somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা শহর এবং মেয়ে মানুষ

০১ লা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ অনেকদিন পর ক্যাম্পাসের বাইরে গেলাম। পরীক্ষা চলছে, তাছারা ২ মাস হলো টিউশনীও করাচ্ছি না। তাই বুয়েট ক্যাম্পাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, নীলক্ষেত আর নিউমার্কেট ছাড়া অন্যকোথাও যাওয়া হয় না খুব একটা। আজকেও যাবার কোন ইচ্ছা ছিল না আমার। কিন্তু আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক বান্ধবী বলল, তার সাথে আমাকে আজ গুলশান যেতেই হবে, তার এন্ট্রানশীপের জন্য কাজ আছে, কিন্তু জায়গাটা সে চেনে না। কি আর করা, মেয়ে মানুষ বলে কথা, তার কথা তো আর ফেলা যায় না। মেয়ে মানুষ কিছু বললে সবার মাঝে যেমন একটা পৌরষ্যব্রিত্তি যেগে ওঠে আমারও তার ব্যাতিক্রম হলো না। রাজী হয়ে গেলাম। ইদানিং দুপুর ২টার আগে আমার সকাল হয় না। কিন্তু আজকে ৯টায় উঠতে হল।আমার বান্ধবীই আমাকে ঘুম থেকে উঠাল ফোন দিয়ে। রাতে ঘুম হয়নি ভালো, তাই মাথাটা একটু ব্যাথা করছিল সকালে তারাহুরার কারনে সকালে নাস্তাটাও করা হলোনা। নীলক্ষেতে গিয়ে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর সে আসলো। বাসের লাইনে প্রায় আধাঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর বাস আসলো। কিন্তু বাসে কোন ছিট ফাকা নেই, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এতদুর যেতে হবে ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গেল, আরও খারাপ লাগলো আমার বান্ধবীটির কথা ভেবে। ও সচারচর বাসে ওঠে না, তার বাইরে যাবার দরকার পরে না কখনো, আতেল মার্কা একটা মেয়ে, ক্লাস আর হল ছাড়া তার কোন গন্তব্য নেই। একদিন বলেছিলাম আমার সাথে বলাকাতে গেড়িলা মুভিটা দেখতে, সে এমন একটা ভাব করলো যে হলে গিয়ে শুধু খারাপ মেয়েরা মুভি দেখে। যাই হোক, বাসের মহিলা ছিটে দুইজন পুরুষ বসে আছে, এইটা দেখে আস্বস্ত হলাম তবুও মেয়েটিকে তো বসানো যাবে। মহিলাছিটে বসা ভদ্রলোকটিকে বললাম, ভাইয়া এইটা মে বি মহিলা ছিট। লোকটি এমনভাবে আমার দিকে তাকালো যে দেখে মনে হল, আমি তার পুর্বপুরুষের সম্পত্তির ভাগ দাবি করছি। লোকটি বলল, মহিলা ছিটতো কোথাও লেখা নেই। আমিও খেয়াল করলাম, আসলেও কোথাও মহিলা ছিটের কথা লেখা নেই, গাড়িটি নতুন, এখনো লেখালেখি করা হয়নি। তাই আমি চুপ গেলাম, ঝগড়াঝাটি ঝামেলা আমার ভালো লাগে না। তাছাড়া মাথা ব্যথা করছে কথা বলতে ভালো লাগছে না। তবে একটু পরে এক ভদ্রলোক উঠে আমার বান্ধবীটিকে বসতে দিলো। আমি দারিয়েই রইলাম। কয়েকদিন হলো এত অসহ্য গরম পরছে যে ক্যাম্পাসের এত্ত ফাকা জায়গায় অথবা ফ্যানের নিচে বসলেও ঘেমে যেতে হয়, সেখানে, রাস্তার মাঝে প্রখর রোদের মাঝে বাসভর্তি মানুষের চাপাচাপিতে পুরাই আলুভর্তা অবস্থা। এভাবেই কাটলো পরবর্তি ২ ঘন্টা। গুলশান ১ এ নামলাম ততক্ষনে সুর্য মাথার ঠিক উপরে চলে আসছে। বান্ধবী যে অফিসে যাবে সে অফিসটি গুলশান ১ থেকে একটু দূরে, তেজগাও গুলশান রোডে। ভি আই পি রোড, সুতরাং রিক্সা যাবে না। এই ঠা ঠা রোদের মাঝে হেটেই রওনা হলাম।অফিস পেতে খোজাখুজিও করতে হলো অনেক্ষন। অফিসে পৌছে এসিতে বসে মনে হচ্ছিল বেহেশ্ত পেয়ে গেছি, মনে হচ্ছিল সারাদিন বসে থাকি এখানে। কিন্তু কাজ অনেক তারাতারি শেষ হয়ে গেল। বাইরে এসে ফিরব বলে আবার বাসের লাইনে দাড়ালাম। অনেক্ষন দাড়ানোর পরেও বাস এলোনা। এদিকে সকালে কিছু খাইনি, পেটের HCl খাবারের জন্য গুতাগুতি শুরু করছে। বান্ধবীকে বললাম চল খেয়ে নেই আগে তারপর যাব, বান্ধবীও রাজী। পাশেই পেলাম একটা Chinese restaurant, ঢুকে পরলাম।আমাদের ২ জনকে যুগল ভেবে আমাদের বসানো হলো রেস্টুরেন্টের চিপার একটা টেবিলে। এইদিকটা মোটামোটি অন্ধকার, আশেপাশের টেবিলে ৩ জোড়া যুগল, তাদের অবস্থা পুরাই ১৮+ । বান্ধবীকে নিয়ে বসে থাকতে লজ্জাই লাগছিল আমার, ভাবলাম কি করলাম এতদিনে, একটা গার্লফ্রেন্ড যোগার করতে পারলাম না, গার্লফ্রেন্ড থাকলে এইরকম রোমান্স আমিও করতে পারতাম। যাই হোক খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম, বিল আসলো, বান্ধবী বিল দিতে চাচ্ছিল, ২ মাস হলো টিউশনি নেই টাকা পয়সার সঙ্কট চলছে। কিন্তু নিজের পৌরষ্যব্রিত্তি দেখানোর জন্য আমিই দিতে গেলাম বিল, পকেটে যা ছিল দিয়ে দিলাম। চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খাবার পর বাসে ওঠার মত আর মানষিকতা থাকলো না। সি এন জি দেখতে শুরু করলাম। বান্ধবী বলল সে বসুন্ধরা সিটিতে যাবে, কিছু কেনাকাটা করবে। আমিও রাজি হয়ে গেলাম, অনেকদিন বসুন্ধরা সিটিতে যাই না। এই ফাকে একটু ঘুরে আসা যাবে। এক সি এন জি ওয়ালাকে বললাম যাবেন নাকি বসুন্ধরা সিটি, সে ভাড়া চাইল ৩০০ টাকা। মাথা পুরাই গরম হয়ে গেল। এই কোথায় এসে পরলাম রে ভাই। এক সি এন জিওয়ালাকে মিটারে যাবার কথা বললে সে আমার উপর ক্ষেপে গেল, মনে হয়লো তাকে আমি বিশাল একটা গালি দিয়ে ফেলছি। অনেক্ষন পর ১৫০ টাকা ভাড়ায় একটা সি এন জি নিয়ে এলাম বসুন্ধরায়।যত যাই হোক পাশে মেয়ে মানুষ বসে থাকলে খারাপ লাগে না, কিন্তু রাস্তার জ্যাম, গরম, রোদ, গন্ধ, আর ধুলাবালি মিলে এক অস্বস্তিকর অবস্থায় পরে গেলাম। ততক্ষনে আমার মাথার ব্যাথাটা প্রখর আকার ধারন করছে। বসুন্ধরা সিটিতে পৌছে একটু শান্তি পেলাম। অন্তত গরম লাগছে না। কিন্তু বান্ধবীর সাথে প্রতিটা ফ্লোরে হাটতে হাটতে আমার জান বেরুনো অবস্থা। বান্ধবীকে বলি, আমার আর ভালো লাগছে না চল চলে যাই, বান্ধবী বলে এই আর একটা দোকান। ধুর আমি রাগ করে নিচে চলে আসলাম। সেও আসলো আমার পেছন পেছন। বসুন্ধরার সামনে থেকে রিক্সা ঠিক করতে গিয়ে আবার মাথা গরম, কয়েকদিন আগেও যেখানে ২৫/৩০ টাকায় গেছি আজ ভারা চায় ৬০ টাকা। অবশেষে ৫০ টাকা ঠিক করে আসলাম ক্যাম্পাসের দিকে, আমি নীলক্ষেত মোড়ে নেমে গেলাম, বান্ধবীকে অসহ্য লাগতেছিল তখন। হেটে হেটে হলে আসতে আসতে ভাবছিলাম, এই ঢাকা শহর আর মেয়েমানুষের মাঝে কোন তফাত নেই, ২টাই খালি পেইন দেয়।
১৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×