
ক্লাস নাইনে ওঠার পরই সবার হঠাৎ করে বাংলা স্যারের কাছে প্রাইভেট পরার ধুম পড়ে গেল। কাহিনী কি? সায়েন্সের বিষয়গুলো নাহয় নতুন, বাংলা এতদিন যা পড়েছি তাকি রাতারাতিই দিন বদলের পালায় বদলে গেল যে প্রাইভেটে ভর্তি হতে হবে?

খোজ নিয়ে যে কাহিনী পাওয়া গেল তা অবশ্য বেশ চমকপ্রদ

বাংলা স্যার পার্শ্ববর্তী গার্লস স্কুলের সাথে আমাদের স্কুলের সুবোধ বালকদের মিলিয়ে কমবাইন্ড ব্যাচ তৈরি করতে যাচ্ছেন

। শুধু তাই না, ৩য় সংস্করণ নি:শেষিত, আজই আপনার চতুর্থ সংস্করণের জন্য বুকিং দিন মানে আর দু'একদিন দেরি করলে নাকি ফোর্থ ব্যাচেও জায়গা পাওয়া যাবেনা

আমাদের স্কুল ছিল বয়েজ স্কুল। পাশেই সেই বালিকা বিদ্যালয়। স্কুলের এলাকার জন্যই কিনা, নতুন ঢাকার "ডিজুস পুলাপানের" মত ডিজুস কালচার আমাদের স্কুলের এলাকায় তখনো তৈরি হয়নাই।

উল্টা এখানকার অভিভাবকদের ভূমিকার জন্যই কি-না, পোলাপান একটু রক্ষণাত্মকই ছিল বলতে গেলে!

তো পোলাপানের এই ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি এখন বদলে গিয়ে পুরাই এটাক স্টেন্স! ঐযে কমবাইন্ড ব্যাচ

আমাদের বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে রাতারাতিই সেলিব্রেটিদের মত এমন সব গুজব শোনা যেতে লাগল, যে তখন কায়দাকানুন জানলে আমিই একটা গসিপ-ওয়েবসাইত খুলে বসতাম! এক্ষেত্রে বলে দেয়াই ভালো, স্কুলে থাকতে আমি মোটামোটি সেরা আতেলদের মধ্যে বেশ ভালো অবস্থান নিয়ে ছিলাম (এখনও আতেলই আছি - ডিসক্লেইমার

) তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বাংলা স্যারের ব্যাচে ঢোকা সাহসে কুলায় নাই

তো সেই সব "গুজবে"র এক নায়কের মজার কাহিনী এই আজাইড়া পোস্টের মূল বিষয়বস্তু। নায়ক আর কেউই না আমারই ফ্রেন্ড - যার নাম ঠিকানা বলে মাইর খাওয়ার শখ আমার নাই

। সেই নায়ক কে আমরা "ত্যাল" বলে ডাকতাম, কারণ সে শুধু ক্লাসে আর ক্লাসের বাইরেই না, স্যার ক্লাস থেকে বেরিয়ে টিচার্স রুমে যাবার সময়ও স্যারের পিছে পিছে তেলের ড্রাম নিয়ে দৌড় লাগাতো

তো এখন দেখা গেল আমাদের নায়ক বাবাজি শুধু স্যারদেরই না, এক ম্যাডামকে ত্যালাতেও কম যায়না

এই ম্যাডাম বলতে আবার কোনো শিক্ষিকা ভেবে বসে থাকবেন না। ম্যাডাম হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বালিকা বিদ্যালয়ের আমাদের ব্যাচেরই একজন ছাত্রী, যার সাথে কিনা আমাদের নায়কের মোলাকাত সেই বাংলা স্যারের ব্যাচে!
তো এখানে সেই বাংলা স্যারের কিছু কাহিনী বলা দরকার। (আপনাদের মাঝে কেউ বাংলার টিচার থাকলে এই সিস্টেম ফলো করার ট্রাই নিতে পারেন, বহুত ফায়দা হবে) স্যারের সব ব্যাচই কিন্তু আবার কমবাইন্ড না। স্যার মহোদয় বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী তার ব্যাচগুলোকে "প্লাটিনাম", "গোল্ড", "সিলভার" , .... ইত্যাদি ব্যাচে ভাগ করেছন - যার মধ্যে নাকি কয়েকটা ব্যাচই ছিল কমবাইন্ড

সেই কমবাইন্ড ব্যাচে চান্স পাওয়ার পূর্বশর্ত ছিল স্যারের নেওয়া পরীক্ষায় ভালো করা।!

স্যার এমসিকিউ স্টাইলে একজাম নিতেন, আর প্লাটিনাম ব্যাচের কেউ খারাপ করলেই তাকে ডিমোশোন দিয়ে নিচের ব্যাচে পাঠিয়ে দেওয়া হইত। এজন্যই তো বলি, আমাদের নায়ক সারাদিন সব বাদ দিয়া খালি স্যারের এম.সি.কিউ শিট নিয়া বইসা থাকে ক্যান! শুধু এই নায়ক না, বলাই বাহুল্য ক্লাসের ম্যাক্সিমাম পোলাপাইনের মধ্যেই তখন বাংলা পড়ার ধুম।
তো আমাদের নায়ক তার নায়িকা খুজে পেয়ে পুরোদমে মন জয় করার জন্য লেগে গেল, আর এখানেই দেখা গেল বিপত্তি। কাটা ছাড়া ফুল কি হয়?

পুরোপুরি বাংলা সিনেমার কাহিনীর মত নায়িকা নাকি সমানে ভাব মেরেই যাচ্ছে! আর আমাদের নায়ক তো আগেই তেল উপাধি পেয়ে বসে আছে। সেও কম যায়না, নায়িকার মন জয় করে ছাড়বেই। ইতোমধ্যে আমি কয়েকদিন সবার সাথে লেটেস্ট খবরাখবরে আপডেট হতে পারিনাই, একদিন দেখি সবাই সেই নায়ক কে "মিউ" বলে ডাকতেছে!

এত নাম থাকতে মিউ! ক্যামতে কি! আমার ফ্রেন্ডরাও একেকটা খাটাশ- আমাকে বলবেই না, আমি ক্যান এই হট কাহিনীর কিছুই জানিনা

পরে অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর নামকরণের কাহিনী জানা গেল, নায়ক এখন তার নায়িকার সাথে মুঠোফোনের দুনিয়ায় সমানে টাংকি মেরে যাচ্ছে!

তো মজার ব্যাপার হল, সেই ফ্রেন্ড যখন ফোনে কথা বলে, তখন আশেপাশের সবাই আদুরে বিড়ালের মিউ মিউ ছাড়া আর কিছুই শোনে না
কাহিনী আর প্যাচাচ্ছি না, বিউটি ব্যাচের কাহিনী বলেই পোস্ট শেষ। বিউটি ব্যাচ!

যারা পড়ে আমার মতই হা হয়ে গেছেন, তাদের বলে রাখছি আমিও পয়লা এই নাম শুনে পুরাই

এর মত টাশকি। স্যারের নয়া সংস্করণ এই বিউটি ব্যাচ, নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, বাছাই করা বিউটি দের নিয়ে স্যার নতুন ব্যাচ তৈরি করেছেন

আর সেই ব্যাচে আমাদের নায়কের নায়িকা নাকি ঢুকে গেছে, তাই ব্যাচে চান্স পাওয়া আমার ফ্রেন্ডের ইজ্জতের সওয়াল। সে ধুমসে নেক্সট অগ্নিপরীক্ষা মানে স্যারের ব্যাচ - আপগ্রেড পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছে। এমন সময় আমরা কয়েক ফ্রেন্ড তার বাসায় গেলাম ডিসটার্ব করতে। আসলে গেছিলাম আড্ডাবাজির জন্যই, তো গিয়া দেখি এই অবস্থা। ফ্রেন্ড খুব সিরিয়াস, কথা টথাও বলে না শিট নিয়ে বসেই আছে। কি আর করা

আমরাও তো ফাজিল কম না, ওর আতলামি দেখে চেতে গিয়েই ওর মোবাইল পকেটে নিয়া আইসা পড়লাম

উদ্দেশ্য ছিল ওকে চেতানো, তাই বাসা থেকে বের হয়ে মোড়ে গিয়ে ওর মোবাইল দিয়েই ওর বাসায় ফোন দিলাম

তো ফোন দিয়া আমরা পুরাই টাশকি, নায়ক পুরাই কান্নাকাটি
দোস্ত মোবাইলটা দিয়া দে 
পরে বুঝলাম আসল কাহিনী, একটু পরেই তার "মিউমিউ" শুরু হবে, মোবাইল না থাকলে প্রেমোপাখ্যান সেদিনের মত ওখানেই ইতি!
পরের কাহিনী সংক্ষিপ্ত- মোবাইল তাহাকে ফিরিয়ে দেওয়া হল, বিনিময়ে ভালবাসা তাকে করিল ভিখারী আমাদের দিল বিরিয়াণী 
সেই নায়ক এখন অবশ্য সুখে আছে নায়িকা নিয়ে। দু'জনেই একই মেডিক্যালে পড়তেছে। তাহাদের প্রেমোপাখ্যান পারিবারিক ভাবেও এখন স্বীকৃত।