সামনেই রমজান মাস । মসজিদে মসজিদে খতমে তারাবির জন্য শুরু হয়ে গেছে হাফিজ নিয়োগের তোড়জোড়। এটা একটা প্রেস্টিজের ব্যাপার। ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি তারাবি না পড়লে রোজা হয় না। আমাদের বাড়িতে বলত , তারাবি ছাড়া যে রোজা , সেটা হিন্দুর উপোষের সমতুল্য।
রোজা রাখা ফরজ। কিন্তু তারাবি? আমরা কয়জন জানি যে তারাবির নামাজ একটা বিদাহ (নুতন আবিস্কার), যা নবীর জীবদ্দশায় আমরা এখন যেভাবে পড়ি সেভাবে পড়া হতো না।
২য় খলিফা ওমর তারাবির নামাজকে বলেছিলেন বিদাহ এ হাসানাহ বা ভাল বিদাহ। তারাবি নামাজের শুরুই হয় ওমরের সময়েই ১৪ হিজরি সালে। রমজান মাসের এক রাতে ওমর মসজিদে নবুবীতে যেয়ে দেখেন মুসল্লিরা যার যার মতো রাতের নামাজ পড়ছেন অতিরিক্ত সওয়াবের আশায়। তার কাছে এটা ভালো লাগলো না। তিনি সকলকে সারিবদ্ধ হিসাবে দাড়াতে বল্লেন এবং ওবায় ইবনে কা'ব কে ইমাম ঠিক করে দিয়ে তার পিছনে জামাতে নামাজ পড়তে বলে চলে গেলেন। কয়েকদিন পরে এসে ওমর মুসল্লিদের ইমামের পিছনে জামাতে নামাজ পড়তে দেখে বল্লেন এটা একটা বিদাহ , কিন্তু ভালো বিদাহ। সেই থেকে বর্তমানে প্রচলিত তারাবির শুরু। সুত্র-সহী বুখারি , ভল্যুম ১ পৃষ্ঠা ২৩৩। সহী মুসলিম ভল্যুম ১ পৃষ্ঠা ২৮৩।
তারাবির নামাজ কয় রাকাত? এটা নিয়ে ও মতভেদ। কেউ ৮ রাকাত পড়েন , কেউ ২০ রাকাত , আবার কোন কোন মাযহাবীরা ৪০ রাকাত। এর স্বপক্ষে কোন হাদীস নেই। নিকটতম যে হাদীস আয়েশার বর্ণনায় পাওয়া যায় তা হলো রসূল সারা বছর ই (রমজান মাসের কোন উল্লেখ নেই) রাতে ৮রাকাত অতিরিক্ত নামাজ পড়তেন , সেই হিসাবে অনেকে মনে করেন তারাবি ৮ রাকাত। কোরান খতমএর ব্যপারটা মনে হয় অতি উৎসাহীদের অবদান।
রোজা রাখা ফরজ। তারাবি পড়া হয়ে ওঠেনি বলে যেন কেউ রোজা রাখা থেকে বিরত না থাকেন , এই আবেদন দিয়েই শেষ করছি। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়েত করুন , এই দো'আ করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


