আকাশে চাঁদ জ্বলে তার বুকের ব্যাথা নিয়ে; আমি ধরনীর পরে কি সাধিতে পারি? সাধনার প্রথম কদমে পিশে গেছে যখন একুশের ফুলমালা, যখন বৃষ্টির রিনিঝিনি হাসির আড়ালে আমি কেবলি দেখেছি অশ্রু; যে আমি হৃদয় জমিকে লাঙ্গলের ফলা দিয়ে কর্ষণে কর্ষণে ছিন্নভিন্ন করেও খুঁজে পাইনি একদানা শস্য, যখন এক সুদীর্ঘ ঊষর মরু প্রান্তর হয়ে যায় জীবন; তখন কেউ যদি বলেঃ বন্ধু, প্রাণ খুলে হাসো। আমি হাসতে গিয়ে দেখি কেবলি কান্নার দমকিত উচ্ছাস বেরিয়ে আসে, সুনামীর প্রয়োল্লাসে কম্পিত হয় বুকের পৃথিবী!
তুই ভাল আছিস্; আমার এ বিশ্বাসে ফাটল খুঁজিসনে আজ। বরফ দেশীয়রা বলেঃ ভাল থাকা নিজের ইচ্ছেরঙ; তুই তুলি নিয়ে আঁকতে থাক্, যেমনটি তুই চাস্। কিন্তু সবাই কি আঁকিয়ে হতে পারে বল? সব চোখে কি এত রঙ ঝরে? সব মন কি ক্যানভাস হয়? সব হাত কি তুলি হতে পারে? সাত সমুদ্র চিরদিন আকাশের ছবি আঁকে বুকের ধূসর ক্যানভাসে; অথচ অজানা হাজার, লক্ষ, অযূত, নিযূত, কোটি বছরেও নীল রঙ খুঁজে পায়নি কেউ সমুদ্রের নুনতিক্ত বুকে। তবুও আমি হাসি, হাসতে হাসতেই কাঁদি, কাঁদতে কাঁদতেই আবার সুখী হই, দুঃখ পাই; আমি একদিন হারিয়ে যাই আমার মৌলিকতায়।
আজকের অতু্যষ্ণ দাহদাহের বুকে আমি বৃষ্টির স্বপ্ন দেখি, বৃষ্টির দেশের অন্তর দেখে হেমন্তের শুকনো দিনের খোয়াব, আমি বেঁচে থাকবো আগামী কাল, ঘর বাঁধবো আগামী বসন্তে, দোলনা দোলাবো তারপরের শীতে, তারপরে, তারপরে এবং তারও পরে... এভাবেই; আমার স্বপ্নেরা উড়ে উড়ে বেড়ায় অনাদি হতে অনন্তে। তুই জানিস্, আমি বেঁচে আছি এই একটি রশির ফিনফিনে শরীরে ঝুলানো দোলনায় চেপে; যার প্রাণাঘ্রাত নাম 'স্বপ্ন'। আমাকে জাগাসনে বন্ধু, ভেঙ্গে দিস্নে আমার স্বপ্নের পৃথিবীকে; এত তাড়াতাড়ি আমি কেয়ামত চাই না রে!
তোরই-
"ফএমু"
২৩.০৬.২০০৭, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।
ছবির জন্য কৃতজ্ঞ যেখানে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


