একরাশ বিশুদ্ধ জলের খোঁজে
আমি হেটেছি, হেটেছি অনন্ত... প্রতিনিয়ত
মরুভূমি পথে পথে তৃষ্ণার্ন্ত মানুষগুলোর কষ্টে দেখে কেঁদেছি, হেটেছি
একফোটা জলের তরে নয় সিন্ধুর খোঁজে ছুটেছি, অরণ্য প্রান্তরে। ব্যর্থ কর্কশ চিৎকার
লুকিয়ে পড়েছে পাহাড়ের খাঁজকাটা ভাজের অন্তরে । গুহা হতে চুড়া
জৃর্ণ প্রাসাদের রান্না ঘর হতে ছাদে কার্ণিশের পাড় ধরে ধরে খুজেছি,
একরাশ বিশুদ্ধ জল কোথাও দেখা যায় কিনা? জীবনের ভয়-শংকা-আপদ তুচ্ছ করে
পিয়াসে ঘায়েল আদমের শুকনো হাড়ের মর্ম-মার্শিয়া শুনে শুনে জপেছি
অভিশাপ পানি-ওয়ালাদের প্রতি, যাদের লোহার গেটের পেছনে বিশুদ্ধ জলাশয়
যাদের বন্দুকধারীদের সামনের দিকে কাঙ্গাল মানবতার সাহায্য হাত মাথা নোয়ায়
একফোঁটা জলের খোঁজে তাদের কন্ঠ হামাগুড়ি দেয়,তাদের প্রতি। আর আমি
বালিয়াড়ী এ চাতালে ক্রমাগত আঘাতি ব্যর্থ হাতে, ক্রমাগত খুঁিজ জলের আশা
প্রতিনিয়ত হাটি, হাটতে থাকি, একরাশ জল খুঁজি, কাঁিদ, নিজের তৃষ্টায়
পড়ে পড়ে চোখ রেখে শোক-গাথা পৃষ্টায় আমার নিজেরই ডুকারানো ভঙ্গুরতার,
দিশা হারাই, নিশা-দিবা হারাই, মহাকালের সাহারায় ক্রমাগত বাড়ে বালিয়াড়ী জমা
ক্রমাগত বাড়ে স্বার্থের লালসা, আর তুচ্ছ মানবতার ভুয়া-খ্যাত বুলি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ফিরি
বেদুঈনের মাটির দেয়ালে ঠুকে মরি মাথা, হাতে নিয়ে ভিক্ষ আবেদনপত্রের পাতা
জলের অভাবে চোখ বেয়ে রক্ত নামে, অশ্র“ গিলে খেয়েছে পিপার্সাত কন্ঠ। দুরে কোথাও মেঘ
দেখা যায়, আমার স্বপ্ন লাফ দিয়ে নামে নতুন করে পথে, রথে, আবারও ছুটি, একরাশ জলের খোঁজে
আমার গ্রীর্স্ম বর্ষার নাগাল পেতে পেতে মৌসুম বদলে যায়, বদলে যায় দেশ-কাল-ইতিহাস। আমি আবারও
অনুসন্ধানের সুত্র নিয়ে হেটে চলি একরাশ জলের খোঁজে............।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


