অনেক আগে ঝড় হয়েছিল, বিদ্যুৎ নিভে গেছে প্রথম ফুৎকারেই
অন্ধকার আর বীভৎস গরম
ল্যাপটপের দম ফুরোবার আগে হাতড়ে কিছুই না পেয়ে শুধু হতাশার সাথে মল্লযুদ্ধ করি। ঘিঞ্জি ঘিঞ্জি অগুনতি অস্ফুট রাশি নিউরনে কিলবিল করে; লিখবার মতো
একরত্তি ধৈর্য্য অবশিষ্ট নেই আমাদের তল্লাটে
ধুঁকধুঁক বুক বরাবর তাক-করা অদৃশ্য নলের মুখে ঘুমিয়ে পড়লাম
... ঘুম নয়, ঘুমোবার ভান করি
এমন অসময়ে কেউ কি ঘুমোতে পারে?
দোয়া করবেন, এ অস্বস্তিকর গরমের ভেতরও একটা ভালো ঘুম যেন হয়
ভালো একটা স্বপ্ন যেন দেখি
ঘুমে থাকা সময়ে বিদ্যুৎ চলে আসে
নিগূঢ়তম প্রত্যাশা - ঘুম থেকে যেন আবার জেগে উঠি
জীবনের একটুও নিশ্চয়তা নেই
আমাদের বেঁচে থাকবার নিরাপত্তা কে কবে দিয়েছে?
যে ছেলেটা সকালে ঘর থেকে বের হলো, যে মেয়েটা, যে বাবা, জননী, কর্মজীবী শ্রমিকেরা, তাঁরা কেউ জানেন না ঠিক ঠিক গন্তব্যে পৌঁছুবেন কিনা, নীড়ের পাখির মতো ঠিকঠাক ঘরে ফেরা হবে কিনা সন্ধ্যার আগে-ভাগে
দুরন্ত যৌবনে ছেলেকে কি আটকে রাখা যায় ঘরে? মাঝে মাঝে সবান্ধব উধাও হয়ে যায় ওরা, যৌবনের ধর্মের মতো;
চারদিকে গণপিটুনিতে নিরীহ যুবকের হত্যা,
মানুষকে পিটিয়ে মারার দৃশ্য উপভোগ করতে বর্বর মানুষের কৌতূহলী ভিড়,
নিরপরাধী মেধাবী ছাত্রের সারা গায়ে পুলিশের নির্মম প্রহার,
চাপাতির ঘায়ে কুপিয়ে ফালি ফালি করা পা ও পৃষ্ঠদেশ,
মিথ্যা মামলা, দুর্বিষহ হয়রানি;
যেভাবে খাদে পড়ে ৪৪টি তরতাজা কচি প্রাণ ঘাতক ড্রাইভারের হাতে বলি হয়, ট্র্যাকের চাকায় বিকট শব্দে মাথা ফেটে মগজ ছিটকে পড়ে পিচগলা পথে; যেভাবে তাজরীনের ফেব্রিক্সে ১১১ জন ছাই হয়ে যায়, রানার অহমে ছাতু হয়ে যায় শত শত মানুষ, বাংলাদেশের সমগ্র আত্মাকে কাঁদিয়ে শাহিনা অদৃশ্য হয়ে যায় যেভাবে, যেভাবে আল্লাহ্র আরস কেঁপে ওঠে, অথচ দুর্বৃত্তরা অবলীলায় আগুনে কোরান পোড়ায়, আর পোড়ায় মানুষ, হায়, আমার ছেলেটি ঘরে ফিরছে না কেন? কাঁপতে থাকে বুক- হয়তো বেপরোয়া পুলিশ কিংবা নিষ্ঠুর পিকেটারের পাশবিক হাতে ধুঁকতে ধুঁকতে মারা গেছে আমার যক্ষের ধন
ছোটো ভাইটা বাড়ির সামনের রাস্তায় চিহ্নিত খুনির হাতে মুহূর্তে ডেডবডি হয়ে গেলো কিনা, কে জানে কখন বোনের কোলে ঘুমিয়ে থাকা শিশুর বুক ঝাঁঝরা করে উড়ে গেলো সন্ত্রাসের বুলেট; মেয়েটা কি স্কুল থেকে ফিরলো? দশ মিনিট দেরি হলেই দুরুদুরু করে বুক- অপহরণ ও গণধর্ষণের পর নৃশংস শিরোচ্ছেদ- কতো স্বাভাবিক নিয়মে ইদানীং এসব অহরহ ঘটে যায়
গৃহিণী ইলেকট্রিক শক খেলো না তো জরাজীর্ণ ঘরে- ছোটো ছেলে ছাদের কিনারে ঘোরাঘুরি করে- অফিসে মন বসাবো কীভাবে যখন এতোসব অলুক্ষণে ভাবনায় সারা সময় ত্রস্ত থাকি- এ বুঝি আরেকটা দুঃসংবাদ নিয়ে কেউ দৌড়ে এলো
- কাল সকালে চাকরিটা থাকবে তো?
এভাবে নিত্য তাড়া করে দুরন্ত এক ষাঁড়, অলঙ্ঘ্য আতঙ্ক যার নাম;
প্রতিটি পঞ্চবর্ষে মহান উৎসবের ভেতর যাঁদেরকে বরণ করি অতিশয় স্বস্তির আশ্বাসে, তাঁরা এ শ্বাপদ ষাঁড়ের শিং ও পা ভেঙে গুঁড়ো করে আমাদের জীবনে এনে দেবেন আরাধ্য সুখ ও শান্তি-
হায়, তাঁরা গালভরা হাসিতে ‘কম’ সেবনের নসিয়ত বয়ান করেন,
চশমার রঙিন কাঁচে দেখেন এ দেশের জীর্ণ ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটও বিলকুল ঠিকঠাক, আইনশৃঙ্খলা আগেকার যে-কোনো সময়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর;
হাজার হাজার প্রাণঘাতের পরও সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাসে বলেন
বেজায় সুষ্ঠুভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা, আর পরীক্ষা ছাড়া ১০ হাজার ঘাতকের হাতে তুলে দেন মানুষ খুনের লাইসেন্স, আরো ২৫ হাজারের জন্য দাবি তোলেন; হায়, তাঁরা নিজেরাই কতো ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম, ভেবে ভেবে অসহায় অন্তরে নিয়ত খুন হতে থাকি!
ভীষণ আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে আরো একটা দিন যদি যায়,
কতোই না ভাগ্য!
২৫ এপ্রিল ২০০৯/ ১৪ আগস্ট ২০১১/০৭ মে ২০১৩
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৩ রাত ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


