সমুদ্র দেখার শখ একেবারেই আতেল টাইপ ছেলেমেয়ে বাদে বাকি সবারই কম বেশি আছে, আর আমার সেই সৌভাগ্য হয়েছিল ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসের দিকে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ঝামেলা শেষ হবার পর দু'বন্ধু মিলে চট্টগ্রাম, সেন্টমার্টিন, ঘুরে এসেছিলাম। মজার ব্যাপার হল টাইমিং এর গন্ডোগোল এর জন্য কক্সবাজার সী-বিচে মাত্র দুই কি তিন ঘন্টা থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। এবার যখন কক্সবাজার টুর ফাইনাল হল তখনি ভাবলাম এবার আর গতবারের গাধামি করা যাবে না
অবশ্য "আমাদের" টাইমিং বলে কথা! বৃহস্পতিবার ইনজু বলল চল যাই, আর শুক্রবার রাতেই দেখা গেল বাসের ভেতর বসে ঝিমাচ্ছি
ঝিমাতে ঝিমাতে কুমিল্লায় পৌছে গেলাম, যথারীতি নুরজাহান হোটেলের সামনে বাস ব্রেক নিল। পকেটে পয়সা খরচ শুরু হয় নাই, তাই সবাই পরোটা-ঝাল ফ্রাই অর্ডার দিয়ে দিলাম। বিল দিয়ে অবশ্য ঝাল ফ্রাই এর ঝাল বোঝা গেল। পরোটার দাম কিভাবে ১০ টাকা পিস হয় আর ১.৫ টুকরার আধাসিদ্ধ মুরগির টুকরোর হিসাব না মিলাতে মিলাতে পকেট থেকে ৫০০ টাকার মত বেড়িয়ে গেল। কপাল ভাল ঢাকা থেকে ধূম্রকাঠির প্যাকেট কিইন্যা আনছিলাম নাহইলে কপালে আরো খারাপি ছিল। যাইহোক, নেড়া ২ বার বেলতলায় যায় না আর ঠিক করলাম এখন থেকেই সাবধানে খরচ করতে হবে।
শনিবার[/sb]
কপালে শনি ছিল কিনা জানি না, সকাল ৯টার দিকে যখন সীবিচের পাশে হোটেল সেন্টমার্টিনে রুম বুক করলাম তখন বুঝলাম আমাদের ভাবসাব কমাইতে হবে। ভাবসাব দেখেই কিনা কে জানে, গোয়ারগোবিন্দ হোটেল ম্যানেজার ১ টাকাও রুমভাড়া কমালো না! অথচ আমি ভাল মতই জানি, এখন অফ-সিজন, আর হোটেল সব খালি পড়ে থাকারই কথা। ২টা টুইন বেডের রুমের ভাড়া ১৪০০ টাকা রেখে দিল। যার ভাড়া কিনা ৪০০-৫০০ এর বেশি হবার কথাই না, দিনপ্রতি। যাই হোক সবাই টায়ার্ড, আর এই মেগা বাশ এর কথা ভুলে গিয়ে সীবিচ দেখার জন্য রেডি হওয়া শুরু করল। শুরুতেই বিপত্তি, যতই ডিলাক্স রুম হোক, বাথরুম তো একটা
গুলোর প্রমাণ-সাইজের শুটকি মাছগুলো দেখছিলাম। এরকম বিশাল মাছগুলো কারা খায় দেখার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল।
বিচে গোসলের মজা তো আর লিখে প্রকাশ সম্ভব না, তাই এই বৃথা চেষ্টা করার দরকার নাই। সাগরের সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখে আর নিউরনে রেখে দিয়ে উপভোগ করা যায়, ছবি তুলে দৃশ্যগুলো হয়ত ফ্রেমবন্দী করা যায়, কিন্তু দৃশ্যের পেছনের মজাগুলো তো আর বন্দি করে রাখা সম্ভব না। সাহস করে গোসল করতে নেমে পড়লাম। পানি নিয়ে আমার আগে থেকে চরম ভীতি, তাই ওয়াটার-ওয়ার্লড বা নন্দন-টন্দনের ভয়ংকর রাইডগুলোই আমি এড়িয়ে চলি, আর এখন তো বিশাল সাগর, হে হে। তবুও সাহস করে এক পা দু পা করে এগিয়ে যাই। বন্ধুরা ততক্ষণে অনেক সামনে চলে রীতিমত জোয়ারের স্রোতের সাথে ফ্রেন্ডশীপ করে ফেলেছে। এক বন্ধু পচিয়ে ফেলল দেক অই মেয়ে পর্যন্ত নেমে পড়েছে, আর তুই ফার্মের মুরগির মত ঝিমাচ্ছিস। মনে মনে বললাম ঐ মেয়ের তো বয়ফ্রেন্ড আছে, মেয়ে ডুবতে নিলে অই পোলা "জীবন বাজি রেখে" ঝাপ দিবে, আর আমি ডুবতে নিলে তুই তো ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে বলবি দেখ বেকুব টা হাটু পানিতে ডুবতে নিছিল
সীবিচ থেকে এসে রাজার হালে হোটেল রুমে টিভি দেখতে বসলাম। ভাবই আলাদা, নিজের কেমন যেন একটা কর্তৃত্ব কর্তৃত্ব ভাব আছে, ব্যাপারটা উপভোগ করতে ভালোই লাগছিল
দুপুরের দিকে হোটেলের লাগোয়া রেস্তোরায় খেয়ে মনে মনে ঠিক করলাম ব্যবসা যদি করতেই হয়, হোটেলের ব্যবসাই করব, আর হোটেল কক্সবাজারের মেইন রোডের ওপর আবার জিগস। পয়সা উড়াতে আসা টুরিস্ট সাহেবদের বাশ কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দেওয়া যাবে
সন্ধ্যায় কলাতলি বিচে সূর্যাস্ত দেখলাম, আর অনুভূতিগুলো বর্ণনার বাইরে, কারণ এটাই আমার প্রথম সাগরপাড়ে সূর্যাস্ত দেখা। রাতে বেশ কয়েকজায়গায় ঘুরে সেন্টমার্টিনের প্যাকেজগুলো দরদাম করার চেষ্টা করছিলাম। আমাদের মতলব হল একরাত থাকা। শেষমেষ বাহার তরী টুরস নামের একটা কোম্পানীর হাতে টাকা গুজে তার মোবাইল নাম্বার নিয়ে বের হতেই একেক ফ্রেন্ড একেক মতবাদ দেয়া শুরু করল। দিপল বলল ঐ ম্যানেজার নাকি আমাদের কন্টাক্ট নাম্বার লিখা হলুদ কাগজটা ছিড়ে বাস্কেটে ফেলে দিয়েছে, দিপল নিজের চোখে দেখেছে। ইভান বলল বেটার পুরো প্যাকেজটা নাকি "ফেক" , কারণ লোকটাকে দেখেই নাকি সে পুরো ধান্দাবাজ বুঝে ফেলেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



