গত সপ্তাহের চমকপ্রদ ঘটনা বিলাতের তের বছর বয়সের ছোট বাচ্চা ‘এলফি প্যাটেন’ বাচ্চার বাবা হয়েছে এবং বাচ্চার মা চৌদ্দ বছর বয়সী তার গার্লফ্রেন্ড! যে মেয়ের সাথে আবার আরো দুইজন তের/চৌদ্দ বছর বয়সী ছেলে সেক্স করেছে বলে দাবী তুলেছে। (Click This Link)বিতর্ক চলছে- বাচ্চার বাবা এই তিন ছেলে থেকে আসলে কে? বিতর্ক চলছে- তের বছর বয়সে ‘এলফি’র পক্ষে আসলে বাবা হওয়া কতটুকু সম্ভব? বিতর্ক চলছে- যে পত্রিকা এই খবর পাবলিশড করেছে তারা এই খবরের জন্যে টাকা দিয়ে আসলে অপরাধ করেছে কিনা? বিতর্ক চলছে- ‘এলফি’ আর তার গার্লফ্রেন্ডের ভবিষ্যত জীবনে এই বাচ্চা কেমন প্রভাব ফেলবে? মর্নিং শো তে দেখি দুই উপস্থাপক উপস্থাপিকা, লেইট নাইট শো তে বিখ্যাত প্রখ্যাত জ্ঞানী-গুনীরা, প্রতিটা পত্রিকার খবরে এই নিয়েই বিতর্ক। এবং সবাই এই খবরে খুব আনন্দিত। পশ্চিমের মানুষেরা বড় আল্ট্রামর্ডান। তাই ওদের বাচ্চারা জন্মের পর শরীর পুরোপুরি গঠন হওয়ার আগেই গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ডের সাথে শু’তে যায়।
এই রবিবারে অস্ট্রেলিয়ার ‘সো ইউ থিঙ্ক ইউ ক্যান ড্যান্স’ অনুষ্ঠানে সব ড্যান্সারদের বাবা-মা’র সাক্ষাৎকার দেখাচ্ছিলো। ‘ড্যানি’ নামের ছেলে ড্যান্সার দেখি তার নানা-নানীকে নিয়ে আসছে। ঘটনা কি শুনতে গিয়ে দেখি তার যখন জন্ম হয় তখন তার মা’র বয়স মাত্র চৌদ্দ বছর!! যার কারনে মূলত নানা-নানীর কাছেই সে বড় হয়েছে এবং নানীকেই সে একসময় ‘মা’ ডাকতো! (http://dance.ten.com.au/danny-profile.htm) গুড গুড! চৌদ্দ বছরে মা হওয়া এমন কী আর ব্যাপার, কী বলেন?
কিছুদিন আগে এক সাড়া জাগানো মুভি রিলিজড হয়েছিলো। নাম- ‘জুনো’। ভিডিও শপে তখন মুভি আনতে গিয়ে দেখেছিলাম ‘জুনো’ আসার আগেই যতকপি আসবে সব প্রি-বুকড হয়ে আছে। কারন কী জিজ্ঞেস করতে ভিডিও শপের সুন্দরী ললনা হেসে হেসে বললো ‘এক্স্যুয়্যালী, ইউ নো, ইটস অল এবাউট আস, উই স্কুল-গোয়ারস…ইট হ্যাপেন্স… সো এভিরিওয়ান জাস্ট ওয়ান্না সি ইট, দ্যাটস হোয়াই…’ সুন্দরীর ঠোঁট বাঁকিয়ে, ভ্রূ’র রিং একোন ওকোন করে যা বললো তার সার্মর্ম বুঝলাম- জুনো এখানকার ছেলেমেয়েদের নিত্যদিনের কাহিনী। (http://www.3dmonic.com/35/juno/) এই লিঙ্কে দেখুন পনের বছরের মেয়ে জুনো কেমন বিশাল পেট বাগিয়ে বসে আছে! এখানেও বিতর্ক বাচ্চাটাকে যে ফ্যামিলিতে বড় করার জন্যে দিবে সেই ফ্যামিলি আসলে কতটুকু ভালো করে দেখভাল করতে পারবে? শেষ পর্যন্ত সে ভালভাবে বাচ্চাটাকে ডেলিভারী দিতে পারবে তো? সে কি বাচ্চা হওয়ার পর আবার তার বয়ফ্রেন্ডের কাছে ফিরে যাবে? এই লিঙ্কের একদম নীচের দিকে দেখুন, ক্যালি নামের এক মেয়ের কমেন্ট- “This movie totally rocked. I’m glad that this movie does have some truth when it comes to High School life.”
ওয়ার্ল্ড ফেমাস মডেল ‘টায়রা’র টায়রা-শো’র পক্ষ থেকে দশ হাজার বালিকা এবং নব্য তরুনীদের উপর সার্ভে চালিয়ে দেখা গিয়েছে অন-এভারেজ পনেরো বছর বয়সের মধ্যেই মেয়েরা তাদের ভার্জিনিটি পুরোপুরি শেষ করে ফেলে। এদের মধ্যে আবার চৌদ্দ পার্সেন্ট প্রায় সেক্স করে স্কুলেই! এবং প্রতি পাঁচ জন মেয়ের মধ্যে প্রতি একজনের টীন-মাম হওয়ার প্ল্যান। (Click This Link) আপনারা আবার ভেবে বসবেন না টায়রা ম্যাডাম চাইল্ড-সেক্স এন্ড প্রেগন্যান্সি’র বিরুদ্ধে নেমেছেন। না না, মোটেও তা না। তার অন্যতম কনসার্ড হলো- এই টীন মেয়েরা সেক্স করছে, সে ভালো কথা, কিন্তু বাছারা আনপ্রোটেক্টেড সেক্স করিওনা!
এই হলো বিতর্কের নমুনা। এতে অবশ্য আমার কোনো মাথাব্যাথা নেই। মাথাব্যাথাটা তখনি হয় যখন এরাই তৃতীয় বিশ্বের কথা উঠলেই ‘বাল্য বিবাহ’, ‘টীন প্রেগন্যান্সি’ নিয়ে চিৎকার শুরু করে। নাক সিঁটকাতে থাকে। এ যেনো নিজের ঘরে আগুন লাগছে তার কোনো খবর নাই, পরের ঘরে যত পোদ্দারী! আসলে, তৃতীয় বিশ্বের টিন-মাম’রা বিয়ে করেই যত ভুল করে, বিয়ে না করেই ওরা যদি উন্নত বিশ্বের মত বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড হিসেবে প্রেগন্যান্ট হতো তাহলে আর এরা ওসব নিয়ে কথা বলতোনা। বিয়ে করেই যত মুশকিল। নতুবা, উন্নত বিশ্বে চাইল্ড সেক্স নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নাই, উন্নয়নশীল বিশ্বের চাইল্ড-ম্যারেজ নিয়ে এত কথা হয় কেনো? এ যে- যত দোষ নন্দঘোষরে বাওয়া!
(চাইল্ড সেক্স হোক বা চাইল্ড ম্যারেজ, সচেতন মানুষদের এর বিপক্ষে শক্তভাবে দাঁড়ানো মানবিক কর্তব্য।)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


