somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাইলাতুর রগাইব(এবছর ৯ইজুন দিবাগত রাত) যা মূলত: অনেকরই অজানা। পড়ুন, জানুন।

০৬ ই জুন, ২০১১ রাত ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লাইলাতুর রগাইব:

পবিত্র লাইলাতুর রগাইব’ হচ্ছে রজব মাসের পহেলা জুমুয়ার রাত্রি। এ পবিত্র রাত্রিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা হযরত আমিনা আলাইহাস্ সালাম উনার মুবারক রেহেম শরীফ-এপবিত্র লাইলাতুর রগাইব’ হচ্ছে রজব মাসের পহেলা জুমুয়ার রাত্রি। এ পবিত্র রাত্রিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা হযরত আমিনা আলাইহাস্ সালাম উনার মুবারক রেহেম শরীফ-এ কুদরতীভাবে তাশরীফ নেন। ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর মর্যাদা শবে বরাত, শবে ক্বদরের চেয়েও বেশি। সুবহানাল্লাহ। ‘লাইলাতুর রগাইব’ এমন ফযীলতপূর্ণ রাত্রি, যে রাত্রিটি হচ্ছে তাসবীহ-তাহলীল, দোয়া-দুরূদ, ছলাত-সালাম, যিকির-আযকার, তওবা-ইস্তিগফার, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম, ছদকা-খইরাত, নামায-কালাম পাঠের রাত্রি। সর্বোপরি এ রাত্রিটি হচ্ছে রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত হাছিল করার ও দোয়া কবুলের রাত্রি। কুদরতীভাবে তাশরীফ নেন। ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর মর্যাদা শবে বরাত, শবে ক্বদরের চেয়েও বেশি। সুবহানাল্লাহ। ‘লাইলাতুর রগাইব’ এমন ফযীলতপূর্ণ রাত্রি, যে রাত্রিটি হচ্ছে তাসবীহ-তাহলীল, দোয়া-দুরূদ, ছলাত-সালাম, যিকির-আযকার, তওবা-ইস্তিগফার, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম, ছদকা-খইরাত, নামায-কালাম পাঠের রাত্রি। সর্বোপরি এ রাত্রিটি হচ্ছে রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত হাছিল করার ও দোয়া কবুলের রাত্রি।

গুরুত্ব:

এ মুবারক রাত্রির ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে হাম্বলী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন ঘোষণা করলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুর রগাইব’-এর ফযীলত হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর ও লাইলাতুল বরাত অর্থাৎ শবে ক্বদর, শবে বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রি অপেক্ষা বেশি।” সুবহানাল্লাহ! তখন সমসাময়িক ইমাম ও ফক্বীহগণ উনার নিকট জানতে চাইলেন, “হে হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি! লাইলাতুল ক্বদর এবং লাইলাতুল বরাতের ফযীলত সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ বর্ণনা করেছেন। কিন’ ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর ফযীলত সম্পর্কে কোথাও বর্ণনা করা হয়নি। তাহলে আপনি কিসের ভিত্তিতে ঘোষণা (ফতওয়া) দিলেন যে, ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর ফযীলত উক্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রিগুলো অপেক্ষা বেশি?”
হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জবাবে বলেন, “লাইলাতুল ক্বদর ও লাইলাতুল বরাত”-এর ফযীলত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে সত্যিই; কিন’ লাইলাতুল ক্বদর ও লাইলাতুল বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রির সৃষ্টি হয়েছে লাইলাতুর রগাইবের উসীলায়। অর্থাৎ ‘লাইলাতুর রগাইব’ না হলে ‘লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল বরাতসহ’ ফযীলতপূর্ণ কোন রাত্রির সৃষ্টিই হতো না। এ কারণেই এ রাত্রির ফযীলত সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রির চেয়ে বেশি। সুবহানাল্লাহ!
আল্লাহ পাক উনার কালাম পাক-এর ‘সূরা কাওছার’-এর ১ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার হাদিয়া করেছি।” সুবহানাল্লাহ! ‘কাওছার’-এর ব্যাখ্যায় একাধিক অর্থ উল্লেখ করা হয়- প্রথমতঃ ‘কাওছার’ বলা হয়েছে, হাউজে কাওছারকে। যা খাছ করে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন এবং এটা পান করলে জান্নাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পানির পিপাসা লাগবে না। সুবহানাল্লাহ! দ্বিতীয়তঃ কাওছার-এর আরেকটি অর্থ হলো, খইরে কাছীর। অর্থ- যা অতি উত্তম, অনেক ভাল। অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যা কিছু হাদিয়া দিয়েছেন তা সর্বকালের জন্য, সর্বদিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম।
শুধু তাই নয়, এমনকি যা কিছু আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংস্পর্শে এসেছে সেটাও সবচেয়ে মহান হয়ে গেছে। যেমন, সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা একমত হয়েছেন অর্থাৎ ইজমা হয়েছেন যে, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে রওজা শরীফ-এ তাশরীফ রেখেছেন সে রওজা শরীফ-এর যে মাটি মুবারক উনার পা মুবারকে বা শরীর মুবারকে স্পর্শ করে আছে; তার মর্যাদা আরশে আযীমের চেয়েও লক্ষ কোটি গুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে মাটির কোন ক্বদর বা মূল্য ছিল না। কিন্তু শুধুমাত্র আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শের কারণে আরশে আযীমের চেয়ে মূল্যবান, ফযীলতপ্রাপ্ত ও সম্মানিত হয়েছে।
ঠিক একইভাবে বাজারে অনেক তরিতরকারী রয়েছে দেশে বিদেশে। কোন তরিতরকারীর সাথে ঈমানের কোন সম্পর্ক নেই। তবে কদুর সাথে ঈমানের সম্পর্ক রয়েছে। তার কারণ হলো এই যে, স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কদুকে পছন্দ করেছেন ও খেয়েছেন। সেজন্য কুরআন-সুন্নাহ মুতাবিক ইমাম-মুজতাহিদগণ উনারা ফতওয়া দিয়েছেন, কেউ যদি বলে ‘আমি কদুকে পছন্দ করি না, তাহলে সে কাট্টা কাফির হয়ে যাবে।’ প্রকৃতপক্ষে কদুর কোন মর্যাদা ছিল না। একমাত্র আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কদুর সম্পর্কের কারণে কদু যেহেতু মর্যাদাবান, ফযীলতপূর্ণ হয়েছে সেহেতু কদুকে পছন্দ করা, মুহববত করা ঈমানের শর্ত হিসেবে আরোপ করা হয়েছে।
ঠিক একইভাবে ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব শবে ক্বদর, শবে বরাত ও অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হলো, ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর সম্পর্ক সরাসরি আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে।

আমল:

লাইলাতুর রগাইব’ রাত্রিতে তাসবীহ-তাহলীল, দোয়া-দুরূদ, ছলাত-সালাম, যিকির-আযকার, তওবা-ইস্তিগফার, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম, ছদকা-খইরাত, নামায-কালাম পাঠ করা উচিত । মুসলমান হিসেবে প্রত্যেক মুসলমান সরকারের তো অবশ্যই এমনকি গায়ের মুসলমান (অমুসলিম) সরকারেরও উচিত ইসলামী ঐতিহ্য ও ফযীলতযুক্ত দিবসগুলোর মর্যাদা অনুধাবনে ও ফযীলত আহরণের সুবিধার্থে সেদিনগুলোতে সরকারিভাবে ছুটির দিন ঘোষণা ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১১ রাত ১০:৩৭
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×