somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগীয় অাকশ কুসুম

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হোসেইন ভাই, আপনাকে ব্লগে দেখিযা় প্রীত হইলাম। আশা করি, জাগতিক তুচ্ছ কর্মেও আপনি যে মনোসংযোগের দৃষ্টান্ত স্থাপনে নিযো়জিত আছেন, তাতে জনগনের মনোরঞ্জন হইতেছে। আপনাকে ধন্যবাদ। অধম এই ব্লগে নতুন। আপনার আইটি বিষয়ক পোষ্ট আমাকে আপনার প্রতি মোহান্বিত করিয়া তুলিয়াছে - সেই যুগান্তকারী পোষ্টের বদৌলতে আজকাল ডাটার ক্ষয়রোগ হইতে আমার কম্পিউটারখানা মুক্তি পাইয়াছে। কম্পিউটার বিষয়ক আরো পোষ্টের জন্য আমাদের আবেদন কি ব্যর্থতার আবর্তে ঘুরপাক খাইতে থাকিবে??

আরেকটি বিষয় দেখিলাম এই ব্লগখানি পরিভ্রমণ করিয়া যাহা আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে কুলাইয়া উঠিতেছেনা। জনাব, খুলিয়াই বলি - কয়দিন ধরিয়া ত্রিভুজ নিয়া শোরগোল শুনিতেছি। কিন্তু উহার কার্যকারণ কি তাহা ঠিক বুঝিয়া উঠিতে পারিলাম না। আমি তো জানিতাম, পৃথিবীখানি গোলাকার তাহা পূর্বেই নির্ধারিত হইয়া গিয়াছিল। তবে কি নতুন প্রপঞ্চের উদ্ভব হইয়াছে??

শৈশবে আমাদিগের বাটির কাছে পাগলা মাষ্টার পৃথিবী বিষয়ক পুস্তক বাহির করিবার পর আমাদিগকে স্নেহের উপহার স্বরূপ পাঠাইয়া ছিলেন। উক্ত পুস্তিকালব্ধ জ্ঞান আহরণপূর্বক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান পরীক্ষায় উদগীরণ করিয়া দিয়াছিলাম। অতঃপর যখন আমাদিগকে পরীক্ষনপূর্বক নাম্বারপ্রাপ্ত খাতা দেখিতে দেয়া হইতেছিল, সবিষ্ময়ে লক্ষ্য করিতে থাকিলাম যে আমার নাম মাষ্টার মশাই উচ্চারণ করিতেছেন না আমার ক্রমিক নং চলিয়া যাইবার পরও। ইহাতে আমি কিঞ্চিৎ পুলকিত হইয়া উঠিয়াছিলাম যেহেতু তৎকালীন সময়ে রেওয়াজ রহিয়াছিল শ্রেণীর সর্বােপক্ষা নাম্বারধারীর খাতা সক্কলের শেষে প্রদর্শিত হওয়ার। সবার খাতা দেয়া শেষ হইলে আমি শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায় তোতলাইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘স্যার, আমার খাতা‘? মাষ্টার মশাই আমার নিকটে অগ্রসর হইতে থাকিলেন আর আমার বক্ষসমুদ্রে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাইলাম। কিছু বুঝিয়া উঠিবার পূর্বেই দেখি আমার গাত্রে নব্য প্রপঞ্চিত পৃথিবীখানির আকার অংকিত হইয়া গিয়াছে। এহেন প্রপঞ্চপ্রীতি আমার মনে ভাবনার উদ্রেক ঘটাইয়াছিল যাহার কারনে মাষ্টার মশাইয়ের অবিরাম হুংকার এর মাঝে কেবল শুনিতে পাইয়াছিলাম যে পরীক্ষণ পত্রে যে আকার তিনি আমাকে উপহার স্বরূপ প্রদান করিয়াছেন, তাহাই সঠিক আকার, আর আমার দেহে যা অংকিত হইয়াছে যাহা আমা কতৃক খাতায় অংকিত হইয়াছিল।

যাহা হউক, এরপর কিছুকাল অতিবাহিত হইলে একদিন সুযোগ বুঝিয়া প্রশ্ন করিলাম পাড়ার পাগলা মাষ্টারকে - উনার যৌক্তিক অবস্থান জানিবার প্রয়াসে। পাগলা মাষ্টার উত্তর করিলেন, ‘আরে যদি পৃথিবী গোলাকারই হইতো তাহা হইলে প্রান্তে গিয়া কি পড়িয়া যাইতো না‘? এহেন স্পষ্ট যুক্তিতে আমি বাকরূদ্ধ হইয়া পড়িলাম। আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক তখন সে জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যের মর্ম বুঝিবার উপযোগী ছিলোনা। অতঃপর, গৃহশিক্ষকের আদেশ এবং প্ররোচনায় পাঠ্যবইয়ের বিষয়সমূহ গলাধঃকরণ করিয়া পরীক্ষাপত্রে উগরাইয়া দিয়া থাকিতাম।

এক্ষণ এই ব্লগে আসিয়া ত্রিভুজ শব্দটি আমার মনের সুপ্ত আবিষ্কারের নেশা চাঙা করিয়া তুলিল। আমার মনে এক লহমায় এক বিচিত্র চিন্তালব্ধ জ্ঞানপ্রাপ্তিতে খেলিয়া উঠিল যাহা হয়তো নিউটনের মাথায় আপেল পড়িবার অনুরূপে চিত্রিত হইবে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীগণের নিকট। আমার মনে হইলো পৃথিবী ত্রিভুজ আকারের হওয়ার সুষ্পষ্ট কার্যকারণ রহিয়াছে। পাগলা মাষ্টার মিথ্যা বলিতেন না। অপরপক্ষে স্কুলের মাষ্টার মশাই কয়েকবার আমার সম্মুখে মিথ্যা বলিয়াছিল। সুতরাং, ধরিয়া লইলাম পাগলা মাষ্টারের কথাই ঠিক। আমরা সমতলপৃষ্ঠেই বসবাস করিয়া থাকি, তথাপি কেহ কেহ কোন শুকনা ও ভেজা প্রভাবকের উপলব্ধিবলে উর্ধ্বে যাত্রা শুরু করিয়া দেয়। কিন্তু ত্রিভুজের তির্যক বাহুদ্বয়ের কল্যাণে তাহারা শিখরে পৌঁছিবার পরে তাহাদের উর্ধ্বযাত্রার অবসান ঘটে আর তাহারা তির্যক বাহু বগলদাবা করিয়া ধরাধামে অবরোহন করিয়া থাকেন। সুতরাং পৃথিবীর আকার যে ত্রিভুজ ইহাতে আমার প্রপঞ্চ স্থির হইলো।

এক্ষণে আপনাদিগের কৃপাদৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি - আপনারা যদি উক্ত প্রপঞ্চখানি আপন জ্ঞান দিয়া ঝালাই করিয়া সমর্থন করিতেন তাহা হইলে জগতের জ্ঞান বৃদ্ধি পাইতো। না হইলে আমাকে আবার পুরাতন বিশ্বাসে ফিরিয়া যাইতে হইবে যদিও আমার উহাতে আস্থা করিতে ইচ্ছাপ্রাপ্তি হয়না।

(আমার এই ব্লগামীতে কাহারও বিরক্তি, অরুচি হইলে ক্ষমাসুন্দর চক্ষু নিয়া দেখিবেন। ইহা কাহারো পক্ষে বা বিপক্ষে লিখা নহে, তথাপি কেহ যদি মনোকষ্টে ভুগিয়া থাকেন, তাহা হইলে বলিবেন আমি আপনাদিগের কষ্ট লাঘব পূর্বক আপন মুখমন্ডলে চপেটাঘাত করিয়া লইব।(আম্মাআআ))
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৯
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×