আল্লাহ জ্বিন ইনসানকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। তাঁর আদেশ-নিষেধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্যে, এবং তাঁর নাম ও গুণাবলিসহ তাকে জানার জন্য।
আমি সৃষ্টি করেছি জ্বিন ও মানুষকে এজন্য যে, তারা আমারই ইবাদত করবে। আল কুরআন সূরা যারিয়াত, আয়াত-৫৬)
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদেরকে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।
তিনি আল্লাহ, যিনি সাত আসমান এবং অনুরূপ যমীন সৃষ্টি করেছেন; এগুলির মাঝে তাঁর নির্দেশ অবতীর্ণ হয় যেন তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞানতো সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে। (আল কুরআন সূরা তালাক, আয়াত-১২)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা সুষ্পষ্টরূপে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সৃষ্টিকুল সৃজন করেছেন, যেন তাঁর ইবাদত করা হয়, যথাযথ ভাবে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং তাঁর আদেশ-নিষেধের অনুসরণ করা হয়। কারণ ইবাদত হল: আল্লাহর আদেশ-নিষেধসমূহকে সম্মান করার সাথে সাথে তাঁর একত্ববাদকে স্বীকার করা, এবং তাঁর আনুগত্য করা। আকাশ-যমীন ও এ দুয়ের মাঝে সবকিছুর সৃষ্টির রহস্য বর্ণনা করে তিনি বলেন, এসব সৃষ্টি করেছেন, যাতে সৃষ্টিকুল ধারণা পায় যে, আল্লাহ সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান, এবং তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে-সবকিছুই তাঁর জ্ঞানের অধীন।
এর মাধ্যমে তা জানা গেল সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি ও অস্তিত্বদানের রহস্য কি, আর তা হচ্ছে, সৃষ্টিকুল আল্লাহর নাম ও গুণাবলিসহ তাঁর পরিচয় জানবে, এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান ও সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত মর্মে ধারণা লাভ করবে। যেমনি ভাবে এদের সৃষ্টি ও অস্তিত্বদানের হিকমত হল, তারা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁকে সম্মান করবে, তাঁর মহত্ব স্বীকার করবে, এবং তাঁর বড়ত্বের কারণে তারা তাঁর আনুগত্য করবে।
ইবাদত হচ্ছে: আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে নিবেদন করা, এবং তাঁর কাছে অবনত হওয়া। আদেশ-নিষেধ বিষয়ক দায়িত্বগুলো সম্পাদন করা। মহান আল্লাহ যা হুকুম করেছেন তা পালন করাকেও ইবাদত বলা হয়, করণ এগুলো বান্দাকে আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর কাছে নতশির হওয়ার দিকে ধাবিত করে।
যখন মানুষের পক্ষে শুধুমাত্র বিবেক-বুদ্ধির মাধ্যমে ইবাদতের স্বরূপ ও তার মূল তত্ত্বকথা বিস্তারিতভাবে আয়ত্বকরা সম্ভব নয়, অনুরূপভাবে ওই বিবেকের মাধ্যমেই আহকাম তথা শরয়ী বিধি-নিষেধ সবিস্তারে জানাও অসম্ভব। তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা যে উদ্দেশ্যে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন সে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করলেন। অবতীর্ণ করলেন অগণিত কিতাব। যাতে তারা জেনে শুনে ইবাদত করে, এবং জেনে শুনে নিষিদ্ধ কাজসমূহ ত্যাগ করে। সে বিচারে রাসূলগন হলেন মাখলুকের পথ প্রদর্শক (পয়গাম্বর) এবং হেদায়েতের ইমাম। জ্বিন-ইনসান সকলকে তারা আল্লাহর বন্দেগি এবং ইবাদতের দিকে আহবান করেছেন। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে স্বীয় বান্দাদের সম্মানিত করেছেন। তাদের প্রেরণ করে নিজ বান্দাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। এবং তাদের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন সঠিক ও সরল পথ। যাতে বান্দাদের নিজেদের ভালো-মন্দ বিষয়ে পরিষ্কার জানা থাকে। এবং বলতে না পারে যে আল্লাহ আমাদের কাছে কী চেয়েছেন তা আমরা জানতে পারিনি। আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা এবং ভীতিপ্রদর্শনকারী আসেনি। আল্লাহ এরূপ ওজর-আপত্তির রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন রাসূলদের প্রেরণ ও কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করে ।
যেমন আল্লাহ বলেন: আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই বার্তা দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর বন্দেগি কর, এবং তাগুতকে বর্জন কর।(আল কুরআন সূরা নাহল আয়াত ৩৬)
‘আমি তোমার পূর্বে কোন রাসূল প্রেরণ করেনি এই ওহী ব্যতীত যে, আমি ছাড়া অন্য কোন মা'বুদ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর। নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদের প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এবং তাদের সঙ্গে পাঠিয়েছি কিতাব ও (ন্যায়ের) মানদণ্ড যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।(আল কুরআন সূরা হাদীদ-২৫)
মানব জাতি একই সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল; অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে নবীগণকে প্রেরণ করলেন এবং সত্যসহ তাদের সাথে কিতাব নাযিল করলেন, যাতে মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করত।(আল কুরআন সূরা বাকারা-২১৩)
অতঃএব আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে তিনি রাসূলদের (পয়গাম্বর) প্রেরণ করেছেন, এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, মানুষের মাঝে হক এবং ইনসাফ ভিত্তিক ফায়সালা করার জন্য। এবং শরীয়ত ও আকীদার যে সব বিষয়ে তারা বিরোধ করেছিল তা বিশ্লেষণ করার জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
.jpg)



