somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বকবকবকবকবকবক!

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-ঐ যে পিটার প্যানে একটা ছোট্ট কিউট পরী আছেনা? আমার যদি ওইরকম একটা পরী থাকতো!
-কেন, এতগুলা মানুষ-ফ্রেন্ড দিয়ে মন ভরেনা?
-জানিনা, আমার খালি পরী-ফ্রেন্ড নাই কেন, সেজন্যে আফসোস হয়। দেখ, এই ছয় ইঞ্চি ফ্রকটা যখন নতুন সেলাই শিখছিলাম, তখন বানাইছিলাম।পরী-ফ্রেন্ড থাকলে তাকে এই ফ্রকটা গিফট করতাম। কত ডিজাইন করে কত যত্ন করে বানাইছি এটা!
-তোর মাথা গেছে!
-আচ্ছা, হুমায়ূন আহমেদের কোন একটা গল্পের বইয়ে পড়ছিলাম ছোট্ট ছেলেটার জানালায় একটা ভূতের বাচ্ছা এসে গল্প করে ছেলেটার সাথে। ধর, পরী না হোক, একটা ভূতের বাচ্চাও তো আমার কাছে আসতে পারে!
-তুইতো ভূত ভয় পাস!
-ভূতের বাচ্ছা যদি এসে বলে আমি তোমার বন্ধু হব, তাহলে ভয় পাবোনা!
-হুম, তোর কপালে মশা বসেছে! নড়িসনা, জোড়ে থাপ্পড় মার!
-নিজের কপালে নিজে থাপ্পড় মারাই বাকী ছিল! এই জানস, কালকে কী হইছে? আমার আগে ধারনা ছিল মশা খুব চালাক প্রানী। শয়তানগুলার কাছাকাছি এসে দু’হাত তালির ভংগী করলেই কীভাবে যেন ওরা বুঝে যায়; এই দুইহাত তালি দেয়ার জন্যে না, তাকে চ্যাপ্টা করার জন্যে আসতেছে! সাথে সাথে উড়াল মারে! কালকে বিরক্ত হয়ে বিছানার ঝাঁড়ু দিয়ে একটা বাড়ি মারছি, দেখি মশাটা মরে গেছে! হাহাহাহহা! তারপর ঝাঁড়ু দিয়ে বাড়ি মেরে মেরে সাতটা মশা মারছি! গাধাগুলা ঝাঁড়ুর সাথে পরিচিত না আসলে, হাত দিয়ে মারতে গেলে ঠিকই উড়াল মারতো! হিহিহিহিহি! ঝাঁড়ু, জিন্দাবাদ!
-হুম, বুঝলাম। তার আগে বল, তোর কি হয়ছে? বকবক করে মাথা ধরায়ে দিলি!
- বেশী বকবক করতেছি, না? কীযে হইছে, নিজেই বুঝতেছি বেশী বকবকাচ্ছি! আল্লাহকে বলতে হবে আমার গলায় এমন কিছু যাতে হয় আমি যেন তখন খুব দরকার ছাড়া বেশী কথা বলতে না পারি। মনে কর, তখন ডক আমাকে বলবে- আপনি ডেইলি মেক্সিমাম দশটা সেন্টেন্স বলতে পারবেন। গুনে গুনে দশটা বাক্য! ধর, তারপর একদিন যখন আমার বাবু হবে, বাবু যখন কথা বলতে শিখবে, বাবু বলবে- মা, ওটা কী?
আমি বলব- আকাশ।
-আকাশ কালো কেন?
-এখন রাত তো, তাই।
-আর ঐগুলা কী?
-তারা।
-আমি তারা নিব!
-তারা নেয়া যায়না, তারারা আকাশেই থাকে।
-তারা কেন নেয়া যায়না?
-কারন তারা অনেক বড়। আমাদের পৃথিবীর মত বা তারচে’ও বড়।
-পৃথিবী কী অনেক বড় মা?
-হ্যা বাবুনি।
-তুমি আমাকে ‘বাবুনি’ ডাকো কেন?
-আদর করে ডাকি। ছোটদেরকে ‘বাবু’ ডাকে। বাবুর সাথে আদর করে ‘নি’ লাগিয়ে ‘বাবুনি’ ডাকি।
-তুমি যখন ছোট্ট ছিলা তখন তোমাকেও তোমার মা বাবুনি ডাকতো?
সমস্যা এখানেই বুঝলি? কারন তখন যেহেতু আমার অলরেডী দশটা বাক্য বলা হয়ে গেছে, আমি তখন ওকে আর বলতে পারবোনা যে আমাকে মা বাবুনি ডাকতো না কিন্তু সেজো মামা আমাকে টুনটুনি ডাকতো।

-তোর মাথা পুরাটাই গেছে! এরকম আজব রোগের কথা জীবনেও শুনিনাই। কী যে আলতু ফালতু বকছস সেই সকাল থেকে………
-আলতু ফালতু নারে, এই দেখ, টুনটুনি নিয়ে মাথায় একটা ছড়া ঘুরতেছে…… প্রিয় পাখি টুনটুনি/পায়ে পড়ে ঝুনঝুনি/উড়ছে দেখো আকাশে/মেঘ ভাসছে বাতাসে!
-হাহাহাহাহাহ! এটা একটা ছড়া হল? তুই গেছস! আউট, পুরা আউট।
-আচ্ছা, তুই একটা জিনিষ ভেবে দেখছস? এমনিতে বোবাদের খুব কষ্ট। কিন্তু সবচে বেশী কষ্ট মনে হয় বোবা মা’দের, ঠিক না?
-জানিনা। তুই আলতু ফালতু কথা এখন বন্ধ করবি কিনা বল! আমার মাথা ধরে গেছে!


(ধমক গলধকরণ করিয়া আলতু ফালতু বকবকানির এখানেই সমাপ্তি)।




সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৫৬
৩১টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×