somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমুদ্র বিলাস (ফাউ পোস্ট)

১২ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সমুদ্র দেখার শখ একেবারেই আতেল টাইপ ছেলেমেয়ে বাদে বাকি সবারই কম বেশি আছে, আর আমার সেই সৌভাগ্য হয়েছিল ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসের দিকে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ঝামেলা শেষ হবার পর দু'বন্ধু মিলে চট্টগ্রাম, সেন্টমার্টিন, ঘুরে এসেছিলাম। মজার ব্যাপার হল টাইমিং এর গন্ডোগোল এর জন্য কক্সবাজার সী-বিচে মাত্র দুই কি তিন ঘন্টা থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। এবার যখন কক্সবাজার টুর ফাইনাল হল তখনি ভাবলাম এবার আর গতবারের গাধামি করা যাবে না :P

অবশ্য "আমাদের" টাইমিং বলে কথা! বৃহস্পতিবার ইনজু বলল চল যাই, আর শুক্রবার রাতেই দেখা গেল বাসের ভেতর বসে ঝিমাচ্ছি :| অবশ্য এই পাকনামি টাইমিং এর জন্য অনেক বন্ধুই যেতে পারল না, তাদের কথা ভেবে আর দু:খ বাড়ানোর দরকার নেই। ৫ জন মিলে টুরিস্ট টুরিস্ট ভাব নিয়ে ১২ টার ডাইরেক্ট কক্সবাজারের বাসে উঠে পড়লাম। আর কিছু না থাকুক, ভাব জিনিসটা আমাদের ভালো মতই আছে B-) এবারের বন্ধুবরদের মধ্যে আমিই আগে কক্সবাজার দেখেছি, তাই আমার ভাব আর পাকনামি সবার চেয়ে বেশি আর কি! পোলাপান (ফ্রেন্ড - এর সমার্থক শব্দ) বলে আমি নাকি ইয়াহু এর থেকে টাকা খাই, কারণ আমি বাসায় থাকি আর না থাকি, ঘুমাই বা খাই, এমনকি পরীক্ষার সময়ও মেসেন্জারে লগ্ড-ইন হয়ে থাকি। তাই ভাবলাম তাদের ধারণা টা তো আর বৃথা যেতে দেয়া যায় না, হাজার হোক ফ্রেন্ড বইলা কথা। তাই মোবাইল দিয়ে লগিন করে (কোন নারী অনলাইন ছিল না /:)) পকেটে রেখে গান শোনা শুরু করলাম, ইনজুর পি-২ প্যাকেজ, পয়সা উসুল কইরা ছাড়ুম!

ঝিমাতে ঝিমাতে কুমিল্লায় পৌছে গেলাম, যথারীতি নুরজাহান হোটেলের সামনে বাস ব্রেক নিল। পকেটে পয়সা খরচ শুরু হয় নাই, তাই সবাই পরোটা-ঝাল ফ্রাই অর্ডার দিয়ে দিলাম। বিল দিয়ে অবশ্য ঝাল ফ্রাই এর ঝাল বোঝা গেল। পরোটার দাম কিভাবে ১০ টাকা পিস হয় আর ১.৫ টুকরার আধাসিদ্ধ মুরগির টুকরোর হিসাব না মিলাতে মিলাতে পকেট থেকে ৫০০ টাকার মত বেড়িয়ে গেল। কপাল ভাল ঢাকা থেকে ধূম্রকাঠির প্যাকেট কিইন্যা আনছিলাম নাহইলে কপালে আরো খারাপি ছিল। যাইহোক, নেড়া ২ বার বেলতলায় যায় না আর ঠিক করলাম এখন থেকেই সাবধানে খরচ করতে হবে।

শনিবার[/sb]

কপালে শনি ছিল কিনা জানি না, সকাল ৯টার দিকে যখন সীবিচের পাশে হোটেল সেন্টমার্টিনে রুম বুক করলাম তখন বুঝলাম আমাদের ভাবসাব কমাইতে হবে। ভাবসাব দেখেই কিনা কে জানে, গোয়ারগোবিন্দ হোটেল ম্যানেজার ১ টাকাও রুমভাড়া কমালো না! অথচ আমি ভাল মতই জানি, এখন অফ-সিজন, আর হোটেল সব খালি পড়ে থাকারই কথা। ২টা টুইন বেডের রুমের ভাড়া ১৪০০ টাকা রেখে দিল। যার ভাড়া কিনা ৪০০-৫০০ এর বেশি হবার কথাই না, দিনপ্রতি। যাই হোক সবাই টায়ার্ড, আর এই মেগা বাশ এর কথা ভুলে গিয়ে সীবিচ দেখার জন্য রেডি হওয়া শুরু করল। শুরুতেই বিপত্তি, যতই ডিলাক্স রুম হোক, বাথরুম তো একটা :-* কে কার আগে রুমখান দখল করবে এ নিয়ে ওয়ার্লড ওয়ার শুরু হবার জোগাড়। কোন মতে রেডি টেডি হয়ে আর ভাবসাব আরো একখান বাড়িয়ে B-) সীবিচ দেখার জন্য সবাই বেড়িয়ে গেল। স্যান্ডেল কেউ কিনে নাই, আর আমি বাসা থেকে স্যান্ডেল নিয়ে আসছি, তাই স্যান্ডেল-মার্কেটে ওদের পচাতে গিয়ে মনে পড়ল আন্ডারওয়ার ই আনি নাই :| তাই বেকুবের মত পয়সা খরচ করতে হল। এখানকার দোকানদার রা তো মাশাআল্লাহ। X( লাবণী বিচের পাশের মার্কেটগুলো থেকে স্যান্ডেল কেনা হল। আশেপাশের দোকান
গুলোর প্রমাণ-সাইজের শুটকি মাছগুলো দেখছিলাম। এরকম বিশাল মাছগুলো কারা খায় দেখার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল।

বিচে গোসলের মজা তো আর লিখে প্রকাশ সম্ভব না, তাই এই বৃথা চেষ্টা করার দরকার নাই। সাগরের সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখে আর নিউরনে রেখে দিয়ে উপভোগ করা যায়, ছবি তুলে দৃশ্যগুলো হয়ত ফ্রেমবন্দী করা যায়, কিন্তু দৃশ্যের পেছনের মজাগুলো তো আর বন্দি করে রাখা সম্ভব না। সাহস করে গোসল করতে নেমে পড়লাম। পানি নিয়ে আমার আগে থেকে চরম ভীতি, তাই ওয়াটার-ওয়ার্লড বা নন্দন-টন্দনের ভয়ংকর রাইডগুলোই আমি এড়িয়ে চলি, আর এখন তো বিশাল সাগর, হে হে। তবুও সাহস করে এক পা দু পা করে এগিয়ে যাই। বন্ধুরা ততক্ষণে অনেক সামনে চলে রীতিমত জোয়ারের স্রোতের সাথে ফ্রেন্ডশীপ করে ফেলেছে। এক বন্ধু পচিয়ে ফেলল দেক অই মেয়ে পর্যন্ত নেমে পড়েছে, আর তুই ফার্মের মুরগির মত ঝিমাচ্ছিস। মনে মনে বললাম ঐ মেয়ের তো বয়ফ্রেন্ড আছে, মেয়ে ডুবতে নিলে অই পোলা "জীবন বাজি রেখে" ঝাপ দিবে, আর আমি ডুবতে নিলে তুই তো ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে বলবি দেখ বেকুব টা হাটু পানিতে ডুবতে নিছিল :P যাই হোক শেষমেষ অনেক সাহস করে পানিতে চলে এলাম। পরে মজা পেয়ে যাবার পর কখন যে এত টা সামনে চলে এসেছি খেয়াল ই হয়নাই, ভাবলাম এখন ডুবে গেলে ০৮ এর সুন্দরীদের :| দেখা হবে না। কথাটা ফ্রেন্ডদের ও মনে ধরল বলে মনে হল।

সীবিচ থেকে এসে রাজার হালে হোটেল রুমে টিভি দেখতে বসলাম। ভাবই আলাদা, নিজের কেমন যেন একটা কর্তৃত্ব কর্তৃত্ব ভাব আছে, ব্যাপারটা উপভোগ করতে ভালোই লাগছিল B-)

দুপুরের দিকে হোটেলের লাগোয়া রেস্তোরায় খেয়ে মনে মনে ঠিক করলাম ব্যবসা যদি করতেই হয়, হোটেলের ব্যবসাই করব, আর হোটেল কক্সবাজারের মেইন রোডের ওপর আবার জিগস। পয়সা উড়াতে আসা টুরিস্ট সাহেবদের বাশ কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দেওয়া যাবে X(

সন্ধ্যায় কলাতলি বিচে সূর্যাস্ত দেখলাম, আর অনুভূতিগুলো বর্ণনার বাইরে, কারণ এটাই আমার প্রথম সাগরপাড়ে সূর্যাস্ত দেখা। রাতে বেশ কয়েকজায়গায় ঘুরে সেন্টমার্টিনের প্যাকেজগুলো দরদাম করার চেষ্টা করছিলাম। আমাদের মতলব হল একরাত থাকা। শেষমেষ বাহার তরী টুরস নামের একটা কোম্পানীর হাতে টাকা গুজে তার মোবাইল নাম্বার নিয়ে বের হতেই একেক ফ্রেন্ড একেক মতবাদ দেয়া শুরু করল। দিপল বলল ঐ ম্যানেজার নাকি আমাদের কন্টাক্ট নাম্বার লিখা হলুদ কাগজটা ছিড়ে বাস্কেটে ফেলে দিয়েছে, দিপল নিজের চোখে দেখেছে। ইভান বলল বেটার পুরো প্যাকেজটা নাকি "ফেক" , কারণ লোকটাকে দেখেই নাকি সে পুরো ধান্দাবাজ বুঝে ফেলেছে। /:) ইনজু বলল আমাদের নিয়ে নাকি সেন্টমার্টিনে SAW 6 বানানো হবে, আমি বললাম তারচেয়ে Hostel3 বল, কাহিনী ভালো মানাবে।
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×