
আহত ২০ ।। গ্রেফতার ১৩
০ সিলেট অফিস
বিএনপির বিবদমান দুই গ্রুপের তাণ্ডবে গতকাল বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল সিলেট। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি এম ইলিয়াস আলীর গ্রুপ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দলের যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি কমর উদ্দিনের গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। উভয় গ্রুপের ক্যাডাররা আগ্নেয়াস্ত্র, দা, রড, লাঠি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজার এলাকাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছিল অস্ত্রধারী ক্যাডাররা। এসময় সাধারণ লোকজন প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছুটাছুটি করে। সকল মার্কেট, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। উভয়গ্রুপের অস্ত্রধারীরা প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এসময় পথচারীসহ অন্ততঃ ২০/২৫ জন আহত হয়। অস্ত্রধারীদের ছবি তোলায় ফটোসাংবাদিকদের উপরও তারা চড়াও হয়। দুই জন সাংবাদিকের ক্যামেরা তারা ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং ছাত্রদলের ১৩ ক্যাডারকে গ্রেফতার করে। ইলিয়াস গ্রুপ প্রতিপক্ষ কমর গ্রুপের পূর্বনির্ধারিত সভাও পণ্ড করে দিয়েছে। কোর্ট পয়েন্টে কমর গ্রুপের নির্মিত সভামঞ্চ গুঁড়িয়ে দেয় ইলিয়াস গ্রুপের ছাত্রদল ক্যাডাররা।
সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে কোন্দল চলছে। অতীতে সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান গ্রুপ ও ইলিয়াস গ্রুপের মধ্যে বার বার সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর তার গ্রুপ যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা কমর উদ্দিনের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ইলিয়াস গ্রুপের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সিলেটে এই গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির বর্তমান আহবায়ক ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা নাসিম হোসাইন, আবুল কাহের শামীম প্রমুখ। কমর গ্রুপ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ১১ দফা দাবিতে কয়েকদিন আগে সরকারবিরোধী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করে। এটা মেনে নিতে পারেনি ইলিয়াস গ্রুপ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে ছিল কমর গ্রুপের পূর্বনির্ধারিত সভা। এজন্য বেলা আড়াইটার দিকে তারা সভামঞ্চ নির্মাণ করে ব্যানার টানায়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে ইলিয়াস আলীর সমর্থক এবং নগরীর শাহজালাল উপ-শহরকেন্দ্রিক ছাত্রদলের একটি গ্রুপের ১৫/২০ জন ক্যাডার মোটরসাইকেলযোগে কোর্ট পয়েন্টে এসে সভামঞ্চ গুঁড়িয়ে দেয়। তারা প্রতিপক্ষ গ্রুপকে এখানে কোন সভা করতে দেবে না বলে উত্তেজনাকর শ্লোগান দিয়ে চলে যায়। সভামঞ্চ ভাংচুরের খবর পেয়ে কমর উদ্দিনের গ্রুপ নগরীর আম্বরখানা এলাকায় জড়ো হয়ে রণপ্রস্তুতি নিয়ে কোর্টপয়েন্টের উদ্দেশ্যে মিছিল সহকারে রওনা দেয়। এই মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্রধারী ছাড়াও অনেকের হাতে ছিল দা ও লাঠিসোঁটা। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মিছিলকারীরা নগরীর জিন্দাবাজারের লতিফ সেন্টারের সামনে এসে ২/৩ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। অন্যদিকে ইলিয়াস গ্রুপ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নগরীর জিন্দাবাজার ইদ্রিস মার্কেটের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় ইলিয়াস গ্রুপের ক্যাডাররাও কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। জিন্দাবাজারে দুই পক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে কমর গ্রুপের সমর্থক মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর মাথা ফেটে যায়। এসময় আরো কয়েকজন আহত হয়। অন্যদিকে কমর গ্রুপ ইলিয়াস গ্রুপের নেতা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আজমল বক্ত সাদেকের মালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্ট ভাংচুর করে। কমর গ্রুপ কোর্ট পয়েন্টে ১০ মিনিটের মতো অবস্থান নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিয়ে নগরীর তালতলা হয়ে ফের আম্বরখানায় চলে যায়। অন্যদিকে ইলিয়াস গ্রুপ নগরীর জিন্দাবাজার এলাকা থেকে মিছিল বের করে কোর্ট পয়েন্টের সামনে গেলে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে অস্ত্রধারীদের ছবি তোলায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সিলেটের স্থানীয় দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটো সাংবাদিক শাব্বীর আহমদ ফয়েজ ও প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক আনিস মাহমুদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে। উভয় গ্রুপের এই তাণ্ডব চলাকালে নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সকল মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে সংঘর্ষে জড়িত ছাত্রদলের ১৩ ক্যাডারকে পুলিশ আটক করলেও কোন অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। আটককৃতরা হলো ছাত্রদল ক্যাডার সবুজ আহমদ, ইকবাল আহমদ, মাসুম, ফখরুল ইসলাম, সুহেল আহমদ, নূরুল আমিন, আরিফুল হক, শাহনেওয়াজ বক্ত তারেক, এনামুল কবির, নাজির হোসেন, বাচ্চু মিয়া, আশফাকুর রহমান, তোফায়েল আহমদ। এব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে গোটা নগরীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Click This Link
The Daily Ittefaq
০৭/০৫/২০১০
--------------------------------------------------------------------
আরো তথ্য
এরপর সন্ত্রাসীরা বিএনপি কার্যালয়েই তাকে সন্ত্রাসীরা ধর্ষণ করে।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


