somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঁচাতে হবে পাহাড়ের ভাষা....

০৯ ই জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অস্তিত্ব একেবারেই বিপন্ন হয়ে পড়ার আগেই পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বসমূহের ভাষাগুলোর প্রয়োজনীয় সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং পৃষ্টপোষকতার দাবী জানাচ্ছেন বিভিন্ন স¤প্রদায়ের মানুষেরা। পাশাপাশি তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ দেশের যেসব স্থানে নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীসমূহ বসবাস করে সেইসব স্থানে শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা প্রদানের জন্য সরকারী উদ্যোগ এবং পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিও গুরুত্বারোপে করেছেন।
তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। কেউ কেউ মনে করেন এখনো সবগুলো জাতিগোষ্ঠীর বর্ণমালা সর্বসম্মত লেখ্য রূপ পায়নি। সংখ্যাগুরু চাকমাদের ক্ষেত্রে বর্ণমালা ৪০ টি,৩৯টি,নাকি ৩৪ টি,বা ৪৫টি হবে তা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। চাকমা ভাষা কাউন্সিল এর সদস্য প্রসন্ন কান্তি চাকমা বলেন-আমাদের বর্ণমালা বিতর্কের অবসান হয়েছে। এখন আমাদের বর্ণমালা ৩৯টি। কেউ নতুন বর্ণমালা আবিষ্কার করলে তো আমাদের কিছু করার নেই। অন্যদিকে চাকমা ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জুনোপহর একাডেমির অধ্যক্ষ স্মৃতি প্রকাশ চাকমা বলেন-চাকমা বর্ণমালা ৪০টি। কেউ খেয়াল খুশি মতো বানালে তো চলবেনা। আর চাকমা ভাষা গবেষক এবং লেখক ডাঃ এসএন চাকমার দাবি চাকমা বর্ণমালা হলো ৩৪টি। এই বর্ণমালা বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। এমনকি চাকমা ভাষার বানানরীতি নিয়েও রয়েছে নানামূখী বিতর্ক।
তবে ভাষা গবেষক বিজ্ঞান্তর চাকমা বলেন- এক্ষেত্রে বিকল্প ভাবতে হবে। হয় প্রাথমিক স্তরে প্রতি শ্রেণীতে নিজ ভাষার একটি বইকে অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে পড়তে দেয়া যেতে পারে নতুবা এমএলই(মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন সিস্টেম) চালু করা যেত পারে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন সিস্টেমে একটি শিশু প্রাথমিক স্তরে ক্লাস ওয়ানে মাতৃভাষা ৮০ ভাগ এবং জাতীয় ভাষা ২০ ভাগ,দ্বিতীয় শ্রেণীতে মাতৃভাষা ৭০ ভাগ জাতীয় ভাষা ৩০ ভাগ,তৃতীয় শ্রেণীতে মাতৃভাষা ৫০ ভাগ এবং জাতীয় ভাষা ৫০ ভাগ,চতুর্থ শ্রেণীতে নিজ ভাষা ৩০ ভাগ জাতীয় ভাষা ৭০ ভাগ এবং পঞ্চম শ্রেণীতে মাতৃভাষা ১০ ভাগ এবং জাতীয় ভাষা ৯০ ভাগ হিসেবে পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং ষষ্ঠ শ্রেনীতে যাওয়ার পর সে আর নিজস্ব ভাষায় নয় কেবলমাত্র জাতীয় ভাষা বা আন্তর্জাতিক ভাষায় শিক্ষা লাভ করতে পারবে। কিন্তু প্রতি শ্রেণীতে ভাষা শিক্ষার একটি অতিরিক্ত বই থাকার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেন তিনি।

অন্যদিকে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানে জেলা পরিষদকে কর্তৃত্ব প্রদান করা হলেও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে বেশিদূর এগোতে পারেনি। এ পর্যন্ত জেলা পরিষদগুলোর উদোগের মধ্যে রয়েছে রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট এর মাধ্যমে আগ্রহী শিক্ষকদের চাকমা বর্ণমালা শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে,খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ এর সহযোগিতায় একটি বই তৈরি করেছে,যা এখনো মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হয়নি আর বান্দরবান জেলা পরিষদ হাস্যকর ভাবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এবং মন্ত্রনালয়ের কোন ধরণের অনুমতি ছাড়াই সরাসরি প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের সবগুলো বই বম এবং মারমা ভাষায় অনুবাদ করে ফেলে রেখেছে। এই বইগুলোর কাজ সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্যামাচিং এর আমলে শুরু হলেও থানজামা লুসাই চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর তা উদ্বোধন করার কথা ছিলো পররাষ্ট্র (এবং সেই সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা) উপদেষ্টা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর। নানা আয়োজন করা হলেও তিনি সেই সময় না আসায় এই বই গুলোর মোড়ক উম্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এই বই গুলোর অনুবাদের জন্য যেমন কোন অনুমতি নেয়া হয়নি আবার কিছু কিছু অংশে আপত্তিকরভাবে সংশোধন এবং পরিবর্তন করা হয়েছে, ফলে সরকারের সংশ্লিস্ট বিভাগও ক্ষুদ্ধ হয়েছিলো। আর এই কারণেই হয়ত এই বইগুলো আলোর মুখ দেখেনি।

সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজ্ঞুলিকা খীসা মনে করেন- আগে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার ভাষাকে রক্ষা করতে হবে,তারপর আসবে শেখার বিষয়টি। তিনি বলেন-আমি এত বছর শিক্ষকতা করেছি,চাকরী জীবন থেকে অবসর নিয়েছি কিন্তু আমিও নিজের মাতৃভাষার বর্ণমালা চিনিনা,জানিনা,এটা আমাদের সবার জন্যই লজ্জার। এই শিক্ষাবিদ মনে করেন- পাহাড়ের শিশুরা জন্মের পর কথা বলার শুরুতেই যে ভাষায় তার মাকে ডাকে সে ভাষাটি তার শিক্ষা কারিকুলামে থাকা উচিত,তবে অবশ্যই পাশাপাশি বাংলা এবং অন্যান্য সব কিছুই থাকতে হবে।’

তবে পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার ভাষার প্রাথমিক স্তরে প্রয়োগে সরকারকে কোন বাধা মনে করেন না সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবী আগে সবগুলো ভাষার বিতর্কহীন স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে হবে, পূর্ণাঙ্গ ভাষা গোষ্ঠিভিত্তিক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ণ নাকি প্রতি শ্রেণীতে একটি বই অথবা এমএলই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে সেই বিতর্কের অবসান করতে হবে,আদৌ পাহাড়ী শিশুরা তিন তিনটি ভাষার চাপ সহ্য করতে পারবে কিনা সেই বিষয়টি সুরাহা করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার এগিয়ে এলেই সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য সুন্দর সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন রাঙামাটি উপজাতীয় সাং®কৃতিক ইন্সটিটিউট এর পরিচালক রুনেল চাকমা।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×