somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয়ের ছবি দেইখা হাসি পায় কেন? X((X(( হররররমুভি এনালাইসিস X((

১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মেজাজটা চ্রম খারাপ /:)

তাইলে আমার সাহস বেশি হৈয়া গেছে নাহয় বাকি হক্কলের কইলজা দুব্বল। বাকি সবার নাম কইরা যে জেনারালাইজেশন করা হৈল, সেটার মধ্যে পড়ে তারাই যাদের জন্য বছরের পর বছর ধইরা হরর ছবির নামে এইসব গাজাখুরী মালের প্রডাকশন চলতেছে। সেইম থিম, সেইম প্লট, ভয় দেখানোর পুরা হাজার বছর ধইরা চইলা আসা উশকানো চুলের কঙ্কালশায় চিমশানো করোটি থেকে ফুটে বের হয়ে আসা সবুজ জ্বলজ্বলে চোখ - বা ঘাড় বাকা অপ্রকৃতস্থ ছোট বাচ্চা - এইসব দেখে মানুষ আর কয়দিন কম্বলের নিচে শরীর লুকিয়ে চোখ বার করে ছবি দেখবে? সব মানা যায়, যদি ছবির কোন কাহিনী বা রহস্য থাকে। ভালো কাহিনীর তো প্রশ্নই উঠেনা, কাহিনী যা একটু থাকে সেটাও আগেরটা পরে পরেরটা মাঝে আর মাঝেরটা পুরা গায়েব কৈরা দিয়া দশবারোটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার জগাখিচুড়ি, সাথে পাবলিকরে সুড়সুড়ি দেবার জন্য সিনামজুড়ে এডাল্ট শট, এই নামে চলতেছে হরর মুভি!

হ্যা, ইংরেজি ছবির কথাই কই, খোদ হলিউডের! আম্রিখার মানুষজনের তো কইলজা শক্ত হওনের কথা, দুব্বল হার্ট নিয়া পৃথিবী জুইড়া ক্রুজ মিজাইল ছোড়া বা তাণ্ডবলীলা চালানির কথা না। শুরু করছিলাম হরর মুভি নিয়া, কথাবার্তা দেখি পলিটিক্যাল হইয়া যাইতেছে! আমার দোষ নাই, মাথাটাই গরম, আগে যদি জানতাম ইডা হরর ছবি তাইলে ভুলেও ছাইড়া বইসা আধাঘন্টা পেইন নিতাম না! যেই কথায় ছিলাম, কথাবার্তা শুনে আমারে কোন বীর মনে হইতে পারে, তাই বইলা নেই, রাইতে ঘুমানোর আগে জানালা খোলা থাকলে আমারো মনে হয় কেউ বাইরে থেইকা ভেতরে উকি দেবার চেষ্টা করতাছে! দরজা খোলা রাইখা ঘুমাইলেও সেইম অবস্থা, নিদ্রাদেবী সেই রাতে আমার জন্য বরাদ্দকৃত প্রসাদ বাতিল করবেন। ঘুম আইবো কেমনে, যদি এক চোখ খুইলা দরজা গার্ড দেই? :| ;) কাজেই আমি কত বর বীরপুরুষ সেইটার একটা রাফ ধারণা পেয়ে গেছেন। এরপরও এইসব হরর মুভি দেখে যারপনাই বিরক্ত হই।

টিপ্যিকাল হরর ছবির প্লাটফর্ম:

খেয়াল করলে দেখবেন, সব হরর ছবিই আসলে একই থিমের ওপরে চলে, যাস্ট ক্যারেকটারগুলা ভিন্ন, পরিবেশ অন্য, স্থান-কাল-পাত্র আর চরিত্রগুলার বয়স এটকু ওলট পালট করে কাহিনীর নামে বস্তাপচা আইডিয়া গুলিয়ে দর্শকদের খাওয়ানো হয়। এমনকি ভয় দেখানোর তরিকা পর্যন্ত সেইম! অতিপ্রাকৃত চরিত্র থেকে পালিয়ে বেড়ানো স্বল্পবসনা নায়িকা, 'ভূত' খুজতে থাকা নিয়ে চুপচাপ মিনিট দুয়েকের পিনপতন সাইলেন্স - এরপর ধুম করে স্ক্রীনে সেই 'ভূত' এর মাথার উদয় আর তা দেখে নায়িকার গগনবিদারী চিৎকার - ওফ! এই 'ভূত' এর উদয়ের আবার দুটো তরিকা আছে। এক - হয় নায়িকা (বা নায়ক) যেদিকে তাকিয়ে খুজছে তার ঠিক বিপরীত দিক থেকে এসে চুপচাপ মাথার পেছনে এসে দাড়ানো, নায়ক/নায়িকা এক মিনিটের জন্য থমকে গিয়ে ভয়ে ভয়ে পেছনে তাকাবে এবং এরপরই আআআআআআআআআ! অথবা, ভিকটিম দৌড়োচ্ছে, ক্যামেরার একেবারে সামনে আসার পর ধুম করে স্ক্রীনে 'ভূত' এর মাথার উদয় হবে এবং যথারীতি সেই :-/:-/:-/ (চিৎকার)

হরর ছবির আরেকটা বস্তাপচা কমন আইডিয়া হল ইল্যুশন বা দৃষ্টিভ্রম। নায়িকা অবশ্যই ঘুরে ফিরে সবজায়গায় (রাস্তাঘাটে, কলেজে, কলেজের লকারে, বেডরুমে এবং অবশ্যই অর্ধনগ্ন হয়ে গোসলে) একটা কমন ইল্যুশনের শিকার হবে। বেশিরভাগ সময়ই যে দৃষ্টিভ্রমটা হবে কালো বিড়াল, কুকুর, অপ্রকৃতস্থ ছোট বাচ্চাকে দেখা। (গ্রাজ ছবিতে যেমন চুল)। ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে বেশিরভাগ সময়ই থাকে নায়িকা (মেয়েরা সহজে ভয় পায়? আপুরা মাইনাসে এই টিপি দিলো বইলা) । সেই নায়িকার বয়ফ্রেন্ড অবশ্যই নায়ক। মাঝে মাঝে দর্শকদের মজা দিতে আরো এক/একাধিক কাপলের উদয় হয়, যারা নিষেধাজ্ঞার পরোয়া না করে হান্টেড হাউজ/ পোড়াবাড়িতে ফুর্তি করতে যায় আর লাশ হয়ে ফিরে। তবে যথারীতি প্রেতের হাত থেকে নায়ক আর নায়িকা বেচে যায়। হরর ছবির আরেকটা দুইনাম্বারি হল বিচ্ছিন্ন দৃশ্যের ফ্ল্যাশিং আর মূল কাহিনীর সিনক্রোনাইজেশনে ব্যর্থতা। অনেকগুলো ভিন্ন স্থান-কাল-পাত্রের সিন একই সাথে ফ্ল্যাশ করে দেখাতে থাকে, এতে যে লাভটা হয় তা হল আদতে কোন কাহিনী না থাকলেও আস্ত একটা দেড় ঘন্টার সিনেমা দাড়িয়ে যায়।

এখানে কথা উঠতেই পারে, মানুষের ভয় ভীতি সবই পরাবাস্তব জগতের অলৌকিক চরিত্র কেন্দ্রিক, কাজেই চেষ্টা করেও ভীতিবোধ জাগিয়ে তোলার এই বৃত্ত থেকে বেরোনো সম্ভব নয়। এই ব্যাপারটা মেনে নেওয়া যেত যদিনা অন্য জেনারের ছবিগুলোও একই রকম বস্তাপচা হত। সাই-ফাই নিয়ে ছবি হচ্ছে, বলতে পারেন সাই-ফাই ও তো একই রকম কাহিনী নির্ভর, তবুও সেগুলোর মাঝে নতুনত্ব থাকে কেন? প্রযুক্তির বৈচিত্র‌্য আর নতুনত্বের জন্য? না। অনেক সাইফাই ছবিই দেখে থাকবেন পুরাই বাস্তবতাবিবর্জিত। খেলনা-খেলনা টাইপ অত্যাধুনিক অটোমোবাইল থেকে রং-বেরঙের রশ্মিবেরিয়ে এক অপরকে ধুলিস্মাৎ করছে আর চারপাশ থেকে হুদাই ইলেক্ট্রিক স্পার্ক - না এই ঘরানার সাইফাইকে আমরা জাতে তুলি না। বরং কাহিনীর বাস্তবতার সাথে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার যোগসূত্র দর্শকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়, হোক না তা কাল্পনিক।

যেটা বলতে চাচ্ছি, কাহিনী না থাকলে কোন ছবিই দর্শক টানে না, হোক সেটা হরর ফিল্ম হোক সেটা সায়েন্স ফিকশান বা ড্রামা। গতানুগতিক ধারার এই হরর ছবিগুলো যে আসলেই ফ্লপ সেটা বোঝা যায় এদের আইএমডিবি রেটিং দেখে - The Unborn (2009) : 4.5, The Grudge (2004): 5.7, Halloween 2 (2009): 5.4 ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপরও কোন পরিবর্তন হয়নি হরর ছবির - পৃথিবীতে কিছু মানুষ তাহলে সত্যিই ভীতু! :(



সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৯
৩৫টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×