somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কয় গজে এক দূরত্ব?

১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


..............................
তোমার আর আমার মাঝখানের দুরত্ব এখন কতটুকু হবে? এই গজ ফিতাটা দিয়ে মাপলে? আম্মুকে ছোটবেলায় দেখেছি হাত দিয়ে শাড়ি মাপতে। দুই হাতে এক গজ।একটা শাড়ি সাধারনত বারো হাত হয়। আমি যদি দুই হাত দিয়ে দিয়ে মেপে মেপে যাই ঠিক কতদূর গেলে তোমাকে ছুঁতে পারবো?

এখান থেকে আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা। একবার মধ্যদুপুরে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হল রাস্তাটা উঁচু হচ্ছে। হতে হতে একসময় মনে হল এটা আর রাস্তা নেই, হয়ে গেছে আকাশে উঠার সিঁড়ি। আমার তখন খুব তেষ্টা পেলো। ক্লান্ত লাগলো। আকাশের সিঁড়ি বাওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়, তাই পাশে উঁচু মত একটা জায়গায় বসে পড়লাম। পাশ দিয়ে দু’টো ছেলে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল। ওরা বলল- ‘রাস্তায় বসে আছেন যে?’ … এটা কি রাস্তা?! তবে যে আমার কাছে মনে হয়েছিল এটা আকাশে উঠার সিঁড়ি?

নিজের ভুল দেখে অবশ্য আমার আর অবাক লাগেনা। কারন আমার হিসেবে বরাবরই গড়মিল থাকে। তাই এই সহজ হিসাবটা বরং তুমিই করে দাও। ঠিক কয় গজ? যত দুরত্বই হোক, আমি ঠিক পেরিয়ে যাবো একসময়। তোমাকে ছুঁতে হবে যে! ঐ যে টাইটানিকে দেখোনি? ওরা দু’জন কেমন পাখির মত জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে হাতদু’টো ডানার মত ছড়িয়ে দিয়েছিল? চট্রগ্রামের মোমিন রোড মোড় থেকে সেন্টমেরিসের রাস্তাটায় রিকশা যখন উপর থেকে গড়িয়ে নামে, আমরা না হয় তখন রিকশার ডেকে দাঁড়িয়ে দু’হাত অমন পাখির মত করে দিয়ে উড়ে যাব…… সবাই তাকিয়ে থাকবে? তাতে কী? তুমি কি সবার তাকানোকে ভয় পাচ্ছো? আচ্ছা, তোমার আপত্তি থাকলে বাদ। কিন্তু এখন তোমার আমার মাঝখানের এই রাস্তাটাকে কী মনে হচ্ছে জানো? ঐ যে ইংলিশ মুভিতে দেখায় না? বরফ পড়ে সাদা হয়ে থাকে পুরো রাস্তা। নায়িকা বিহবল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার একপ্রান্তে। তারপর কুয়াশার মত বরফের উপরের সাদাটে ধোঁয়াশা পর্দা ভেদ করে নায়ক আসে আস্তে আস্তে। নায়িকাটা কয়েক পা হাঁটে দ্বিধান্বিত। তারপর দৌঁড় মারে। একদম হুশবুশ ছাড়া দৌঁও-ও-ও-ড়। আমি কী অমন একটা দৌঁড় দিব? নাহ বাদ দাও। ওভাবে দৌঁড় দিলেও সেইতো সবাই তাকিয়ে থাকবে। আমি না হয় তাই হেঁটে হেঁটেই আসব।

হাঁটতে হাঁটতে দুপুর হয়ে যাবে? তাতে কী? রোদ কি আমাকে খেয়ে ফেলবে? ফ্রক পড়ার কালে কত দুপুর আমি আর সেতু স্কুল থেকে হেঁটে হেঁটে লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে বাসায় ফিরেছি। দু’জনের টিফিনের দুই’টাকা মিলিয়ে একটা আইস্ক্রিম কিনতাম। অর্ধেক ও খেতো অর্ধেক আমি।……এখন অবশ্য আমি ঠিক আইস্ক্রিম খেতে খেতে আসলে মানাবেনা। যদিও আমার কিন্তু খুব মন চাইছে। আইস্ক্রিমের সাথে মাথার চুলের খোঁপাটা খুলে দুই বেনী করে নিলে মন্দ হয়না। বালিকা আইস্ক্রীম খাইতে খাইতে তাহার মাথার দুই বেনী দুলাইয়া দুলাইয়া স্কুল হইতে ঘরে ফিরিয়া চলিল। না হয় নি, আমি তো স্কুল থেকে ঘরে যাবোনা। ঘর থেকে তোমার কাছে যাবো… কিন্তু তোমার কাছে এসব নাটক ভালো লাগবেনা আমি জানি। তাই থাক। আমি বরং খালি হাতেই আসবো। বেণীর বদলে খোঁপা করেই আসবো। আর যখন তোমাকে ছুঁয়ে ফেলবো তখন ঐ মিউজিক এন্ড লিরিক্স’র নায়ক নায়িকার মত নিজেরা গান আর সুর বাঁধতে বাঁধতে নাঁচবো। তুমি নাঁচতে জানোনা? আমিও তো জানিনা! কিন্তু জানো, আমার খুব শখ নাঁচার। ঠিক ঐভাবে তোমার কাঁধে হাত রেখে। তুমি আমার কোমড় জড়িয়ে ধরবে। সবচে ভাল হয় স্পট লাইটের বদলে তখন যদি আমাদের দু’জনের উপর গোল হয়ে জোছনা পড়ে। আশে পাশে দল বেঁধে কিছু জোনাকি উড়লে আমি মাইন্ড করবনা।……… সম্ভব না? আমিতো জানি সম্ভব না। তবে ছোটবেলায় রহিমা আমাকে অনেক জোনাকী ধরে দিত। ধরে ধরে দাদুর কাছ থেকে চুরি করা একটা বয়ামে ভরে দিত। অনেকগুলো ধরা হলে আমরা চুপি চুপি আধো অন্ধকার উঠানে বেড়িয়ে যেতাম। ঠিক উঠানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বয়ামের মুখটা খুলে দিতাম। আর হু হু করে জোনাকীরা উদ্ভ্রান্তের মত একসাথে বের হয়ে দিশা না পেয়ে আমাদেরকে ঘিরেই উড়তো কিছুক্ষন। এই ধরো বড়জোড় দশ বা বারো সেকেন্ড। অথচ সেই দশ সেকেন্ড আমার কাছে এখনো এক জীবন। ঐ এক জীবনে আমি একলাই নায়িকা। নিজেকে মনে হত জোনাকি-বালিকা। আমাকে ঘিরে জোনাকীরা উড়ছে! অন্ধকার উঠান, রহস্যময় রাত, আর জোনাকীগুলো আমার কাছে মোহনীয় লাগতো।...…

জোনাকী বালিকা থেকে নগর বালিকা হওয়াটা আসলে বেশ কঠিন। অথবা হতে পারে এটাও এক ধরনের কঠিন দেখানোর নাটক। নাটক হোক আর যাই হোক, আমি কিন্তু চেষ্টার ত্রুটি করিনি। এই দেখো, ঠিক নগর-বালিকাদের মতই ভদ্রস্থ হয়েই আছি। অন্তত চেষ্টা তো করছি। তারপরো কেন এই ভদ্রস্থ আমি তোমার কাছে পৌঁছুতে পারিনা?

কুছ কুছ হোতা হ্যায় তে কাজলকে দেখেছো ঐ যে খেলার মাঠে রানী মূখার্জীকে দেখে ছেলেমী বাদ দিয়ে রমনীয় ভংগিতে বসার যারপরনাই চেষ্টা করে? যখন আমি ভদ্রস্থ হই, যখন আমি বুঝি এবার আমার চুপ থাকা উচিত, তখন আমার ঐ সিনটার কথা মনে পড়ে। সমস্যা হল আশে পাশের কোনো রানী মূখার্জীকেই আমার পছন্দ নয়। আচ্ছা কাজল কাজলই থাকুক না। ওকে কেন ঐ মুভির শেষে গিয়ে রানী মূখার্জী হয়ে যেতে হল? আমরা সবাই আসলে শেষ দৃশ্যে বদলে যাই। না বদলালে চলবে নাকি? এক সময় মনে হত না চলুক। না চললে বসে থাকবো। কিন্তু এখন মনে হয়, না চললে এই সামনের রাস্তাটা পেরিয়ে তোমার কাছে যাবো কী করে? আর তোমার কাছে না গেলে তো আমার অতগুলো ইচ্ছে মাঠে মারা যাবে! তা কি হয়?
আচ্ছা, এই শেষবার। প্রমিজ। মেপে দাওনা প্লীজ!
২৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×