছিলাম এ্যটাকিং ডিফেন্ডার। অথচ খেলায় আমরা দুই বন্ধুই গোল করেছিলাম।
মহেশখালীর অনেক ঘটনাবহুল সেই অভিযানের কথা মনে আছে? আমাদের প্রথম ট্যুর।মামুনের শেষ মুহুর্তে ব্লাফ দেয়ার বিখ্যাত সেই ডায়লগ "টিকেট একটা কম করিও" কিংবা পলাশের টেক্সীওয়ালার সাথে ঝগড়া করার সময়কার ডায়লগ "তুই কি বইলছস দে?" নিশীত রাতের অন্ধকারে কষ্ট করে দূরে না গিয়ে বাড়ির কাছেই বেড়ার পাশে বসে কাজ শেষ করে ফেলা। কিংবা নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানো, জাল দিয়ে মাছ ধরা কিংবা প্রচন্ড গরমে উদোম হয়ে পুকুরে বসে থাকা।প্রচন্ড রোদে তপ্ত বালির উপর ঝাড়া দুই ঘন্টা হেঁটে বাড়ি ফিরে যাওয়া। উফ! সেই কথা মনে পড়লে আমার এখনও পলাশকে মন খুলে গালাগালি করতে ইচ্ছা করে। জানিস, আজও চোখ বুঝলেই শুনি, আমি চিৎকার করে বলছি, "ওবা কততর হইয়্যি?" আর মেয়েটা হাত দিয়ে সাইজ দেখিয়ে দিচ্ছে।
ছিঃ! কেমন জানি ইরোটিক/ভালগার হয়ে যাচ্ছে না? আমাদের এখন সামলে চলতে হবে। আফটার অল, তুই বাবা হতে যাচ্ছিস। অভিনন্দন তোকে আর তোর ব্উকে। তোর অনাগত সন্তানের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা আর দোয়া।তবে, সন্তানের সামনে একটু ভাবগম্ভীর থাকতে হবে না। আচ্ছা, তুই কি পারবি তেমন হতে? মনে হয়না। যখনই সামনে গিয়ে বলবো, মাম্মা আমি হাজির। তুই অমনি ঝপাং করে সবকিছু ভূলে যাবি আর লাফিয়ে বলবি, দে গরুর গা ধুইয়ে। আর দুইজনেই চিৎকার করে গাইতে থাকবো, "পাগলা চুলকে দে"।
ছবি: মহেশখালীর অনেক ঘটনাবহুল সেই অভিযান - আমি তোকে শেভ করিয়ে দিচ্ছিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



