প্রথমেই আমি সকলকে সতর্ক করে দিতে চাই যে , নামাজ সম্পর্কে আমার এই বক্তব্য, সম্পুর্নরুপে আমার নিজস্ব। কেউ যদি আমার লেখা পড়ে বিভ্রান্ত হন ,তবে তা নিজ দায়িত্বে হবেন, আমি কারো দায়িত্ব নিতে রাজি নই।
নামাজ ইসলামের একটি প্রধান স্তম্ভ। কোরানে বিভিন্ন আয়াতের (১১:১১৪, ১৭:৭৮, ২০:১৪, ২৯:৪৫, ৩১:১৭) মাধ্যমে নামাজ কায়েম করতে বলা হয়েছে। যদিও কোরান সবিস্তারে বর্ণীত গ্রন্থ , যা পথপ্রদর্শক ও মুমিনদের জন্য রহমত (৭:৫২)। কিন্তু কোরানে বলা হয়নি বা বলা হলেও আমরা এখনো বুঝতে অক্ষম , কোন নামাজ কত রাকাত , বা সঠিক ভাবে নামাজ কি ভাবে পড়তে হবে। এর কারন আল্লাহ্ই ভালো বলতে পারবেন।
তবে একটা বিষয় লক্ষনীয় , কোরান বা হাদীসে না থাকলেও সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে ফরজ নামাজের রাকাতের সংখ্যা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই , আর নামাজ পড়ার ধরনের মধ্যেও যে পার্থক্য , তা খুবই সামান্য। এর থেকে কি এটাই প্রতীয়মান হয়না যে , আল্লাহ নামাজকে মানুষের পালনের মাধ্যমে সংরক্ষন করছেন বা সংরক্ষন করবেন কেয়ামত পর্যন্ত, যে কারনে কোরানে নামাজ কত রাকাত , বা সঠিক ভাবে নামাজ কি ভাবে পড়তে হবে , তা লেখেন নি। খেয়াল করুন , ফরজ নামাজে কোন বিভক্তি নেই , ইচ্ছা করলেই কেউ ফরজ নামাজের সংখ্যা বা রাকাত সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারেনা , বা যদি করেও কেউ মানবে না।
নামাজ শুরু হয়েছে হজরত ইব্রাহিমের সময় থেকে (২২:৭৮; ২১:৭২,৭৩)। এরপর থেকে প্রতিটি নবী ও তার উম্মতদের উপর নামাজ ফরজ ছিল। ইহুদিদের নামাজ পড়তে বলা হয়েছে (২:১২৫), হজরত যীশুকে আদেশ করা হয়েছে নামাজ পড়তে (১৯:৩১) , মেরীকে সিজদাহ ও রুকু করতে বলা হয়েছে (৩:৪৩)। এমনকি হজরত মুহাম্মদের সময়কার কাফেররা ও নামাজ পড়ত। কোরানে বলা হয়েছে "আর কাবার নিকটে তাদের নামাজ বলতে শিস দেয়া আর তালি বাজানো ছাড়া অন্য কিছুই ছিলনা (৮:৩৫)।" সুতরাং দেখা যাচ্ছে , নামাজ এখনকার মুসলমানদের জন্য অনন্যকোন আচারানুষ্ঠান নয়। হজরত ইব্রাহিমের সময় থেকেই নামাজ প্রচলিত আছে।
নামাজের উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহকে স্মরণ করা (২০:১৪)। সুরা ফাতেহার ও পূর্বে নাযিলকৃত সুরা মুয্যাম্মিলের(৭৩) ২০ নং আয়াতে নামাজ কায়েম করতে বলা হয়েছে ও কোরানের যতটুকু সহজ ততটুকুই আবৃত্তি করতে বলা হয়েছে। সুরা নিসা(৪) আয়াত ১০২ যদি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যুদ্ধের সময় নামাজের ধরনই আলাদা। ইহুদি ও খৃষ্টানদের বংশধররা নামাজ হারিয়ে ফেলেছিল বা পরিবর্তন করে ফেলেছিল (১৯:৫৯)। এগুলো পর্যালোচনা করলে , মনে হওয়া স্বাভাবিক যে নামাজ পড়ার কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই এবং শিস দেয়া, তালি বাজানো , নাচ বা গান করা ছাড়া আর যেকোন ভাবে নামাজ পড়ে আল্লাহকে স্মরন করা সিদ্ধ। তবে একটা কথা মনে রাখা দরকার যেহেতু নুতন নিয়ম (বিদ্য়াত) চালু করা নিষিদ্ধ , তাই নামাজের নুতন নুতন নিয়ম চালু করাও নিষিদ্ধ। সকলের উচিৎ প্রচলিত নিয়মেই নামাজ পড়া।
কোরানে বর্নীত আল্লাহ্র আদেশ ও নিষেধ বিনা তর্ক বা পর্যালোচনায় পালন করা সকল মুসলমানের জন্য অবশ্য করণীয়। কোরানের পরিস্কার নির্দেশ অনুযায়ী যেকোন বহুল প্রচলিত আচারানুষ্ঠান বা ধারনা বাদ দেয়া এবং নুতন নিয়ম চালু করা সকল মুসলমানের জন্য অবশ্য করণীয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০০৯ রাত ১০:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


