ভূমিকা লম্বা করতে গেলে দিকভ্রান্ত হয়ে যেতে পারি, তাই বিষয়ে ফিরে আসি। আঞ্চলিক ভাষার সাথে গেঁয়ো কিংবা শহুরে সবারই একটা যোগাযোগ আছে। যারা শহুরে বলে দাবী করে থাকেন, তাদেরও নিজস্ব ঐতিহ্যগত একটা ভাষা আছে, একটা কথ্যটান আছে। কিন্তু শিক্ষিত কিংবা সার্বজনীনভাবে অধুনা মনোভাবাপন্ন মানুষেরা চেষ্টা করে থাকে বইয়ের ভাষায় বা লিখিত ভাষায় ভাষার চর্চা করার জন্য। এটা কখনোই অনুৎসাহিত করার নয়; বরং বিশ্ব সভ্যতার মানদণ্ডে এটাই আধুনিকতার একটা মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। তাই বলে ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা বা হেয় প্রতিপন্ন করাটা কোনভাবেই আধুনিকতা কিংবা সুসভ্যতার পর্যায়ে পড়ে না।
বলছিলাম আঞ্চলিক ভাষার কথা, আজো শোনা যায় আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার অপরাধে অনেক শহুরে বন্ধু গাঁয়ের বন্ধুকে "গেঁয়ো", "ক্ষেত" ইত্যাদিতে অলংকৃত করে থাকে। পাঠককুলে জিজ্ঞাসা: এটাকে কি বলবেন আপনারা? আধুনিকতা না কি সংকীর্ণতা? মনে পড়ে, গাঁয়েই ছিল আমার শিশুকাল, এমনকি কৈশরেরও প্রায় অধিকাংশ, শেষদিকে কিছুদিন শহুরে জীবনের সাথে জড়িয়ে পড়েছিলাম। তখনকার দিনগুলোতে গাঁয়ের বাড়ীতে যাওয়া হত মাত্র দিন দু'তিনেকের জন্য। তো শহুরে বন্ধুদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই আমি বইয়ের ভাষায় কথা বলতাম আবার কখনো কখনো পরিবেশের প্রভাবে তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষাও চলে আসতো মুখে। তাই গাঁয়ে ফিরে দু'তিন দিনে আবার পুরোপুরি গাঁয়ের ভাষায় কথা বলতে কিছু কিছু বাধতো।
দেখলাম, অনেক গাঁয়ের বন্ধুরাই এটাকে সহজভাবে মেনে নিতের পারেনি, আড়ালে আবডালে কিছু কটুকথাও বলে ফেলেছে। কিন্তু একথা অস্বীকার করবো না যে, আজো গাঁয়ের কোন ব্ন্ধুকে পেলে পুরোপুরি আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে যে আনন্দ পাই; তা হাজার শহুরে পরিবর্তিত ভাষাতেও মেলে না। এখন তো মিশ্রিত অবস্থা প্রবাস জীবনে, এখানে প্রায় সকল অঞ্চলের ভাষাই শোনা যায়, এমনকি আরবদের মাঝেও যে আঞ্চলিকতা আছে অঞ্চলভেদে, সেগুলোতেও দারুন উপভোগ করে থাকি, কখনো কখনো বেশ একচোট মজাকরা হয়ে যায়। কিন্তু কেউ কেউ একে নেয় তামাশা হিসেবে আবার কেউ কেউ রেগে মেগে আগুন জ্বালিয়ে-নিভিয়ে
সবমিলিয়ে ভাষার এসব ব্যবধান আমাদের জীবনে সত্যিই একটা বিরাট অংশ দখল করে আছে, যেখানে আছে আবেগ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভ, তামাশা, উপহাস, ঘৃনা, অশ্রু.....সব, স-অ-ব কিছুই।
ছবি: নিজস্ব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

