-ঐ যে পিটার প্যানে একটা ছোট্ট কিউট পরী আছেনা? আমার যদি ওইরকম একটা পরী থাকতো!
-কেন, এতগুলা মানুষ-ফ্রেন্ড দিয়ে মন ভরেনা?
-জানিনা, আমার খালি পরী-ফ্রেন্ড নাই কেন, সেজন্যে আফসোস হয়। দেখ, এই ছয় ইঞ্চি ফ্রকটা যখন নতুন সেলাই শিখছিলাম, তখন বানাইছিলাম।পরী-ফ্রেন্ড থাকলে তাকে এই ফ্রকটা গিফট করতাম। কত ডিজাইন করে কত যত্ন করে বানাইছি এটা!
-তোর মাথা গেছে!
-আচ্ছা, হুমায়ূন আহমেদের কোন একটা গল্পের বইয়ে পড়ছিলাম ছোট্ট ছেলেটার জানালায় একটা ভূতের বাচ্ছা এসে গল্প করে ছেলেটার সাথে। ধর, পরী না হোক, একটা ভূতের বাচ্চাও তো আমার কাছে আসতে পারে!
-তুইতো ভূত ভয় পাস!
-ভূতের বাচ্ছা যদি এসে বলে আমি তোমার বন্ধু হব, তাহলে ভয় পাবোনা!
-হুম, তোর কপালে মশা বসেছে! নড়িসনা, জোড়ে থাপ্পড় মার!
-নিজের কপালে নিজে থাপ্পড় মারাই বাকী ছিল! এই জানস, কালকে কী হইছে? আমার আগে ধারনা ছিল মশা খুব চালাক প্রানী। শয়তানগুলার কাছাকাছি এসে দু’হাত তালির ভংগী করলেই কীভাবে যেন ওরা বুঝে যায়; এই দুইহাত তালি দেয়ার জন্যে না, তাকে চ্যাপ্টা করার জন্যে আসতেছে! সাথে সাথে উড়াল মারে! কালকে বিরক্ত হয়ে বিছানার ঝাঁড়ু দিয়ে একটা বাড়ি মারছি, দেখি মশাটা মরে গেছে! হাহাহাহহা! তারপর ঝাঁড়ু দিয়ে বাড়ি মেরে মেরে সাতটা মশা মারছি! গাধাগুলা ঝাঁড়ুর সাথে পরিচিত না আসলে, হাত দিয়ে মারতে গেলে ঠিকই উড়াল মারতো! হিহিহিহিহি! ঝাঁড়ু, জিন্দাবাদ!
-হুম, বুঝলাম। তার আগে বল, তোর কি হয়ছে? বকবক করে মাথা ধরায়ে দিলি!
- বেশী বকবক করতেছি, না? কীযে হইছে, নিজেই বুঝতেছি বেশী বকবকাচ্ছি! আল্লাহকে বলতে হবে আমার গলায় এমন কিছু যাতে হয় আমি যেন তখন খুব দরকার ছাড়া বেশী কথা বলতে না পারি। মনে কর, তখন ডক আমাকে বলবে- আপনি ডেইলি মেক্সিমাম দশটা সেন্টেন্স বলতে পারবেন। গুনে গুনে দশটা বাক্য! ধর, তারপর একদিন যখন আমার বাবু হবে, বাবু যখন কথা বলতে শিখবে, বাবু বলবে- মা, ওটা কী?
আমি বলব- আকাশ।
-আকাশ কালো কেন?
-এখন রাত তো, তাই।
-আর ঐগুলা কী?
-তারা।
-আমি তারা নিব!
-তারা নেয়া যায়না, তারারা আকাশেই থাকে।
-তারা কেন নেয়া যায়না?
-কারন তারা অনেক বড়। আমাদের পৃথিবীর মত বা তারচে’ও বড়।
-পৃথিবী কী অনেক বড় মা?
-হ্যা বাবুনি।
-তুমি আমাকে ‘বাবুনি’ ডাকো কেন?
-আদর করে ডাকি। ছোটদেরকে ‘বাবু’ ডাকে। বাবুর সাথে আদর করে ‘নি’ লাগিয়ে ‘বাবুনি’ ডাকি।
-তুমি যখন ছোট্ট ছিলা তখন তোমাকেও তোমার মা বাবুনি ডাকতো?
সমস্যা এখানেই বুঝলি? কারন তখন যেহেতু আমার অলরেডী দশটা বাক্য বলা হয়ে গেছে, আমি তখন ওকে আর বলতে পারবোনা যে আমাকে মা বাবুনি ডাকতো না কিন্তু সেজো মামা আমাকে টুনটুনি ডাকতো।
-তোর মাথা পুরাটাই গেছে! এরকম আজব রোগের কথা জীবনেও শুনিনাই। কী যে আলতু ফালতু বকছস সেই সকাল থেকে………
-আলতু ফালতু নারে, এই দেখ, টুনটুনি নিয়ে মাথায় একটা ছড়া ঘুরতেছে…… প্রিয় পাখি টুনটুনি/পায়ে পড়ে ঝুনঝুনি/উড়ছে দেখো আকাশে/মেঘ ভাসছে বাতাসে!
-হাহাহাহাহাহ! এটা একটা ছড়া হল? তুই গেছস! আউট, পুরা আউট।
-আচ্ছা, তুই একটা জিনিষ ভেবে দেখছস? এমনিতে বোবাদের খুব কষ্ট। কিন্তু সবচে বেশী কষ্ট মনে হয় বোবা মা’দের, ঠিক না?
-জানিনা। তুই আলতু ফালতু কথা এখন বন্ধ করবি কিনা বল! আমার মাথা ধরে গেছে!
(ধমক গলধকরণ করিয়া আলতু ফালতু বকবকানির এখানেই সমাপ্তি)।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


