somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী, ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙ্গালী নারীর অতীত অবস্থা:

আমরা যদি মাত্র দুই প্রজন্ম আগে ফিরে যায়, আমাদের দাদী-নানীদের আমলের যে চিত্র দেখব তা কম-বেশী একই রকমের । শৈশব পেরোতে না পেরোতে সংসার , কিছু বুঝে ইঠার আগে মা , তারপর কোল জুড়ে একের পর এক সন্তান, বিরাট সংসারের ঝক্কি এক হাতে সামলানো সেই সাথে ক্ষেত - খামারে কাজ করা মানুষের খাদ্য যোগান দেয়া। তার ইপর আছে শ্বাশুড়ীর গজ্ঞনা । সবার উপরে আছে স্বামীর অবহেলা। কবে যে পৌড়া থেকে বৃদ্ধায় পরিণত হয়, নারী টের পায়না। এক সময় সে তার নিজ সন্তানের বোঝা বলে গন্য হয়। জন্মেও সময় পরিবারে ভ্রকুন্ঠনের উদ্রেককারী এই নারী মৃত্যুর মাধ্যমে পৃথিবীর বিরাট উপকার সাধন করে চলে যায়। বেগম রোকেয়া তাই আক্ষেপ করে বলেন , "আমরা ভুমিষ্ঠ হইয়াই শুনিয়াছি যে আমরা জম্মিয়াছি দাসী, চিরকাল দাসী, থাকিব দাসী,

এ অবস্থা অবশ্যই কাম্য নয়। কি করা যায় ? নারী হৃদয় কেদে ওঠে । তোদেরই কল্যানে , বোন ! কিন্তু কি করিব ? কাদিতে শক্তি আছে , কাদিয়া মরিব"।

তাই আর কান্না নয়। দেখা গেল পুরুষ নামের অপর শক্তি শুধু মাত্র অর্থ-উপাজন করে বলে সব ব্যাপারে মেয়েদের দাসী জ্ঞান করে। তাই নারীর এই বিপুল কর্মযজ্ঞ, নিরব ত্যাগ কিছুই তার চোখে পড়েনা। তাই মেয়েরা যদি তার গন্ডি ছেড়ে বেড়িয়ে এসে ঘর-সংসার এর সাথে সাথে আর্থিকভাবে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে তবে তার স্বীকৃতি সে আদায় করে নিতে পারবে। পরগাছা জীবনই তার দুর্গতির কারন। বেগম রোকেয়ার ভাষায় , ভগীনিগন , চক্ষু রাঙ্গাইয়া জাগিয়া উঠুন-আগ্রসর হউন। বুক ঠুকিয়া বল মা ! আমরা পশু নই; বল কন্যে। আমরা জড় অলংকাররূপে লোহার সিন্ধুকে আবদ্ধ থাকিবার বস্তু নয়; সকলে সমস্বরে বল, আমরা মানুয়। আর কার্যত : দেখাও যে আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ট অংশের অর্ধেক।"

কিন্তু আসলেই কি অর্থ উপার্জন না করাটা মেয়েদের অপরাধ ছিল ? অন্য কথায় টাকা দিয়ে কি সম্মান কেনা যায় ? এই মৌলিক উত্তরের পেছনে সময় নষ্ট করা হলো না। শুরু হলো আরেক কালো অধ্যায়ের। সেই প্রসঙ্গে পে আসি, আগে দেখা যাক সমাধানের প্রয়োগ।

সমাধান: আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। এতে করে এক ঢিলে দুই পাখি মরবে।মেয়েরা প্রকৃত কর্তৃত্ব ফিরে পাবে। দেশের অর্থনৈতিক গতি প্রবল হবে। তাই রাষ্ট্র অগ্রধিকার ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন করল। BCWD ( National Council For Woman's Development )-১৯৯৭ এর ফ্রেব্রুয়ারীতে শুরু সরকার নীতি চুড়ান্ত করে যা ঐ বছর মার্চে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োগ শুরু হয়ে যায়। নীতিমালর লক্ষ্য ছিল:

১. সর্বক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের সম অধিকার ।
২. মেয়ে ও নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরন।
৩. নারীক’লের মানবধিকার নিশ্চিত করা।
৪. অর্থণৈতিক ও সামাজিক পরিমন্ডলে মেয়েদের স্বীকৃতি দেয়া।
৫. নারীদের মানব সম্পদে পরিনত করা।
৬. প্রশাসন, রাজনীতি, শিক্ষা ,খেলাধুলাসহ সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের অংশ গ্রহনে সমতা আনয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়ন।
৭. নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভার্বমূতি উপস্থাপন।
৮. প্রচার মাধ্যমে মেয়েদের ইতিবাচক ভার্বমূতি উপস্থাপন
৯. স্বাস্থ্য , পুষ্টি, আশ্রয় নিশ্চিত করন।

এই নীতির আলোকে আমরা সেখানে পাই নারী শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রথমে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিককরা হয়েছে। চালু করা হয়েছে বৃত্তি, উপবৃত্তির ব্যবস্থা। ফলাফল হিসেবে আমরা দেখি যে ১৯৯০ সালে যেখানে নারী স্বাক্ষরতার হার ছিল১৩.৪ % বর্তমানে তা ৩০ % চাড়িয়ে গেছে।

একইভাবে চাকুরীতে কোটা পদ্ধতির অগ্রধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ , ক্ষুদ্র-মাঝারি নের আ্ওতায় মেযেদের সংখ্যা বাড়ানো, উদ্যোক্তা হিসেবে উৎসাহ প্রদান সহ মিডিয়াতে ব্যাপক উপস্থিতি , গৃহিত নীতির বাস্তব প্রয়োগেরই সাক্ষ্য বহন করে।

অধিক সম্তান এবং তাড়াতাড়ি বিয়ে মেয়েদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের অন্তরায়। তাই ব্যাপক প্রচার ও মাঠ কর্মেও মাধ্যমে অল্প সন্তান ও দেরীতে বিবাহ উৎসাহিত করা হচ্ছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের উপকরণের ব্যবহার ৮৫ % বৃদ্ধি পেয়েছে। গড় বিয়ের বয়স ১৩.৫ থেকে বেড়ে ১৯.৫ এ ঠেকেছে। Total Fertility Rate ৪.৫ থেকে কমে ৩.৪ নেমেছে।
চাকুরী ক্ষেত্রে মেয়েদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্যনিয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পযায়ে যথাক্রমে শতকরা ২০, ৭৪,৯ ও ১৪ জন শিক্ষক শিক্ষাদানে নিয়োজিত আছেন।

২য় শ্রেণীর অফিসকর্মী হিসেবে যেখানে ১৯৯০ সালে ৯% নারী নিয়োজিত ছিল তা ২০০৪ সালে এসে ৩৭.১ % এ দাড়ায়। উচ্চতর পেশার ২৬০৬ টি পদেও মধ্যে নারীদের দখলে আছে ১১১৮ টি।

কৃষি ক্ষেত্রে মালিক হিসেবে আছে ২২.৩ % নারী এবং কর্মী হিসেবে আছে ২৫.৩ % নারী। প্রায় ২০০০ টি ছোটবড় গার্মেন্টেসে নিয়োজিত কর্মীদের শতকরা ৯০ % নারী। বর্তমানে ১৫ মিলিয়ণ নারী ক্ষুদ্রঋণপ্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত।

কেমন আছে আজকের নারীঃ

সাফল্য এসেছে। পরিসংখান তাই বলে। অনেক মেয়েই আজ পরগাছা নয়। কিন্তু গোড়ার সেই গলদ, পুরুষের প্রশ্ন না করা, মেয়েদের প্রভু হবার হুকুম তোমাদের কে দিয়েছে ?” আজকে পর্বত আকারে দেখা দিয়েছে। নারীকে সুরক্ষা করতে যেয়ে করা হয়েছে অরক্ষিত। পূর্বে স্বামী তাকে অসম্মান করত, বর্তমানে গলির চা বিক্রেতা, বাসের হেলপার, ফুটপাতের ছেলে, অফিসের বস, স্বামীর বন্ধু, যতো শ্রেনীর পুরুষ লোক আছে সকলে তাকে অসম্মান করে।
মেয়েদের স্কুলে যাবার সংখ্যার তাল মিলিয়ে বেড়েছে বখাটে ছেলেদেও গলির মোড়ে দাড়িয়ে অশ্লীল মন্তব্য করার ধারণ জন্য গিলতে হয় এই অশ্রাব্য কথাবার্তা। সহ্য করতে না পেরে পৃথিবী থেকে চলে যায় সিমি, রুমি, তৃষারমত কোমলমতি উজ্জল মেয়েরা । প্রতি ২১ মিনিটে একটি মেয়েকে আজ এই জাতীয় লাঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে।
প্রতিদিন পত্রিকায় পাতায় পাতায় কমপক্ষে ৩ জন নারীর ধষনের রিপোট ছাপা থাকে। ১৯৯৭ সালে ধষিত হয়েছিল ৭৫৩ জন, ১৯৯৯ সালে যা বেড়ে ১২৩৮ জন। আমরা জানি প্রকৃত সংখ্যা আর অনেক বেশী। ১২০০০০ গার্মেন্টস নারী কর্মীদের একটি বিরাট অংশ এই যৌন নিপীড়নের শিকার। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ পতিতা রয়েছে। যাদের মধ্যে ৬৫% এর বয়স ১১-১৩ এর মধ্যে। ৩৩% এর বয়স ১৩-১৫ এর মধ্যে। মেয়েরাতো সাবলম্বী হচ্ছে, প্রষ্টিটিউটের সংখ্যা এতো বাড়ে কেন ? অন্তত : ৬০ বৎসর আগেও তো পরিস্থিতি এরকম ছিলনা।

মিডিয়ার সাবলম্বী নারীকে একটি মুখরোচক পন্য ছাড়া আর কিছুই মনে হয়না পাবলিকের কাছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক অবস্থা মায়েদের । সন্তানের সংখ্যা ১টি বা ২টি। তাও একটি বিরাট মাথাভ্যাথার কারণ। কে দেখবে এই প্রজন্মকে। পরিবারে শিশু বেড়ে উঠে গৃহকর্মীর কাছে। যাদের আর্থিক সংগতি নেই শিশুদের শেকলবন্দী করে রাখে, যার ছবি আমরা পত্রিকায় দেখেছি। পিতা-মাতা জীবিত থাকার পরও এতিম এই অসহায় শিশুগুলো হতে থাকে যৌন নিপীড়নের শিকার। ঘরে , বস্তিতে, পথে। কি মর্মান্তিক। গ্রামের নারীদের অবস্থা পাল্টে গেছে। তাদের বেশীরভাগ শহরে চলে আসছে। বরণ করছে ভাসমান জীবন। বাকিরা ক্ষুদ্র ণের কল্যানে সন্তান পালন আর ব্যবসায় পরিচালানা,্এক হাতে সব কাজ করছে। স্বামীরা পুজির অভাবে হ্ওায়া খায় আর বউ পেটায়। আসলে সুবিধা হয়েছে তাদেরই।
ঠিক এরকম একটা ভবিষ্যতের চিত্র কি আমাদের পূর্ব প্রজন্ম চেয়ে ছিল ? পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা বস্তুতে পরিনত হয়েছে এমন এক প্রাণী যার সম্মান সৃষ্টিকতার কাছে সবচেয়ে বেশী। আমাদের নানী যদি আমাকে প্রশ্ন করেন “কেমন আছিস তোরা” কি উত্তর দিব আমরা! তারা লাঞ্চিত হয়েছে নিজ পরিবারে আর আমরা লাঞ্চিত হচ্ছি সমস্ত সমাজে-এই পার্থক্যটাই শুধু হয়েছে।

কেন এমন হলো ? আসলে আমরা এমনএক সমাজকে গড়ে তুলছি সেখানে এমনটাই তো হওয়া স্বাভাবিক। এমনই হবার কথা। আসলে সমস্যা ছিল নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে। বিখ্যাত কবি বায়রন বলেছিলেন , পুরুষদের সাথে এক টেবিলে বসে খাবার অধিকার মেয়েদের নেই। তাদের জন্য উপযুক্ত স্থান হলো ঘরের মধ্যে রান্নাঘর। আর প্রেমিকাদের মনোরঞ্জনের জন্য রাখি এবং স্ত্রীদের রাখি সন্তান উৎপাদনের জন্য। সমাজের এক অংশ যখন অন্য অংশের এমন দৃষ্টিভঙ্গী লালন করে , তখন অর্থ কেন অন্য কোনভাবেই নারী তার প্রকৃত সম্মান ধারন করতে পারবে না। আজকে ঘরে যে পুরুষেরা তার পরিবারের প্রতি অন্যায় করে, সেই পুরুষই সমাজের কোন না কোন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। কেন সে অন্য নারীর প্রতি মহানুভবের দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে? খুবই অযৌক্তিক কথা। বরং যৌক্তিকতা হলো সে তার পরিবারের সাথে যা করতে পারেনি, অন্য নারীর সাথে তাই কররে, তাই করছে। মানুষ তার রচিত নিয়মে এমন কোন পরিবর্তন আনবে না যে পরিবর্তন তাদের স্বার্থেও পরিপন্থী। আর তাদের রচিত এই অন্যায় সমাধান ধ্বংস করে প্রজন্মের পর প্রজন্মের জীবন। অন্ধকার থেকে বের করার নামে ঠেলে দেয় ঘোর অ›ধকারে।

কি করা উচিত ছিল ?
আমাদের পরিবার গুলোতে যদি ইসলাম ঠিকমতো থাকতো তাহলে আসলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না । আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়ালা) পুরুষদের নারীর অভিভাবক রূপে সৃষ্টি করেছেন, প্রভু হিসেবে নয় । ঠিক যেমন রাষ্ট্রের অভিভাবক রাষ্ট্রনায়ক। যখন নারীদের উপর অন্যায় হচ্ছিল তখন যেমন কুরআনের আয়াত, রাসুল(সা ঃ) হাদিস বিদ্যমান ছিল, এখনও আছে। ভুল যেটা হয়েছে যে আমরা অনুসন্ধান করিনি, এ ব্যাপারে সৃষ্টিকর্তা কি রায় দিয়েছেন । কিন্তু নিজেদের নীতি যখন ব্যর্থ হয়েছে তখন আবার সুকৌশলে ইসলামের উপর দোষ চাপাতে পিছ পা হয়না অনেকে। রাসুল(সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি ২জন বা তার অধিক কন্যা সন্তান লালন-পালন করে সৎ পাত্রস্থ করার আগ পর্যন্ত আল্লাহর আমানত হিসেবে রাখরে, জান্নাতে ঐ ব্যক্তি এবং আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়ালা) এর মধ্যে ২ আঙ্গুল পরিমান ব্যবধান থাকবে। এই বলে তিনি তার২ আঙ্গুল তুলে ধরলেন। এই হাদিসের চর্চা পরিবারে থাকলেও কেউ কণ্যা সন্তানের জন্মকে বোঝা ভাবতে পারত না। দাসীতো অনেক পরের কথা। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়ালা) বলেন, নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন কর। অত:পর যদি তাকে অপচ্ছন্দ কর তবে হয়তো এমন কিছু অপচ্ছন্দ করছ যাতে আল্লাহ তোমাদের জন্য প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন। রাসুল(সাঃ) বলেছেন , তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে তার পরিবারের নিকট অধিক উত্তম। নিশ্চয়ই আমি আমার পরিবারের জন্য সর্বত্তোম।
রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন , গোটা দুনিয়া হলো সম্পদ। আর সৎ কর্মশীল স্ত্রী হলো তার মধ্যে শ্রেষ্ট। আরাফার ময়দানে বিদায় হজ্জেও গুরুত্বপূর্নভাষনে রাসুল(সাঃ) স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল হতে বলেছিলেন।

সন্তান পালনের কষ্টকর কাজের জন্য আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়ালা) নারীকে যথার্থ পারিশ্রমিক দিয়েছেন। সন্তান জন্মদান, স্তন্যদান এবং বড় করা প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা নেকী। সেই সাথে রয়েছে মাতৃত্বের স্বাদ। সন্তানের হক আছে তার পিতামাতার কাছে। সে শেকলবন্দী হবারবস্তু নয়। পিতামাতার হক আছে সন্তানের কাছে। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়ালা) বলেছেন ,তাদের মধ্যে একজন বা উভয় বৃদ্ধ হলে আমরা যেন তাদের প্রতি এমন আচরন না করি যাতে তারা উহ শব্দটি উচ্চারন করে। আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) এরপর আমাদের কাছে সবচেয়ে সম্মানের পাত্র আমাদের হচ্ছে মা-বাবা।

মেয়েরা কতৃর্ত্ব চায় না, মেয়েরা সম্মান চায়, স্বস্তি চায়। যা শুধু তার সৃষ্টিকর্তা প্রণীত নিয়মই তাকে দিতে পারে। অথচ নারীর সে চাওয়াকে ভূলখাতে প্রবাহিত করে চরম লাঞ্চনার মুখোমুখি দাড় করিয়ে, নারীর অনুভূতির গলাটিপে মেরে সৃষ্টিকর্তার উপর দোষ চাপানোর ষড়যন্ত্র চলছে পুরোদমে। মেয়েদের ক্ষুদ্ধ প্রশ্নের মুখে তার সামনে শত্রু হিসেবে তার প্রভূকে দাড় করিয়ে দেয়ার হীন চেষ্টাও আমরা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করছি। যেমন: অন্দদা শংকর রায় বলেন , প্রকৃতির অবিচার নারীকে মেরে রেখেছে-বিদ্রোহ নিষ্ফল। এই দেখনা প্রতিমাসে কয়দিন বষাকাল। পুরুষের এমন ঝঞ্ঝাট আছে? কিংবা এক যাত্রায় পৃথক ফল। পুরুষের কাছে যা ৫ মিনিটের সুখ , নারীর কাছে তাই দশ মাসের অসুখ। প্রকৃতির এই অনাচারের বিরুদ্ধে নারীর কিছু করার নেই।” নাউযুবিল্লাহ। সৃষ্টিকর্তার দেয়া নিয়ামত স›তান আমাদের কাছে ঝামেলা হিসেবে উপস্থাপন করার স্পর্ধা তারা কোথায় পাই?

শেষ কথাঃ মেয়েরা তাদের অবস্থা পরিবর্তন করতে যেয়ে গরম কড়াই থেকে ঝাপিয়ে উনুনে পড়ছে। আসলে তাকে সুকৌশলে ফেলা হচ্ছে। এতে তাকে যথেচাছা ব্যবহার করা সুবিধাজনক হয়। নারী সমস্যার সমাধানের সত্যিকারের চেষ্টা তাকলে এতোবড় ভূও হবার কথা নয়। মেয়েদের উপর অন্য মেয়ে বা পুরুষের সমাধান চাপিয়ে দেবার দিন শেষ করতে হবে। এই মানব রচিত সুবিধাবাদী সমাধানের পরিণতি আমরা স্বচক্ষে দেখছি। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়ালা) আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের মধ্যে চাহিদা প্রয়োজন দিয়েছেন, আমাদের চাওয়া-পাওয়া তিনিই সবচেয়ে ভাল জানেন। সে হিসেবেই তিনি নিয়ম নিধারন করেছেন, যার মাধ্যমে সুবিচার প্রতিষ্টা হবে। আল্লাহ যে হক দিযেছেন তার থেকে যে বেশী নেয়ার কথা বলে, তার অন্য মতলব আছে। সে অধিকার আমাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে দুনিয়া ও আখেরাতে। তাই চলুন সমাজ ,রাষ্ট্র এবং পরিবারে ইসলঅম প্রতিষ্ঠা করি, যা প্রতিটি বস্তুকে ন্যায় বিচারের তথা আলোর দিকে চালিত করবে।

যদি কিছু ভূল বলি তবে তা আমারপক্ষ থেকে আর যা কিছু ভাল বলেছি তা আল্লাহতালার পক্ষ থেকে।
(সংগৃহীত: হিযবুত তাহরীরের মহিলা কর্মী নুসরাত জাহান থেকে)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৪২
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×