somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এক নিরুদ্দেশ পথিক
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব,ইইই প্রকৌশলী। মতিঝিল আইডিয়াল, ঢাকা কলেজ, বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।টেলিকমিউনিকেশন এক্সপার্ট। Sustainable development activist, writer of technology and infrastructural aspects of socio economy.

পানি ব্যবহার ও পানি ব্যবস্থাপনা

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নগরীতে নাগরিকের পানি ব্যবহার, ওয়াসার পানি ব্যবস্থাপনা, পাউবোর ডেভেলপমেন্ট সেন্স গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ সময়ের প্রয়োজন। এখানে পানি ব্যবস্থাপনার ইফিসিয়েন্সি আনয়নে কিছু দিক আলোচনা করা হয়েছে।

নির্মাণ শিল্পের পানিঃ
পানির মটরের মুখে ওয়াটার হোজ লাগিয়ে নির্মানাধীন বাড়িতে কনক্রিট জমাট বাধার জন্য পানি দেয়ার ভয়ংকর প্রচলন এখনই থামাতে হবে। এটাকে ব্যাপক আর্থিক পেনল্টির আওতায় আনতে হবে। নির্মান শিল্পে পানির ব্যবহার একেবারেই সীমিত করতে হবে। হ্যা কনক্রিট বনানো এবং জমাট বাধার পাউডার আমাদের দেশে কেউ ব্যবহার করে না, না জানার কারনে, খরচ কমানোর কারনে, খরচ কমিয়ে বেশি চুরির নিমিত্তে (সরকারি কাজে)।

ওজুর পানিঃ
০১। মসজিদ মাদ্রাসা হল এবং অন্যান্ন প্রার্থনা ঘর গুলোতে ওজুর পানির ব্যবস্থাপনার বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভোদন করা আমাদের প্রকৌশলী দের দায়িত্ব, ওয়াসা এবং সরকারকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে। আফ্রিকাতে ওজুর জন্য পরিমান মত পানি অতি পাতলা পলিথিন ব্যগ এ সাপ্লাই করতে দেখেছি। এটা পাইলট করা যেতে পারে।
০২। গুলশান-১ মসজিদে পানি অপচয় কমানোর জন্য ফ্লো কন্ট্রল করা হয়েছে, সেখানে ওজু খানায় বড় করে লিখা রয়েছে "এই মসজিদের পানির কল নস্ট নয়, পানি অপচয় রোধের জন্য পানির প্রবাহ কামানো আছে"। পানি স্বল্পতায় ভোগা আফ্রিকার মুসলিম দেশ গুলোতে এই পদ্ধতি বহুল প্রচলিত। এটা ঢাকায় বাধ্যতা মূলক করা দরকার।


কার ওয়াশ এর পানিঃ
পানির মটরের মুখে ওয়াটার হোজ লাগিয়ে কার ওয়াশ করা হয়, বর্ধিত সংখ্যার কারনে এই পরিমান বাড়ছে, এগুলোকে শক্ত আর্থিক জরিমানার আওতায় এবং মনিটরিং এ আনতে হবে।

কাপড় ধোয়ার পানিঃ
শহুরে কাপড় ধোয়ায় পানি ব্যবহার পদ্ধতি সাস্টেইন এবল না, এটা পরিবর্তন করতে হবে। শহরে কাপড় ধোয়ায় কিভাবে টেকনলজি ব্যবহার বাড়ানো যায় এটা নিয়ে ভাবতে হবে।

শহুরে মানুষকে (বিশেষ করে উচ্চ এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত) শুকনো টয়লেট কন্সেপ্ট এর আওতায় আনতে হবে। কমিউনিটি ওয়াশিং প্ল্যান্ট এর কন্সেপ্ট উদ্ভাবন করা যায়।

টয়লেট ফ্ল্যাশঃ
যে পানি বস্তি এলাকার লোকে পান করে সে পানি আমরা বড় ছোট টয়লেটের পরে ফ্ল্যাশ করি, ব্যাপারটা কি আমাদের ভাবায়! এত ব্যয় বহুল এবং কষ্টকর শোধিত পানি টয়লেটে ব্যবহার। গরীবকে ছাড় দেয়া যায়, কিন্তু ধনীদের? কোটি টাকার ফ্ল্যাটে ওয়াটার রিসাইকেল ব্যবস্থাপনা থাকবে না কেন?

হ্যাঁ, প্রতিটি বড় বড় বিল্ডিং কম্পাউন্ড এ বাথরুম এবং কাপড় কাচার পানি টয়লেট পানি থেকে আলাদা করতে হবে। বাথরুম এবং কাপড় কাচার পানি সামান্য রিসাইকেল করে টয়লেট ফ্ল্যাশে নেয়া যায়। টয়লেট এর পানিও রিসাইকেল প্ল্যান্ট আনতে হবে।

আর এম জি ওয়াশিং প্ল্যান্টঃ
ওয়াশিং প্ল্যান্ট এর ওয়াটার রিসাইক্লিং হয় কিনা জানা নেই, এসব ভাবনায় আনতে হবে।

এগুলো কারো কারো কাছে ছোট ব্যাপার হতে পারে, কিন্তু আদতে তা নয়। স্ট্যাডি করে বের করে আনা যেতে পারে পানি ব্যবহার কোন খাতে কেমন হচ্ছে।

সেচ এবং সেচ ইনভেস্টঃ
ধানে কয়েক ইঞ্চি কন্টিনিউয়াস বদ্ধ পানি ব্যবহার থেকে কিভাবে সরে এসে ড্রপ সাপ্লাই ব্যবহার করা যায় কিনা এই নিয়ে বিরি বারি কে গবেষণা করতে হবে। সেচ এ পানি ব্যবহার ইফিসিয়েন্ট করা জরুরী। হস্তচালিত কলগুলোতে পানি না থাকায় বা কমে যাবার কারনে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কিছু এলাকায় শ্যালো দিয়েও আর স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পানি আসছে না তাই ‘ডীপ সেট’করা হচ্ছে তা আরো ব্যয় বাড়াচ্ছে। তবে এটা করা হচ্ছে একই মেশিন ব্যভহারের জন্য, উচ্চ ক্ষমতার (হর্স পাওয়ার) এর মেশিন ব্যবহার করলে ডিপ সেট অপ্রয়োজনীয়। তবে এটাও ইনভেস্ট এর ব্যবপার।

বৃষ্টির পানি ব্যবহার

গ্রামেঃ আর্সেনিক, আয়রন প্রবন এলাকাগুলোতে কমন বৃষ্টির পানি নির্ভর ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট করা বাধ্যতামূলক। এটা কিছু কিছু গ্রামে স্বেচ্ছাসেবী কিংবা স্ব উদ্যোগী প্রকল্প হিসেবে চালু আছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পৃথিবীর শুষ্ক অঞ্ছলে ব্যাপক প্রচলিত পদ্ধতি, এই পানি সুপেয়, বিশুদ্ধ এবং খনিজ পানির মতই মিনারেল যুক্ত।

বৃষ্টির পানির বানিজ্যিক প্রক্রিয়া জাতকরন
তবে বানিজ্যিক ভাবে বৃষ্টির পানি প্রক্রিয়া জাতকরন এবং বিপনন শুরু হয় নি কেন এটা একটা বিস্বয়, বাজারজাত ক্রিত পানির মান নিয়ে কাজ করলে হয়ত বের হয়ে আসবে অতি নিন্ম মানের পানি বিক্রি হচ্ছে। পানির মান বাড়ানো বাধ্যতামূলক করা গেলে কোম্পানী গুলো বিকল্প সোর্স হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রতি মনোযোগী হতে পারে।
তবে নতুন বাজার সৃষ্টি তৃতীয় বিশ্বের দেশে সরকারকেই করতে হয়, কারন আর্থিক নিরাপত্তা এখানে নিশ্চিত নয়, তার উপর আমাদের দেশর শিল্প প্রসার চাঁদাবাজি ও বখরা নির্ভর।

​শহরেঃ
ছাদের সারফেইস এর রকমভেদ, আকার, মৌসুমি বৃষ্টির পরিমানের ভিত্তিতে প্রাপ্ত পানির গড় পরিমান, উচ্চতা, ভাসমান ধূলি ​ইত্যাদি আমলে নিয়ে ঠিক কি পদ্ধতিতে আরবান রেইন ওয়াটার প্রসেসিং প্ল্যান্ট করলে ব্যক্তি পর্যায়ে লাভজনক হবে সেটার অনেকগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইমপ্লিমেন্টেশন পাইলট করতে হবে। এর বাইরে রয়েছে এই প্ল্যান্ট এর মেইন্টেনেন্স, ফারদার ওয়াটার ফিল্ট্রেশন, প্রসেসিং এগুলার কস্ট। রিজার্ভার এর সাইজ, নির্মান ম্যাটেরিয়াল (স্বাস্থ্য সম্মত) এগুলা সব মিলেই এধরনের প্ল্যান্ট থেকে প্রাপ্ত পানির খরচ বাজার মূল্য থেকে অনেক সাশ্রয়ী হতে হবে, নাইলে এই প্রকল্প মার খাবে।

তবে ভবিষ্যতে বৃষ্টির পানিকে পানের জন্য ব্যবহার করতেই হবে কারন ভূগর্ভস্ত পানির লেয়ার অতি গভীরে চলে গেলে সেই পানির উত্তোলন প্রসেসিং উৎপাদন খরচ বাড়বে। আমাদেরকে আমাদের গ্রামীণ জনসাধারণ এবং শুহুরে নিন্ম বিত্তের জন্য সুপেয় পানির অধিকার নিয়ে ভাবতে হবে, সুপেয় পানির জন্য তাঁদের খরচ এর খাতা খোলা গ্রহনযোগ্য নয়।

পানি, পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, কৃষক এবং কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের নাগরিক, গবেষণাগত ভাবনা গভীর করতে হবে। রাষ্ট্র কে দুরদর্শী হতে হবে, আজ থেকে ৫০ বছর পরে ইরি চাষের পানি ভুগর্ভ থেকে তোলা সাধ্যের ভিতরে নাও থাকতে পারে। ভূগর্ভস্থ পানির এবং বৃষ্টির পানির ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক নদীর (বিশেষ ভাবে গঙ্গা ও তিস্তা ব্যারেজ) পানির হিস্যার জন্য আলোচনা চালাতে হবে, রাজনৈতিক ভাবে লড়তে হবে নিরন্তর।

একদিকে সারফেইস ফ্রেশ ওয়াটার (নদ নদীর পানি) এর হিস্যা নিয়ে নিরন্তর লড়তে হবে ভারতের সাথে, অন্যদিকে শোধিত পানি ব্যবস্থাপনায় দূরদর্শী হতে হবে, খরুচে হতে হবে। দূষণ কমাতে হবে নদীগুলোর, যাতে নদীর পানির শোধন ব্যয় সাধ্যে থাকে। অন্যথায় ভূগর্ভস্থ পানিই হবে একমাত্র ভরসা, যা কোন ভাবেই আশার কথা নয়।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৫৯
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×