এ্যমট্র্যকে দ্বিতীয় দিন
''পর্ব - ৩''
আলবাকার্কিতে ট্রেন পৌঁছতে স্থানীয় সময় দুপুর একটা পেরিয়ে গেল। এর আগে পাশের জিনিওলজির ভদ্রমহিলা ''ফ্ল্যগস্টাফ'' স্টেশনকেই আমার কাছে বলেছিলেন ওটা ''নিউ মেক্সিকোতে''। পরে অবশ্য ''South West Chief'' অর্থাৎ যে এ্যমট্র্ক ট্রেনটি লস এঞ্জেলেস থেকে শিকাগো যায়, এর ব্রোশিউর দেখে বুঝলাম এটি '' ফ্ল্যগস্টাফ'' স্টেশনটি এ্যরিযোনাতে।
পাশের দুটি সীট খালি হওয়াতে মনে করেছিলাম দুপাশের জানালা দিয়ে ছবি নেয়া যাবে। না সে শখ পুরন হোল না। এক অল্প বয়সী মেয়েকে তার বাবা ছেড়ে দিয়ে গেল, আমাকে জিজ্ঞেস করল,
-- কোথায় যাচ্ছ?
-- বহু দূরে, শিকাগো, বাফেলো হয়ে টরন্টো, ক্যনাডা।
-- ওহ, লং ট্রিপ, ও আমার মেয়ে, শিকাগো যাচ্ছে। ওর মা ওকে শিকাগো থেকো ওকে পিক আপ করবে।
-- ওহ, আচ্ছা।
আমি বললাম, এক দিন এক রাত মেয়েটা একা যাবে। বাংলাদেশ হলে কোন পিতামাতা সম্ভবত বাংলাদেশের কোন রুটে কিশোর বয়সি মেয়েকে এভাবে ছাড়তেন না। এটা এখানে সম্ভব কারন প্রত্যেক টা টিকেট বিক্রী হচ্ছে পরিচয় পত্র নিশ্চিত করনের পর। পরিচয় পত্র ছাড়া এ্যমট্র্যক কোন টিকেট বিক্রী করে না। ''বাংলাদেশ রেলপথ'' কবে এটা করবেন।
আলবাকার্কি ছাড়ার পর পরই কেন্দ্রীয় মাইকে ঘোষনা করা শুরু করল, সামনে পাহাড় পর্বত ও এলাকার ঐতিহাসিক ধারাবাহিক বিবরণ '' অবজার্ভেটরি'' লাউন্জে শুরু করবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। তাড়াতাড়ি করে ক্যমেরা স্ট্যন্ড সহ সামনে '' অবজার্ভেটরি'' লাউন্জের দিকে ছুটলাম (যদি আবার সিট না পাওয়া যায়।)
সিট পেয়ে গেলাম, অত ভিড় ছিল না।
Click This Link
উপরের লিংক এ ''South West Chief'' ট্রেনটি রুট ম্যপ দেয়া হল।
মরুভূমি ছেড়ে যখন ট্রেন ধীরে ধীরে নিউ মেক্সিকো ও কলরাডোর নয়নাভিরাম দৃশ্যের পাইন গাছ ও অন্যান্য পাহাড়ী গাছের মাঝ দিয়ে যাওয়া শুরু করল তখন লাউঞ্জের (আমি সহ) সবার মাঝে বিশাল এক তৃপ্তির অনুভবতা লক্ষ করলাম। পাশে বসা বয়স্ক আফ্রিকান আমেরিকান মহিলা বার বার বলতেই থাকলেন, '' আই লাভ মাউন্টেইনস''। (অবশ্য আমাকে না, তারই কোন এক পরিচিতকে)। ভদ্রমহিলা অবশ্য বারবার আমার ছবি ও ভিডিও তোলা লক্ষ করছিলেন। আমি ছবি, ভিডিও আার রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করে, সদ্য তোলা ভিডিও আবার রিভিউ করছিলাম। ভদ্রমহিলার ক্যমেরা আমারটার থেকে আরও অনেক ফিচারযুক্ত – সেটা আমি অবশ্য দেখেই বুঝেছিলাম। ওনারটা ছিল লেটেষ্ট ডিজিটাল এস এল আর সহ, আমার স্যমসাং ''NV15'' এ যা ফিচার ছিল। ওনার সংগে কথা বলে জানলাম তার মেয়ে তাকে ঐ ক্যমেরা উপহার দিয়েছে (সম্ভবত এই ট্রিপ সহ)। তাঁকে একটা ভিডিও তার ক্যমেরা দিয়ে তুলতে সাহায্য করলাম। কিন্তু ''রিভিউ'' দেখাতে পরলাম না।
ধারা বিবরনী থেকে জানতে পারলাম, “সানটা ফে '' হল, নিউ মেক্সিকোর রাজধানী। ইলেকট্রিক্যল ইনসুলেটর হিসাবে ব্যবহৃত ''মাইকা'' এসব পাহাড় থেকেই প্রায় দেড় শ বছর পুর্ব হতে আহরন করা শুরু হয়েছিল। গ্র্যন্ড ক্যনইয়ন জাতীয় কিছু পাহাড়ি অঞ্চল ও দেখা গেল।
কলরাডোর পর ট্রেনের দৃশ্য পুরো বদলে গেল। বৃষ্টি হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল ট্রেনে করে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল দিয়ে ভ্রমন করছি। বাসা বাড়ি ও কৃষি কারখানা গুলো বাদ দেয়া হলে একেবারে তাই মনে হয়। মিসিসিপি নদী ও দেখা হল, যেটুকু দেখেছি মনে হল কর্ণফুলি নদীর রুপ নেয়া। পদ্মা বা মেঘনার মত না আাছে বিশালতা না রয়েছে সেখানে উম্মত্ততা। সংগে মার্ক টোয়াইন খ্যাত চাকতি জাহাজ। ছবি নেয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু খুব সম্ভবত ভাল আসেনি।
শিকাগো শহরে ট্রেন চলে গেল আন্ডারগ্রাউন্ডে, ব্যটারী চালিত গল্ফ কারের ন্যয় ট্রলি দিয়ে মালামাল উপরে অপেক্ষা কক্ষে নিয়ে এ্যমট্র্যকের লোকজনই সাহায্য করল। বাইরে যাবার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু হাতে চার চারটা মালামাল কোন লকারে রাখতে পারলাম না। বহনকৃত বিছানাটা কোন লকারে ঢুকবে না বলে। অগ্যতা ৬ (ছয়) ঘন্টা অনিচ্ছা সত্বেও শিকাগো ইউনিয়ন স্টেশনেই কাটাতে হল। সময় কাটাতে হবে তাই বিভিন্ন ক্যটালগ দেখা শুরু করলাম। এ্যমট্র্যক শিকাগো ইউনিয়ন স্টেশনে সম্ভবত আঠাশটা প্ল্যটফর্ম আছে (যতদুর মনে পরে)।
স্থপতি এফ আর খানের নকশায় তৈরী ''সিয়ার্স টাওয়ার'' এ ওনার নাম না থাকাতে একটু খারাপ লাগলো। অবশ্য পরে তার সাইট থেকে দেখলাম তার সন্মানে শিকাগো শহরে একটি রাস্তার নামকরন করা হয়েছে। তার সাইট হল
http://www.fazlurrkhan.com/ysk.htm
কিছু ছবি আর একটি ভিডিও লিংক (http://www.youtube.com/watch?v=otZXvai4vCM) আাপনাদের জন্য দেয়া হল।
চলবে (হয়তো)
আলোচিত ব্লগ
রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।
সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।