শৈশবে আমাদিগের বাটির নিকটে পাগলা মাষ্টার পৃথিবী বিষয়ক পুস্তক বাহির করিবার পর আমাদিগকে স্নেহের উপহার স্বরূপ পাঠাইয়া ছিলেন। উক্ত পুস্তিকালব্ধ জ্ঞান আহরণপূর্বক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান পরীক্ষায় উদগীরণ করিয়া দিয়াছিলাম। অতঃপর যখন আমাদিগকে পরীক্ষনপূর্বক নাম্বারপ্রাপ্ত খাতা দেখিতে দেয়া হইতেছিল, সবিষ্ময়ে লক্ষ্য করিতে থাকিলাম যে আমার নাম মাষ্টার মশাই উচ্চারণ করিতেছেন না আমার ক্রমিক নং চলিয়া যাইবার পরও। ইহাতে আমি কিঞ্চিৎ পুলকিত হইয়া উঠিয়াছিলাম যেহেতু তৎকালীন সময়ে রেওয়াজ রহিয়াছিল শ্রেণীর সর্বােপক্ষা নাম্বারধারীর খাতা সক্কলের শেষে প্রদর্শিত হওয়ার। সবার খাতা দেয়া শেষ হইলে আমি শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায় তোতলাইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘স্যার, আমার খাতা‘? মাষ্টার মশাই আমার নিকটে অগ্রসর হইতে থাকিলেন আর আমার বক্ষসমুদ্রে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের আভাস পাইলাম। কিছু বুঝিয়া উঠিবার পূর্বেই দেখি আমার গাত্রে নব্য প্রপঞ্চিত পৃথিবীখানির আকার অংকিত হইয়া গিয়াছে। এহেন ঘটনায় আমার চিত্তে চাঞ্চল্য ঘটাইয়াছিল যাহার কারনে মাষ্টার মশাইয়ের অবিরাম হুংকার এর মাঝে কেবল শুনিতে পাইয়াছিলাম যে পরীক্ষণ পত্রে যে আকার তিনি আমাকে উপহার স্বরূপ প্রদান করিয়াছেন, তাহাই সঠিক আকার, আর আমার দেহে যা অংকিত হইয়াছে যাহা আমা কতৃক খাতায় অংকিত হইয়াছিল।
যাহা হউক, ইহার পর কিছুকাল অতিবাহিত হইলে একদিন সুযোগ বুঝিয়া প্রশ্ন করিলাম পাড়ার পাগলা মাষ্টারকে - উনার যৌক্তিক অবস্থান জানিবার প্রয়াসে। পাগলা মাষ্টার উত্তর করিলেন, ‘আরে যদি পৃথিবী গোলাকারই হইতো তাহা হইলে প্রান্তে গিয়া কি বস্তুসমূহ পড়িয়া যাইতো না‘? এহেন স্পষ্ট যুক্তিতে আমি বাকরূদ্ধ হইয়া পড়িলাম। আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক তখন সে জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যের মর্ম বুঝিবার উপযোগী ছিলোনা। অতঃপর, গৃহশিক্ষকের আদেশ এবং প্ররোচনায় পাঠ্যবইয়ের বিষয়সমূহ গলাধঃকরণ করিয়া পরীক্ষাপত্রে উগরাইয়া দিয়া কোনপ্রকারে সেবারে উৎরাইয়া গিয়াছিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





