somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পার্বত্য কমিশনের সফর নিয়ে পাহাড়ে উত্তেজনা

২১ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন এর পার্বত্য এলাকায় উস্কানীমূলক,সাম্প্রদায়িক কর্মকান্ড পরিচালনা,পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ। একই সাথে সংস্থাটির পার্বত্য এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবীও জানিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দেয়া এক স্মারকলিপিতে এই দাবী জানান তারা। এই সময় সংগঠনের সভাপতি মোঃ হান্নান,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ আফছাউদ্দিন,সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল পাল সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ নেতৃবৃন্দ দাবী করেছেন, পূর্ব তিমুর, দক্ষিণ সুদানকে স্বাধীন রাষ্ট্র বানানোর মূলহোতা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের চেয়ারম্যান লর্ড এরিক এ্যভেব্যুরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব নিয়েই প্রশ্নতোলার দুঃসাহস দেখিয়েছেন।
তারা বলেন-দেশি বিদেশী কিছু এনজিও,দাতা সংস্থা আর কিছু ভূইফোঁড় বুদ্ধিজীবি পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ী বাঙালী দুরত্ব সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা আরো বলেন-এই তথাকথিত কমিশন যতবারই পার্বত্য এলাকায় সফর করেছে তার আগে বা পড়ে ততবারই পাহাড়ে কোথাও না কোথাও সাম্প্রদায়িক সংঘাত হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই একটি গোষ্ঠী এই সংকট তৈরি করে পাহাড়ের নিরীহ পাহাড়ী-বাঙালীর চিরায়ত সম্পর্ককে নষ্ট করে দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে কলংকিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
স্মারকলিপিতে তারা আরো বলেন- ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কমিশনের পার্বত্য এলাকায় সফর ২০ নভেম্বরের মধ্যে বাতিল না করা হলে দেশ ও জাতির স্বার্থে পার্বত্য অঞ্চলের সকল বাঙ্গালীদেরকে সঙ্গে নিয়ে আগামী- ২১ নভেম্বর কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হব এবং এর জের ধরে যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী থাকতে হবে বলে হুঁশিয়ারী করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য,পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা,যারা নিয়মিতভাবে পার্বত্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে থাকে। কয়েকজন বিদেশী এবং দেশী বুদ্ধিজীবি এই সংস্থার সাথে জড়িত আছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে বিভিন্নসময় এই প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষন এবং প্রতিবেদন বিভিন্নমহল থেকে আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছে। পাহাড়ী অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলো এই কমিশনের কার্যক্রমকে সহযোগিতা করলেও বিদেশী সহায়তায় পরিচালিত এই সংস্থাটির কার্যক্রম বরাবরেই সন্দেহের চোখে দেখে আসছে পাহাড়ের বাঙালীভিত্তিক সংগঠনগুলো।

এই কমিশনের কার্যক্রমে বিতর্কসৃষ্টির কারণে সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক কমিশনের পার্বত্য জেলা সমূহ সফরে শর্তারোপ করে, ভবিষ্যতে কমিশনের পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর অনিবার্য হলে কমিশনের সাথে সরকারি প্রতিনিধি রাখার পরামর্শ দেয়। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসন্ন সিএইচটি কমিশনের সফরে তাদের সাথে কোন সরকারী প্রতিনিধি থাকছেনা বলে জানিয়েছে কমিশনের একটি সূত্র। এবারের প্রতিনিধি দলে কমিশনের কো-চেয়ার এডভোকেট সুলতানা কামাল,এলনা স্টামাটুপুলো,সদস্য ব্যারিস্টার সারা হোসেন,ড.স্বপন আদনান,ড.মেঘনা গুহ ঠাকুরতা,উপদেষ্টা জেনেকি আরেন্স এবং সমন্বয়ক হানা শামস আহম্মেদ থাকবেন বলে কমিশনসূত্রে জানা গেছে। এই কমিশনের সাথে নতুনভাবে সম্পৃক্ত মিজ স্টামাটুপুলো জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক সেন্টার এর প্রধান,তিনি এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিবের অধীনেও সিনিয়র আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
এই মাসের ৯ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত এই কমিশন পার্বত্য এলাকায় সফর করার কথা থাকলেও পরে সূচী পরিবর্তন করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে,আগামী ২২ থেকে ২৬ নভেম্বর তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান সফর করবে এবং ৩০ নভেম্বর ঢাকার একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নিজের পর্যবেক্ষন প্রকাশ করবে তারা। এই সফরে পাহাড়ী-বাঙালী,সিভিল এবং সামরিক প্রশাসনসহ আঞ্চলিক দল ও গোষ্ঠীর সাথে সভা করবে কমিশন সদস্যরা। সূত্রটি জানিয়েছে,এই বিষয়ে পরারাষ্ট্রমন্ত্রনালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতিও ইতিমধ্যে নিয়েছেন তারা। একই সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯০ সালে গঠিত এই কমিশন গঠিত হওয়ার পর এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে কমিশনের ষষ্ঠ মিশন।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×