জাতিসংঘের ভাষায় -আঠারো বছরের নীচে যারা তাদের কে আবুইদ্যা বলে।ব্রাক্ষণবাড়ীয়া এর আন্চলিক ভাষায় আবুইদ্যা মানে শিশু-সংক্ষেপে আবু। যখন আবুইদ্যা ছিলাম ,তখন কোন গুরুজন কানমেলে দিতো কিংবা ঠোনা মারতো চোখে মুখে অন্ধকার দেখলেও আমার কিছু মনে করার সুযোগ থাকত না।কারণটা অতিশয় সরল-যতক্ষণ সজাগ থাকতাম হয় কোন দুষ্টুমির ফন্দি আঁটছি আর না হয় কোন দুষ্টুমি করে মুরুব্বির সামনে পড়েছি।বাসায় কেউ বেড়াতে এলে বাসার শাসণ ব্যবস্হায় একটু ঢিল পড়ার কারনে দুষ্টুমি চরমে উঠতো।মায়ের চোখ রাংগানি তখন থোড়াই পরোয়া করতাম-আর যাই হোক মেহমানের সামনে তো আমার গায়ে হাত তুলবেন না!মেহমানের সামনে নিজের কৃতিত্ব জাহির করতে খাটের বেডস্ট্যান্ড বেয়ে স্টিল আলমিরার উপরে উঠা,বেড়াতে আসা আরেক শিশু কে নিয়ে খাটের চারপাশে দড়ি দিয়ে ঘেরাও দিয়ে রেসলিং করা,কিংবা পাশের রুমে গিয়ে মেহমানকে শুনিয়ে শুনিয়ে ছড়া আবৃত্তি করে(অতিথি যেনো ভাবে,বাহ!ছেলেটাতো প্রতিভাবান)অতিথি কে মুগ্ধ করার চেষ্টা ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
আরেকটা ব্যাপার ছিলো অতিথি চলে যাবার পর ,চোখের আড়াল হবার পর, তাদের দেয়া জলখাবারের উপর হামলে পড়া ।আমার প্রিয় কাজ গুলোর মধ্যে একটা।একবার এমনি এক মহেন্দ্রক্ষণে ,মা বাবা গেছেন মেহমানকে বিদায় জানাতে,ড্রইং রুমে আমি একা।যথারীতি খাবারের উপর হামলে পড়েছি, এমন সময় দেখলাম কিছুক্ষন আগে বিদায় নেয়া অতিথির ব্যস্তসমস্ত বাউন্স ব্যাক।আমি তখন গো গ্রাসে খাচ্ছি,স্মিত হাস্যে অতিথি জানালেন,"সরি আমার ভ্যানিটিব্যাগ ফেলে গেছি"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




