সাধারনত ২ ধরনের নাস্তিকের দেখা পাওয়া যায়। দৃঢ় নাস্তিক ও দুর্বল নাস্তিক। দৃঢ় নাস্তিকেরা দৃঢ় ভাবেই বিশ্বাস করে যে , আল্লাহ ভগবান গড বলতে কিছু নেই । অন্যদিকে দুর্বল নাস্তিকেরা দোদুল্যমনায় ভোগে - থাকলেও থাকতে পারে। তবে দুর্বল নাস্তিকেরা ও ধর্মীয় অনুশাষনের বাইরেই জীবনযাপন করে।
দৃঢ় নাস্তিক্যের সাথে বাস্তবতার মিল কতটুকু?
ধরুন আপনাকে কেউ প্রশ্ন করলো, " সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব আছে কি?"
এর ৩ ধরনের উত্তর হতে পারে ।
১) আমি নিশ্চিত ভাবেই জানি সৃষ্টিকর্তা আছেন। (বিশ্বাসী)
২) আমি জানি না সৃষ্টিকর্তা আছেন কি নেই। (দুর্বল নাস্তিক/দুর্বল বিশ্বাসী)
৩) আমি নিশ্চিত ভাবেই জানি সৃষ্টিকর্তা নেই। (দৃঢ় নাস্তিক )
বিশ্বাসী হওয়ার জন্য আপনাকে সবকিছু জানার প্রয়োজন নেই । নিজের জীবনের কোন ঘটনা বা স্রষ্টার সৃষ্টির কোন নিদর্শনে মুগ্ধ হয়ে আপনি বিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারেন।
দুর্বল নাস্তিক বা দুর্বল বিশ্বাসীর জন্যেও সবকিছু জানার প্রয়োজন নেই , কারন সেতো নিজেই স্বীকার করছে , সে সবকিছু জানে না।
কিন্ত দৃঢ় নাস্তিকের জন্য সবকিছু জানা অবশ্য প্রয়োজন। কারন তার যতটুকু জ্ঞান আছে তাতে না হয় তিনি নিশ্চত হলেন সৃষ্টিকর্তা নেই , কিন্তু বিজ্ঞান , মেটাফিজিক্স বা দর্শনের যে শাখায় তার জ্ঞান নেই , সেখানে যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমান থেকে থাকে , তাহলে তিনি শুধু নিজেকেই প্রতারিত করবেন না , যাদেরকে তিনি প্রভাবিত করেছেন , তারাও প্রতারিত হবেন। সুতরাং নাস্তিকের জ্ঞানের সীমার বাইরেও সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নেই , এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সবকিছু জানা অবশ্য প্রয়োজন।
বাস্তবতা কি বলে? কারো পক্ষে সবকিছু জানা সম্ভব? সবকিছুর অর্ধেক জানা সম্ভব? সবকিছুর ১% জানা সম্ভব? তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম আপনি ১% জানেন। থমাস এডিসন দৃঢ়তার সাথে ঘোষনা দিয়েছিলেন, "আমরা সকল জিনিষের লক্ষ ভাগের এক ভাগ ও জানি না"। তারপরেও ধরে নিলাম আপনি সবকিছুর ১ % জানেন, বাকি ৯৯% জ্ঞানের ভিতরে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমান নেই , এ ব্যপারে আপনি কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন? যদি আপনি সৎ হোন , তবে নিশ্চয় স্বীকার করবেন , এটাই বাস্তবতা। সত্যি কথা হলো , আপনার যেহেতু সর্ব বিষয়ে জ্ঞান নেই , আপনি নিশ্চিত হতে পারেন না , সৃষ্টিকর্তা আছেন কি নেই। সুতরাং দৃঢ় নাস্তিকের দাবী -" আমি নিশ্চিত ভাবেই জানি সৃষ্টিকর্তা নেই" সর্বৈব মিথ্যা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


