somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আতঙ্ক : যেভাবে প্রতিদিন যায়

০৮ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক আগে ঝড় হয়েছিল, বিদ্যুৎ নিভে গেছে প্রথম ফুৎকারেই
অন্ধকার আর বীভৎস গরম
ল্যাপটপের দম ফুরোবার আগে হাতড়ে কিছুই না পেয়ে শুধু হতাশার সাথে মল্লযুদ্ধ করি। ঘিঞ্জি ঘিঞ্জি অগুনতি অস্ফুট রাশি নিউরনে কিলবিল করে; লিখবার মতো
একরত্তি ধৈর্য্য অবশিষ্ট নেই আমাদের তল্লাটে
ধুঁকধুঁক বুক বরাবর তাক-করা অদৃশ্য নলের মুখে ঘুমিয়ে পড়লাম
... ঘুম নয়, ঘুমোবার ভান করি
এমন অসময়ে কেউ কি ঘুমোতে পারে?
দোয়া করবেন, এ অস্বস্তিকর গরমের ভেতরও একটা ভালো ঘুম যেন হয়
ভালো একটা স্বপ্ন যেন দেখি
ঘুমে থাকা সময়ে বিদ্যুৎ চলে আসে
নিগূঢ়তম প্রত্যাশা - ঘুম থেকে যেন আবার জেগে উঠি
জীবনের একটুও নিশ্চয়তা নেই
আমাদের বেঁচে থাকবার নিরাপত্তা কে কবে দিয়েছে?

যে ছেলেটা সকালে ঘর থেকে বের হলো, যে মেয়েটা, যে বাবা, জননী, কর্মজীবী শ্রমিকেরা, তাঁরা কেউ জানেন না ঠিক ঠিক গন্তব্যে পৌঁছুবেন কিনা, নীড়ের পাখির মতো ঠিকঠাক ঘরে ফেরা হবে কিনা সন্ধ্যার আগে-ভাগে

দুরন্ত যৌবনে ছেলেকে কি আটকে রাখা যায় ঘরে? মাঝে মাঝে সবান্ধব উধাও হয়ে যায় ওরা, যৌবনের ধর্মের মতো;
চারদিকে গণপিটুনিতে নিরীহ যুবকের হত্যা,
মানুষকে পিটিয়ে মারার দৃশ্য উপভোগ করতে বর্বর মানুষের কৌতূহলী ভিড়,
নিরপরাধী মেধাবী ছাত্রের সারা গায়ে পুলিশের নির্মম প্রহার,
চাপাতির ঘায়ে কুপিয়ে ফালি ফালি করা পা ও পৃষ্ঠদেশ,
মিথ্যা মামলা, দুর্বিষহ হয়রানি;
যেভাবে খাদে পড়ে ৪৪টি তরতাজা কচি প্রাণ ঘাতক ড্রাইভারের হাতে বলি হয়, ট্র্যাকের চাকায় বিকট শব্দে মাথা ফেটে মগজ ছিটকে পড়ে পিচগলা পথে; যেভাবে তাজরীনের ফেব্রিক্সে ১১১ জন ছাই হয়ে যায়, রানার অহমে ছাতু হয়ে যায় শত শত মানুষ, বাংলাদেশের সমগ্র আত্মাকে কাঁদিয়ে শাহিনা অদৃশ্য হয়ে যায় যেভাবে, যেভাবে আল্লাহ্‌র আরস কেঁপে ওঠে, অথচ দুর্বৃত্তরা অবলীলায় আগুনে কোরান পোড়ায়, আর পোড়ায় মানুষ, হায়, আমার ছেলেটি ঘরে ফিরছে না কেন? কাঁপতে থাকে বুক- হয়তো বেপরোয়া পুলিশ কিংবা নিষ্ঠুর পিকেটারের পাশবিক হাতে ধুঁকতে ধুঁকতে মারা গেছে আমার যক্ষের ধন

ছোটো ভাইটা বাড়ির সামনের রাস্তায় চিহ্নিত খুনির হাতে মুহূর্তে ডেডবডি হয়ে গেলো কিনা, কে জানে কখন বোনের কোলে ঘুমিয়ে থাকা শিশুর বুক ঝাঁঝরা করে উড়ে গেলো সন্ত্রাসের বুলেট; মেয়েটা কি স্কুল থেকে ফিরলো? দশ মিনিট দেরি হলেই দুরুদুরু করে বুক- অপহরণ ও গণধর্ষণের পর নৃশংস শিরোচ্ছেদ- কতো স্বাভাবিক নিয়মে ইদানীং এসব অহরহ ঘটে যায়

গৃহিণী ইলেকট্রিক শক খেলো না তো জরাজীর্ণ ঘরে- ছোটো ছেলে ছাদের কিনারে ঘোরাঘুরি করে- অফিসে মন বসাবো কীভাবে যখন এতোসব অলুক্ষণে ভাবনায় সারা সময় ত্রস্ত থাকি- এ বুঝি আরেকটা দুঃসংবাদ নিয়ে কেউ দৌড়ে এলো

- কাল সকালে চাকরিটা থাকবে তো?

এভাবে নিত্য তাড়া করে দুরন্ত এক ষাঁড়, অলঙ্ঘ্য আতঙ্ক যার নাম;
প্রতিটি পঞ্চবর্ষে মহান উৎসবের ভেতর যাঁদেরকে বরণ করি অতিশয় স্বস্তির আশ্বাসে, তাঁরা এ শ্বাপদ ষাঁড়ের শিং ও পা ভেঙে গুঁড়ো করে আমাদের জীবনে এনে দেবেন আরাধ্য সুখ ও শান্তি-
হায়, তাঁরা গালভরা হাসিতে ‘কম’ সেবনের নসিয়ত বয়ান করেন,
চশমার রঙিন কাঁচে দেখেন এ দেশের জীর্ণ ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটও বিলকুল ঠিকঠাক, আইনশৃঙ্খলা আগেকার যে-কোনো সময়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর;
হাজার হাজার প্রাণঘাতের পরও সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাসে বলেন
বেজায় সুষ্ঠুভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা, আর পরীক্ষা ছাড়া ১০ হাজার ঘাতকের হাতে তুলে দেন মানুষ খুনের লাইসেন্স, আরো ২৫ হাজারের জন্য দাবি তোলেন; হায়, তাঁরা নিজেরাই কতো ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম, ভেবে ভেবে অসহায় অন্তরে নিয়ত খুন হতে থাকি!

ভীষণ আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে আরো একটা দিন যদি যায়,
কতোই না ভাগ্য!


২৫ এপ্রিল ২০০৯/ ১৪ আগস্ট ২০১১/০৭ মে ২০১৩
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:১৪
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×