somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাগলা চুলকে দে

৩০ শে নভেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে কতবছর আগের কথা? তড়িৎ স্যারের বাসায় কুইজ থাকলে ডিসি হিলে গিয়ে বসে থাকতাম। আমাদেরকে কুইজে অংশগ্রহন করানোর জন্য তড়িৎ স্যার কত কত ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছিলেন। তারপরেও কুইজে দুই মহা ফাঁকিবাজের অনুপস্হিতি যেনো অবধারিতই ছিলো।সে কতদিন আগের কথা? বায়লজি পড়তে যাব বলে অমলেন্দু স্যারকে দেখলেই বলে উঠতাম, স্যার আজকে কিন্তু যাবই যাব।কত সময় গড়িয়ে গেলো, কর্ণফুলিতে কত জল বয়ে গেলো, স্যারের বাসায় আর যাওয়া হলোনা।সে কতসময় আগের কথা, ইংরেজী শিখার বাহানা করে, কলেজের ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে, ট্রাকে চড়ে এক টিকেটে দুই ছবি দেখতে গিয়েছি। আর ছবি শেষে তৃপ্তি ভরে বলেছি, 'রাজিয়া ম্যাডামের আজকের ক্লাশটা যা জোস ছিলোনা'! সার্কিট হাউজের পাশের মাঠে বসে কতই না ছাতিম গাছের তলে এতিম ছেলে টাইপের গান করেছি। দূঃখবিলাস হয়ে সারারাত কত কত দূঃখ করেছি ছন্নছাড়া পোঁড়া জীবন নিয়ে। আর সকাল হলেই সব ভুলে আবার সেই বোহেমিয়ান। আহা সেই মিষ্টি মধুর দিন মনে হয় মাত্রই ক'দিন আগে।

আর আজ তুই একজন স্বামী, অপেক্ষা করছিস একটি ফুটফুটে দেবদূতের। তোর কোল জুড়ে সে হাসবে, খেলবে, গলা ফাটিয়ে কান্না করবে। যার জীবনের শুরুই হচ্ছে তোর মাধ্যমে। তুই হবি একজন গর্বিত আর দ্বায়িত্ববান বাবা।

আমার ভাবতেই কেমন লাগছে, গভীর রাতে একটি বাচ্চা গলা ফাটিয়ে কান্না করছে, আর তুই তাকে কোলে নিয়ে হেঁটে হেঁটে শান্ত করার চেষ্টা করছিস। মাঝে মাঝে ভুরু কুঁচকে বলবি, " আরিব্বাস, এত ছোট রেডিও'র এত বড় সাউন্ড কিভাবে বের হয়? গুরা পুয়া, ন' কান্দিস।" কিংবা, আমি ভাবতেই পারছিনা তুই তোর ছোট্ট সোনা'র ন্যাপি চেন্জ করে দিচ্ছিস!

সে কত সময় আগের কথা, মানিকের পাশের বাসার বুড়োলোকটাকে দেখলেই আমরা "বুইজ্জ্যা নানা, *&%$ দিবানা" বলে চিৎকার করতাম। তবে এই কথা অস্বীকার করার জো নেই যে তার নাতনী দেখতে কিন্তু বেশ ছিলো।সে কতদিন আগের কথা, মোমের আলোয় মোহিনীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তবে, তার আসল নামটা জেনেছিলাম অনেক অনেক পরে।১নম্বর বাসে মামুনের হয়ে বিটু'র জন্য তোকে যে হুমকি দিয়েছিলাম মনে আছে? সেই সেন্ট মার্টিন যাওয়ার সময় কেয়ারী বোটের উপরে ঝড়তোলা গানের কথা কি ভূলে গেছিস? অবশ্য তোর ভুলের কারণে মোরশেদের এত কষ্ট করে কেনা মাছভাজা আর খেতে পারিনি। ধ্যুস শালা!

তুই না আমাদের পাবলিক রিলেশান অফিসার ( পি.আর.ও) ছিলি। কারো সাথে যোগাযোগ করতে হলে তুই ছিলি আমাদের ভরসা। কিংবা কারো সম্পর্কে জানতে হলে তুই সেই খবর যোগাড় করে দিতি।আচ্ছা, এতো জায়গা থাকতে আমরা মানিকের বাড়ির সামনে ক্রিকেট খেলতাম কেনো? সে কি মোহিনীর টানে? নাকি এমনিতেই? এই জায়গাটা কেমন জানি গোলমেলে।সেই অসাধারণ ক্লাসিক ফুটবল ম্যাচের কথা তোর মনে আছে? তুই ছিলি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আর আমি ছিলাম এ্যটাকিং ডিফেন্ডার। অথচ খেলায় আমরা দুই বন্ধুই গোল করেছিলাম।

মহেশখালীর অনেক ঘটনাবহুল সেই অভিযানের কথা মনে আছে? আমাদের প্রথম ট্যুর।মামুনের শেষ মুহুর্তে ব্লাফ দেয়ার বিখ্যাত সেই ডায়লগ "টিকেট একটা কম করিও" কিংবা পলাশের টেক্সীওয়ালার সাথে ঝগড়া করার সময়কার ডায়লগ "তুই কি বইলছস দে?" নিশীত রাতের অন্ধকারে কষ্ট করে দূরে না গিয়ে বাড়ির কাছেই বেড়ার পাশে বসে কাজ শেষ করে ফেলা। কিংবা নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানো, জাল দিয়ে মাছ ধরা কিংবা প্রচন্ড গরমে উদোম হয়ে পুকুরে বসে থাকা।প্রচন্ড রোদে তপ্ত বালির উপর ঝাড়া দুই ঘন্টা হেঁটে বাড়ি ফিরে যাওয়া। উফ! সেই কথা মনে পড়লে আমার এখনও পলাশকে মন খুলে গালাগালি করতে ইচ্ছা করে। জানিস, আজও চোখ বুঝলেই শুনি, আমি চিৎকার করে বলছি, "ওবা কততর হইয়্যি?" আর মেয়েটা হাত দিয়ে সাইজ দেখিয়ে দিচ্ছে।

ছিঃ! কেমন জানি ইরোটিক/ভালগার হয়ে যাচ্ছে না? আমাদের এখন সামলে চলতে হবে। আফটার অল, তুই বাবা হতে যাচ্ছিস। অভিনন্দন তোকে আর তোর ব্উকে। তোর অনাগত সন্তানের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা আর দোয়া।তবে, সন্তানের সামনে একটু ভাবগম্ভীর থাকতে হবে না। আচ্ছা, তুই কি পারবি তেমন হতে? মনে হয়না। যখনই সামনে গিয়ে বলবো, মাম্মা আমি হাজির। তুই অমনি ঝপাং করে সবকিছু ভূলে যাবি আর লাফিয়ে বলবি, দে গরুর গা ধুইয়ে। আর দুইজনেই চিৎকার করে গাইতে থাকবো, "পাগলা চুলকে দে"।



ছবি: মহেশখালীর অনেক ঘটনাবহুল সেই অভিযান - আমি তোকে শেভ করিয়ে দিচ্ছিলাম।
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×