শুনলাম ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন ১১ ঘন্টার এক সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। এদেশ সফরে তিনি কি এনেছেন কিংবা কি নিয়ে যাবেন, সেসব কথা ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিলেও জন ম্যাককেইন নিজেই এক জীবন্ত শিক্ষা হয়ে আমাদের ভূমিতে অবতরণ করেছেন।
নির্বাচনের ঝড়ো হাওয়া বইছে এখন বাংলাদেশের সবুজ ভূখণ্ডের সবটুকু জুড়ে। দাবীদাওয়ার রশি টানাটানির পর মোটামুটি এখন সবাই নির্বাচনমুখী। কিন্তু 'নির্বাচন হবে, সবাই নির্বাচনে যাচ্ছে' এটুকু সান্ত্বনা মানুষের মনে স্থান করে নিতে পারলেও নির্বাচনের পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে দারুন ভয় ও অনিশ্চয়তা এখনো গণমানুষের মনে। কেননা, অতীতের হাজারো ঘটনা-দুর্ঘটনা, তিক্ত অভিজ্ঞতা এদেশের মানুষকে তাদের নেতৃবৃন্দের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলার মত অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে। তারা জানে নির্বাচনে যে দল হেরে যাবে, কারচুপি হলে তো বলাটা যুক্তিসঙ্গত হবে, কিন্তু না হলেও বলবে যে, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি, সুষ্ঠু হয়নি, কারচুপির নির্বাচন হয়েছে ইত্যাদি। ইতিমধ্যে "ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং" শব্দাবলীতে দেশবাসী সে আভাষও পেয়ে গেছে আগাম।
অন্যদিকে আমাদের প্রাক্তন এক প্রেসিডেন্টে "নির্বাচনী ইশতেহার" হয়ে দাঁড়িয়েছে "জীবনে আরেকবার প্রেসিডেন্ট হওয়া"র স্বপ্ন দেখা। দেশ, জনগণ নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই; প্রেসিডেন্ট হওয়াই যেন তার রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশ নেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য। পরন্ত তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্তও প্রেসিডেন্ট থাকার ইচ্ছের কথা আমরা জানতে পারি।
চিন্তা, চেতনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের এহেন ফকিরী ও সন্ত্রাসী দেউলিয়াপনার সময়ে সেই জন ম্যাককেইন আমাদের দেশে এলেন যিনি তার জীবনের সর্বশেষ (প্রায়, প্রেসিডেন্ট হবার) সুযোগে হেরে গিয়ে যে বক্তব্য দিলেন, তা ইতিহাসে যে স্থানই পাক না কেন, আমাদের দেশীয় নেতৃবৃন্দের জন্য একটা বিরাট শিক্ষা হতে পারে। তিনি বলেছিলেন: "আমেরিকার জনগন স্পষ্টভাবে তাদের মতামত জানিয়েছে। সিনেটর ওবামাকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্যে অভিনন্দন জানিয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।………. সিনেটর ওবামার জয় এটাই প্রমান করে যে আমেরিকা তার বর্বর এবং নিষ্ঠুর অতীতকে পিছনে ফেলে এসেছে।… আমাদের দেশ একটা চরম ক্রান্তিলগ্নের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে, আমি আমার সর্বাত্নক শক্তি দিয়ে পরবর্তী প্রেসিডেন্টকে এই ক্রান্তিকাল দূরীকরনে সহায়তা করার অংগীকার করছি। আমি আমেরিকার প্রতিটি নাগরিককেও অনুরোধ করছি নিজেদের ভিতরের সমস্ত পার্থক্য এবং ভেদাভেদকে পেছনে ফেলে নতুন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিরাপত্তার জন্যে দেশগঠনের কাজে যোগ দিতে।………" (অনুবাদটুকু ফারজানা মাহবুবার লেখা থেকে ধার করা। Click This Link)
আমাদের ধর্মীয় শিক্ষার কথা নাই বা তুললাম, নাই বা তুললাম ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা; বর্তমানের এই সময়েও যদি একজন ম্যাককেইন পারেন নির্বাচনে হেরে গিয়ে এমন নজীর স্থাপনকারী বক্তব্য দিতে ও কাজ করতে, তবে তার থেকেই আমাদের নেতৃবৃন্দের শিক্ষা নেয়া উচিত।
যদিও মার্কিন বৈদেশিক নীতিকে আমাদের জন্য কখনোই কল্যাণকর মনে করার সুযোগ নেই, তথাপি জগতে যাকিছু কল্যাণকর, ভাল তা গ্রহণের মধ্যেই লুক্কায়িত রয়েছে উন্নত হবার সিঁড়ি। আমাদের নেতৃবৃন্দ কি পারবেন ম্যাককেইনের সাথে হাত মিলিয়ে তার উপরোল্লেখিত বক্তব্যটি ছুঁতে। পারবেন কি আগামী নির্বাচনের পরে বিজয়ী দলের প্রতি সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে? কারণ, আমরা বিগত দিনের দুঃসহ বাস্তবতার দুঃস্বপ্ন আর দেখতে চাই না, আর না.....!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


