( নিচের পোষ্ট এ সার্টিফিকেট বিক্রি করা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে মোটেও সহানুভুতি জানানো হয় নাই, কারণ তাদের পাপের ফল বয়ে বেড়ায় অসংখ্য পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক ভালো মানের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা, আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইবোনেরা আপনাদের জন্যে একদম শেষের লাইনগুলো। )
গত কিছুদিন যাবৎ ব্লগ সহ বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যাল্যের ভ্যাট থাকা উচিৎ কি উচিৎ না, তাই নিয়ে ব্যাপক আলাপ হচ্ছে। অনেক ব্লগার এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের কথা শুনে মনে হচ্ছে, এটা আলাপ করার কোনো বিষয় ই না। ক্ষত্রীয়দের নিয়ে আবার আলাপ কি ? আমি তাদের সাথে কিছুটা ভিন্নমত পোষন করছি।
প্রথমেই বলে নেয়া উচিৎ, শিক্ষা কোনো পণ্য নয়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর ভ্যাট বা কর বসানো আদৌ শুভ উদ্যোগ নয়। আজ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল মাত্র ধনীরাই পড়াশনা করে এই অযুহাত দেখিয়ে ভ্যাট বসানো হয়েছে, কাল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার সরকার আর বইতে পারছেনা অযুহাতে যদি সকল ভর্তুকি বাতিল করা হয় তখন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কি হাল হতে পারে কেউ কি একবার ভেবেছেন ?
আমি নিঃসঙ্কোচিত্ত্বে স্বীকার করে নিচ্ছি যে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মেধাবী ছাত্র সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশোনা করছে। তাদের ভাগ্য খুবই ভালো যে পড়াশনা করার জন্যে অন্তত পরিবারের ওপর কোনো চাপ তাদের দিতে হচ্ছে না। ভালো।
এবার কিছু হিসাব নিকাশে আসি। এ বছরই জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে কমকরে হলেও ২৯০০০ ছেলেমেয়ে। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা কত ?? শুধু যে ২৯০০০ জিপিএ ৫.০০ পাওয়া ছেলেমেয়েরাই মেধাবী, তা তো নয়। ৪.৯৪ বা ৪.৮৮ পাওয়া ছেলে মেয়ের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এদের সকলের জায়গা কি হবে সরকারী বিশ্ববিদ্যাল্য গুলোতে ??
কেনো এ হিসাব দিলাম ??
কারণ আছে। দুই দিন আগেও ন্যাশনাল ভার্সিটির অবস্থা নিয়ে একটা পোষ্ট দিয়েছি। এমতাবস্থায় অনেক অভিভাবক ই চান না তার সন্তান ন্যাশনাল ভার্সিটির অন্তর্ভুক্ত কোনো কলেজে পড়ুক। তাই জিপিএ ৫.০০ পাওয়া অনেক ছেলেমেয়ে ই বাধ্য হয় বেসরকরী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার কারণে কি এই ছেলেমেয়েগুলো মেধাহীন হয়ে গেলো, অথবা তারা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে বলেই তারা মেধাহীন হয়ে গেলো ???
কি জানি আপনাদের কাছে মেধার সংজ্ঞা কি ??? এস.এস.সি , এইচ.এস.সি তে জিপিএ ৫.০০ পাওয়ার পরেও কোটাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারা ছেলেমেয়েগুলো কি আপনাদের কাছে মেধাহীন ??????? হতে পারে। আবার নাও হতে পারে।
অনেকে প্রশ্ন করেছেন, ভ্যাট ত মালিকের ওপর বসান হয়েছে, ছাত্ররা ফুসছে কেনো ??? কারণ জনাব, আপনি যখন মিষ্টি কিনতে যান, মিষ্টির ওপর বসান ভ্যাটটা কিন্তু দোকানদার দেন না, আপনি মিষ্টির দামের সাথে দিয়ে আসেন। তেমনি, অনেক ধনী পরিবারের সন্তানের পাশাপাশি যে সকল গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরা পড়ছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ( যারা আপনাদের মত মেধাবী নয়, বা সৌভাগ্য যাদের হাতে এসে ধরা দেয় নি ) তাদের জন্যে বাড়তি এই ভ্যাটটা সত্যি ছিলো বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতই।
আপনারা বারবার দাবী করে আসছেন, আপনারা মহান, কই ?? আপনাদের মনোভাবে তার প্রকাশ তো দেখি না। ধরে নিলাম, বাংলাদেশে কেবল মাত্র সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশোনা করানো হয়, আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল মাত্র ছেলেমেয়েরা যাওয়া আসা করে। তা, পড়াশোনা করা মানুষরা কি তাদের চেয়ে নিচুদের ফারমের মুরগী বলে সম্বোধন করে ??
আমার মনে হয়, সরকারী আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বন্ধুদের একে অপরের প্রতিপক্ষ বানাচ্ছে মিডিয়াগুলো। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ টাকা করা হলে ছাত্ররা যখন রাস্তায় নেমে ভাংচুর করেছে, সেটাকে মিডিয়াতে দেখানো হয়েছে ছাত্রদের ন্যায্য দাবী আদায়ের আন্দোলন হিসেবে, ( সম্প্রতি, চিটাগাং এর ঘটনা দেখেন ) অথচ ঐ একই দাবীতে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাস্তায় নামলে তাদেরকে ভাংচুর পরিহার করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানায় সরকার সহ মিডিয়ার লোকজন। এভাবে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আলাদা করা হয় ছাত্রসমাজ থেকে, যা মিডিয়ায় কাম্য নয়। এমনকি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের খবর ও প্রচার করা হয় তাচ্ছিল্য নিয়ে।
আর প্রাইভেটের ছাত্রছাত্রীরা আপনারা অভিন্ন গ্রেডের জন্যে আন্দোলন করেছেন কি ?? অথবা নিয়মিত রিসার্চ করার জন্যে আপনাদের শিক্ষকদের কে বাধ্য করছেন কি ???
অথবা অবৈধ ছাত্রভর্তি বন্ধে আপনাদেরকে মাঠে পাওয়া যাবে কি ??
( নিচের পোষ্ট এ সার্টিফিকেট বিক্রি করা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে মোটেও সহানুভুতি জানানো হয় নাই, কারণ তাদের পাপের ফল বয়ে বেড়ায় অসংখ্য পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক ভালো মানের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা, আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইবোনেরা আপনাদের জন্যে একদম শেষের লাইনগুলো। )
গত কিছুদিন যাবৎ ব্লগ সহ বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যাল্যের ভ্যাট থাকা উচিৎ কি উচিৎ না, তাই নিয়ে ব্যাপক আলাপ হচ্ছে। অনেক ব্লগার এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের কথা শুনে মনে হচ্ছে, এটা আলাপ করার কোনো বিষয় ই না। ক্ষত্রীয়দের নিয়ে আবার আলাপ কি ? আমি তাদের সাথে কিছুটা ভিন্নমত পোষন করছি।
প্রথমেই বলে নেয়া উচিৎ, শিক্ষা কোনো পণ্য নয়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর ভ্যাট বা কর বসানো আদৌ শুভ উদ্যোগ নয়। আজ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল মাত্র ধনীরাই পড়াশনা করে এই অযুহাত দেখিয়ে ভ্যাট বসানো হয়েছে, কাল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার সরকার আর বইতে পারছেনা অযুহাতে যদি সকল ভর্তুকি বাতিল করা হয় তখন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কি হাল হতে পারে কেউ কি একবার ভেবেছেন ?
আমি নিঃসঙ্কোচিত্ত্বে স্বীকার করে নিচ্ছি যে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মেধাবী ছাত্র সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশোনা করছে। তাদের ভাগ্য খুবই ভালো যে পড়াশনা করার জন্যে অন্তত পরিবারের ওপর কোনো চাপ তাদের দিতে হচ্ছে না। ভালো।
এবার কিছু হিসাব নিকাশে আসি। এ বছরই জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে কমকরে হলেও ২৯০০০ ছেলেমেয়ে। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা কত ?? শুধু যে ২৯০০০ জিপিএ ৫.০০ পাওয়া ছেলেমেয়েরাই মেধাবী, তা তো নয়। ৪.৯৪ বা ৪.৮৮ পাওয়া ছেলে মেয়ের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এদের সকলের জায়গা কি হবে সরকারী বিশ্ববিদ্যাল্য গুলোতে ??
কেনো এ হিসাব দিলাম ??
কারণ আছে। দুই দিন আগেও ন্যাশনাল ভার্সিটির অবস্থা নিয়ে একটা পোষ্ট দিয়েছি। এমতাবস্থায় অনেক অভিভাবক ই চান না তার সন্তান ন্যাশনাল ভার্সিটির অন্তর্ভুক্ত কোনো কলেজে পড়ুক। তাই জিপিএ ৫.০০ পাওয়া অনেক ছেলেমেয়ে ই বাধ্য হয় বেসরকরী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার কারণে কি এই ছেলেমেয়েগুলো মেধাহীন হয়ে গেলো, অথবা তারা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে বলেই তারা মেধাহীন হয়ে গেলো ???
কি জানি আপনাদের কাছে মেধার সংজ্ঞা কি ??? এস.এস.সি , এইচ.এস.সি তে জিপিএ ৫.০০ পাওয়ার পরেও কোটাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারা ছেলেমেয়েগুলো কি আপনাদের কাছে মেধাহীন ??????? হতে পারে। আবার নাও হতে পারে।
অনেকে প্রশ্ন করেছেন, ভ্যাট ত মালিকের ওপর বসান হয়েছে, ছাত্ররা ফুসছে কেনো ??? কারণ জনাব, আপনি যখন মিষ্টি কিনতে যান, মিষ্টির ওপর বসান ভ্যাটটা কিন্তু দোকানদার দেন না, আপনি মিষ্টির দামের সাথে দিয়ে আসেন। তেমনি, অনেক ধনী পরিবারের সন্তানের পাশাপাশি যে সকল গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরা পড়ছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ( যারা আপনাদের মত মেধাবী নয়, বা সৌভাগ্য যাদের হাতে এসে ধরা দেয় নি ) তাদের জন্যে বাড়তি এই ভ্যাটটা সত্যি ছিলো বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতই।
আপনারা বারবার দাবী করে আসছেন, আপনারা মহান, কই ?? আপনাদের মনোভাবে তার প্রকাশ তো দেখি না। ধরে নিলাম, বাংলাদেশে কেবল মাত্র সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশোনা করানো হয়, আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল মাত্র ছেলেমেয়েরা যাওয়া আসা করে। তা, পড়াশোনা করা মানুষরা কি তাদের চেয়ে নিচুদের ফারমের মুরগী বলে সম্বোধন করে ??
আমার মনে হয়, সরকারী আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বন্ধুদের একে অপরের প্রতিপক্ষ বানাচ্ছে মিডিয়াগুলো। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ টাকা করা হলে ছাত্ররা যখন রাস্তায় নেমে ভাংচুর করেছে, সেটাকে মিডিয়াতে দেখানো হয়েছে ছাত্রদের ন্যায্য দাবী আদায়ের আন্দোলন হিসেবে, ( সম্প্রতি, চিটাগাং এর ঘটনা দেখেন ) অথচ ঐ একই দাবীতে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাস্তায় নামলে তাদেরকে ভাংচুর পরিহার করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানায় সরকার সহ মিডিয়ার লোকজন। এভাবে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আলাদা করা হয় ছাত্রসমাজ থেকে, যা মিডিয়ায় কাম্য নয়। এমনকি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের খবর ও প্রচার করা হয় তাচ্ছিল্য নিয়ে।
আর প্রাইভেটের ছাত্রছাত্রীরা আপনারা অভিন্ন গ্রেডের জন্যে আন্দোলন করেছেন কি ?? অথবা নিয়মিত রিসার্চ করার জন্যে আপনাদের শিক্ষকদের কে বাধ্য করছেন কি ???
অথবা অবৈধ ছাত্রভর্তি বন্ধে আপনাদেরকে মাঠে পাওয়া যাবে কি ??
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



