somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার মামলা, বিদ্রোহের মামলা নয়। তাই সাধারণ আইনে এ মামলার বিচারে কোনো বাধা ছিল না।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেকে এটা নিয়ে কনফিউজ থাকেন

শেখ মনি হত্যা , বিদ্রোহের আলাদা মামলা করা উচত

---------------------------------------------------------------------
ঢাকা, নভেম্বর ১৯ ২০০৯(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বঙ্গবন্ধু মামলার আপিলের চুড়ান্ত রায়ের পর্যবেক্ষণে আপিল বিভাগ বলেছে, রাষ্ট্রপক্ষ দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছ। এটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার মামলা, বিদ্রোহের মামলা নয়। তাই সাধারণ আইনে এ মামলার বিচারে কোনো বাধা ছিল না।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু মামলার রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশে এই অভিমত ব্যক্ত করেছে।

পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কমানোর পক্ষে আপিলকারীরা তাদের যথাযথ যুক্তি তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আপিলকারীদের মৃত্যুদণ্ডের হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশে বলেছে, "এ রায় দেওয়ার যুক্তি পরে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। আমরা আদেশ দিচ্ছি যে, আপিলকারী মেজর মো. বজলুল হুদা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন (আর্টিলারি) এবং মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) হাইকোর্টের ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল এবং ২০০১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের রায়ের বিরুদ্ধে পাঁচটি লিভ আবেদন দায়ের করে।"

আদালত বলেন, "নিচের যুক্তিগুলো বিবেচনার জন্য আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ (লিভ মঞ্জুর) করা হয়েছিল। এগুলো হচ্ছে: ১. হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের দুই বিচারক দুটি আলাদা এবং বিভক্ত রায় দিয়েছেন, তৃতীয় বিচারপতি দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামির বিষয় এবং পুরো রায়টি বিবেচনা না করে কেবল দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির মামলা বিবেচনা করে আইনগতভাবে মৌলিক ভুল করেছেন।

"২. মামলা দায়েরে ২১ বছরের অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে। এই অযৌক্তিক বিলম্ব আপিলকারীদের মিথ্যাভাবে জড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনার বানোয়াট গল্পের কথাই বলে। হাইকোর্ট বিভাগ এই বিষয়টি বিবেচনা না করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আইনগতভাবে ভুল করেছে।

"৩. সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা গেছে, এটি বিদ্রোহের পরিণতিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার মামলা, এটি সাধারণ হত্যাকাণ্ডের মামলা নয়। তাই আপিলকারীদের সাধারণ ফৌজদারি আদালতে যে বিচার হয়েছে তা বাতিলযোগ্য।

"৪. সাক্ষ্য-প্রমাণে একথা বলা যায় না যে এটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা সংঘটনের মামলা। কিন্তু এটি তৎকালীন মুজিব সরকারকে পরিবর্তনের জন্য বিদ্রোহ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের মামলা। তাই আসামিদের দণ্ড বেআইনি।"

"৫. রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে আপিলকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারার হত্যা ও অভিন্ন উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই গুরুতরভাবে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে।"

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, "উপরের যুক্তিগুলোতে আমাদের মতামত হলো:
১. ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৮ ও ৪৩৯ ধারার বিধান মতে তৃতীয় বিচারপতির একক এখতিয়ার হলো তিনি কোন কোন পয়েন্টে যুক্তিতর্ক শুনানি গ্রহণ করবেন। এতে বলা যায়, তিনি (তৃতীয় বিচারপতি) মতভিন্নতার অংশটুকু নিষ্পত্তি করতে সম্পূর্ণ স্বাধীন। হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের দুই বিচারপতির ছয় আসামির বিষয়ে মতভিন্নতার বিষয়টি নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা রয়েছে তৃতীয় বিচারপতির। দ্বৈত বেঞ্চের দুই বিচারপতি যে ৯ আসামির বিষয়ে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি, সে সিদ্ধান্তের বিষয়ে তৃতীয় বিচারপতি একমত ছিলেন।

"২. মামলা দায়েরের বিলম্বের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ব্যাখ্যা সাক্ষ্য-প্রমাণের বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগ বিশ্বাস করেছেন। এই বিষয়ে দুই আদালতের (বিচারিক ও হাইকোর্ট) অভিমত একই হওয়ায় এতে আমাদের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

"৩. হত্যার অপরাধ সেনা আইনের ৫৯ (২) ধারায় বিচারের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো অপরাধী দায়িত্বরত (অ্যাকটিভ সার্ভিসে) অবস্থায় অপরাধ করলে এ ধারা প্রযোজ্য হবে। কিন্তু আপিলকারীরা সেনা আইনের ৮(১) ধারায় অ্যাকটিভ সার্ভিসে ছিলেন না, তাই সাধারণ ফৌজদারি আদালতে তাদের বিচারে বাধা নেই। এমনকি সেনা আইনের ৮(২) ধারার সংজ্ঞায় এটিকে বেসামরিক অপরাধ ধরে নেওয়া হলেও ওই আইনের ৯৪ ধারা মতে ওই অপরাধের বিচারে আইনগত কোনো বাধা নেই।

"৪. এমন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই যে বিদ্রোহের ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের অন্য সদস্য ও তিন নিরাপত্তা কর্মীর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আমাদের মতে, এটি ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিদ্রোহ সংঘটনের মামলা নয়। বরং এটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার মামলা।

"৫. হাইকোর্ট বিভাগ বিশ্বাস করেছে যে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে আপিলকারী এবং অন্য দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামিপক্ষ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে যে হাইকোর্ট বিভাগ সাক্ষ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন না করে আপিলকারীদের ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে কার্যত অবিচার করেছে। তাই আমরা হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখতে পাই না।

"৬. বিশেষ অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কমানোর পক্ষে আপিলকারীরা তাদের যথাযথ যুক্তি তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা হাইকোর্টের বহাল রাখা আপিলকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিচারিক আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এই পরিপ্রেক্ষিতে আপিলকারীদের আপিল, জেল আপিল ও ফৌজদারি রিভিউ আবেদন খারিজ করা হলো। রায় কার্যকর স্থগিতের এই আদালতের আদেশ খারিজ করা হলো। এই সংক্ষিপ্ত আদেশ রায়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এটি/পিবি/এসএম/আরবি/আরএ/এমআই/জিএনএ/এইচএ/১৯৪৭ ঘ.
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×