গুলিস্তানের একটি মধ্যবিলাসী হোটেলের সামনে দিয়ে চলছিলাম আনমনে, বেশ কিছুদিন থেকে শুনে আসছি যে, সম্পর্কে দূরত্ব থাকলেও প্রায় প্রতি সপ্তাহে যাদের বাসায় যাই সেই মামা এই হোটেলেই চাকুরী করেন। ভাবলাম একটা সালাম ঠুকে আসি। জানতাম না যে, তিনি মহামান্য ম্যানেজার। কাউকে জিজ্ঞেস করতেই অতিমাত্রার সম্মাননার সাথে নিয়ে চললো হোটেলের সর্বোচ্চ তলায়। কর্মচারীদের অতিসম্মান মামার অফিস রুম পর্যন্ত পেঁৗছে হয়ে গেল মহা অসম্মান। বর্তমানের চেয়ে আরো অনেক গরীব আর দুরবস্থায় ছিলাম আমরা। তাই মহাসম্মানী(?) পোষাকে সজ্জিত হতে পারিনি; মনে হলো সেটাই ছিল অপরাধ। নয়ত বাসার যত্ন-আত্তিরের সাথে অফিসের 'অ'-সংযোগটাকে মেলানোর আর কোন ইসূ্য খুঁজে পাইনি।
শুধু কি নিজের ঘাড়ে কাঁঠাল ভেঙ্গেছে বলেই চেঁচাচ্ছি? না, তা নয়; বরং মঞ্জু'পুর জামাইয়ের হতদরিদ্র চোখদু'টোর করুণ দৃষ্টি আমাকে কষ্ট দেয় আজো। সহপাঠী বন্ধুদের নিয়ে আমাদের বয়সটা এমন যে, চিত্তে ও মনে তখন ধীরে ধীরে আত্মসম্মানবোধ, বংশীয় গৌরব আর অর্থোহংকারের ডালপালা গজাতে শুরু করেছে। যে গাঁয়ের নাম শুনলেই হৃদপিণ্ডে রক্তের ছলৎকার রক্তোচ্ছাসে রূপ নিত, দুলাভাইয়ের বাড়ী ছিল সে গাঁয়ে। মাধ্যমিকের পর ছুটিময় তিন তিনটে মাসের প্রায়টুকুই কাটিয়েছি সে গাঁয়ের বন্ধুদের বৈকালিক আর নৈশ আড্ডায়। সামনে পেয়ে বরাবরের মতই আগে থেকে সালাম দিয়ে যে আন্তরিকতা দেখাতো, তা বোধ হয় কেউ কোনদিন লিখে বুঝাতে পারবে না। সেদিনের আড্ডার বন্ধুরা চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলো, কেউ কেউ বলেই বসলো যে, এই . . . . তোর দুলাভাই?
সেদিনের অনভিজ্ঞ আর স্বল্পজ্ঞান আমার সত্তা তাদের সে উপহাসের কোন জবাব দিতে পারেনি; যার মর্মপীড়া আজো অনুভব করি। প্রিয় হওয়ার কোন যোগ্যতা তার আছে কি না জানিনা, তবে দুলাভাই মানুষটি তার অসাধারণ আন্তরিকতা প্রদর্শন করে কিংবা তার সেদিনকার অপমানিত দু'টি করুণ চোখ তাকে আমার কাছে শর্তহীন প্রিয় করে তুলেছে।
(অসমাপ্ত)
ছবির জন্য কৃতজ্ঞ যেখানে ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৭ সকাল ১০:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



