somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফ্লাইওভার নির্মিত হলেই কি যানজট নিরসন হবে?

২৩ শে জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এগুলো আমাদের দেশে নতুন নির্মাণ হচ্ছে, যদিও উন্নত দেশে বহু আগেই এগুলো নির্মাণ করে ফেলেছে। ১৮৪২ সালে ইংল্যান্ডের নরউড জংশন রেলওয়ে ষ্টেশনে বিশ্বের প্রথম ফ্লাইওভারটি নির্মিত হয়। পর্যায়ক্রমে ডানে / বামে যাওয়া ও যোগাযোগের সুবিধার জন্য যুক্ত করা হয় একাধিক র‌্যাম্প ও ফ্লাইওভার গঠন প্রণালীতে যুক্ত করা হয় বিভিন্ন ধরনের কৌশল।

আর আমাদের দেশে সামান্য সেই রেল লাইনের উপরে কয়টি ওভারপাস বা ফ্লাইওভার এ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে? হয়ত সঠিক পরিকল্পনা বা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে না পারায় অথবা ফ্লাইওভার এর সাথে সাংঘর্ষিক হবে বলে হয়ত তা করা হয়নি।

উন্নত দেশের সাথে আমরা অনেকটা পিছিয়ে রয়েছি বলেই যানজট নিরসনে এই ২/৪টি ফাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে যানজট নিরসন হয়ে যাচ্ছে। যদিও উকিপিডিয়ার তথ্যে দেওয়া নেই ফ্লাইওভার যানজটের সমাধান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বড় বড় ও পুরোনো শহর গুলোতে নতুন রাস্তা তৈরী করা কষ্টসাধ্য, কারণ প্রচুর পরিমাণ স্থাপনা নির্মিত হয়ে যাওয়ায় সেগুলো উচ্ছেদ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান যানবাহনের সংকুলান করার জন্য বাড়তি রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে ফ্লাইওভার একটি ভালো বিকল্প। তাই আমার মতে বর্তমান কৌশলের এই ফাইওভার দিয়ে হয়ত অনেকটুকু যানজট এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু প্রকৃতভাবে যানজট নিরসন সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশলের।

আমাদের দেশে ২/৪টি ফাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলেই মনে করা হচ্ছে যানজট নিরসন হয়ে যাচ্ছে। যেখানে আমাদের দেশে ২/১টি ফাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা হতে ধরে নির্মাণ পর্যন্ত ৩/৫/১০বছর পর্যন্ত লেগে যায়, আর এই রাজধানী তো শুধু ২৬কিঃমিঃ / ৫০কিঃমিঃ নয়। তাহলে এই রাজধানীকে যানজট নিরসন করতে হলে কতটি ফাইওভার কত বছরে নির্মাণ করা সম্ভব হবে? আর ঐ ২৬ কিঃমিঃ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হলেই যে ঐ ২৬ কিঃমিঃ যানজট থাকবে না, তার কি নিশ্চয়তা আছে? আর এত জন দুর্ভোগ, অর্থ ও সময় ব্যয়ে এতে কি যানজটের প্রকৃত সমাধান মিলবে? পরবর্তীতে সমাধান হতে গিয়ে আরও সমস্যা সৃষ্টি হবে না তো? বিভিন্ন বিষয় গুলো খুব হিসাব নিকাশ করার এখনই শেষ সময়।

চীনের একটি নির্মাণের চমকের কথা মনে পড়ে গেল, যারা মাত্র ৬দিনে ১৫তলা একটি হোটেল নির্মাণ করেছিল। ৬দিনে নির্মাণ করা হলেও কোন শ্রমিক এতে আহত হয়নি এবং নির্মাণ সামগ্রীর সামান্যতম অপচয় হয়নি বলে জানানো হয়। মনে হয় এটিও চীনের জন্য একটি রেকর্ড।

সেই চীন ফ্লাইওভার দিয়ে হয়ত বেইজিংকে ঘিরে ফেলতে পেরেছে। কিন্তু যানজট নিরসন করতে পারেনি। বিপরীতে চীনের বেইজিংই ২০১০ এর একটি জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে যানজটপূর্ণ শহরের তালিকায় ১ম হিসেবে এসেছে। আমি যা বুঝি এ েেত্র নির্মাণের পরিকল্পনা সঠিক হলেও যানজট নিরসনের পরিকল্পনাটা সঠিক ছিল না। হয়ত সেজন্যই এই পরিস্থিতি। যানজটের বিভিন্ন কারণের পাশাপাশি সড়ক গঠনের উপরও আমার মনে হয় অনেকটা যানজটের বিষয় যুক্ত রয়েছে।

যাই হোক আসুন একটু দেখে নেই উন্নত দেশের কিছু ফাইওভার ও যানজট ঃ-

প্রকৌশলীদের দতা ও নিখুন নির্মাণ দেখতে অবাক হওয়ার মত। কিন্তু অর্থ ও সময় ব্যয়ে অনেক কৌশলই যানজট নিরসনে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি:


থাইল্যান্ড, ব্যাংকক এর এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট


লস এঞ্জেলস্, আমেরিকার ফ্রিওয়েতেও যানজট।


চায়নার রাউন্ডেবাউটে তীব্র যানজট।


স্পাইরাল ব্রীজ


এই ধরনের মটরওয়েতে প্রশিতি দ ড্রাইভার ছাড়া কি সম্ভব?


কায়রো শহরের ফ্লাইওভারে যানজট

আমি বুঝিনা এই যানজট নিরসনের কর্মকাণ্ডগুলো কী জনস্বার্থে নাকি ব্যবসায়িক মনমানসিকতায়?

কথা গুলো কাউকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, যানজটের প্রকৃত সমাধানের লক্ষ্যেই আমার গবেষণা। তাই কোন প্রকার ক্রুটি থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×