somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাদামাটা দিনলিপি

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

define:blog

হঠাৎ খেয়াল হল ট্যিপিকাল ডায়েরি টাইপ ব্লগ কখনো লেখা হয়নাই :) আমার দিনলিপি যে চমকে ঠাসা মুখরোচক কিছু হবে সেটাও না, বলার মত ঘটনা কখনো কখনো হয় তবে সেটা হয়তো আমড়া কাঠের ঢেকিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কে কি বলে বসে সেটা ভেবেই কখনো দিনলিপি লেখা হয়নাই। আজকের দিনটা একটু ঘোরাঘোরির ওপরে গেল তাই ভাবলাম লিখে বসি কিছু একটা....

পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য ভার্সিটি বন্ধ, তাই ঘরে বন্দী জীবনযাপন কিছুদিন ধরে, ভার্সিটির হলে গিয়ে একটু আধটু আতলামির অপচেষ্টা করার যে শেষ ভরসাটুকুও শেষ করে দিয়েছে আম্মুর দুশ্চিন্তা, অবস্থা এমন যে ভার্সিটিই সবচেয়ে অনিরাপদ এলাকা বলা যায়! রাতে হলে থাকা তাই নিষিদ্ধ একরকম। বন্ধুবান্ধবদের অনেকেই বাড়ি চলে গেছে, হলও ফাকা, আড্ডা বা তাস পিটানোর ব্যবস্থা পুরা বন। বাসায় বসে বসে আলসেমি এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে এখন বের হলেও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। রাস্তায় জ্যামের কথা মনে কইরা মেজাজ খারাপ হয় আরো। চুল দাড়ি অবাধ স্বাধীনতায় নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে, আগে শীত থাকায় চুলের যন্ত্রণা সহ্য করা যেত কিন্তু গরমে এখন কান দিয়ে ধোয়া বাইর হবার জোগাড়।

আজকে তিনটার দিকে বহুদিন পর শেইভ টেইভ কইরা চীন-মৈত্রীর সফ্ট এক্সপোতে (সফ্টওয়ার মেলা) হাজির হলাম, আশা করছিলাম আর যাই হোক মডেল কন্যাদের উপস্থিতিতে ভালো টাইমপাস হবে, মেলায় গিয়া চিক্কুর দিয়া কানতে ইচ্ছা হইলো। পুরা মেলা মরুভূমি! সব মেলাতেই মডেলদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হবার উপক্রম হয়, এবার ব্যতিক্রম দেইখা অবাক হলাম। মেলায় যাবার দুমিনিটের মাথায় সাথের দোস্তগুলা হাউকাউ শুরু করলো এই বোরিং মেলায় আর এক মিনিটও না। তাদের কোনমতে বাইরে ধোয়া টানতে পাঠায়ে আমি আর সাথের আরেকটা টেকি-আতেল বড়ভাইএর স্টলের সামনে ঘোরাঘোরি করতে লাগলাম, আর কোন অযুহাতে পালানোর ব্যবস্থা হবে সেটা ভাবছিলাম। এর মাঝেই সাড়ে সর্বনাশ, ভার্সিটি থেকে সেমিনারের জন্য হেড সহ স্যার ম্যাডামরা মেলায় এসেছেন, সাথে বড় ভাই আপুরাও আসছে আর আমরা এইদিকে কিছুই জানি না! মুক্ত বয়ান আর "উদ্ভ্রান্ত পথিক" ভাই এর কাছে তাদের "বুফে"র খবর শুনে মন মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেল। এখন স্যারদের সামনে পড়লে আর উপায় নাই, পরীক্ষার সময় মেলায় কি করি এই কৈফিয়ত দেবার চেয়ে কেটে পড়া উত্তম।

বইমেলায় যাওয়া হয়নাই, বন্দুদের নিয়া বইমেলায় গেলাম "বৈদ্যুতিক অটোরিক্সায়" চড়ে...... অনেকেই মনে হয় দেখছেন এই আজব যান, রিক্সায় একটা মটর লাগায়া নিলে যেরকম হবে সেরকম আরকি....। চড়তে খারাপ না, রিক্সার মতই বাতাস টাতাস পাওয়া যায়, তবে সমস্যা হইলো চড়লে নিজেরে মফিজ মফিজ লাগে। শাহবাগের সিগন্যালে গাড়ির ভেতরের মেয়েগুলা যখন আমাদের নিয়া হাসাহাসি শুরু করলো তখন মনে হচ্ছিল সিএনজি নিয়ে আসলেই ভালো করতাম। বইমেলায় গিয়া চক্ষু চড়কগাছ, মেলায় ঢুকার লাইন টিএসসির সামনে আইসা পড়ছে। ঢোকার যা ইচ্ছা ছিল সব পানি হয়ে গেল কিন্তু সমস্যা হোল সাথে আসা দোস্তের, যে গার্লফ্রেন্ডরে বই গিফ্ট করবে। মেলায় ঢুকে পড়লাম। যে দোস্তের কথা বলতেছি সে আমার "জিগরি" দোস্ত। আমরা সবসময়ই পাগলামী করি কিন্তু দোস্ত যখন গার্লফ্রেন্ডের জন্য উন্মাদের স্টল থেকে দুইটা পোস্টার কিনল তখন আমি প্রশ্ন না কইরা পারলাম না তাদের ব্রেকাপ আসন্ন কিনা। অবশ্য দোস্তের মুখে যখন শুনলাম তার বান্ধবীই ঐ পোস্টার কিনতে কইছে, তখন অবশ্য আর কিছু বলার নাই।

তথ্যকেন্দ্র থেকে জাগৃতি প্রকাশনীর খবর নিয়ে হাজির হলাম, সামনে মোটামোটি ভিড় কিন্তু "অফলাইন" এর কোন কপি দেখতে পারলাম না। ভয়ে ভয়ে সামনের একজন রে জিজ্ঞাস করলাম ব্লগারদের গল্প সংকলন অফলাইন আছে কিনা, সে সোজা সাপ্টা জানায়া দিলো নাই। এখন তো ফ্রেন্ডদের সামনে পুরা ইজ্জতের ফালুদা, কি করবো ভাবতেছিলাম, পাশের আপুরে জিগাইলাম অফলাইন আছে নাকি। সে আছে বলাতে জান ফিরা পাইলাম মনে হোল, একটা কপি নিয়া নিজের নাম খুজা শুরু করলাম, দেখলাম আছে। দাম জিগাইতে আপু কইলো একশো বিশ টাকা। নিজের বই নিজেই টাকা দিয়া কিনুম নাকি ভাবতেছিলাম মনে পড়লো পকেটে পঞ্চাশ টাকা আছে। ভাবলাম বইতে আমার একটা গল্প আছে বললে খাতির টাতির করতে পারে, লজ্জ্বার মাথা খেয়ে বলেই ফেললাম ইয়ে আমার একটা গল্প আছে, এইটা। স্টলের আপুর মুখে হাসি দেখা গেল।

আপু হাসিমুখে বললো, এবারই বইটা বের হয়েছে, নতুন বই, যারা ব্লগ লেখেন তাদের গল্প নিয়ে। ইয়ে, নিজেকে একটা গল্পের "লেখক" পরিচয় দেবার পর উনার এইকথার মানে অবশ্য বের করতে পারলাম না, এরমাঝেই আপু বই এগিয়ে বলছেন নেবেন? অসহায় হয়ে আরেক ফ্রেন্ডের দিকে তাকালাম, ব্যাটা বুঝল আমার পকেট খালি। একশো টাকার নোট একটা দিল, আমি দিলাম বিশ টাকা। নিজের লেখা বই ফ্রেন্ডের কাছ থেকে গিফ্ট পাবার অভিজ্ঞতাই বা আপনাদের কয়জনের হইছে? :P

স্টলের সামনে দাড়ায়ে বন্ধুদের পচানি খাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এর মাঝে আরেক দোস্ত মিলু (এই ব্যাটাও ব্লগ লেখে) আসলো, আমার হাতে বই দেখতে চাইলো। আর যেই ফ্রেন্ড আমারে আমার বই-ই গিফ্ট করলো, সেও চান্স পাইয়া বললো শান্ত বই লিখছে, তুই কিনবি না? বেচারার একশো টাকা গচ্চা গেছে দেইখা সে অন্যদেরও পকেট থেকে পয়সা বাইর কইরা ছাড়বে। মিলু বেচারা ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে বই একটা কিনে ফেললো, আর আমি ভাবতেছিলাম ফ্রেন্ডরাই জীবনের সবচেয়ে নির্মম বাশ গুলা হাসতে হাসতে দেয়।

দিনলিপি এখানেই শেষ। বই এর বিজ্ঞাপনও হয়ে গেল, এইটা নিয়া অবশ্য চিন্তিত। আজ সকালেই ফিউশন ফাইভ "বইমেলায় বই বাণিজ্য : বড়ো-মাঝারি-ছোট লেখকদের হাস্যকর কাণ্ডকারখানা" পোস্ট দিছেন, সেটা যে মারাত্মক সত্য সেটা এখন বুঝতেছি। ফিউশন ফাইভ তার পোস্টে "কনুই দিয়ে" সায়েন্স ফিকশন পয়দা করা রাইটারদের পুরা ব্রাশ ফায়ার কইরা ছাড়ছেন, আর দু:খজনক ব্যাপার হল পুরা গল্প সংকলনে একমাত্র সাই ফাই টা আমারই।




পুনশ্চ: শেষ পোস্ট ছিল ১২ই জানুয়ারী, আজ একমাস হল। অস্তিত্বের জানান দিতে এই আবজাব দিনলিপি!


ছবিসূত্র: Click This Link
৩০টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মতে ঐশীর মত মেয়েদের খারাপ হওয়ার জন্য তাদের অবিভাবক ও এই সমাজ দায়ী আপনার মত কি ?

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:১০


এই সেই ঐশী যে কিনা মালিবাগে নিজ ফ্ল্যাটে পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার হ স্ত্রীকে হত্যা করেছিল ।আর সেই পুলিশ ও তার স্ত্রী ছিল ঐশীর নিজেরিই মাতা পিতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সহব্লগার উনি, অথচ :(

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:২৩

উনি আমাদের সহ ব্লগার শাহানাজ সুলতানা। আমি আগে জানতাম না উনি ব্লগার এবং উনার বই্ও বের হইছে। অথচ সেদিন আমার লেখা উনার লেখার মাঝখানে ঢুকিয়ে পোস্ট দিলেন। ফ্রেন্ড একজন সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি বাংলায় ডাকি প্রভু

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৩:১৬

আমি বাংলায় ডাকি প্রভু
খূঁজি বাংলায় অবতার
বাংলাতে বুঝি মায়ের দরদ
বাংলায় মুক্তি আমার।

বাংলা আমার প্রেম বিরহ
বাংলাতে সূখ উন্মুখ
বাংলাতেই হাসি-কান্না আমার
বাংলায় স্বর্গ সূখ।

বাংলায় করি প্রার্থনা
করি বাংলায় উপবাস,
বাংলায় করি তীর্থ ভ্রমণ
বাংলায় যোগাভ্যাস।

বাংলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রারম্ভ ( পর্ব -২ )

লিখেছেন নীলপরি, ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫১



রাত প্রায় ১টা বাজে! আবার মেসেজ করলো ছেলেটা!রাহুল মিত্তাল । দিদিয়ার শ্বশুর বাড়ির সম্পর্কের বলে, কিছু বলতেও পারেনা তিন্নি! সেই দিদিয়ার বিয়ে থেকে স্টিকি টাইপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্রও চান, বেগম জিয়াকেও চান, এটা কি রাজনীতি?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:১১



মির্জা ফখরুল সাহেবের কথা বলছি; তিনি আদি রাজনীতিবিদ ওলি আহাদের স্মরণসভায় কথা বলছিলেন; তিনি বলেছেন যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই; এ ব্যাপারে উনি সঠিক; তিনি গণতন্ত্র চান, এবং চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×