-"মুজাহিদ ভাই, চলেন বেড়িয়ে আসি। গাড়ীও প্রস্তুত, বেরুতে হবে কিন্তু খুব ভোরে।"
যদিও জুনিয়র, যদিও পছন্দে-অপছন্দে ব্যবধান, তবু এমন একটি প্রস্তাব আঙ্গুলের ফাঁক গলে গতিময় জীবনের রাস্তায় হারিয়ে যাক; তা মোটেও চাইনি।
ফজরের পর থেকেই প্রস্তুত হয়ে আছি, যাত্রা শুরু করলাম ছ'কি সাতটায়। পেছনে মদীনা মুনাওয়ারা আর ভোরের সূর্যটিকে দূরে সরাতে সরাতে আমরা এগিয়ে চলছিলাম পশ্চিমের বদর অভিমুখে। না! তখন রমাদান মাস ছিল না, ছিল না ৬২৪ খৃষ্টাব্দও আর আমরাও রওয়ানা হইনি আপনাপন পিতা-ভাই কিংবা চাচা-মামাদের সাথে শুধুমাত্র সত্যের তরে লড়াই করতে।
মোট মিলিয়ে চারজন, গাড়িটিকে 'জাওয়াযাত' অর্থাৎ, বহিরাগতদের পাসপোর্ট-পরিচয়পত্র চেক করার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর এক টিঙটিঙে সদস্য হাতের ইশারায় দাঁড় করালো; যখন আমরা তাদের চৌকি অতিক্রম করছিলাম। কথাটা সর্বক্ষেত্রে সমভাবে সত্য কি না জানিনা যে, দুর্বলেরা ক্ষমতা পেলে অতিরঞ্জনে দুষ্ট হয়ে পড়ে। চৌকির দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যটি আমাদেরকে গাড়ী থেকে নামালো, তার দেখা প্রয়োজন সেই পরিচয় পত্রসহ পকেটের টিস্যূটিও ঝেড়ে ছাড়ল। তারপর ত্যক্ত-বিরক্ত করে শেষ পর্যন্ত চোখের ইশারার ছাড়পত্র দান করল।
বদর যখন পৌঁছুলাম, তখন সেখানে "বদর" বা পূর্ণ চাঁদ ছিল না; ছিল "শামচুদ্দ্বোহা" বা সকালের সূর্য। পেরুচ্ছিলাম সাদা সাদা বালুর চাদরাবৃত কখানা পাহাড়ের লোভনীয় শরীর ঘেঁষে। প্রায় চিৎকার করে গাড়ী থামালাম, নামলাম, নীলাকাশের নিচে সাদা বালুকার চিত্তে যেন মিশে গেল আমাদের চিত্তগুলো; ওরা বিনোদিত হলো।
কি এমন সময়, দশ কি সাড়ে দশ হবে। একটা ফাস্টফুডের দোকান থেকে নাস্তা সেরে নিলাম ধুমছে গালগপ্প মিশিয়ে। তারপর বদরের অলিগলি যেন সাঁতরে পেরুলো আমাদের গাড়িটি। সামনেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ত্যাগীদের অনন্তপূর্ব আবাসভূমি........!
১৬.০১.২০০৮, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব।
একটি ভ্রমণ কাহিনী।
(শেষ হয়নি)
ছবি: নিজস্ব।
বর্ণনা: পোষ্টে উল্লেখিত- "সাদা সাদা বালুর চাদরাবৃত কখানা পাহাড়"।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

